somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাসর রাতে বেড়ালনিধনের ইতিবৃত্ত

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সকাল ১১:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(হীরক লস্কর পষ্টাপষ্টি দোষ চাপিয়ে দিলেন বাঙালি জাতির স্কন্ধে, আমরা নাকি রসিক নই। রসবোধে নাকি খামতি আছে আমাদের। খেজুরের রস, তালের রসের প্রতি ভয়াবহ আকর্ষণ বা আসক্তি থাকলেও হাস্যরসের কলসি নাকি আমাদের গাছেই পড়ে থাকে।
লস্করের কথার প্রতিবাদের ভাষা আমার জানা নেই, কিন্তু তাঁর জিজ্ঞাসার উত্তরে এই পোস্টটা করছি।)

বাসর রাতে বেড়াল মারার ইতিহাস নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের কাজেই হচ্ছে অন্যদের সাথে ফারাক রেখে একটা মত পোষা, কিন্তু অ্যাতো কাঠখড় পুড়িয়ে তাঁরা বিশেষজ্ঞ হয়েছেন, কার মত ফেলে দিয়ে কারটা গ্রহণ করবো তা নিয়ে ঝামেলা লেগে যেতে পারে।

একটি প্রচলিত মত, যেটি কাৎসেনশ্লেগার তত্ত্ব বলে পরিচিত, আমাদের টেনে নিয়ে যায় খ্রিষ্টের জন্মেরও বহু আগে, প্রাচীন মিশরে। বহু ফারাও ওফারাওপত্নীদের পিরামিডে পাওয়া গেছে মৃত বেড়ালের মমি। ধারণা করা হয়, নিজ হাতে খড়গ দিয়ে একটি কুমারী বেড়ালের শিরচ্ছেদ করে ফারাওগণ তাঁদের বাসরঘরে প্রবেশের অধিকার পেতেন। যে ফারাও এক কোপে একটা বেড়ালের মাথা কাটতে পারে না, সে কিভাবে বিয়ের আব্দার করে? নিজের শৌর্যের প্রমাণ হিসেবেই ফারাওরা বাসররাতে বেড়ালনিধন করতেন।

তবে এই মতবাদকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন সালমানকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক হুয়ান মাতাগাতোস। তাঁর মতে, বাসর রাতে বেড়াল মারার দায়িত্বটি পুরুষ নয়, নারীর কর্তব্য। এবং এই রীতি প্রচলিত ছিলো প্রাচীন ইনকাদের মধ্যে। বেড়ালকে অত্যন্ত ঝগড়াটে ও স্বার্থপর প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করতো তারা, এবং দাম্পত্য জীবনে প্রবেশের পূর্বে এসব বদগুণের প্রতীক হিসেবে একটি বেড়ালকে ধরে এনে মুড়ো খ্যাংড়া দিয়ে পেঁদিয়ে তার জীবননাশের মাধ্যমে বিবাহিত রমণীটি বাসরঘরে প্রবেশ করতো। তবে ইনকাদের রহস্যময় পিরামিডের ভেতরের দেয়ালচিত্র থেকে জানা যায়, বেড়াল পেটানোর এই ধারা তারা বিবাহিত জীবনেও অব্যাহত রাখতো স্বামীদের পিটিয়ে।

তবে অতি সম্প্রতি কটকে আবিষ্কৃত কিছু প্রাচীন ফার্সি পুঁথির পাঠোদ্ধার করে জানা গেছে, বাসর রাতে বেড়াল মারার ব্যাপারটি জনপ্রিয় করেন সম্রাট শের শাহের অনুচর খুসরাও খাঁ। কথিত আছে, খুসরাও খাঁ তাঁর বাসরঘরে নববধূর ঘোমটা উত্তোলনের পর যখন তাঁর সৌন্দর্য অবলোকন করে অশুদ্ধ পশতুতে বাহবা দিতে উদ্যত হয়েছিলেন, তখন তাঁর মুখরা স্ত্রী শূলবদন বানু মুখ ঝামটা দিয়ে বলেছিলেন, জনাব আপনার মনিব শের শাহ তো স্ত্রীকে খুশি করার জন্যে এক কোপে একটা শের মেরে এনেছিলেন, আর আপনি দিব্যি শুন্য দস্ত সাথে করে গটমটিয়ে বাসরঘরে ঢুকে পড়লেন? আরে ছোহ! পরওয়ারদিগার এ কেমন খসম জুটালেন আমার শিরে? নববধূর মুখে এই কটূবাক্য শুনে খুসরাও অত্যন্ত মনক্ষুণ্ন হন, এবং ঘরের পাশের গলি থেকে একটি বিড়ালকে গেরেফতার করে এনে তার মুন্ডচ্ছেদ করে বলেন, বিবি, শের তো গন্ডায় গন্ডায় মেলে না, তাই শেরের মওসির শির কেটে আনলাম তোমার জন্যে। তবে সাবধান হাঁ, আমার কিন্তু যখন তখন তলোয়ার উঠে যায়, বেশি বাকোয়াজ করলে কিন্তু শের বিলি্ল আদমী কিছু খায়াল থাকে না। এখন ঘাগড়াখানা উতারো দেখি, ইত্যাদি ইত্যাদি।
জনশ্রুতি আছে এর পরে খুসরাও খাঁ লোকমুখে বিলি্ল খাঁ বলে পরিচিত হন, এবং অন্দরে বাহিরে ব্যাপক সমাদর লাভ করেন।

(লস্কর ভাই, আপনার কৌতূহল নিবৃত্ত হলো কি না জানাবেন।)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১


জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাংগুক অচলায়তন

লিখেছেন মাসুদ রানা শাহীন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯


ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।

ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।

নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×