somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালবাসা!!কেন এত অসহায়?

১৪ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

-দোস্ত দেখ হিমেল কেমন জানি একা একা
থাকে।
মোবাইল থেকে নজরটা শরিয়ে মেঘনার কথায়
ধ্যান দিল রাফা।
-হুমম।
-কি হুমম।ও কারো সাথে কথা বলেনা কোন
মেয়ের সাথে মিশেনা ইভেন কোন ছেলের
সাথেও না।একা একা শুধু পড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকে
ইস্ট্রেঞ্জ।
-ওর কিছু একটা করা দরকার।
-কি করব?
-আই থিংক ওর একটা প্রেম করিয়ে দেয়া দরকার।
ও চেঞ্জ হয়ে যাবে।
-প্রেম আর ওর সাথে ইম্পসিবল!!ও কাওকে পাত্তা
দিবে না।আর কেও ওর সাথে প্রেম করবে না।
-আর যদি করে।
-কে করবে শুনি?
-আমি আর কে?
-হা হা।ও তোর দিকে ফিরেও তাকাবে না।
-ও আমার সাথে প্রেম করবে।তুই দেখবি?
-বাজি ধর।তুই পারবি না।
-আচ্ছা ডান।ও যদি আমার প্রেমে পড়ে তুই
আমাদের বন্ধুদের সবাইকে ট্রিট দিবি।
-ওকে ডান।কিন্তু আবির কি বলবে।তোদের
রিলেশনের প্রবলেম হবে তো?
-আরে কিচ্ছু হবেনা।আমি ওরে সব বুঝিয়ে দেব।
-আচ্ছা দেখা যাক কি হয়।
-দেখ কি করি।
.
বলে হিমেলের কাছে যায় রাফা।চিকন চোখে
চশমা পড়া ছেলেটা হলো হিমেল।আর ও সবসময়
একা থাকতে পছন্দ করে।তাই রাফা মেঘনার
সাথে বাজি ধরে হিমেলের সাথে প্রেম করবে।
শিড়িতে বসা হিমেলের কাছে ছুটে যায় রাফা।
.
-হিমেল আজকের এসাইনমেন্ট করতে আমাকে
হেল্প করবে প্লিজ?
.
রাফা হিমেলের পাশ ঘেসে বসে তাই হিমেল
একটু দূরে সরে চশমাটা ঠিক করে।
-আজকেরটা।আচ্ছা ঠিক।
.
বলে রাফার এসাইনমেন্ট করতে হেল্প করে
হিমেল।তাদের মাঝে হাসি ঠাট্টা চলে।হিমেল
পরে বাসায় চলে যায়।
পরেরদিন ক্যান্টিনে বসে পড়তে থাকে হিমেল।
এর মধ্যে রাফা আসে।
.
-থ্যাংক ইউ সো মাচ হিমেল।তুমি না থাকলে
মনে হয় আজকে স্যার মেরেই ফেলত।
কথাগুলা বলতে বলতে টেবিলে রাখা হিমেলের
হাতে হাত পরে যায় রাফার।ঘাবরে গিয়ে
ততক্ষনাক হাতটা সড়িয়ে নেয় হিমেল।
.
-কি হলো?
-না কিছুনা।
.
কথাটা শুনে অটঠাসিতে ফেটে পড়ে রাফা।
তারপর দুজন কথা বলতে থাকে।এক পর্যায়ে রাফা
বলে:
-তোমাকে চশমা ছাড়া অনেক সুন্দর লাগবে।আর
টি-শার্ট না পড়ে শার্ট পড়লে অনেক মানাবে।
.
কথাগুলা হিমেল সিরিয়েসলি নেয়।আর মনে মনে
খুশি হতে থাকে।কারন জিবনের প্রথম কোন মেয়ে
ওকে এই কথাগুলা বলেছে।
বাসায় গিয়ে হিমেল চশমা ছাড়া শার্ট পড়ে
আয়নার সামনে দাড়ায় আর মুচকি হাসি দিতে
থাকে।তারপর সারারাত রাফার ব্যাপারে
ভাবতে থাকে।কারন ওর মনে রাফার জন্য একটা
জায়গা তৈরি হয়।
.
পরেরদিন হিমেলকে চশমা ছাড়া আর শার্ট পড়া
দেখে ভার্সিটির সবাই চমকে যায়।আর ওদিকে
রাফা মেঘনাকে বলে:
-দেখেছিস কি পরিবর্তন এনেছি।দেখবি এখন
আমার কাছেই আসবে।
হিমেল রাফার কাছে গিয়ে দাড়ায়।রাফা
হিমেলের প্রশংসা করতে থাকে:
-এইত কি সুন্দর লাগছে।তোমাকে দেখে তো
যেকোন মেয়ে ক্রাশ খেয়ে যাবে।
হিমেল নরমসূরে বলে
-সত্যি যেকোন মেয়ে?
-আরে হ্যা।আমি কি মিথ্যা বলব নাকি।যাও এখন
ক্লাসে যাও আমাদের ওখানেই দেখা হবে।বায়।
.
হিমেল ক্লাসের দিকে এগিয়ে যায়।আর ওদিকে
মেঘনা রাফাকে বলে:
-মানতে হবে।তুই বাবা লা-জবাব।ছাগল দিয়েও
হাল চাষ করতে পারিস।
-এখন দেখবি কাল ও আমাকে প্রপোস করেছে।
-আচ্ছা দেখি।
.
পরেরদিন:
--------
মাঠে সবাইকে রাফা আগে থেকেই বলে
রেখেছিল।হিমেল পকেটে গোলাপ ফুলটা রেখে
দৌড়ে আসে রাফার দিকে।
-(হাপাতে হাপাতে)রাফা!!রাফা।আমি
তোমাকে কিছু বলতে চাই।
-হ্যা বলো।
তারপর হিমেল হাটু গেরে বসে রাফাকে প্রপোস
করে।
-আই লাভ ইউ রাফা।তুমি আমাকে অনেক বদলে
দিয়েছ।ওয়িল ইউ ম্যারি মি।
.
কথাটা শুনে আনন্দে লাফ দিয়ে উঠে রাফা।আর
চিৎকার দিয়ে বলতে থাকে:
-হে গায়েস আই ডু ইট।
বলে দৌড়ে গিয়ে মেঘনার হাতের সাথে হাত
মিলায় রাফা।হিমেল বোকার মতো দাড়িয়ে
দাড়িয়ে দেখছিল।তারপর রাফা গিয়ে সব খুলে
বলে হিমেলকে।
রাফা চলে যাওয়ার সময় হিমেল পিছ থেকে
হাতটা ধরে।
.
-দাড়াও।তুমি এইভাবে চলে যেতে পারো না।
রাফার হাসি মুখ বন্ধ হয়ে যায়।আর হাতটা
ছাড়ানোর চেষ্টা করে।
-হাত ছাড়ো হিমেল।সবাই দেখছে।
-দেখতে দাও।তুমি কেন এমন করলে বলে যাও।
-হাত ছাড়তে বলেছি ছাড়ো।
-ছাড়বো না।
হাত না ছাড়াতে বাম হাত দিয়ে একটা থাপ্পড়
দেয় রাফা।আর সবার সামনে বলে উঠে:
-কি মনে কর তুমি নিজেকে?আমার সাথে প্রেম
করার মতো কি যোগ্যতা আছে তোমার।হেসে ২
টা কথা কি বলেছি তুমি মনে করেছ আমি
তোমার প্রেমে পড়েছি।তোমার মতো ফাউল
ছেলেকে আমি আমার জুতা মুছার জন্যও রাখি
না।
.
কথাগুলা বলে চলে যায় রাফা।ওদিকে গালে হাত
দিয়ে চলে যায় হিমেল।
.
পরেরদিন:
--------
হিমেলের বন্ধু রনি এসে রাফাকে একটা চিঠি
দেয়।তারপর কাদতে কাদতে চলে যায়।চিঠিটা
খুলে পড়তে থাকে রাফা:
.
আসলে ঠিকই বলেছ আমার কোন যোগ্যতা ছিল
না তোমার সাথে প্রেম করার।তুমি হয়তোবা
বাজি ধরে কাজটা করেছ কিন্তু আমার ভালবাসা
তো সত্য ছিল।তোমাকে ঘৃনা করতে আমি
পারবোনা।কারন তোমাকে জুড়ে আমার মনে শুধু
ভালবাসা আছে ঘৃনার কোন জায়গা নেই।তাই
চলে যাচ্ছি বহুদূর।যেখানে তোমাকে ঘৃনা করতে
হবেনা আমাকে।সুখে থেক ভাল থেক।
.
চিঠিটা পড়ে কাদতে লাগল রাফা।আর
নিজেকেই নিজে বলতে লাগল:
-কি ভুল করলাম।যার প্রায়শ্চিত্ত করার সুযোগও
পেলাম না।
.
লেখক- Muhammad Arju (পথহীন মুসাফির)
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:৫২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Somewhereinblog.net: বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ থেকে ডিজিটাল পাবলিশিং এ পরিনত করে সাবলম্বি করার লক্ষ্যে একটি খসড়া প্রস্তাবনা ।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯


একজন নিয়মিত ব্লগার হিসেবে প্রতিদিনই লক্ষ্য করি, Somewhereinblog.net (সামু) বাংলা সাহিত্য, অভিজ্ঞতা ও তথ্যভিত্তিক লেখার এক বিশাল আর্কাইভে পরিণত হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে একটি কঠিন বাস্তবতাও সামনে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

অটো কে বন্ধ করা যাবে না।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১




অনেক দিন আগের কথা। ২০১৫ সালের ঘটনা। তখন আমি মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় থাকি এবং অনার্সে পড়াশোনা করি। পড়তাম পাশের উপজেলা সোনারগাঁওয়ের সোনারগাঁও সরকারি কলেজে। প্রতিদিন কলেজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার : খাল বাবা স্বয়ং

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৮

আসন্ন বিসিএস পরীক্ষার কমন প্রশ্ন ফাঁস করে দিলাম। পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার মহাপ্রতিভাবান খাম্বা/খাল বাবা। তিনি HSC ডিগ্রীধারী হলেও তার প্রতিভা আকাশচুম্বী। রবিঠাকুর বা নজরুলের সাথে তার কোন তুলনা হয় না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডেভেলপমেন্টে করণীয় কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬



গত কয়েক বছর ধরে সামহোয়্যারইন ব্লগ সহ দেশের সকল পত্রিকা ও টিভি চ্যানলে রাজনৈতিক লেখা বেশি আসছে যা সকলের কাছে ভালো লাগার বিষয় না। রাজনীতি ভালো লাগবে শুধুমাত্র জেনজি’দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্যাসিবাদ মোকাবেলায় এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫৬


ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করা গেছে, কিন্তু পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। অন্তত প্রযুক্তির দিকে তাকালে এমনটাই মনে হচ্ছে। যে আওয়ামী লীগ এতদিন মানুষের ভোট, মতামত, রাজপথ, রাষ্ট্রযন্ত্র সবকিছুর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×