somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ষাঁড়

১৬ ই অক্টোবর, ২০১২ সকাল ১১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কয়েক বছর আগের কথা। আমাদের একটা পোষা ষাঁড় ছিল। যেমন ছিল উঁচা তেমনি ছিল লম্বা। আর শক্তি ছিল, ঘোড়ার মত। কার বাপের সাধ্য আছে যে আমাদের ষাঁড়টাকে একা কন্ট্রোল করে। ষাঁড়টার গলায় সব সময় দু'টো দঁড়ি বাঁধা থাকতো। দু'জন দু'দিক থেকে টেনে ধরে ষাঁড়টাকে বাইরে বের করতো। গ্রামের কত মানুষ যে আমাদের ষাঁড়ের দাবড়ানি খেয়েছে তার ইয়াত্তা নেই। আমাদের ষাঁড়ের সামনে দিয়ে অন্য সব গরম্ন লেজ গুটিয়ে যেত। গ্রামের কি এমন কোন মেয়ে গরু আছে যে আমাদের ষাঁড়ের সমনে দিয়ে তার ইজ্জত নিয়ে ফিরে যেতে পেরেছে? পারে নাই। আমাদের এবং আশে পাশের গ্রামে যত গাভীর বাচ্চা হয়েছে বা হবে হবে করছে তা আমাদের ঐ ষাঁড়ের কল্যাণে। তাইতো আমাদের বাড়ির আশে-পাশে অনেককে তাদের গাভী নিয়ে ঘুর ঘুর করতে দেখা যেত। গাভীকে গর্ভবতী করতে আমাদের ষাঁড়ের ডিমান্ড ছিল অনেক। তাইতো নজরানা হিসাবে গাভীর মালিকরা আমাদের ষাঁড়টাকে কয়েক কেজি করে ভুসি দিয়ে যেত। এই ষাঁড়টাকেই কিনা আমার বাবা আগামী কুরবাণীর ঈদে কুরবাণী দেবেন বলে ঘোষণা দিলেন। ঘোষণাটা শুনে গ্রামবাসীর মাথায় হাত পড়লো। তাদের গাভীগুলোর এখন কি হবে? কে দেবে তাদের গাভীর পেটে স্বাস্থ্যবান বাচ্চা। খবরটা শুনে আমারও মনটা ভীষন খারাপ হয়ে গেল। এমন একটা বিখ্যাত ষাঁড়ের অকাল মৃত্যূ হবে ভাবতেই খারাপ লাগে। তাই বাবাকে বললাম ষাঁড়টাকে কুরবাণী না দিলে হয় না। বাবা বললেন তাহলে এটাকে কি করবো, বলদ বানিয়ে হালের গরু বানাবো? আমি মনে মনে বললাম বলদ হয়ে বাঁচার চেয়ে ঈদে কুরবাণী হওয়া অনেক ভালো, অনেক সম্মানের।
ঈদের রাতের আগের রাতে আমাদের ষাঁড়ের ডাকে বাবার ঘুম ভেঙ্গে গেল। বাবা টর্চ হাতে বাইরে বের হয়ে দেখেন আমাদের উঠানে ষাঁড়টা দাঁড়িয়ে আছে। ষাঁড়ের কাছে গিয়ে টর্চের আলো ফেলতেই বাবা দেখতে পেলেন ষাঁড়টার পাশে একটা লোক মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে আছে। লোকটার একটা পা ষাঁড়ের দঁড়ি দিয়ে বাঁধা। বাবার চিৎকারে আমরা সবাই ঘুম থেকে উঠে উঠানে গেলাম। উঠানে আশে-পাশের আরো অনেক লোক জড়ো হয়েছে। পড়ে থাকা লোকটাকে দঁড়ির বাঁধন থেকে খুলে বিছানায় শোয়ানো হলো। রাতে ডাক্তার এনে দেখানো হলো। সকাল বেলা লোকটা একটু সুস্থ হলো। বাবা তাকে জিজ্ঞাস করলো ঘটনা কি? লোকটা যা বললো তা হলো- আমি এবং আমার এক বন্ধু আপনাদের গোয়াল ঘরের বেড়ার কেঁটে ষাঁড়টাকে চুরি করে জমির মাঁঝ বরাবর হেঁটে যাচ্ছি। কিছু দূর যাবার পর আমার বন্ধু বললো- দোস্ত আমার একটু হাগা লাগছে তুই গরুটা একটু ধরে থাক আমি হেগে আসি। আমি একা গরুটার দঁড়ি ধরে দাঁড়িয়ে আছি। ভাবলাম একটা বিড়ি খেয়ে নেই। তাই আমি জমির আইলের মধ্যে বসে গরুর দঁড়িটা আমার এক পায়ের সাথে বেঁধে, বিড়িটা মুখে দিয়ে যেই না ম্যাচের কাঠি জ্বালিয়েছি

অমনি গরুটা ভয় পেয়ে দিলো এক দৌড়। আমার পা ছিল দঁড়ির সাথে বাঁধা, তাই আমাকে ছ্যাচড়াতে ছ্যাচড়াতে মরার মত করে নিয়ে এলো আপনাদের বাড়িতে। বাবা দেখলেন লোকটার অবস্থা কাহিল হয়ে গেছে তাই তাকে ছেড়ে দেয়া হলো। এ খবরটা সারা গ্রামে ছড়িয়ে পড়লো। এমনকি পত্রিকার লোকজনও আসলো। ষাঁড়ের ছবি তুলে নিয়ে গেল। স্থানীয় পত্রিকায় ষাঁড়ের ছবি সহ খবর ছাপলো। খবরের শিরোনাম ছিল "গরুই ধরলো গরু চোর"।
আশে-পাশের গ্রাম থেকে লোকজন ছুটে আসতে লাগলো আমাদের ষাঁড়টাকে এক নজর দেখার জন্য।
ঈদের দিন সকালে এই বিখ্যাত ষাঁড়টাকে কুরবাণী করা হলো। কেন জানি বুকের মধ্যে ষাঁড়টার জন্য কষ্ট হতে লাগলো। সবাই ষাঁড়টার মাংস অনেক মজা করে খেল শুধু আমি ছাড়া।

মুন রেহমান
কারমাইকেল কলেজ, রংপুর।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চন্দ্রপ্রভা

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

চন্দ্রপ্রভা
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তোমাকে দেখে মোহিত হই চন্দ্রপ্রভা
রোদ পড়লে চকচক করে
এতই সুন্দর লাগে
একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকি।
তোমাকে ছুঁতে ইচ্ছে করে
কিন্তু পাই না যে সাহস।
তুমি নাই বলে কি এত ঝড়?
তুমি পাশে নাই বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি কি পেলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬



বাংলার দুই নোবেল জয়ী রবি ঠাকুর আর ডঃ ইউনুসের পিছনে অনেক কথাই তো বললেন।
ব্লগ লেখায় ভরিয়ে ফেললেন!
খোদা তাঁদেরকে যে জায়গা দিয়েছেন, তা থেকে এক চুল কি নিচে নামাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমরা নেহা বোরা কে বাংলাদেশের কথা বোলো না

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২


নেহা বোরাকে তোমরা বাংলাদেশের কথা বোলো না। বোলো না যে, তিনি যখন বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করছেন, তখন বাংলাদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুনেরা ক্যাম্পাসে গরু জবাই করে জেয়াফত খাওয়ার আন্দোলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×