somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালবাসার খোলা চিঠি

১৩ ই জুলাই, ২০১৫ সকাল ১১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রিয় মৃত্তিকা,
ভাল আছ আশা করছি । আজকাল চিঠি লেখার চল উঠেই গেছে । চিঠি লেখা এখন সেকেলে ধারণা । তবু আজ তোমাকে লিখতে বসলাম । আমি ভাল নেই । আমার মনটা খুব খারাপ হয়েছে আজ । তোমার সঙ্গ থেকে বঞ্চিত থাকা তো তার প্রধান কারণ বটেই, তার সঙ্গে আজ যুক্ত হয়েছে ভুল বোঝাবুঝি । তোমার উচ্চতা থেকে নিজেকে আমি অনেক নিচুতে বলেছি বলে তুমি মন খারাপ করেছ । প্রচণ্ড অভিমানে নিজেকে আড়াল করেছ । আমি দিশাহারা হয়েছি । অসহায় বোধ করেছি । তোমাকে কি করে বোঝাই এই উচ্চতা হল আমার পক্ষে তোমাকে সর্বোচ্চ সন্মান জানানো । তবু তুমি ঠোঁট ফুলিয়ে রইলে ।
তুমি তো জানো, তেরো বছর বয়সের একটি ছেলেকে আজ বেঁধে জনসম্মুখে চোর অপবাদ দিয়ে মারতে মারতে মেরেই ফেলল । যারা মেরেছে তারা সবাই ওই ছেলেটির প্রায় দ্বিগুণ বয়সি । কেউ কেউ তারও বেশী । ‘আমি মরি যাইয়ার! কেউ আমারে বাঁচাও রে বা!’ বলে চিৎকার করলেও কেউ প্রতিবাদ করল না, ছেলেটিকে বাঁচাতে এগিয়ে এল না । মৃত্যুর আগে রাজন নামের ছেলেটি পানি খেতে চেয়েছিল । পানি দেয় নি হত্যাকারীরা । তাকে তারই শরীর থেকে অঝরে ঝরতে থাকা ঘাম পান করতে বলছিল হত্যাকারীরা । আচ্ছা বলত মৃত্তিকা ভালবাসার প্রাবল্যে যে তুমি ঠোঁট ফোলাও অভিমানে, তোমারই বক্ষে ওই মানুষগুলো অমন অমানুষ কি করে হয়ে উঠল !
তুমি তো নারী । নারী মানে তো মা । মায়ের কাছে তার সকল সন্তান এক হলেও আমরা যখন মুক্তিযোদ্ধাদের তোমার শ্রেষ্ঠ সন্তান বলি, তুমি কখনও আপত্তি করো নি । তোমার জন্যে মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান জানো বলেই করো নি । অথচ এই তো কদিন আগে চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব খান বিশেষ প্রয়োজনে ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলেন । সেখানে একজন শীর্ষস্থানীয় আমলা তাঁকে অপমান করেছিল । সে অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করলেন মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব খান । তোমার ওখানে কোন অন্যায় যেন ঘটতে না পারে সে জন্যে মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে দলবদ্ধ হয়েছে বেশ কিছু মানুষ । তারা রাজনীতির নামে তোমার সকল মানুষকে বিভ্রান্ত করে তাদের আজ দুইটি মেরুতে দাড় করাতে সক্ষম হয়েছে । এরাও বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব আলি হত্যার জন্যে দায়ী ওই আমলার শাস্তির দাবি করছে না । রাজনীতি কি এতই স্বার্থপর মৃত্তিকা ?
গেল মাসে দেখলাম শিক্ষায় কর আরোপ করা হয়েছে । মুক্তিযোদ্ধার পক্ষের শক্তিই এটি করেছে । অথচ শিক্ষা জীবনের শুরুতে আমরা শিখেছিলাম পাঁচটি মৌলিক অধিকারের মধ্যে শিক্ষা অন্যতম । আমরা আরও শিখেছিলাম মৌলিক অধিকার হল যে অধিকার নিয়ে আমি তুমি আর আমাদের চারপাশের সকল মানুষ সঙ্গে নিয়ে জন্মায় । তবে এখনকার মানুষ আর শিক্ষার অধিকার নিয়ে জন্মায় না ? তবে কি শিক্ষা এখন পণ্য হয়ে গেছে যে কর আরোপ করা হয়েছে ? শিক্ষাকে মুনাফালোভীরা পণ্য বানানোর তৎপরতায় চোখ জুড়ান যে কিন্ডারগার্টেন মোড়কে মুড়িয়ে পণ্য বানানোর পাঁয়তারা শুরু করেছিল, আজ সেটা সফল হয়েছে । প্রাইভেট স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জয় জয়কার দেশজুড়ে, তুমি চাইলে তাদের অভিনন্দন জানাতে পার ।
এসব নিয়ে আমার মোটেও ভাবনা নেই মৃত্তিকা । প্রবহমান হাজারও অন্যায়ের ভীড়ে ষোল কোটি মানুষ এই অন্যায়গুলোও মেনে নেবে । বিন্দুমাত্র প্রতিবাদ করবে না, উচ্চকিত হবে না এর বিরোধে । রোজ সকালে চায়ের কাপ হাতে পত্রিকায় এই খবরগুলো দেখবে আর বলবে, 'কিচ্ছু হবে না এই দেশের, এই দেশে মানুষ থাকে ?' তারপর অমানুষ হওয়ার প্রক্রিয়ায় নিজেদের যুক্ত করে সব ভুলে বেরুবে নিজেদের দৈনন্দিন প্রয়োজনে ।
তুমি তো এমন নও মৃত্তিকা । অমানুষ হওয়ার প্রক্রিয়ায় তো তোমার কান্না পায় । ভালবাসার কষ্ট তো তোমার বুকে দীর্ঘশ্বাস তৈরি করে । দুহাত প্রসারিত করে তোমার দিকে বাড়িয়ে না এলে তোমার বুক ব্যাথা করে । ভালবাসায় জাপটে না ধরলে তুমি ঘুমাতে পার না । তুমি কি করে বাস করছ এই মানুষগুলো নিয়ে । কি করে ক্ষমা করছ এদের ? তোমার প্রতি আমার করজোর অনুরোধ তোমার অনুভূতি এই ষোল কোটির মাঝে ছড়িয়ে দাও । মানুষ বানানোর প্রক্রিয়াটা শুরু করো ।
বিশেষ আর কিছু বলার নেই । যদি অজান্তে তোমায় ব্যাথা দিয়ে থাকি তবে ক্ষমা কোরো । ভাল থেক ।
ইতি
তোমারই
মুবিন
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০১৫ সকাল ১১:২৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিয়োগের রূপকথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি  বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু  আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিনতম সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১০



বিএনপির সামনে অনেক কঠিন সব চ্যালেঞ্জ...

তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে দ্বিমুখী বিরোধী-দলীয় রাজনীতি বা কর্মকাণ্ড (যেটা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি)।

জামাত-এনসিপি যতই লীগের ফিরে আসার বিরুদ্ধে বিএনপির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার নানা মরহুম শাহাবুদদীন মাহমুদ জায়গীরদার

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৫



আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×