somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার অবিশ্বাস (ধর্মবিশ্বাস)

১৩ ই মে, ২০১৩ বিকাল ৫:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথমেই বলে রাখি আমি এখানে যা লিখেছি তা সবই আমার সম্পূর্ন নিজের বুদ্ধিভিত্তিক চিন্তাভাবনার ফলাফল.........



এখন আমার বয়স ১৭ বছর । অনেকের কাছে এটা অল্প কিছু সময় হতেই পারে কিন্তু আমি এই সতেরো বছরেরই ফলাফল । আজকের এই আমি যা তা এই সতেরো বছরেই ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছি ।

ছোট থেকেই বই পড়ি আমি । তবে সেইটা এখনকার মত গোগ্রাসে গেলার মত মহামারী আকারের না ।ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত এমনিতে বাড়িতে জন্মদিনে পাওয়া বইগুলো পড়তাম ।তারপর যখন ক্লাস সিক্সে হাই স্কুলে গেলাম সেখানে ভর্তি হয়ে পেলাম ব্র্যাক এর একটা লাইব্রেরি ।কোনোপ্রকার দ্বিধা না করেই সেই লাইব্রেরির সদস্য হলাম এবং নিয়মিত বই নিতে শুরু করলাম ।এমনও হয়েছে আমি বই লাইব্রেরি থেকে নিয়ে ক্লাসে বসে সেটা পড়ে আবার ফেরত দিয়ে অন্য বই নিয়েছি।

এরপর শুধুমাত্র লাইব্রেরি না বই নিয়মিত কেনা শুরু করলাম।এইভাবেই শুরু হল বই পড়া এবং ধীরে ধীরে মুক্তচিন্তা দিকে এগিয়ে যাওয়া!!



আমার সবচেয়ে ভালো লাগত বিজ্ঞানের বই।দেবীপ্রসাদ বাবু,ভবেশ রায়,সত্যজিত রায়,আইজ্যাক অ্যাসিমভ,আর্থার সি ক্লার্ক,জাফর ইকবাল স্যারের সায়েন্স ফিকশন গুলো সহ হুমায়ুন আজাদের মহাবিশ্ব কিছুই বাদ দিলাম না ।তারপরে হাতে আসলো আরজ আলী মাতুব্বর এবং প্রবীর ঘোষ এর বইগুলো।অন্যভাবে ভাবতে শুরু করলাম।আধুনিক বিজ্ঞানের ইতিহাস জানতে গিয়ে জিওর্দানো ব্রুনো,হাইপেশিয়ার নাম জানলাম।জানতে পারলাম কিভাবে এনারা ধর্মীয় কুসংস্কারের কাছে নির্মম ভাবে বলি হয়েছেন।জানতে পারলাম কেন বিজ্ঞানী গ্যালিলিওকে গৃহবন্দি থাকতে হয়েছিলো।ধর্ম টাকে ভালোভাবে জানার জন্য সেই ধর্মীয় বইগুলোও পড়লাম।বিচার বিশ্লেষনের মাধ্যমে বুঝলাম---ধর্মীয় নিয়ম নীতির সাথে হ্যাঁ তে হ্যাঁ মিলিয়ে যাওয়াটা নির্বুদ্ধিতার চরম নিদর্শন।



প্রশ্নের পর প্রশ্ন জর্জরিত হয়ে গেল মন।কিন্তু উত্তর পাব কোথায়?? বাবাকে খুব বেশি সময় কাছে পেতাম না।কোনো কোনোদিন ২ বা ৩ ঘন্টা একটানা আলোচনা হত কিন্তু সব প্রশ্নের উত্তর জানা যেতনা সময়ের অভাবে।তাই আবার আশ্রয় নিলাম বই।নীলক্ষেত থেকে প্রচ্চুর বই কিনলাম এবং পড়তে থাকলাম।



(ধন্যবাদ দিব বাবাকে কারণ তিনি কখনই আমাকে এই ধরনের চিন্তা ভাবনায় কখনোই কোনো প্রকার নিষেধাজ্ঞা জারি করেন নাই।আর যত রকম যুক্তিতর্ক সব সময় বাবার সাথেই চলত।বাম রাজনীতিতে তিনি একসময় সক্রিয় ছিলেন,ফলে অনেক রাজনৈতিক বাক্যালাপও হয়েছে।আবারো ধন্যবাদ বাবা)☺☺



দিনে দিনে চিন্তা চেতনা অনেক পরিষ্কার হল।অনেক প্রশ্নের উত্তর নিজে নিজেই ভেবে ভেবে বের করলাম।হিন্দু ধর্মের অনুসারী বাবা মা'র সন্তান হওয়ার কারনে দেখতাম বাড়িতে ছুত, অছুত বা ছোট জাত এইসব সাধারন ব্যাপার ছিল।মা প্রচন্ড এইসবে বিশ্বাস করার করনে কোনো সময়েই মতের মিল হয় নাই।ধর্ম শান্তি ঐক্য আনয়নের বদলে এনেছে বিদ্বেষ এবং ভেদাভেদ।মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের শিখিয়েছে হিন্দু ধর্মাবল্মবীদের মালাউন বলা।এইসকল আরো প্রচুর কারনে এখন আমি ধর্মীয় নিয়ম নীতির কিছুই মানি না কিন্তু তাই বলে তাদের অসম্মান ও করিনা।আমার কছে মনে হয় একটি সন্তানের উপর চাপিয়ে না দিয়ে তার বিচার বুদ্ধির উপর ছেড়ে দেয়া হোক সে কোন ধর্মকে অনুসরন করবে কোন নিয়ম নীতি মেনে চলবে।

মানুষের জ্ঞান যতই বাড়বে ততই সে সত্যির পথে এগিয়ে যাবে। কোন অন্ধ-বিশ্বাসই টিকে থাকতে পারবেনা। এটাই আমার ধর্ম-বিশ্বাস। ☺☺

বিজ্ঞানের কল্যানে আজ আমরা এতদূর তাই অবশ্যই অন্য সব কিছুকে ছাপিয়ে বিজ্ঞান বিশ্বাস টা ত্বরান্বিত করতে হবে তবেই নতুন শৃঙ্খল একটি বুদ্ধিমান প্রানের বিকাশ হবে--- অন্যথায় বেড়ে যাবে মৌলবাদ ধ্বংস হবে মানবতা জাদুঘরে স্থান পাবে মনুষ্যত্ব নামক শব্দটি !!



আসলে যতই প্রগতির কথা বলুক দিনশেষে সবাই ছেলে-মেয়ে বা পুরুষ -নারী বা হিন্দু-মুসলিম ,কেউই মানুষ হতে পারলো না

কারন সবগুলাই চার অক্ষরের বোকা,পাঁচ অক্ষরের ভাই !!!





মৌলবাদ নিপাত যাক,

মুক্ত-চিন্তা মুক্তি পাক

৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ম্যাজিস্ট্রেট

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



আমাদের এলাকায় নতুন একটা ওষুধের দোকান হয়েছে।
অনেক বড় দোকান। মডেল ফার্মেসী। ওষুধ ছাড়াও কনজ্যুমার আইটেম সব পাওয়া যায়। আমি খুশি এক দোকানেই সব পাওয়া যায়। আমাদের এলাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শতরুপা

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২

তুমি কি কোন স্বপ্ন রাজ্যের পরী?
কিভাবে উড়ো নির্মল বাতাসে?
ঢেড়স ফুলের মতো আখি মেলো-
কন্ঠে মিষ্টি ঝড়াও অহরহ,
কি অপরুপ মেঘকালো চুল!
কেন ছুঁয়ে যাও শ্রীহীন আমাকে?
ভেবে যাই, ভেবে যাই, ভেবে যাই।
তুমি কি কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকে জুলাইযোদ্ধাদের উপর পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১৪

জুলাই যারা ঘটিয়েছে, তাদের উপর পুলিশের কী পরিমাণে ক্ষোভ, এটা ইলেকশনে যাস্ট বিএনপি জেতার পরই টের পাবেন।
আমি বলছি না, বিএনপির ক্ষোভ আছে।
বিএনপি দল হিসেবে অকৃতজ্ঞ হতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ের উপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাশা : বাংলাদেশের নতুন জাতীয় খেলা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৯


"ও শ্যামরে, তোমার সনে একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম, এই নিঠুর বনে। আজ পাশা খেলব রে শ্যাম।" প্রয়াত হুমায়ূন ফরীদির কণ্ঠে ছবিতে যখন এই গান শুনেছিলাম ,তখন কেউ ভাবেনি যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×