somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি গানের রিভিউঃ ভোট ফর ঠোট

১৬ ই অক্টোবর, ২০১৪ বিকাল ৪:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শুনেছি বুড়োমানুষের মাঝে মাঝে ভীমরতি ধরে। কিন্তু কখন ক্যামনে ধরে জানতাম না। কিন্তু কয়েকদিন আগে একটা মিউজিক ভিডিও দেখে বুঝলাম বুড়ো কখন ভীমরতিগ্রস্থ হয়।

বিষয়ভিত্তিক গান ছেড়ে যে কেন তিনি রঙচটা বিনোদনের দিকে ঝুকলেন সেটা বোধগম্য নয়। কয়েকদিন আগে SAtv তে একটা ইন্টারভিউয়ে তিনি বলেছিলেন, 'সঙ্গীতকে শুধু পেশা হিসেবে বা বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে ভাবাটা ঠিক না। গানের মধ্যে অনেক কিছুই থাকে যেটা প্রার্থনা থেকে শুরু করে, পূজা থেকে শুরু করে, প্রতিবাদ, বিপ্লব, ভালোবাসা, প্রেম সবকিছুই থাকে। আমাদের মধ্য অনেকেই থাকে যাদের নিজের কোন মতবাদ থাকে না বলে গড়পড়তা গান গান এবং ঐসব গান জনপ্রিয়তা পায় বেশী।' হ্যা তার কথা ঠিক। তাকে আমরা গানের বানিজ্যিক স্রোতে গা ভাসাতে দেখিনি। তার অধিকাংশ গান তিনি নিজেই লিখে সুর করেন। একজন দেশপ্রেমিকের সুর ফুটে উঠেছে তার গানের মধ্যে। বিশ্বজিতকে নিয়ে তার গানের কথা জাতি আজীবন স্বরণ রাখবে। শাহবাগ আন্দোলনের তার সক্রিয়তার কথা এখনো কেউ ভোলেনি। ফেলানী হত্যাকান্ড নিয়েও তিনি কাজ করেছেন। সেই তিনি এভাবে পল্টি কিভাবে খেলেন ঠিক বোধগম্য নয়। পল্টি খাওয়ার কথা বলছি এই কারনে যে নায়লা নাইম এসময়ের বাঙালী মডেলিংকে একটা ট্রেন্ড থেকে টেনে এনে নগ্নতার সাথে মিলন ঘটানোর তালে আছেন। বলিউড মার্কা পোষাক-আশাক পরে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে তিনি ইতিমধ্যে বিতর্কের শীর্ষে চলে এসেছেন।

প্রীতমের এই গানটির উপস্থাপনা দেখলে মনে হয় তিনি নাইলা নাইমকে দিয়ে কাজ করানোর জন্যই গানটি লিখেছেন। এরকম একটা রগরগে গান তার কাছে থেকে ঠিক আশা করা যায় না।

মিউজিক ভিডিওটির প্রথমেই স্ক্রীনে ভেসে ওঠে লো কাট কালো গেঞ্জী পরা নাইলা নাইমের সদ্য রক্তে চুমুক দেয়া লালটুকটুকে ঠোট। এই ঠোটকে তিনি মার্কা হিসেবে নিয়ে একটা জোট করতে চাইছেন। এই দেশে আজ পর্যন্ত অনেক ধরনের জোট দেখেছি। কিন্তু ঠোটের জোট এই প্রথম। জোটের নাম প্রেমের মহাজোট।

ভিডিওটিতে নাইলাকে দেখা যায় একজন বীজগনিতের টিচার হিসেবে। হোয়াইট বোর্ডের একগাদা সূত্র নিয়ে তিনি চিন্তিত থাকা অবস্থায় সেখানে আবির্ভাব ঘটে প্রীতমের। তার আঙুলের ইশারায় নাইলা তার কোলে হুমড়ি খেইয়ে পড়েন। কিন্তু তখন তিনি আর অংকের ম্যাডাম নন। হয়ে গেছেন মিনি স্কার্ট পরা নার্স। নাকি ডাক্তার?? ডেন্টিস নাইলাকে এই গানের মধ্যেও এই রূপে উপস্থাপন করা থেকে বোঝা যায় তার চরিত্রটিকে বেশ গুরুত্বের সাথে নেয়ে হয়েছে। জানিনা তিনি তার চেম্বারে এই টাইপের পোষাক পরে কাজ করেন কিনা। এমনিতে লেডী ডেন্টিসদের নিয়ে আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতাও বেশী ভালো না।

গানখানি দেখতে দেখতে মাঝখানে একবার নাইলাকে শাড়ী পরা অবস্থায় দেখে অবাক হলাম। পুরো গানটিতে তার অঙ্গভঙ্গী এবং ড্রেসআপের সাথে শাড়ী পরা নাইলা কে বেশ খাপছাড়া লাগছিল। কিন্তু ঐ এক মূহুর্তের জন্যই। কারণ এই পরেই তিনি হাজির হন মারমুখী পুলিশের ভূমিকায়। তবে ঐ একই কথা, মিনিস্কার্ট পরা কালো ড্রেসের পুলিশ আমাদের দেশে যে কবে রাস্তায় নামবে আর আমরাও পুলিশনীর পাছায় প্রীতমের মতো লাঠির বাড়ী দিতে পারবো সেটা আমার জানা নেই। তবে আমি নিশ্চিত এই পুলিশ আমাদের থানায় আসলে দূর্নীতি কমার পরিবর্তে বেড়ে যাবে। কারণ সবাই এই পুলিশের হাতে ধরা খাবার জন্য ক্রাইম করা শুরু করবে।

যদিও প্রীতমের সমগ্র কেরিয়ারে এই গানটির মতো আলোচনা আর কোন গানে হয়নি। তাই বলতে হয় গানটি বানিজ্যিক ভাবে সফল। কিন্তু প্রীতমের ভাষায় এটি একটি রাজনৈতিক স্যাটায়ার গান। প্রীতম বলেন, অনেক গোবর মস্তিষ্কের মানুষ গানটি না শুনেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন এর ভিডিও দেখে। কিন্তু মন দিয়ে গানের কথাগুলো উপলব্ধি করার চেষ্টা করেন না। তারা জানেন না এটি একটি রাজনৈতিক গান। আর এই গানের কথা লেখার পেছনে পরোক্ষভাবে মূল উত্সাহদাতা প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। গত নির্বাচনে কিংবা তার আগের নির্বাচনে এরশাদ কোন জোটে যাবেন— সেটা নিয়ে আমাদের জাতীয় রাজনীতিতে যে টানাপড়েন আর সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছিল তার ওপর ভিত্তি করেই গানটি লিখেছি। অথচ মাথা মোটা অনেক সমালোচক লুকিয়ে লুকিয়ে ভিডিওতে নায়লা নাঈমে দেখেন। আর আমাকে বলে ছি.. ছি.. ছি.., প্রীতম অনেক অশ্লীল।

কিন্তু কথা হচ্ছে এই মেসেজটি দিতে কি এই রগরগে মিউজিক ভিডিওটির খুব দরকার ছিল?? এইভাবে সানি লিওন মার্কা নাইলাকে দিয়ে তিনি মেসেজটি কেন দিতে চাইলেন??

আমি বাংলাদেশের ভোটার হবার পরে দুইটা নির্বাচন গ্যাছে মাগার একবারও ভোট দিতে পারিনাই। প্রথমটার কারণ সঙ্গত। দেশে ছিলাম না। আর এবার তো ভোট দেয়াই লাগেনি। তবে এবার ভাবছি প্রেমের মহাজোটে একটা ভোট দিবো। যেহেতু মার্কা আমাদের আবেদনময়ী নাইলা আপার টুকটুকে ঠোট সেহেতু ভোট তো একটা দিতেই হয়। কি বলেন???

নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষনার অপেক্ষায় থাকার ফাঁকে আসুন ভোটের প্রচারপত্রটা একটু দেখে নিই।

মার্কা যদি হয় তোর লাল টুকটুকে ঠোঁট
একা আমি দিতে রাজি - ১৬ কোটি ভোট
অবিশ্বাস, এর এই আকালে সবাই দেয় চোট
তোর আর আমার ঠোঁটই গড়বে প্রেমের মহাজোট
ঠোঁট বানাবে জোট বানাবে ঠোঁট বানাবে জোট
জোট বানাবে ঠোঁট বানাবে জোট বানাবে ঠোঁট।


নাহ্‌ থাক নির্বাচনী ইশতেহার এই বেশী পড়লে হাঁপানী উঠে যেতে পারে। তার চেয়ে আসুন যেটা নিয়ে কথা বলছি সেই মিউজিক ভিডিওতি দেখেই একটু বিনোদিত হই।



"শাহবাগ কলিং আবার একাত্তর" ছিল প্রীতমের লাস্ট এ্যালবাম। বিভিন্ন সামাজিক অন্যায়- অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রীতম কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও ব্লগারদের সাথে একাত্মা ঘোষনা করেন এবং তার ঐ এ্যালবামের সমুদয় লভ্যাংশ তিনি উৎসর্গ করেন গণজাগরণ মঞ্চের সমস্ত শহীদের পরিবারকে। সেই প্রীতমের এই ঠোটের বানিজ্য ঠিক হজম করা যায় না।
৩৩টি মন্তব্য ৩৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×