somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা বাংলাদেশী‌~বাঙ্গালী/(প্রযোজ্য জাতিসত্তা সমূহের নাম)।

২৪ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"হে মানুষ, আমি তোমাদেরকে এক নারী ও এক পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছি আর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি। যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়া সম্পন্ন। নিশ্চয় আল্লাহ তো সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত"।
/আল-কোরআন, সুরা হুজুরাত ৪৯:১৩

একই ধর্মীয় পরিচয় ধারণ করা সত্ত্বেও সারা বিশ্বের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মানুষের মাঝে যে ভৌগলিক অবস্থান, আবহাওয়া, ভাষা, সাংস্কৃতিক ও নৃতাত্ত্বিক ভিন্নতা আছে তা অবসম্ভাবী এবং প্রকৃতিগত ভাবেই। যেমন: পাঞ্জাবি, বেলুচ, সিন্ধি, পোশতু, আরব, আফ্রিকান, জাভানিজ, মালয়, পারস্য। তারা তাদের নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য সমূহও ধরে রেখেছে, ইসলাম ধর্মের রীতি নীতি ও মূল আদর্শ বজায় রেখেই। ইসলাম মানতে গিয়ে নিজেদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য মন্ডিত জাতিস্বত্তা ও সংস্কৃতি শতভাগ বিলুপ্ত হয়ে যায়নি এটাই বাস্তবতা।

সুতরাং বিশ্বব্যাপী যে অসংখ্য জাতি গোত্রের অস্তিত্ব বিদ্যমান এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে ভাষা ও সংস্কৃতিগত যে বৈচিত্রতা, তা মহান আল্লাহতাআলারই ফয়সালা। এখন কোন ব্যক্তি/গোষ্ঠী যদি বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে অবাঙ্গালী উপাদান/বৈশিষ্ট্য দ্বারা বিশেষায়িত/tag করে, জবরদস্তিমূলক প্রতিস্থাপন করার চেষ্টা করে তবে তা হবে আল্লাহর এই ফয়সালার/ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নেয়া। স্বাভাবিকভাবেই এরূপ কর্মকাণ্ড আজ হোক বা কাল ব্যর্থ হবেই এবং এ জাতিয় অপকর্মে (ইনকিলাব, আজাদী, ইনসাফ শব্দের প্রচার ও প্রসার...এমনকি বাংলাদেশ শব্দের পরিবর্তে মুসলিম বঙ্গ) যথারীতি জামায়াত তার জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে আসছে। আসলে আল্লহ্‌র সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে আজ পর্যন্ত কেউ সফলকাম হতে পারেনি।

বাস্তবতা আমরা কি দেখি? বাস্তবে এটাই দেখি যে, বিশ্বের যে কোন উন্নত দেশেরই স্বতন্ত্র ও গুরুত্ব পূর্ণ বৈশিষ্ট্য থাকে। ঐ সকল স্বতন্ত্র বৈশিষ্টের ভিত্তিতে জাতি হিসেবে তাদের একটা মৌলিক আত্মপরিচয় থাকে যা নিয়ে তারা থাকে একাত্ম। তা নিয়ে সন্দেহ বা বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ থাকে না। সেই আত্মপরিচয় নিয়ে তারা গর্ব বোধ করে এবং তা রক্ষার জন্য তারা সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত/সমষ্টিগত ত্যাগ শিকার করার জন্য প্রস্তুত থাকে।

আমাদের জাতিসত্তার পরিচয় কি? বাঙ্গালী। আমরা কোন দেশের নাগরিক? বাংলাদেশের। সেই নাগরিকত্বের পরিচয়ের ভিত্তিতে আমরা সবাই বাংলাদেশী। এরপর তো আসলে আর কোন কথা (যদি, কিন্তু….) থাকতে পারে না। পাকি৬স্তান আমলের গোটা ২৪ বছরে “জাতিগত বৈষম্যের” কারণে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো মুসলিম ভাতৃত্ববোধের অসারতা যেমন ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিলো, তেমনি ইসলামের আদর্শের ভিত্তিতে “আমরা সব মুসলমান ভাই ভাই”-এই spirit অগ্রাহ্য করে নিপীড়ন, নির্যাতন, বঞ্চনার শিকার বাঙ্গালী (যা কিনা পাঞ্জাবীদের মতো superior race এর তুলনায় একটা চুরান্ত inferior race)”- এই জাতিসত্তার পরিচয়ই শক্তিশালী হয়েছে দিনকে দিন। (এখানে সমস্যা অবশ্যই ইসলাম ধর্মে নয় বরং সমস্যা এর অনুসারীদের যারা ইসলাম ধর্মের আদর্শকে ধারণ করতে পারেনি। পারলে বাঙ্গালীদের ওপর এত বৈষম্য হতো না)।

জন্মসূত্রে বাঙ্গালী হয়েও একদিকে পাঞ্জাবী জাতিসত্তা প্রীতি আর পাশাপাশি নিজ জাতিসত্তার প্রতি ঘৃণা, পাকিস্তানী পতাকার প্রীতি, সর্বপরি পাকিস্তান প্রীতি আর এ সব ঘৃনিত কর্মকান্ডের সমান্তরালে ইসলামের দোহাই দিয়ে বাংলাদেশী পতাকাকে অবজ্ঞা, জাতিয় সঙ্গীতকে অসম্মান, এসবই জামায়াতিদের ইসলামী মূল্যবোধের দেউলিয়াত্বের নিদর্শন, মোনাফেকির অকাট্য প্রমাণ। পাঞ্জাবীরা তাদের পাঞ্জাবী জাতিসত্তা/নৃতাত্ত্বিক পরিচয় নিয়ে গর্ব করতে পারবে, তা নিয়ে জামায়াতি রাজাকার ও তাদের ২.০ প্রজন্মের শাবকদের কোনো আপত্তি নেই আর অন্যদিকে আমরা বাঙ্গালীরা আমাদের জাতিগত পরিচয় ধারণ করতে পারবো না, বাঙ্গালী পরিচয় নিয়ে বড়জোর হীনমন্যতায় ভুগতে পারবো। জন্মলগ্ন থেকেই জামায়াতিদের আদর্শ গড়ে উঠেছে এরকমই মোনাফেকি চর্চা করে। যে যত বড় মোনাফেক সে তত বড় জামায়াত। সুতরাং ইসলাম ধর্মীয় পরিচয় তথা মুসলিম পরিচয়টাও এদের জন্য এক প্রকার identity of convenience. ইসলাম নিয়ে বানিজ্য বা ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে, সংর্কীন রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য শুরু থেকেই তারা তাদের রাজনৈতিক দলের সাথে ইসলাম শব্দটি জুড়ে দিয়ে ধর্মীয় ব্র্যান্ডিং করে বসে আছে।

"এবং আমি যা অবতীর্ণ করেছি তৎপ্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, ইহা (কুরআন) তোমাদের কাছে যা আছে উহারই সত্যতা প্রনয়নকারী এবং এতে তোমরাই প্রথম অবিশ্বাসী হয়োনা এবং আমার নিদর্শনাবলীর পরিবর্তে সামান্য মূল্য গ্রহণ করনা এবং তোমরা বরং আমাকেই ভয় কর"।
/আল-কোরআন, সুরা বাকারা ২:৪১

সুতরাং ইসলামকে ঢাল বানিয়ে জামায়াত যা করছে তা সে করছে আল্লাহ্‌র, "এবং আমার নিদর্শনাবলীর পরিবর্তে সামান্য মূল্য গ্রহণ করনা " এই সুস্পষ্ট নির্দেশনা অগ্রাহ্য করেই। এদের ধর্মীয় পরিচয়েও বিভ্রান্তি আবার এদের জাতিসত্তার পরিচয় ও নাগরিকত্বের পরিচয় আসলে যে কি? সেটাও কার্যত নিঃসন্দেহ হওয়া যায় না। এজন্যই "আমি বাংলাদেশী বাঙ্গালী মুসলমান বা ~ (রাজনৈতিক পরিচয়/নাগরিকত্বের পরিচয়) (নৃতাত্তিক/জাতিগত পরিচয়) (ধর্মীয় পরিচয়)"-এ কথাটা বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ যাদের ৭১ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই, অবিশ্বাস নেই তারা নিঃসংকোচে নির্দ্বিধায় গর্বের সাথে যেভাবে বলতে পারে, জামায়াত, তাদের সমগোত্রীয় শুভাকাঙ্খী/সুবিধাভোগী এবং সর্বোপরি তাদের ২.০ প্রজন্মের রাজাকার শাবকরা সেভাবে বলতে পারে না।

৭১ তো আসলে আরও পরের বিষয়। মুসলিম হিসেবে যদি কারো moral compass কোরআন আর সুন্নাহ ভিত্তিক হয় (যেখানে আহমাদুল্লাহ, আজহারীর মতো middle man দের অন্ধের মতো অনুসরণ/অনুকরন থাকবে না বরং আল্লাহ আমাদের যে এলেম দিয়েছেন তা যেন সম্মান করি, আল্লাহ প্রদত্ত ঐ এলেমের ওপর ভরসা রাখি), তবে জামায়াতি মোনাফেকদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে জাহান্নামের সর্ব নিম্নস্তরে বসবাস করার বন্দোবস্তের প্রয়োজন আছে কি?

৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ আর এর আগের যাবতীয় আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙ্গালী জাতির পরিচয় সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর সেই পরিচয়কে সারা বিশ্বে গ্রহণযোগ্য করতে “বাংলার হিন্দু, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার খ্রিস্টান, বাংলার মুসলমান আমরা সবাই বাঙ্গালী” এই spirit বুকে ধারন করেই বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটলো। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে, রাজনৈতিক ও নাগরিক দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন আরেকটি পরিচয়ে আমরা পরিচিত হওয়া শুরু করলাম- আমরা সবাই বাংলাদেশী, বাংলাদেশের নাগরিক (আগে ২৪ বছর যাবৎ পাকিস্তানী নাগরিকত্বের বোঝা বহন করতাম)। এই পরিচয়ের সুরক্ষিত ছাতার নিচে শুধু বাঙ্গালী নয়, এ দেশের বাকি সব জাতিসত্তার মানুষ চলে এলো। আমরা সিঙ্গাপুর হবো না, মালয়েশিয়া হবো না আর না হবো কোনও ইউরোপীয় দেশ। আমার আদ্যপান্ত বাংলাদেশী হবো। সারা বিশ্ববাসী আমাদের বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে, বাংলাদেশী পরিচয়ে চিনবে। আমরাও বাংলাদেশী হিসেবে নিজের পরিচয় দিতে কুণ্ঠাবোধ তো নয়ই বরং গর্ববোধ করবো। এর কোনও বিকল্প নেই।

নইলে এক পা এগিয়ে তিন পা পেছানোর বৃত্ত থেকে আমরা কখনই বেরিয়ে আসতে পারবো না।

/আমাদের ৭১
/আমাদের পরিচয় সংকোচ (নাকি সংকট?)

সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২৪
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্যাপাসিটি চার্জের পর এবার নজর খাম্বায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৩


বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের শেষ নেই । বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট বেতনে সংসার চালান কিংবা যেসব পরিবারে কেবল একজন মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আছেন, তাদের মাসে প্রিপেইড মিটারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৫৯



কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদটি সংবিধানের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন যোগ্যতার চেয়ে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেই বেশি হয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাকরির জন্য সুপারিশ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৮



গত কয়েকদিন যাবত ফেসবুক, ইউটিউব সহ অনলাইন সকল পত্র-পত্রিকা, টিভি নিউজ সহ এমন কোনো স্থান বাদ নেই যেইখানে এক ব্যক্তির রাজনীতি, সাংসদ, সংসদ, চরিত্র, বিবাহ, কাবিন নামা, প্রথম স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের সেই মানুষগুলো কোথায় গেলো

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৬



স্বাধীনতা পরবর্তী, পচাত্তর পরবর্তী সময়ের ঘটনা। পচাত্তরের পনেরোই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। ক্যু হয়েছে দেশে। সামরিক বাহিনীতে সংঘাত। বহু সদস্য হতাহত। জেনারেল জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাঝা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬



বর্তমানে জনসংখ্যার বিচারে 'বিহার' ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম রাজ্য।
বিহারের রাজধানী পাটনা। বিহার মূলত দরিদ্র অঞ্চল বলা যেতে পারে। এখানে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় আছে। অনেক পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয়। নালন্দা ছিলো মূলত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×