কল্পনায় সেদিন পাড়ার মোড়ে বসে আছি ।
সব বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিচ্ছি।
হঠাত একটা রিকসা এসে থামলো আমাদের কাছেই।
রিকসাই একটি অসুস্থ মা তার ছোট একটা ছেলে কে নিয়ে কোথাও যাচ্ছে।
কিন্তু দেখে মনে হলো মহিলাটি আমাদের এলাকার না।
তারপর আমরা আড্ডা থামিয়ে রিকসায়ালা কে ফলো করতে লাগলাম।
এবং একটি সময় আসল ঘটনা টি বুজতে পারলাম।
রিকসাই চড়া অবস্খা মায়ের চোখে জল আর রিকসায়ালার বকুনিতে আমরা বিষয়টি মিটমাট করতে গেলাম।
আমাদের যাওয়া দেখে রিকসায়ালা তার বকুনি থামিয়ে অসুস্থ মায়ের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
আর মা তার চোখের জল লুকানোর চেষ্টা করছেন।
কিন্তু কষ্টের সময় চোখের জলকে পোষ মানানো অসম্ভব।
আমরা মাকে জিগ্যেস করলাম ঘটনা কি??
এবার মা আর পারলেন না তার চোখের জল বেরিয়ে এলো।
কাঁদতে কাঁদতে সে উত্তর দিলো।
আমরা শুনে সত্তিই অবাক হলাম যে সামান্য কিছু টাকার জন্য তার আজ এই অবস্থা।
এই মায়ের বিয়ের সময় তার বাবা তার জামাইকে ৩৫ হাজার টাকা যৌতুক দেন।
কিন্তু তাদের ঘরে একটা সন্তান আসতেই আবার তার জামায় যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করে।
তাই আর সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ মা তার বাবার বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন।
আর রিকসায়ালা বকছেন ঐ সমাজের মন্ডল-মাতবরদের যারা টাকা খেয়ে বিচার করেন।
অতঃপর কাঁদতে কাঁদতে উনারা চলে গেলেন।
এখন ঘটনা হচ্ছে আমরা পত্রিকা খুললেই দেখি বড় শিরোনামে লেখা আছে
"যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা"।
কিন্তু হায় আমরা শুধু দেখি আর পড়ি তারপর পেপার বন্ধ করে ফেলে রাখি!!
আসলে আমরা এমনই হয়ে গেছি আমরা ফেসবুকে ব্লগে ও অন্যান্য সাইটে লিখে মত প্রকাশ করতে পারি এতে যে ২০-৩০০ মানুষ লাইক কমেন্ট করে এদের নিয়ে সরাসরি আন্দোলন করতে পারি না।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিতে পারি না।
কারন আমরা এখনও "স্বাধিন বাংলাদেশের পরাধিন জনতা"......!!!!
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



