আর মুমিন নারীদেরকে বল, তারা তাদের
দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের
লজ্জাস্থানের হিফাযত করবে। আর যা সাধারণত
প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য তারা
প্রকাশ করবে না। তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে
বক্ষদেশকে আবৃত করে রাখে। আর তারা যেন
তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, নিজদের ছেলে,
স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাই-এর ছেলে, বোনের
ছেলে, আপন নারীগণ, তাদের ডান হাত যার
মালিক হয়েছে, অধীনস্থ যৌনকামনামুক্ত পুরুষ
অথবা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক
ছাড়া কারো কাছে নিজদের সৌন্দর্য প্রকাশ
না করে। আর তারা যেন নিজদের গোপন সৌন্দর্য
প্রকাশ করার জন্য সজোরে পদচারণা না করে। হে
মুমিনগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তাওবা
কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা আন-
নূর:৩১)
.
“যদি তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে
পরপুরুষের সাথে কোমল ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে
করা বলো না, ফলে সেই ব্যক্তি কুবাসনা করে,
যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে। তোমরা সঙ্গত
কর্থাবার্তা বলবে।” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত:
৩২]
“তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান, তা ছাড়া
তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন
তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশে ফেলে
রাখে।” [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩১]
.
আয়াতগুলা দেয়ার কিছু কারন আছে।আমি আজ
সত্য বলতে বসেছি।পুরো সত্য আজ আপনাকে
শুনতেই হবে।তারপর যদি আমাকে ভালো লাগে
তাহলে ভালো নয়ত আমাকে গালি দেয়ার
সম্পূর্ন হক আপনার আছে।
.
আমার কথাটা হলো অনেক কথাকথিত মেয়েদের
"হিজাব" নিয়ে।আমি এই জিনিসটাকে একটুও
রাইট বলে মনে করি না বা এইটা পর্দার কোন
অংশ তাও জানি না।এটা পর্দার কোন অংশ
হতেই পারে না।কারন এতে মেয়েদের মাথা
ছাড়া আর তেমন কিছুই ঢাকা যায় না।উপরের
আয়াতগুলাকে পড়লে স্পষ্ট বুঝা যায় যে এখানে
বুক সহ সৌন্দর্য বুঝা যায় এমন জিনিসগুলাকে
ঢাকতে বলেছে আর লজ্জাস্থানকে হেফাজত
করতে বলেছে।
.
কিন্তু আমার বুঝে আসে না কেন মেয়েরা হিজাব
ব্যবহার করে পর্দার নাম দেয়।এতে না কোন
সৌন্দর্যের স্থান ঢাকা যায় না লজ্জাস্থানের
হেফাজত করা যায়।হিজাবটা মূলত চুলের পশ্চাৎ
ভাগ থেকে চুলের পিছের অংশ ঘিরে বুকের আগ
পর্যন্ত এসে থেমে যায়।এখন ওইটুকু যায়গায় সে
লজ্জাস্থান বা সৌন্দর্যের কি দেখতে পায় যে
তাকে ঢেকে রাখে?চুলের কোন গোড়ায় কি
লজ্জাস্থান আছে বলে শুনেছেন বা চুলের
গোড়ায় গোড়ায় সৌন্দর্যের কিছু আছে বলে
শুনেছেন?নিশ্চই না।তারা তাদের চুল ঢেকে বুক
খালি রাখে।সাথে পারেনা নিচের অংশকেও
খালি রাখে।
.
মানুষের কাছ থেকে শুনে বুকের ওড়না মাথায়
পেঁচানোকে পর্দা বলে না।এটা যদি পর্দা হতো
তাহলে শরিরে সব অংশকে উলঙ্গ রেখে চলাটাও
পর্দার অন্তর্ভুক্ত হতো।হিজাব কোন মুসলিম
নারীর জন্য নয়।হিজাব হলো খ্রিষ্টান
ধর্মাবলম্বী নারী "সিস্টার"খ্যাত মহিলাদের
জন্য।খেয়াল করলে দেখবেন তারাই হিজাবের
সৃষ্টিদাতা।মুসলিম মহিলা বা মেয়েরা এটা
আগে ব্যবহার করত না।তারা বোরকাকেই পর্দার
মূল হোতা মানত।কিন্তু সময়ের পরিপেক্ষিতে
খ্রিষ্টানদের করা কাজ আমাদের মুসলিম
মেয়েরা করে এটাকে পর্দার অন্তর্ভুক্ত করছে।
যারা এই কাজটা করে তাদের উদ্দেশ্যে বলতে
চাই খ্রিস্টান বা ইহুদিদের করা কাজ তোমরা
ইসলামের কাজ বলে চালিয়ে দিচ্ছ মানি
তোমরা তাদের দালালি করে তাদের প্রতি
ভালবাসা দেখাচ্ছ।তাহলে অবশ্যই প্রস্তুত হয়ে
যেও তাদের সাথে হাশর করার জন্য।
.
একটা ঘটনা তো নিশ্চই শুনেছেন যে,ইউসুফ
(আঃ)এর সময় শনিবার ইবাদাতের দিন ছিল যার
কারনে সব জেলের সেদিন মাছ ধরতে নিষেধ
ছিল।তো জেলেরা নিজেকে চালাক মনে করে
শনিবার আসলেও মাছ ধরতো না কিন্তু ওইদিন
আটকে রেখে পরেরদিন ধরে বলতো "হ্যা আমরা
নিষেধাজ্ঞা মেনেছি।আমরা ইবাদাতের দিন
মাছ ধরি নি।
তো ব্যাপারটা এই রকম হয়ে গেল আরকি
যে,আল্লাহ পর্দা করতে বলেছে তারা বুক
চেহারা খালি রেখে মাথা ঢেকে বলছে "হ্যা
আমরা পর্দা করেছি।মানি ইউসুফ (আঃ) এর
সময়ের লোকেরা নিজেকে চালাক ভেবে যেমন
আল্লাহকে চ্যালেঞ্জ করেছিল তেমনি তারাও
করছে।তো ভেবে রাখবেন আপারা তারা যেমন
আল্লাহর গজবে পতিত হয়েছিল তেমনি
আপনারাও হবেন।এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।
.
ইহুদিদের চক্রান্তটা খুব সুন্দরভাবে সাজানো
হয়েছে।প্রথমে তারা তাদের ধর্মের প্রথাকে
ইসলামে ঢুকিয়ে দিয়ে তার উপর পর্দা নামকরন
করেছে।আর এই হিজবা ওয়ালা কোন মেয়ে যদি
ধর্ষিত হয় তাহলেও ইসলামের দোষ দিচ্ছে যে
"ওই মেয়ে তো পর্দা করেছিল তাহলে কেনো
ধর্ষিত হলো?তাই আমরা ইসলামের কোন আইন
মানব না।এই অবস্থা হচ্ছে তাদের।ইহুদিরা ক্ষনে
ক্ষনে হাসছে যে "আমাদের প্রতেকটা চালে
ইসলাম ধ্বংসের মুখে পড়ছে।কিন্তু তাদের একটা
জিনিস জানা নেই ইসলামের মালিক ইসলামকে
রক্ষা করার জন্য একলাই যথেষ্ট।
.
আর যারা মনে করেন যে হিজাব পড়লে পর্দা হয়
তাদের জন্য একটা কথা আছে।কিছুদিন আগে
ডিসকাভার চ্যানেলের একটা অনুষ্ঠানে দেখেছি
যে যৌন উত্তেজনার প্রায় ২৭ ভাগ বুক ২৩ ভাগ
মুখ আর ৫০ ভাগ পিছনের দিক দেখে হয়।এখন
আপনাদের বলছি হিজাব কি এই ৩ টা জিনিসের
একটাও রক্ষা করতে পেরেছে?উত্তর আসবে না।
তাহলে কেনো এটাকে পর্দার অংশ বলে
ইসলামের উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন?যেই জিনিস
আপনার সৌন্দর্য আর লজ্জাস্থান ঢাকতে পারে
না ওইটাকে আপনি কতটুকু জ্ঞান থাকলে পর্দার
অংশ বলতে পারেন ভাবতেই অবাক লাগে।
তাহলে কেনো ধর্ষন হলে ইসলামকে দোষ দেন?
ইসলাম নারীদের পর্দা করতে বলেছে তাদের
হেফাজত করার জন্য।হিজাব পড়ে ঢং করার জন্য
নয়।
.
আর যারা তাসলিমা নাসরিনের মতো বলে
নারীদের স্বাধীন করে দাও।তাদের কথার
আড়ালে থাকে নারীদের উলঙ্গ করে দাও যাতে
ইসলামের বাধ থেকে ছুটে তারা নাস্তিক হয়ে
যায় আর ইসলাম নারীদের রক্ষা করতে পারে না
বলে প্রমান করতে পারে।আপনাদের আবার বলছি
হিজাব পর্দার কোন অংশ না।তাই হিজাব পড়া
কোন মেয়ে ধর্ষিত হলে ইসলামের দোষ দিবেন
না।সম্পূর্ন পর্দাকারি নারী যদি ধর্ষিত হয় তখন
যা খুশি বলবেন।
.
লেখায়- Muhammad Arju (পথহীন মুসাফির)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

