somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রবিবার ছুটি প্রার্থনাকারী কান্ডারীরা একটু দেখবেন দয়া করে! (আশা করি)

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ২:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সরকার সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিনের পরিবর্তে একদিন করতে যাচ্ছে এ ধরণের খবর বের হবার পর ছুটি কয়দিন ও কোন দিন হবে তা নিয়ে আবার বিতর্ক শুরু হয়েছে। চাকুরীজীবিরা দুই দিনের ছুটির পক্ষে থাকলেও ব্যবসায়ীদের একটি অংশ তাকে একদিন করার পক্ষে। তাদের কেউ কেউ আবার শুপ্প ঙ্কারকে কর্মদিবস হিসাবে ঘোষণা করে রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি নির্ধারনের দাবী জানাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার সপ্তাহে দুদিন ছুটিকে সমর্থন করে তাকে শুপ্প ঙ্কশনির পরিবর্তে শনি-রবিতে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন। দেশের অর্থনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবিদের একটি অংশও এ বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছেন। যারা শুপ্প ঙ্কারের পরিবর্তে রবিবারে সাপ্তাহিক ছুটি চাচ্ছেন, তারা বলছেন যে শুপ্প ঙ্কশনি ছুটি থাকার কারনে বাংলাদেশ বিশ্ব থেকে সপ্তাহে তিনদিন বিচ্ছিনড়ব হয়ে থাকে। তাতে বহির্বিশ্বের সাথে আমাদের ব্যাবসাবাণিজ ্য, বিশেষ করে রফতানি বাণিজ্য মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। উদাহরন হিসাবে বলা হচ্ছে যে, দেখা গেল আমেরিকার কোন তৈরী পোষাক আমদানিকারক শুপ্প ঙ্কারে বাংলাদেশে ফোন করলেন তৈরী পোষাক সরবরাহের অর্ডার দেয়ার জন্য এবং শুপ্প ঙ্কার অফিস বন্ধ থাকায় কেউ ফোন ধরলো না। ফলে তিনি তার অর্ডারটা পাঠিয়ে দিলেন ভিয়েতনাম, চীন বা ভারতে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ ব্যবসা হারালো।

যদি প্রকৃতই এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে বাংলাদেশ গত দুই যুগে অনেক ব্যবসা হারিয়েছে এবং এতো ব্যবসা হারানোর পরেও যে কোটামুক্ত অবস্থায় বাংলাদেশের তৈরী পোষাক শিল্প সাফল্যের সাথে টিকে আছে তা বিস্ময়কর বটে। সত্যি কথা বলতে কি, ব্যবসায়ীদের এ সকল যুক্তি ও বক্তব্য কিছুটা অতিরঞ্জিত বলে মনে হওয়া স্বাভাবিক। বলা হচ্ছে শুপ্প ঙ্কশনি ছুটি থাকায় তিনদিন বাংলাদেশ বিশ্ব থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিনড়ব হয়ে থাকে। এ ধরনের কথা শুনলে মনে হয় যেন শুপ্প ঙ্কথেকে রবিবার এই তিন দিন কোন এক ভিনগ্রহের বাসিন্দারা এসে বাংলাদেশের সাথে বর্হিবিশ্বের সব সংযোগ কেটে দিয়ে যায়। ইন্টারনেট কাজ করে না, ই-মেইল-ফোন-ফ্যাক্স আসে-যায় না এবং বিটিভি ছাড়া অন্য কোন টিভি চ্যানেল দেখা যায় না। বাস্তব অবস্থা যে তেমনটি নয় তা সবাই জানেন। ইন্টারনেট ও ই-মেইল তো দিনরাত চবি্বশ ঘন্টা চালু থাকেই, তদুপরি এখন এদেশে ই-মেইল করতে বা ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে কমঙ্িউটার, টেলিফোন লাইন বা অন্য তারের সংযোগ কিছুই প্রয়োজন হয় না। মোবাইল ফোনেই এখন যোগাযোগের এ সকল সুযোগগুলো পাওয়া যায় এবং সেগুলো বাংলাদেশে বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশের সবগুলো মোবাইল অপারেটর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেটে যোগাযোগের সুবিধা দিচ্ছে। এ বিষয়ের বিজ্ঞাপন চিত্রগুলো দেখলেও কেউ এ সমঙ্র্কে ধারণা পেতে পারেন। যেমন একটি টিভি বিজ্ঞাপনচিত্রে দেখা যায় একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী চলন্ত পথে মোবাইল ফোনে তার ই-মেইল পড়ছেন। বিদেশী প্পে ঙ্কা তাকে একটা পোষাকের নক্সা পাঠিয়েছে। চলন্ত পথেই তিনি সে নক্সা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাঁর ফ্যাক্টরীতে পাঠিয়ে দিলেন। কদিন পর তিনি বিদেশে গিয়ে দেখেন সে নক্সা অনুযায়ী তৈরী তার ফ্যক্টরীর পোষাক বিশ্বখ্যাত শপিং সেন্টারে সাজানো রয়েছে।

এবার দেখা যাক, ব্যবসা হারানোর বিষয়টি। যারা শুপ্প ঙ্কার বন্ধের কারণে ব্যবসা হারানোর কথা বলছেন, তাদের বক্তব্য শুনে মনে হবে, বাংলাদেশ থেকে যারা তৈরী পোষাক বা অন্যান্য সামগ্রী আমদানী করেন, তারা শুপ্প ঙ্কার অফিসে গিয়ে বাংলাদেশের ইয়োলো পেজ হাতে নিয়ে এক একটি নম্বরে ফোন করা শুরু করেন অর্ডার দেয়ার জন্য। মনে হবে যে, আমাদানীর অর্ডার দেয়ার আগে তারা তাদের পরর্ববর্তী আমদানির অভিজ্ঞতা কাজে লাগান না। তাদের সাথে রফতানিকারকদের আগে থেকে কোন যোগাযোগ ঘটে না। সবকিছু ঘটে থাকে হঠাৎ করেই এবং শুপ্প ঙ্কার সকালেই। বাস্তবে বিষয়টি ঘটে অন্যরকম। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তৈরী পোষাকের কাজ পাওয়া যায় বায়িং হাউসের মাধ্যমে। তারা প্পে ঙ্কার কাছ থেকে কাজের অর্ডার নিয়ে তাদের পরিচিত ফ্যাক্টরীকে দিয়ে সেই কাজ করিয়ে নেয়। এটিও ঘটে বিভিনভাবে এবং ধাপে। বায়িং হাউসগুলো সম্ভাব্য প্পে ঙ্কাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে। কোন প্পে ঙ্কার তৈরী পোষাক প্রয়োজন হলে তিনি এক বা একাধিক বায়িং হাউসে যোগাযোগ করেন এবং পোষাকের ডিজাইন পাঠান। বায়িং হাউসগুলো ডিজাইনমত নমুনা বানিয়ে প্পে ঙ্কার কাছে পাঠায়। প্পে ঙ্কার পছন্দ হলে দরদামের বিষয়টি আসে। সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে গেলে প্পে ঙ্কা এলসি খোলেন। বিদেশ থেকে কাঁচামাল কেনার বিষয় থাকলে সংশিব্জ্থষ্ট ফ্যাক্টরী তার জন্য ব্যাংকে এলসি খোলে। পোষাক তৈরী হয়ে গেলে তা প্পে ঙ্কাকে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

দেখা যাচ্ছে যে, এক্ষেত্রে বিদেশী প্পে ঙ্কাকে কখনই কোন সরকারী অফিসের সাথে যোগাযোগ করতে হয় না। তারা যোগাযোগ করেন বায়িং হাউসের সাথে। আমাদের দেশের অধিকাংশ বায়িং হাউস শুপ্প ঙ্কার খোলা থাকে। কাজ থাকলে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীগুলোও সপ্তাহে সাত দিনই রাতদিন চবি্বশ ঘন্টা খোলা রাখে। ফলে শুপ্প ঙ্কার ছুটি নিয়ে তাদের সমস্যা হবার কোন কারন দেখা যাচ্ছে না। এখন মোবাইল ফোন ও ই-মেইলের যেভাবে বিস্তৃতি ঘটেছে তাতে অফিস খোলা থাকার সাথে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের তেমন কোন সমপর্ক থাকার কথা নয়। যেসব প্রতিষ্ঠান এসকল ব্যবসায়ে জড়িত, তাদের অফিস শুপ্প ঙ্কারে এমনকি রাতে খোলা রাখার ব্যাপারে সরকারী কোন নিষেধাজ্ঞা আছে বলে তো জানা যায় না। ভারতের সিলিকন ভ্যালী বলে পরিচিত বাঙ্গালোরের সফটওয়্যার কোমপানিগুলো আমেরিকার সাথে তাদের সময়ের পার্থক্যের কারনে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে।

শুপ্প ঙ্কার ছুটি থাকায় রফতানী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এ দাবীকে ভিত্তিহীন বলে মনে করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গর্ভনর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং ডিভিশনের সাবেক সচিব শাহ আব্দুল হানড়বান। পত্রিকা প্রকাশিত নিবন্ধে তিনি জানিয়েছেন যে, ব্যবসায়ীরা বিভিনভাবে সময়ে বিভিন দাবী-দাওয়া নিয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলেও কখনও একথা জানাননি যে, শুপ্প ঙ্কার ছুটি থাকায় তাদের ব্যবসা-বানিজ্য ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ব্যবসা বানিজ্যের সাথে ব্যাংকের যোগাযোগ অত্যন্ত বেশী। যদি শুপ্প ঙ্কারে ব্যাংক বন্ধ থাকায় ব্যবসা বাণিজ্যের আসলেই কোন ক্ষতি হতো তাহলে অর্ধশত বেসরকরী ব্যাংকের হাজার হাজার শাখার অন্ততঃ দু-একটি শুপ্প ঙ্কারে খোলা থাকতো বা খোলা রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন জানাতো।

এখানে একটি কৌতুহলোদ্দীপক বিষয় রয়েছে। আমাদের অর্থনীতি আমদানি নির্ভর। রফতানির তুলনায় আমাদের আমদানির পরিমান অনেক বেশী। শুপ্প ঙ্কার ছুটি থাকায় যদি আমাদের রফতানি ক্ষতিগ্রস্থ হয়, তাহলে একই কারনে যে সকল দেশ বাংলাদেশ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিনড়ব দেশে (যেখানে শুপ্প ঙ্কার সাপ্তাহিক ছুটি) রফতানি করে থাকে তারাও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির সমমুখীন হচ্ছে। ভারতের সবথেকে বড় রফতানি বাজার হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য। বাংলাদেশে ভারতের রফতানির পরিমান বছরে বিশ হাজার কোটি টাকার বেশী। ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও বাংলাদেশ মিলে ভারতের রফতানি বাজারের সিংহভাগ তৈরী হয়।

তাহলে ছুটির পার্থক্যের কারনে রফতানির ক্ষতির কথা চিন্তা করে কি ভারতের উচিৎ ছিল না সাপ্তাহিক
ছুটি রবিবার থেকে শুপ্প ঙ্কারে সরিয়ে নেয়া? কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় ভারতীয় ব্যবসায়ীরা কখনও এ দাবী করেননি। তাছাড়া আন্তর্জাতিক বিশ্ব বলতে শুধু পাশ্চাত্যের দেশগুলোকেই বোঝায় না। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও রয়েছে। সেসব দেশের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনসমপদ রফতানি ও উনড়বয়ন সহায়তার মত অর্থনৈতিক সমপর্ক বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক আয়ের একটি প্রধান অংশ আসে মানব সমপদ রফতানি করে। এই আয়ের আবার দুই-তৃতীয়াংশের বেশী আসে মধ্যপ্রাচ্যর দেশগুলো থেকে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিনড়ব দেশে বাংলাদেশ সবজি, হিমায়িত খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য পণ্য রফতানি করে থাকে। পাশ্চাত্যের কয়েকটি দেশ যখন বাংলাদেশকে বিভিনড়ব ছুতোয় একঘরে করে রাখার চেষ্টা করে সে মুহুর্তে মধ্যপ্রাচ্যের ধনকুবেররা বাংলাদেশে তাদের অর্থ বিনিয়োগের বড় বড় প্রস্তাব নিয়ে ছুঠে আসছেন। ইতোমধ্যে রূপালী ব্যাংকে তারা প্রচুর বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সউদি আরব, কুয়েত ও ইসলামি উনড়বয়ন ব্যাংকের মত দেশ ও সংস্থা সরকারের বিভিনড়ব প্রকল্পে অর্থ সাহায্য করে
আসছে। তাদের সহায়তার পরিমান যেমন কম নয়, তেমনি বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক ম দ্রা তহবিলের মত তারা নানান শর্ত বেঁধে দেয় না বা ইউরোপীয় দেশগুলোর মত 'ঋণের চেয়ে মাতব্বরী বেশী' করে না। সুতরাং যদি ধরে নেয়া হয় যে, বিদেশের সাথে অর্থনৈতিক সমপর্কের উপর সাপ্তাহিক ছুটি প্রভাব ফেলে তাহলেও ছুটি শুপ্প ঙ্কারে হওয়া উচিৎ, রবিবারে নয়। অনেকে বলছেন যে, ধর্মীয় কারণে শুপ্প ঙ্কারে ছুটি বহাল রাখার কোন ভিত্তি নেই কেননা, ইসলাম ধর্মে এমন কোন কথা নেই যে শুপ্প ঙ্কারে কাজ করা যাবে না; বরং কোরান শরীফে আলব্জ্থাহ বলেছেন নামাজের
পর জীবিকা অন্বেষণে বের হয়ে যেতে। বস্তুতঃ ইহুদী ও খ্রীষ্ট ধর্মে যেমন সপ্তাহের একটি বিশেষ দিনে কাজ করা নিষিদ্ধ, ইসলামে তেমনটি নেই। ইহুদীরা বিশ্বাস করে যে, আলব্জ্থাহ ছয়দিনে বিশ্ব সৃষ্টি করে সপ্তম দিনে (শনিবারে) বিশ্রাম নিয়েছিলেন। তাই অনেক নিষ্টাবান ইহুদী শনিবারে ফোন পর্যন্ত ধরে না। ইসলামে এ ধরনের গোড়ামীর অবকাশ নেই। বরং ইসলাম শুপ্প ঙ্কারকে নির্ধারন করেছে মুসলমানদের সাপ্তাহিক জমায়েতের জন্য যাতে তাদের মধ্যে সামাজিক বন্ধন অটুট থাকে ও তাদের নেতারা যেন সামাজিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব সমপর্কে তাদেরকে সচেতন করে দিতে পারে। ইসলাম শুপ্প ঙ্কারে কাজ করাকে নিষিদ্ধ করেনি, কিন্তু দিনটিকে সপ্তাহের অন্যান্য দিন থেকে আলাদা ধর্মীয় মর্যাদা দিয়েছে। সে কারনে পৃথিবীর অধিকাংশ মুসলিম দেশে শুপ্প ঙ্কারে ছুটি প্রচলন রয়েছে। তাছাড়া ইসলাম সর্বদা তার
অনুসারীদের স্বাতন্ত্র বজায় রাখার উপর জোর দিয়েছে। স্বাতন্ত্রের বিষয়টিকে প্রত্যেক এলাকাভিত্তিক বা ধর্মভিত্তিক জাতিই গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ফ্রান্স কেন আইফেল টাওয়ার বানিয়েছে? মালেশিয়া কেন পেট্রোনাস টাওয়ার তৈরী করেছে? আমরা কেন পহেলা বৈশাখকে এতো সাড়ম্বরে উদযাপন করার চেষ্টা করছি? এর কারন প্রত্যেক দেশ, জাতি ও ধর্ম চায় তার স্বতন্ত্র পরিচয়ের বিকাশ ঘটাতে। স্বাতন্ত্রের সাথে জাতীয় পরিচিতি, আত্ম বিশ্বাস ও জাত্যাভিমান অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত আর এ বিষয়গুলি স্বাধীনতা স্বার্ভভৌমত্ব রক্ষা ও অর্থনৈতিক উনড়বতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শুপ্প ঙ্কার ছুটি থাকায় বাংলাদেশে একটি ভিনড়ব ধরনের ধর্মীয় সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। আমাদের দেশে প্রচুর লোক আছেন যারা নিয়মিত নামাজ না পড়লেও শুপ্প ঙ্কারের নামাজটি ছাড়েন না। শিশু-কিশোর ছেলের হাত ধরে পাজামা-পাঞ্জাবী ও টুপি পরে নাগরিকেরা দলে দলে মসজিদে নামাজের জন্য যাচ্ছেন - এ দৃশ্য শুপ্প ঙ্কারের ঢাকায় রাস্তায় রাস্তায় দেখা যায়। ঢাকার এপার্টমেন্টগুলোতে মাত্র এক বিঘা যায়গার উপর ত্রিশ-পয়ত্রিশটা পরিবার বাস করে, অথচ, কারো সাথে কারো দেখা-সাক্ষাৎ ও চেনা-জানা হয় না। শুপ্প ঙ্কারে ছুটি থাকায় মসজিদে জুমমার নামাজের কারনে সেই ভেঙ্গে পড়া সামাজিক বন্ধন কিছুটা হলেও জোড়া লেগে থাকে। বায়তুল মোকাররম মসজিদ সহ অনেক মসজিদে নারীদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে যা অন্যান্য শহরেও ধীরে ধীরে চালু হচ্ছে। জুমমার দিনে এ সকল মসজিদে নারীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করার মত। শুপ্প ঙ্কার কর্মদিবস হলে পিতা-পুত্রের একত্রে মসজিদে যাওয়া, চাকুরীজীবি নারীদের মসজিদে নামাজ আদায়, প্রতিবেশীর সাথে যোগাযোগ - ইত্যাদি সম্ভব হতো না। শুপ্প ঙ্কারের ছুটিকে কেন্দ্র করে প্রাইভেট টিভি চ্যানেলগুলো ইসলামি জ্ঞানভিত্তিক বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে। এ অনুষ্ঠানগুলো অত্যন্ত জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ধর্মের নামে গোড়ামী, কুসংসস্কার ও বিকৃত মতবাদ প্রচারের বিরুদ্ধে এ সকল অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে কিছু সংস্থা ও দল
ইসলামের বিকৃত ব্যাখা উপস্থাপন করে ইসলামের নামে ঘৃণ্য সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাতে চেষ্টা করেছে। তাদের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে ইসলামের প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরা হয় - এ ধরনের অনুষ্ঠানের প্রচার বাড়াতে হবে। যারা বাংলাদেশে ধর্মের নামে সন্ত্রাসবাদ বিস্তারে উদ্বিগড়ব তাদেরকে বিষয়টি অনুধাবন করতে হবে।
বাংলাদেশের জন্য ধর্মীয় মূল্যবোধের বিস্তার যে কতটা প্রয়োজনীয় তা কিছুদিন পূর্বে আমেরিকার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ের পরের ঘটনাবলী থেকে বোঝা যায়। দূর্গত নারীরা খাদ্য ও পানীয়ের অভাবে মৃতপ্রায় অবস্থায় তাদের ছাদে দাড়িয়ে যখন সাহায্যের জন্য হাত নেড়েছে, তখন উদ্ধারকারীরা ক্যামেরা নিয়ে গিয়ে তাদেরকে বিবস্ত্র হতে বলেছে। আমাদের দেশের মানুষ অশিক্ষিত। তাদের আরো হাজারো দোষ আছে। কিন্তু এরকমটি কখনো ঘটেছে বলে শোনা যায় নি। আমাদের অতি দূর্বল আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির মধ্যে যেভাবে পর্ণো বই-পত্র ও সিডির বিস্তাার ঘটছে, আামাদের সরকারসমূহের কল্যাণে যেভাবে অশব্জ্থীল চ্যানেল ঘরে ঘরে পেঁৗছে গেছে, তার পরও যে নারীরা তাদের মান-সমমান নিয়ে রাস্তাঘাটে চলতে পারছে, অফিস-আদালত-স্কুল-কলেজে যেতে পারছে তার পিছনে প্রধান অবদানটি রাখছে ধর্মীয় মূল্যবোধ। প্রকৃতপক্ষে এসকল বিতর্কের মাধ্যমে আমাদের উনড়বতির প্রধান অন্তরায়গুলোকে বিভিন্নভাবে আড়াল করে রাখা হচ্ছে। তৈরী পোষাক শিল্পে পরিকল্পিতভাবে অসন্তোষ সষ্টি করে এবং দিনের পর দিন হরতাল অবরোধ দিয়ে এ শিল্পকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ কারণে ইতোমধ্যে অনেক প্পে ঙ্কা হারিয়েছে বাংলাদেশ। দুঃখের বিষয় আমাদের ব্যবসায়ী সমাজ এ সকল ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে তেমন কোন প্রতিবাদ জানাতে পারেন নি। দিনের পর দিন অবরোধ চলাকালে কারো সাহস হয় নি অবরোধের বিরুদ্ধে কথা বলার। তাছাড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদও শক্তিশালী নয়। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে আমাদের জিডিপির অর্ধেক খেয়ে যায় দূর্নীতিতে। ব্যাপক দূর্নীতি রোধ করা গেলে আমাদের মাথা পিছু আয় দ্বিগুন হয়ে যেত এবং দুই থেকে তিন শতাংশ জিডিপি বেড়ে যেতো। ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের বিকাশ ছাড়া এই সর্বগ্রাসী দূর্নীতি রোধ করা সম্ভব নয়। শুপ্প ঙ্কারের ছুটি সেই মূল্যবোধের
লালন ও বিস্তারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মূল লেখিকা: ডালিয়া সাত্তার।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ২:২৬
১৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেড ইন বাংলাদেশ ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:২২


দেশপ্রেমের সংজ্ঞাটা আমাদের দেশে ঋতুভেদে বদলায়। তবে ২০২৪-এর জুলাই পরবর্তী সময়ে আমরা এক নতুন ধরনের সিজনাল দেশপ্রেম দেখলাম। একে বলা যেতে পারে "রিটার্ন টিকিট দেশপ্রেম"। যারা দেশে বিদেশে আরাম-আয়েশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়ন রোডম্যাপ: একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিপত্র রূপরেখা : পর্ব -১ ও ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১১


প্রস্তাবিত রূপরেখা: কৃষিকে জীবিকানির্ভর খাত থেকে প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল
ও বৈশ্বিক বাজারমুখী বাণিজ্যিক শিল্পে রূপান্তরের জাতীয় কৌশল প্রস্তাবনা ।

বাংলার মাঠে প্রথম আলোয়
যে ছবি আসে ভেসে
কাঁধে লাঙল, ঘামে ভেজা মুখ
কৃষক দাঁড়ায় হেসে।

সবুজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুদের পর্যবেক্ষণ, শিশুদের ভালোবাসা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৩


Two for joy!

আমার চার বছরের নাতনি আলিশবা আমাকে ব্রীদিং এক্সারসাইজ করতে দেখলে সে নিজেও শুরু করে। যতটা পারে, ততটা মনোযোগের সাথে অনুকরণ করতে চেষ্টা করে। আমি ওকে দেখলে কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি ধার্মিক না মানুষ?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮

ধার্মিক হওয়া কোনো কাজের কথা নয়।
ধার্মিক হওয়া সহজ। বিজ্ঞানী হওয়া সহজ কথা নয়। পিএইচডি করা সহজ কথা নয়। সেই তুলনায় কোরআন মূখস্ত করা সহজ। জন্মগত ভাবে আমি বাপ মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমাকে ভালোবাসি I love you

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৩:০২

তোমাকে ভালোবাসি বাতাসের মতো,
যেমন শিশুর কাছে বালি একটা খেলনা,
অথবা ঝড়ের মতো, যাকে কেউ বোঝে না।

I love you like the wind,
Playing like a child in the sands,
Or a storm that no... ...বাকিটুকু পড়ুন

×