somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চাঁদ বহুকাল চাঁদ থাকার পর

৩০ শে জুন, ২০১৪ দুপুর ২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চাঁদ বহুকাল চাঁদ থাকার পর চাইল আকাশ-পাতাল বদলে যেতে।

তো এক ঘনবনের মাথায় এসে নামল যখন, দেখল একটাই মাত্র পথ চলে গেছে গাঁয়ের দিকে। সেই পথের বাম সারির একেবারে শেষের সুপারি গাছটাকে লেগে গেল ভাল। সে গিয়ে গাছটাকে বলল, 'সুপারি, তুমি চাঁদ হয়ে উড়ে বসো আকাশে, আলোয় কালোয় ক্লান্ত আমি বরং এইখানে পথ পাহারায় কাটাই খানিক কাল।' কী যেন ভেবে কিছুক্ষণ সুপারি বেশ রঙিন, রাজি হয়ে গেল।

সুপারি গাছের সবুজ বেশে চাঁদ যেদিন থেকে বসল সেই পথ পাহারায়, তার ঠিক দিন সাতেক পরের ঘটনা।

এক বালক , বারোর মতোন বয়স, সঙ্গী নাই, সাথিহীন, যেন ভেসে ভেসে হেঁটে এল গাঁয়ে। কেউ দেখেনি কখন; কেউ জানে না কোথা থেকে। এসে বসল যে সোজা দীঘির পাড়ে, না মুখে কথা , না গান , না হাসি। নানান জনে নানান রকম নানানভাবে জানতে চাইল অতীত, উদ্দেশ। কিন্তু কিছুতেই কিছুনা। অমাবস্যার অন্ধকার, শাওন মাসের ভরা বাদল সবকিছু মাথায় নিয়ে রইল বসে কথাহীন।

কিন্তু চোখে ছিল জনমের জনমের কাহিনী। তার মন, মা, রক্তের আবেগ, ভবিষ্যত, দূর-অদূর অতীত সমস্ত সেই চোখে ছিল স্পষ্ট করে আঁকা। শতজনের মাঝে একজনই কেবল বুঝল সেইসব ছবি, সেই কাহিনীর বুঝল সকল মানে। ঝাকড়া চুল, মলিন জামার কোমল লোকটা ভরাবৃষ্টির সেই দীঘির পাড়ে, অন্ধকারের ছায়া যেমন, বসল এসে। তারপর পাষাণ হাতে খেজুর-কাঁটায় বালকের গল্পভরা দুই চোখ রক্তরঙে তুলে ধীরে ধরল পথ।
গ্রামের সেই একমাত্র পথ। যেখানে চাঁদ সবুজ সুপারি হয়ে নির্ঘুম পাহারায়।

নিদারুণ লোকটা একটা কদম হাঁটে আর দুই হাতের দুই চোখ থেকে একটা করে গল্প পড়ে শোনায় পথজোড়া সবাইকে। বালকের চোখ থেকে পড়া সবশেষের গল্প ফুরাল যেভাবে:

'চাঁদ তার সবুজ পাতায় আমার শরীরের প্রথম আর শেষ আবেদন পূরন করে দিল। চাঁদের আকুল আদর পেলে, রক্তজুড়ে, বুক, মুখ হৃদয় জুড়ে অন্ধকারের বিশাল রকম সাধ জাগে।'


প্রথম বীর্যপাতের সুখ বুকে নিয়ে যে বালক সেদিন অন্ধ হওয়ার আশায় বৃষ্টিভেজা বসেছিল, আগের জন্মে সে ছিল ব্যাকুল রাধার খোঁপার ফুল, তারও এক জন্ম আগে অর্জুনের কৃষ্ণকাতর তীরের ফলা।



ছবি: ভ্লাদিমির কুশ
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুন, ২০১৪ দুপুর ২:৩৫
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×