somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হায়রে ফলোয়ারে রা.................. :) :)

২২ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মোহাম্মদপুরে হায়দার বাবা নামে এক বৃদ্ধ ছিল। তাকে সবাই হাঁটা বাবা নামেই চিনে। নোংরা, ময়লা বেশভুসার এই লোকের ছিল লম্বা জটা ধরা চুল। তিনি সারাদিন শুধু হাঁটতেন। উদ্দেশ্যহীন হেঁটে চলতেন পথ থেকে পথে। আর তাকে ফলো করে তার পিছু নিতো অনেকেই। একজন দুইজন করে তার ফলোয়ার বাড়তেই থাকতো।

এই ফলোয়ারদের মধ্যে বেশিরভাগই জীবনের কোন না কোন খাঁজে এসে আটকে পড়া আশাহত মানুষ। কেউবা শুধুই কৌতুহলী। কোন এক অজানা আশা নিয়ে মানুষ গুলো হাঁটা বাবাকে ফলো করতো।

হলিঊডের একটা মুভি আছে, "ফরেস্ট গাম্প", ১৯৯৪ সালে মুক্তি পাওয়া এই মুভিতে প্রতিবন্দি নায়ক জীবনের একটা সময়ে এসে আশাহত হয়ে পড়ে এবং যেদিকে চোখ যায় দৌড়ানো শুরু করে। সে টানা ৩ বছরের বেশি দৌড়াতে থাকে। তখন তার অনেক ফলোয়ার তৈরি হয়। তারা নানা ধান্দায় নানা উৎসাহে বুঝে না বুঝে নিজেরাই নানা ব্যাখ্যা বানিয়ে তার পিছু নিতে থাকে।

আমার মাঝে মাঝে মনে হতো হাঁটা বাবা হয়তো সেই ফরেস্ট গাম্পের ই ফলোয়ার।

শুধু এই ক্ষেত্রেই নয় আমরা নানা ভাবে নানা জনকে বুঝে না বুঝে ফলো করি বা অনুসরণ করি। আর তা আরো ব্যাপকতার সাথে চলে এসেছে বর্তমান ভার্চুয়াল ভার্সনেও।
সোশ্যাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আমরা নানা জনকে ফলো করতে পারি।

টুইটার বা ফেইসবুকে যাদের অনেক অনেক ফলোয়ার তাদের বেশিরভাগই সেলিব্রেটি বিশেষত নারী।

অল্প কিছু সংখ্যক এমন আছেন যাদের অনেক ফলোয়ার এর কারন তাদের উন্নত চিন্তা ভাবনা এবং লেখা অথবা সমাজ উন্নয়ন মুলক কোন কাজ।

ঘটনা হচ্ছে অনেক দিন ধরে যেটা অবজার্ভ করছি সেটা হলো, সাধারন সেলিব্ররেটিরা ছাড়াও যে সকল নারীকুল প্রচুর ছবি পোস্ট করেন বিশেষত খোলামেলা আকর্ষণীয় ছবি, তাদের অনেক অনেক ফলোয়ার। এদের মধ্যে বেশিরভাগই আবার একদিনের জন্য হলেও কোন না কোন ভাবে মডেলিং এর সাথে জড়িত। এখানে খুব সহজ অংক কাজ করে যত রসালো ছবি ততো ফলোয়ার, ততো লাইক। শুধু নারীই নয় কিছু নারী সদৃশ পুরুষ ও রয়েছেন।
(তবে এদের মধ্যে অনেক ব্যতিক্রম রয়েছে, যাদের সুচিন্তিত প্রকাশ দেখা যায়। এখানে তাদেরকে মিন করা হয়নি)

এখন আসুন দেখি আপনি যদি এদের ফলোয়ার হয়ে থাকেন তাহলে আপনি তাদের কাছে কি কি পাবেন?

সব চেয়ে বেশি যেটা পাবেন তা হল একটু পর পর তাদের নানা অঙ্গ ভঙ্গিমার ছবি।
শত শত হাজার হাজার লাখ লাখ ছবি।
;)
ঘন্টায় ঘন্টায় মন খারাপের অথবা হ্যাপিনেস এর ফিল দিয়ে বাংলিশে, হিংলিশে (হিন্দিতে) অথবা ইংলিশে (কারো কারো ক্ষেত্রে আবার ভুলে ভরা ইংলিশে) লেখা একটা বা দুইটা লাইন।

যদি কখনো দুই এর অধিক লাইন লিখে ফেলে তাহলেই হয়েছে, টাক্লামি থাকবেই।
আর যেটা থাকে তা হল বিভিন্ন স্থানের অসংখ্য চেক ইন।

আর নয়তো লিসেনিং কোন একটা হিন্দি গান অথবা ওয়াছিং কোন একটা হিন্দি ছবি।

ঘুরে ফিরে এগুলো ছাড়া তাদের কাছ থেকে মোটামুটি আর কিছুই পায় না তাদের বিশাল ফলোয়াররা।


এখানে কথা হচ্ছে যার এতো বিশাল ফলোয়ার তার তো রেস্পন্সিবিলিটিও অনেক বেড়ে যায়। সে তো তখন যা ইচ্ছা তা করতে পারে না। যা ইচ্ছা তা প্রকাশও করতে পারে না। এই দায়বদ্ধতার দায় আসলে সবার মধ্যে সব ক্ষেত্রেই থাকা দরকার। সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণী হিসেবে তাদের একটা চিন্তাশীল বুদ্ধিবৃত্তিক প্রকাশ অবশ্যই থাকা উচিৎ।

অপর দিকে, যে অল্প কিছু সংখ্যক চিন্তাশীল প্রাজ্ঞ গুণী ব্যক্তিরা আছেন যাদের রয়েছে বিশাল সংখ্যার ফলোয়ার তাদের থেকে কিন্তু ফলোয়াররা উপকৃতই হন।

পাঠকের মনে নানা রকম চিন্তার উদ্রেক তারা ঘটাতে পারেন। এবং এর ফলপ্রসূ ফলাফল ও দেখা যায়। দার্শনিক সুচিন্তা গুলো ছড়িয়ে পড়ে সবার মাঝে। মানুষের মাঝে জন্মে প্রশ্ন। তারা নানাভাবে ভাবতে শিখে।

যখন বই পুস্তক গুলো ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস গুলোর সাথে যুদ্ধ করে করে হেরে যাচ্ছে তখন এরাই কিছুটা আলো ছড়াচ্ছেন।

এখানেও দায়বদ্ধতার কথা এসে যায়। এক্ষেত্রে তাদের খেয়াল রাখা উচিৎ তাদের লেখার বা অন্য পোস্টের প্রভাবটা কেমন হতে পারে। সবার কথা মাথায় রেখেই পোস্ট দেওয়া উচিৎ। বিশেষত ইদানিং উদীয়মান অনেক জনকেই দেখা যায় যারা মাঝে মাঝে ধরাকে সরা জ্ঞ্যান করে। এবং পরিপক্ক হয়ে ওঠার আগেই অপরিপক্কতার প্রকাশ ঘটায়। যা অনেক সময় ক্ষতিকর হয়ে ওঠে।

আর আমরা যারা সাধারন ইউজার আমাদেরও ভাবতে হবে আমরা কাদের ফলো করছি বা অনুসরণ করছি।
ফেইসবুক
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১:১৩
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×