somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প নয় জীবন কথা বলে

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ২:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জীবনটা এত ছোট্ট কেন?
বুঝে ওঠার কোন বুদ্ধি-সুদ্ধি তেমন অমিতের নেই, অমিত জানে জন্মেছে যখন মরতেই হবে।মাঝ বয়সের এই যুবক দূরান্ত সবসময় স্বপ্ন দেখত একটা স্বপ্নলি জীবনের।এখন এই বয়সে এসে জীবনটাকে কোন মিটার দিয়ে মেপে বুঝেতে পারছেনা জীবনটা কেমন, স্বপ্নের কি রং হয় তাও সে জানে না। হয়তো লাল, নীল, কাল , সাদা সোনালী কিংবা রোপালী হবে কোন একটা। আনুমানিক জীবন নিয়ে এই সমিকরণ আনুপাতিক হিসাবের টালি গোচাচ্ছে।

আনুমানিক ২৩/২৪ বছর আগের একটা গল্প নয় যেন জীবনের ই কথা। তখন যে স্বপ্ন দেখেছিল অমিত তার কথা বলব; অমিত দেখেছিল ছোট্ট একটি জীবনের সূচনা, একদিন প্রাইভেট পড়তে গিয়ে পতুলের সাথে অমিতের দেখা হয়, তা থেকেই তার ভাল লাগা। ভাল লাগা টা একা অমিতের ছিলনা ছিল পতুলের ও পড়ে দুজন যখন তাদের কাছে থেকে দুজনের মনের কথা সিয়ার করার সুযোগ মিলেছিল বুঝতে সক্ষম হয়েছিল ভাল লাগা আর ভাল বাসার তফাৎ । ভাল লাগতে পারে যে কাউকে ভাল বাসতে হলে দুজনের ই ভাল লাগার সমিকরণ মিলতে হয়। এমন করে দুইজনেই একজন আরেকজনকে মনের অজান্তেই ভাল বেসে ফেলেছিল। প্রতিদনি স্কুলে যাওয়ার পথে পতুল অপেক্ষা করত অমিত দুই কিলোমিটার সাইকেলিং করে পতুলের পথে এসে প্রতিদিনই মিলত। এই মিলা যেন ছিল মোহনাতে দুটি নদির মিলন দারার মিলন, অমিতের মনে হতো দুনিয়ার সমস্থ সুখ গিরে আছে অমিতকে, এ যেন চীরস্থায়ী সুখ হয় এমন কামনাই দুই জনে গল্প করত যেন স্বর্গের দু'টি পাখির জুটি।এভাবে দিন যাচ্ছে মাস যাচ্ছে ওদের সামনে পরিক্ষা আসছে , পরিক্ষার চাপে কিছুদিন ওরা সাক্ষাতে ব্যার্থ হলেও একজন আরেকজনকে ভুলেনি মুহুর্তের জন্য। নবম শ্রেনি থেকে দশম শ্রেনিতে এখন ওরা, একজন আরেকজনকে ভাল করে পড়াশুনা করার উপদেশ দিত , দু'জনেই পড়ে যাচ্ছে । অমিতের সবসময় চাওয়া ছিল পতুল যেন ভাল রেজাল্ট করে, তাই অমিত পুতুলকে নানান বিষয়ে সাহা্য্য করত। দেখতে দেখতে ওদের এস এস সি ফাইনাল পরিক্ষা চলে এল। পরিক্ষা দিতে থাকল ওরা পরিক্ষার হল এক সাথে থাকার কারনে প্রতিদিন ই দেখা হতো ওদের । দেখা হতো কিন্তু কথা হতো না কারণ পরিক্ষার হলে পতুলকে তার ভাই , না হয় তার মা নিয়ে যেত। দুর থেকে দু'টি আখিযুগুলো মিলনেই যেন যুগ জনমের কথা সেরে যেত।এই ছিল ওদের দু'ই বছরের প্রেম।

এরপর একদিন অমিতের রিজাল্ট দিল অমিত পাস করেছে ৬ টি বিষয়ে লেটার নিয়ে ষ্টার পেয়েছে । এই খবরটি অমিতের মাকে জানানোর জন্য স্কুল থেকে বাড়িতে দৌড়ায়ে আসে মাকে বলতেই মা অনেক খুশি। অমিতের আত্নিয় স্বজন সবাই অমিতের রেজাল্টে খুশি, অমিত ও খুশি কিন্তু অমিতের মন বলছে পুতুলকে যদি জানানো যেত খুশিটা আরো দ্বিগুন হতো। পুতুলকে আর জানাতে পারেনি কেননা এদিকে পুতুল পরিক্ষা দিয়ে লাপাত্তা -বোনো বাসায় বেড়াতে গেছে ।পুতুল ও প্রথম শ্রেনিতে পাস করেছে খবরটি অমিত জেনেছে পুতুলের এক কাজিনের কাছে।কিন্তু ওরা আর কেহ কারোর সাথে যোগা যোগ রাখতে পারছেনা দুরত্তবিবেদ এর কারণ।
ওদের ইচ্ছা ছিল একসাথে কলেজে পড়ার তাই অমিত অপেক্ষা করছে পুতুলের জন্য কিন্তু পুতুলের কোন খনর নেই একদিন অমিত শুনে পতুল মহিলা কলেজে ভর্তি হয়ে গেছে। পুতুল তার কথা রাখেনি অমিত বুঝতে পারে তাই অমিতও একটা কলেজে ভর্তি হয়ে যায় । আর এই করে শুরু হয় ওদের অভিমানের সুচনা। এথেকে একজন আরেকজনকে যতটুকু চাচ্ছে তার চেয়ে দুরত্ব শুধু বাড়ছে। ইচ্ছা থাকলেও এখন আগের মতো দেখা করা যায়না। অমিত শুধু খবরা খবর নিতে পারে তার বান্ধবীদের কাছ থেকে কেননা অমিতের বেসমেট কয়েকটা বান্ধুবিও পুতুলের সাথে পড়ছে মাঝে মধ্যে বান্ধুবিদের বান্ধুবিদের মাধ্যমে চিছি আদান- প্রদান হয় এই করে কেটে যায় ওদর কলেজের একটি বছর।
তারপর পুতুল এখন একজন নারী , আবেগ তার কাছে তুচ্ছ, প্রেম -ভাল বাসা দরকার সাথে জীবন সমীকরণ ও মিলানোর দরকার, হয়তো পুতুল বুঝেগেছিল জীবন এত সহজ সমিকরণে মিলে না। অর্থ-বিত্ত আর প্রবাভশালীতা এগুলো অনেক দরকার জীবন শুরু করার আর তার জন্যেই অমিতকে ঢেকে নিল কাছে বলল -
> অমিত একটা কথা বলার জন্য তোমাকে ঢেকেছি
>> বল, কি বলবে?
> এই যে আমরা একটা প্রেম ভাল বাসা নিয়ে এত মাতা মাতি করি শেষ পর্যন্ত আমরা কি তার মর্যাদা দিতে পারি?
>> কেন , যার ভাল ভাসে তারা ভাল বাসার মানুষকে জীবন দিয়ে হলেও মর্যাদা দেয়। যেমন আমি তোমাকে ভাল বাসি তোমাকেত হেয় করি না।
> আমি তা বলছি না, বলছিলাম তোমার আর আমার বয়সের তেমন তফাত নেই, যদিও বয়সটা কোন ফেক্ট না । আমরা একজন আরেকজনকে ভাল বাসি। আমি তোমাকে যেমন তুমিও তেমন ই ভাল বাস। কিন্তু আমার চিন্তা আর তোমার চিন্তার কিছুটা পার্থক্য আছে আমি এখন ঘর -সংসার নিয়ে চিন্তা করতে হচ্ছে কেননা আমার পিতা মাতা এখন ই নানান সম্পর্ক নিয়ে আসছে আমার জন্য। কিন্তু এই অবস্থাতে তোমার কথা আমার ফ্যামিলীতে বলতওে পারবনা।
>> হুম।
> কথা বলছনা কেন?
>> কি বলব!
> এই আমি যে যুক্তিটি আনলাম তোমার কি মনপুত হয়নি, চুপ করে আছ যে!
>> মনপুত আর কি হবে বল তোমার কথা তেমন বুছে ওঠিনি, কি বলব জবাবে তাও জানি না।
> এই বিষয় টা বলব বলেই তোমাকে ঢেকে এনেছি।তুমি আমাকে ভুল বুঝনা , আমি তোমাকেই ভাল বেসেছিলাম , তোমাকেই ভাল বাসি।কিন্তু বাস্তবতা যে কত নির্মম তা কি সামনে এগুতে দিবে।আমরা গ্রামে বাস করি, আমাদের সমাজ ব্যাবস্থাত তোমার জানা।
>> আমি এতসব বুঝতে চাই না আমি তোমাকে ভাল বাসি এ টুকু জানি তার পর আর কিছু না।
> তুমি কি এখন আমাকে নিয়ে কোন চিন্তা করতে পারবে?
>> কেমন চিন্তা?
> ঘর বাধার ।
>> এইটা কেমন করে সম্ভব বল!
> যদি সম্ভবই না হবে তা হলে মিছে মরিচিকার পিছু ছোটতে কেন আমাকে বল, বা তুমিই কেন ছোটবে?
>> ভাল বাসা কি অপরাধ ?
> না আমি ভাল বাসা অপরাধ বলছি না বলছি বেশি আবেগ থাকা অপরাধ, যে ভাল বাসা শুধু স্বপ্ন দেখায় তা অপরাধ .............
চোখের জল লোকাতে আর পারছিল না পুতুল।
অমিত পুতুলকে এই অবস্থা দেখে আরো ইমুশনাল হয়ে গেল , কিছু একটা বলতে চাচ্ছে কিন্তু পুতুলকে হয়তো বলে আজ শান্তনা দিয়ে দিতে পারে আর কয়দিন সময় দা্ও চিন্তা করে তোমাকে জানা্ব। তাই বলে দিল কয়টা দিন সময়ত চাই একটা ডিসিশনে পোছাতে তা কি সম্ভব?
পুতুল বলছে, তোমার খুশি।
তার অনেকদিন পর একদিন পুতুলের সাথে আমিতের দেখা হয় । কিন্তু পুতুল জানতে চা্য় জবাব ,সেদিনের পর আর কোন জবাব দিলে না যে।
অমিত বলে জবাবত তোমার কাছেই
ত অইটা কি বল আমাকে
তা হল শুন: ভাল বাসা একটা সমুদ্র সফেন মাত্র । যার মুল্যায়ন করলে ও পার না করলে খরকুটু ধরতে পার । ধর তুমি আমাকে ভাল বাস , অামিও এটাই সত্য চির সত্যটাকে গলাটিপে মারতে যাব কেন। ভাল বাসলে ঘর করতে হয়না , ভাল বাসা মরেও না । তুমি তোমার ফ্যামিলীর মতামতকে সবসময় প্রাধান্য দিও। আর আমাদের ভাল বাসাকে চির অম্লান করতে বন্ধুত্বের সংজ্ঞাই মান দিও।
এর পর অমিতের সাথে আর কোন দিন পুতুলের দেখা হয়নি । পুতুলকে দেখতে অমিতের অনেক মন চায়।






সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:২০
৬টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×