somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বীরশ্রেষ্ট ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর ১৯৭১ সালে শহীদ হয়েছেন, আর, আমি পঙ্গু/ অক্ষম অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করিতেছি। বর্তমানে আমি মৃত্যু পথ যাত্রী।

২০ শে জুন, ২০১৩ দুপুর ১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এটি একটি মানবিক আবেদন। আপনারা পুরোটা পড়ুন। তারপর যদি কারো পক্ষে সম্ভব হয়। তাহলে হাত বাড়িয়ে দিন। বিস্তারিত জানতে চাইলে নিচের ফোন নম্বরে যোগাযোগ করুন।

ঘটনাটি আমাকে বড়ই মর্মাহত করেছে। তাই আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। এই বিষয়টি পূর্বে বাংলা নিউজ টুয়েন্টিফোর.কম এ এপ্রিল ১১, ২০১৩ তারিখে প্রকাশিত হয়েছিল। তখন অনেকেই এগিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু পরে আর তেমন কোন সাড়া পাওয়া যায় নাই। তাই একান্ত মানবিক কারণে বিষয়টি সকলের দৃষ্টিগোচর করছি। নিচের লেখাগুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট সাহায্যের আবেদন, সেটিই হুবহু তুলে দিলাম।

রেফারেন্সঃ
এপ্রিল ১১, ২০১৩ ইং
বাংলানিউজ ২৪.কম
মাজেদুল নয়ন, স্টাফ করেসপনডেন্ট।

একান্ত মানবিক কারনে বিশেষ বিবেচনায় মুমূর্ষ অক্ষম যুদ্ধাহত পঙ্গু বীর মুক্তিযোদ্ধার ব্রেইন স্ট্রোক, হার্ট এ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে প্যারালাইসিস সহ দুরারোগ্য ব্যাধী হওয়ায় বিদেশে চিকিৎসার জন্য জরুরীভাবে আর্থিক সাহায্য পাওয়ার আবেদন।

মহোদয়,
যথাবিহীত সম্মান প্রদশর্ন পূবক সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি ৩৯৪৯০৪৯ দি- ২৪ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট আর্মি (অবঃ) শাহ্ হাসেম উদ্দীন আহম্মদ (৭৫) অক্ষম যুদ্ধাহত পঙ্গু বীর মুক্তিযোদ্ধা, গেজেট নম্বর-১১১৪, মুক্তিবার্তা লাল বই নম্বর-০৩১০০২০২৬৬, ১৯৭১ যুদ্ধকালীন নম্বর- ১২৩০৫৪, পিতা- মৃতঃ শাহ্ তমিজ উদ্দীন আহম্মদ, মাতা- মৃতঃ সুরমাই বিবি, গ্রাম- বাঁশগাড়া, পোষ্ট- কেউটগাঁও, থানা- পীরগঞ্জ, জেলা- ঠাকুরগাঁও। অতি বিনয়ের সহিত আবেদন করিতেছি যে আমি ১৯৭১ সালে ৭ নং সেক্টরের অধীনে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন পাক হানাদার বাহিনীর সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে কাউন্টার এ্যাটাকে দুই-দুইবার আমার শরীরে রাইফেলের গুলি ও ২ মিঃ মিঃ মর্টার সেলের আঘাতে ক্ষত বিক্ষত হয়ে এখন পঙ্গু অবস্থায় বাড়ীতে দিনাতিপাত করিতেছিলাম। উল্লেখ্য যে, এই অবস্থায় গত ০৮/০৬/১২ইং তারিখে আমার ব্রেইন স্ট্রোক এবং হার্ট এ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ায় প্যারালাইসিস হয়ে বাম সাইড সম্পূর্ণরুপে অবস হয়ে গিয়াছে। তাই জরুরী ভাবে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হইতে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে মুমূর্ষ অবস্থায় চিকিৎসা গ্রহন করিতেছি। বর্তমানে টাকা পয়সার অভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা ও ঔষধ ক্রয়সহ যাবতীয় খরচ চালাইতে ও চিকিৎসা করাইতে পারিতেছি না। আমার হার্ট এবং পেটের নিচে অপারেশনের জন্য ১৪,০০,০০০ (চৌদ্দ লক্ষ) টাকা প্রয়োজন। আরো উল্লেখ্য যে, প্রতিমাসে আমার ডায়েটসহ অন্যান্য পথ্য, ফিজিওথেরাপীসহ ৭৫,০০০/- থেকে ৯০,০০০/- টাকার ঔষধ সেবন করিতে হয়। আমি অতি কষ্টের মধ্যে গরীব অসহায় অবস্থায় মানবেতর কঠিন জীবন- যাপন করিতেছি। স্বাধীনতা যুদ্ধে শরীরের বিভিন্ন জায়গা আহত হওয়ায় আমার শারিরীক অবস্থা ভাল না। আমি কোমর সোজা করে বসে থাকতে পারি না। শরীরে বল শক্তি নাই। অপরের সাহায্য ছাড়া ওঠা-বসা নড়াচড়া করতে পারি না। আমার সেবা করার জন্য সার্বক্ষনিক দুই তিন জন মানুষ লাগে। আমি এ যাবৎ কোন আর্থিক সাহায্য পাই নাই। অর্থনৈতিক অসচ্ছলার কারণে আমার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে আমি এবং আমার স্ত্রী- সন্তানাদির ভরণ-পোষণে সম্পূর্ণরুপে অক্ষম। যাহাতে আমি অর্থিক সাহায্য সহযোগিতা পেয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হতে পারি, আপনার সহযোগিতায় আমি চির কৃতজ্ঞ থাকিব। বর্তমানে আমি সাভার সি আর পি হাসপাতালের ১৩৯ নং নার্সারী কেবিনে মুমূর্ষ অবস্থায় চিকিৎসা গ্রহন করিতেছি।
দ্রষ্টব্যঃ বীরশ্রেষ্ট ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর ১৯৭১ সালে শহীদ হয়েছেন, আর, আমি পঙ্গু/ অক্ষম অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করিতেছি। বর্তমানে আমি মৃত্যু পথ যাত্রী।
অতএব, হুজুরের নিকট আমার আকুল আবেদন এই যে, উপরোল্লিখিত বিষয়াদি বিবেচনা করে মানবিক কারনে মুমূর্ষ অক্ষম যুদ্ধাহত পঙ্গু বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জরুরীভাবে সহৃদয়বান ব্যক্তি/ প্রতিষ্ঠান হইতে খুব বেশী আর্থিক সাহায্য পাইয়া চিকিৎসা করাইতে পারি তাহার সুব্যবস্থা করতে হুজুরের মর্জি হয়।


(শাহ্ হাসেম উদ্দীন আহম্মদ)
অক্ষম যুদ্ধাহত পঙ্গু বীর মুক্তিযোদ্ধা
গেজেট নম্বর-১১১৪,
মুক্তিবার্তা লাল বই নম্বর-০৩১০০২০২৬৬,
১৯৭১ যুদ্ধকালীন নম্বর- ১২৩০৫৪,
পিতা-মৃতঃ শাহ্ তমিজ উদ্দীন আহম্মদ,
১/১, গজনবী রোড, কলেজ গেট,
মুক্তিযোদ্ধা বিশ্রামাগার, মোহাম্মদপুর ঢাকা।
সাহায্য পাঠানো যাবে, ব্র্যাক ব্যাংক
একাউন্ট নং- ১৫২৬১০২৫৬৬৩৩৪০০১,
ব্র্যাক ব্যাংক, গুলশান-২, ঢাকা।

মোবাইল নম্বারঃ ০১৭১৩৮৬৩৫৪৫, ০১৭২৬১৯৪৪৫২

এছাড়াও যারা নূন্যতম সাহায্য পাঠাতে চান তাদের জন্য বিকাশ নম্বর দেওয়া হলোঃ ০১৭৫৩২১৮৩৪০
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুন, ২০১৩ বিকাল ৪:২৯
৮টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×