somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শেষ হইয়াও হইল না শেষ, নতুন করিয়া শুরু

২৬ শে আগস্ট, ২০১৪ সকাল ৭:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২৫ অগাস্ট ২০১৪ সোমবার রাত্র ১১:৩০ ৩৫ প্লামরোজ সড়ক, টরন্টো, কানাডা

প্রিয় মৃন্ময়ী,
ম্যাকবুক থেকে দ্বিতীয়বারের মত ব্লগ লিখছি। আশা করি নিয়মিত লিখব।
আজকের লিখতে বসার কারণ হলো এলএল.এম.-এর প্রথম ক্লাশ হলো আজ। কোর্সের নাম ইন্ট্রোডাকশন টু কানাডিয়ান লিগ্যাল স্টাডিজ। মাইকেল পল কোর্সের ইন্সট্রাক্টর। ২৫ অগাস্ট থেকে ২৯ অগাস্ট ২০১৪ সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ক্লাশ হবে।
ক্লাশে যাবার আগে আশঙ্কা করেছিলাম সম্ভবত তিন-চারজন ক্লাশে উপস্থিত হবো। কিন্তু অবাক হয়ে দেখি প্রায় ৪১ জনের মত শিক্ষার্থী। আরো অবাক হলাম যখন আবিষ্কার করলাম আমিই সবচেয়ে কনিষ্ঠ; সবাই বেশ বয়োজ্যেষ্ঠ এমনকি ষাটোর্ধ্ব পিএইচডি করা শিক্ষার্থীও আছেন!
আজকে পুনরায় আবিষ্কার করলাম যে, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পাঁচ বছর কিছুই পড়া হয়নি। আমার ইংরেজির অবস্থা ভয়াবহ খারাপ। এতদিন মনের গভীরে ইংলিশ নিয়ে সুখবোধ করতাম। কিন্তু এখন হারে-হারে টের পাচ্ছি যে, ইংরেজিতে আমার কত খারাপ অবস্থা! এমনিতে সব কিছু বুঝতে পারি। সমস্যা হলো কথা বলতে পারিনা যথাযথভাবে। জড়তা আর বিব্রতকর অবস্থা এড়ানোর জন্য কথাও বলা হয় না।
ঘুমুতে হবে এখন। সকালে উঠতে হবে। তাছাড়া কাল আবার পাঁচ ঘন্টা কাজ আছে।
বেশ কিছু বিষয় লেখার আছে। সেগুলো সংক্ষেপে লিখব আরেকদিন।

২.
প্রিয় কলামলেখক সৈয়দ আবুল মকসুদের নিম্নোক্ত কলামটি তুলে রাখার প্রয়োজনীয়তাবোধ করছি। কলামটি পড়ে অনেকক্ষণ হো হো করে হেসেছি।


বাঘা তেঁতুল
রিগ্যান থেকে রাষ্ট্রদূত
সৈয়দ আবুল মকসুদ |

প্রথম আলো

আপডেট: ০০:০৭, আগস্ট ২৬, ২০১৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাঙালির শত শত বছরের আইন-আদালত ও মামলা-মোকদ্দমার ইতিহাসে যিনি ছিলেন সবচেয়ে শক্তিধর আসামি, তাঁর নাম রোনাল্ড রিগ্যান। তাঁর প্রিয়তমা পত্নী ন্যান্সি তাঁকে আদর করে ডাকতেন রন। রিগ্যানের জীবনে সংকট দেখা দিয়েছিল দুবার। একবার ১৯৮১-তে যখন তিনি হিলটন হোটেলের সামনে আততায়ীর দ্বারা গুলিবিদ্ধ হয়েও ঈশ্বর ও ডাক্তারদের কৃপায় বেঁচে যান। তাঁর জীবনের দ্বিতীয় বিপদ দেখা দেয় এক দেওয়ানি মামলার আসামি হিসেবে যখন ঢাকার তৃতীয় মুন্সেফ কোর্টের সমন জারি হয় তাঁকে সশরীরে আদালতে হাজিরা দিতে। আমেরিকার ৪০তম প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশের আদালত সমন জারি করেন। কাজ-কাম ফেলে ঢাকা জেলা জজকোর্টে হাজিরা দেওয়া তাঁর জন্য বেশ ঝামেলার ব্যাপারই ছিল।
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস নির্মাণের জন্য জমি দরকার। সোভিয়েত ইউনিয়ন না ভাঙলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই দুনিয়ার এক নম্বর সুপারপাওয়ার। তাদের দূতাবাসের জন্য একটি জুতসই জায়গা চাই। আমাদের সামরিক সরকার একটি ফাঁকা জায়গা পেল তৎকালীন শেরাটন হোটেলের পশ্চিম দিকে পিজি হাসপাতালের পেছনে। জায়গাটি ছিল ঢাকার নবাবদের। মার্কিন দূতাবাসের জন্য সরকার সেটা বরাদ্দ করে।
ঢাকার খাজা পরিবারের ‘কোর্ট অব ওয়ার্ডে’র কেউ একজন সোজা চলে যান জজকোর্টে। সেখানে তৃতীয় মুন্সেফের আদালতে ওই জমি বরাদ্দের বিরুদ্ধে এক মামলা ঠুকে দেন। তার এক নম্বর আসামি মি. রোনাল্ড রিগ্যান। পিতা মৃত অমুক। সাকিন হোয়াইট হাউস। ওয়াশিংটন ডিসি। অভিনয় ছেড়ে দিয়ে বর্তমান পেশা রাজনীতি। আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
মামলায় মুন্সেফের নির্দেশে পেশকার সমন জারি করেন। সমন নিয়ে আটলান্টিকের ওপারে বিমান ছাড়া যাওয়া সম্ভব নয় বলে সাইকেলে চড়ে পেয়াদা ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে যান। খবর পেয়ে দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা গেটের কাছে এসে পেয়াদাকে বলেন, যাঁর বিরুদ্ধে সমন হয়েছে তিনি এখানে থাকেন না। থাকেন ওয়াশিংটনে। সেখানেই সমন পাঠিয়ে দিন। সমন পেলে তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন যে ঢাকার তৃতীয় মুন্সেফের কোর্টে এসে হাজিরা দেবেন, নাকি দেবেন না। না এলে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারেন।
পেয়াদা ফিরে আসার পর ব্যাপারটা আর বেশি দূর গড়ায়নি। কাগজে খবর বেরোনোর পরই সরকার বলে, কম্ম কাবার। আসামিকে প্রটোকল ও নিরাপত্তা দেওয়ার সাধ্য বাংলাদেশ সরকারের নেই। তাড়াতাড়ি সরকার মার্কিন দূতাবাসের জন্য বারিধারায় জমি বরাদ্দ দেয়।
উল্লেখযোগ্য যে নব্বইয়ের দশকে আওয়ামী লীগের সরকার ওই জমিটি তাদের একজন প্রিয় ব্যবসায়ী ও ওষুধ কোম্পানির মালিককে বরাদ্দ দেয়। এবারও তা নিয়ে কোর্ট-কাছারি হয়। আওয়ামী শিল্পপতির সেই মামলায় আইনজীবী ছিলেন একজন বিখ্যাত ব্যারিস্টার, যিনি বিএনপির একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা।
কথায় আছে, কাজ না থাকলে বাঙালি চাচার নামে মামলা দেয়। সম্পাদক-প্রকাশক-রিপোর্টারদের বিরুদ্ধে যখন-তখন মামলা ঠুকতে ঠুকতে বাঙালি এখন যার-তার বিরুদ্ধে মামলা হাঁকাচ্ছে। এবার আসামি বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি ইয়ুন-ইয়াং। একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের দায়ের করা মামলায় তাঁকে সমন দেওয়া হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে সমনটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা আদালত ১০ সেপ্টেম্বর সকাল নয়টায় লি ইয়ুন-ইয়াংকে হাজির হতে গত ১০ জুলাই নোটিশ দেন।
মান্যবর রাষ্ট্রদূত প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘আমি আশা করব, ভবিষ্যতে কোনো কূটনীতিককে সমন করার আগে আদালত ভিয়েনা কনভেনশন অনুসরণের মাধ্যমে সতর্কভাবে পদক্ষেপ নেবেন।’ এটা ছিল কূটনীতির ভাষার কথা।
মান্যবর রাষ্ট্রদূত জানেন না যে ভিয়েনা কনভেনশন বস্তুটি কী, তা আমাদের সব বিজ্ঞ বিচারক এবং আইনজীবী জানতে বাধ্য নন। আর সতর্কতা বলে কোনো শব্দ যদি বাঙালির জীবনে থাকবে তাহলে ১২০ বছর আগে স্বভাবকবি গোবিন্দ দাস কেন লিখবেন: ‘বাঙালি মানুষ যদি প্রেত কারে কয়?’
বাস্তবতা হলো, লক্ষ্মণ সেন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত কোনো বাঙালিরই রাষ্ট্র চালানোর অভিজ্ঞতা নেই। এ রাষ্ট্রে বিরোধী দলের নেতা-কর্মী ছাড়া আর কাউকেই জবাবদিহি করতে হয় না তাঁর অকাজ-কুকাজের জন্য। যে মুন্সেফ রিগ্যানকে সমন করেছিলেন, তাঁকে জবাবদিহি করতে হয়নি। মিস্টার লিকে সমন জারির যে [ফজলে] এলাহি কাণ্ড—এই মাননীয় জজকেও কোনো জবাবদিহি করতে হবে না। আইন মন্ত্রণালয় যদি তাঁকে কোনো চিঠিপত্র দেয়, তিনি এক কথায় সব শেষ করে দেবেন: তখন আমি শোক দিবসের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম, ব্যস।
মিস্টার লি এবং অন্যান্য বিদেশি কূটনীতিক বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে একটি সম্যক ধারণা নিয়ে যাঁর যাঁর দেশে ফিরে যাবেন।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক৷
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে এপ্রিল, ২০১৫ ভোর ৬:১৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩



তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে-

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এখন রহস্যের আরেক নাম। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×