somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুহম্মদ রেজাউর রহমান
আমি দেশ ও দেশের মানুষকে ভালবাসি। এই মানসিকতা নিয়েই প্রতিষ্ঠা করেছি এম.আর.আর. ফাউন্ডেশন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি; বেকার যুবকরা প্রশিক্ষিত হয়ে নিজেই নিজের বেকারত্বের সমাধান করতে পারেন। বিশেষ প্রয়োজনে আমাকে ০১৬৩১৬০৬০৬০ অথবা ০১৬৩৪৫০০৫০০ নাম্বারে পাবেন।

পটিয়ার ডেইরি শিল্প রক্ষায় জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজন একটি ভেটেরিনারি হাসপাতাল এবং দুদ্ধ প্রক্রিয়াজাত প্লান্ট

২৮ শে আগস্ট, ২০১২ রাত ৮:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে পশ্চিম পটিয়ায় সরকারি কোনো পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই সম্পূর্ণ ব্যক্তি-উদ্যোগে গড়ে উঠেছে পাঁচ শতাধিক ডেইরি ফার্ম। এসব ডেইরি ফার্মে দুগ্ধ প্রদানকারী গাভী রয়েছে প্রায় ২৫ হাজার। দৈনিক দুধ উতৎপাদিত হচ্ছে প্রায় ৫০ হাজার লিটার। গাভী পালন করে চট্টগ্রামের পটিয়ার ৬ শতাধিক পরিবার স্বাবলম্বী হয়েছে। তাদের দেখাদেখি আশপাশের অন্যরাও গাভী পালনে ঝুঁকেছেন। তবে খাদ্য সঙ্কট, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা না থাকা এবং বিভিন্ন কারণে খামারিদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

খামারিরা জানান, শুরুতে দু-তিনটি গাভী দিয়ে বেকার যুবকরা ডেইরি ফার্ম গড়ে তোলেন। বর্তমানে ওইসব ডেইরি ফার্মে গাভীর সংখ্যা বেড়ে ১০০ থেকে ১৫০টি দাঁড়িয়েছে। পটিয়া উপজেলার ২২ ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে পাঁচটিতে প্রায় সব বাড়িতে খামার গড়ে উঠেছে। প্রাকৃতিক অনুকূল পরিবেশ থাকায় একজনের দেখাদেখি অন্যরা উদ্বুদ্ধ হয়ে একের পর এক খামার গড়ে তুলছেন। তারা জানান, সরকারি সহযোগিতা তাদের ভাগ্যে জোটেনি। প্রথম অবস্থায় গোখাদ্যের অভাব না থাকলেও এখন খামারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রাকৃতিক খাদ্য সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।

খামারিরা আরো জানান, ১৯৯০ সালে সর্বপ্রথম এই এলাকায় খামার গড়ে ওঠে। ওই সময়ে সরকার প্রতিটি খামারিকে গরুপ্রতি ৭ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে তারা আরে কোন সহযোগীতা সরকার থেকে পাননি। ফলে নিজ প্রচেষ্টাতেই তাদের টিকে থাকতে হচ্ছে।

এছাড়া ফার্মগুলোতে দৈনিক প্রায় ৫০ হাজার লিটার দুধ উৎপাদিত হলেও দুধ প্রক্রিয়াজাত করার কোনো প্লান্ট না থাকায় বাধ্য হয়েই কম দামে মিষ্টি তৈরীর কারখানায় দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে। কোনো প্রযুক্তিগত জ্ঞান না থাকায় প্রতিদিন প্রায় এক হাজার লিটার দুধ নষ্ট হয়ে যায়। খামার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ গরু অস্ট্রেলিয়ান জাতের। এর মধ্যে কিছু গাভী ডেনমার্ক ও হল্যান্ডের জাত। প্রতি গাভী থেকে দৈনিক ৮-৩৫ কেজি পর্যন্ত দুধ পাওয়া যায়।

গাভী পালনে সমস্যার কথা জানাতে গিয়ে ফার্ম মালিকরা বলেন, গোখাদ্যে কুঁড়া ভুসি, পাতা ভুসি, মুগ পাউডার, সয়াবিন খৈল ইত্যাদির দাম বেড়েছে। পাশাপাশি গো-খাদ্যে ভেজাল দেয়া হচ্ছে। এছাড়া ওষুধের দামও বেড়েছে। শাহ ছমিয়া ডেইরি ফার্মের মালিক ও পটিয়া ডেইরি ফার্ম মালিক সমিতির সেক্রেটারি নাজিমুদ্দিন জানান, ওষুধের মূল্য আগের চেয়ে দু-তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে এক্সট্রোপেন ৪০-৬৫ টাকা, ফোনাপেন ৪৫-৬০ টাকা, হাইড্রোমাক্স ৫০-৭০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। অন্যান্য ওষুধের দামও বেড়েছে।

পটিয়ার উৎপাদিত দুধ দিয়ে বর্তমানে বৃহত্তর চট্টগ্রামের চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের অভিজাত মিষ্টি উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফুলকলি, স্বাদ, বনফুল, জমজম, মধুবন, ওয়েল ফুডসহ প্রায় সব মিষ্টি তৈরির প্রতিষ্ঠান পটিয়ায় ডেইরি ফার্মগুলো থেকে দুধ সংগ্রহ করে। মিষ্টি উতৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে দুধ সরবরাহকারীরা জানান, তারা সকাল ও সন্ধ্যায় খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম শহরে সরবরাহ করেন। প্রতি কেজি দুধ তারা ৩৬ থেকে ৩৮ টাকায় ক্রয় করে ৪০ টাকায় বিক্রি করেন। যথাসময়ে সরবরাহ করতে না পারলে প্রতিদিন কিছু দুধ নষ্ট হয়ে যায়।

সমবায়ী প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটা কর্তৃপক্ষ দু’বছর আগে দুধ প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণের জন্য একটি প্লান্ট তৈরি করার ঘোষণা দেয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। পটিয়া ফার্ম মালিক সমিতির সেক্রেটারি নাজিম উদ্দিন জানান, মিল্ক ভিটা কর্তৃপক্ষ একটি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করলে একদিকে খামারিরা খুবই উপকৃত হবে, অন্যদিকে চট্টগ্রামের চাহিদা মিটিয়ে এ দুধ দেশের অন্যান্য জেলায়ও সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এ এলাকায় ভেটেরিনারি হাসপাতাল না থাকায় চিকিৎসকের অভাবে তারা সময়মত গরুর চিকিতৎসা দিতে পারেন না। ফলে তাদের অনেক দামি গরু মারা যায়। খামার এলাকা থেকে পটিয়ার সদরের দূরত্ব বেশি হওয়ায় তারা চট্টগ্রাম শহর থেকেই ডাক্তার এনে চিকিৎসা করাতে বাধ্য হন।

পটিয়ার ডেইরি শিল্প রক্ষায় জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজন একটি ভেটেরিনারি হাসপাতাল এবং দুধ প্রক্রিয়াজাত প্লান্ট।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চর্যাপদঃ বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্য

লিখেছেন কিরকুট, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:০৮

চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত হলেও, এর ভাষা ও উৎস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে। ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এই পদগুলি আবিষ্কার করেন এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৮৫

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৫



ইদের আগে মেহেদি দেওয়া যেন খুবই গুরুত্বপূর্ন কাজ মেয়েদের!
মেয়েরা লম্বা লাইন ধরে মেহেদি দিতে যায়। সব মার্কেটের সামনে ছোট টেবিলে বসে মেয়েরা মেহেদি দিচ্ছে। গত বছর আমার দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক !

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৫২



আজ সকালটা খুব সুন্দর ছিলো! একদম ঈদের দিনের মতো! বারান্দার কাছে গেলাম। আমাদের বাসার পাশেই লালমাটিয়া গার্লস স্কুলের মাঠ। স্কুলের মাঠে একটা বটগাছ আছে। মাঠ থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক! ঈদ মোবারক!! ড: এম এ আলী ভাইয়ের লিরিকে আমার ঈদের গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৫৭

আমার জন্য ঘটনাটা একটু বিব্রতকর হয়ে গেছে। শায়মা আপুর এসো ঈদের গল্প লিখি ...... পড়ি পোস্টে আলী ভাইয়ের কমেন্ট (১০ নম্বর) পড়তে পড়তে নীচে নামতে নামতে নিজের নাম দেখে হুট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×