সামাজিক বিবর্তনের সামপ্রতিক প্রবণতা: আমাদের ভূমিকা
(গত কিস্তির পর)
আবর্তন ক্রিয়েটিভ সেল।।
ধমর্ীয় মূল্যবোধের দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন:
ধর্ম এমন একটি বিষয় যা দেশ-কাল-স্থান ভেদাভেদ না করে একদেহের একপ্রাণ এক আত্মা হিসেবে সংশ্লিষ্ট মানুষকে মোটমুটি একইভাবে পরিচালিত করতে/হতে অনুপ্রাণিত করে। ধর্ম মূলত: সমাজের অন্যতম একটি উপাদান। রক্তের সম্পর্ক যখন মানুষকে একই বন্ধনে ধরে রাখতে পারে না তখন ধর্মের আশ্রয়ে এক হয়ে সমাজ গঠন করে। ধর্ম শেখায় সামাজিক আইন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ভালবাসাও সহযোগিতার শিক্ষা। বর্তমান সময়ে সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ধর্মের প্রভাব তীব্র ভাবে দেখা না গেলেও সমাজে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন, বিধি-বিধান, মেনে চলার ক্ষেত্রে কিংবা বিশ্বাসের গভীরতার ক্ষেত্রে ভিন্নতা ও পরিবর্তন দেখা যায়। মানুষের চিন্তা জগতে জড়বাদী ও বস্তুবাদী ধ্যান-ধারণার ফলে চরম স্বার্থপরতা যেমন ঢুকেছে তেমনি বর্তমান সময়ের উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে নাস্তিকতার দিকে ঝোক প্রবণতা। বিশেষ করে তথাকথিত হাইসোসাইটিতে ধর্ম-কর্মের ব্যাপারে শিথিলতা দেখা যায়। আবার বিপরীত দিকে ধর্মের সঠিক জ্ঞানের অভাবে এক শ্রেণীর আলেম সমাজ ধমর্ীয় জঙ্গিবাদের গোড়া সমর্থক হিসেবে কাজ করছে এবং ধর্মের অপব্যবহার করছে। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও লক্ষ্যণীয় বিষয় হচেছ সমাজের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিশাল একটি অংশ আজ নিয়মতান্ত্রিক ইসলামী ভাবধারা প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সক্রিয় এদিক থেকে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উল্লেখযেগা্য অংশ ইসলামের সৌন্দর্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বর্তমানে ধমর্ীয় ক্ষেত্রে পীর পুঁজা ও মাজার পুঁজার মতো গর্হিত কাজ অনেকাংশে কমে যাচ্ছে এবং তাদের অবস্থানও দুর্বল হয়ে পড়ছে। এছাড়া অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধি, ধমর্ীয় কুসংস্কার দূরীভূত, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে মসজিদসহ অন্যান্য উপাসনালয় বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু পাশ্চাত্যের প্রভাবে নারী অধিকারের নামে পর্দা প্রথা লঙ্ঘিত হচ্ছে, পোষাক পরিচ্ছদে ধমর্ীয় মূল্যবোধ কমে যাওয়ায় ধর্ষণ, খুন, এসিড নিক্ষেপ, অপহরণসহ অনৈতিক কাজের বিস্তার ঘটছে। তবে আশার দিক হচ্ছে পরিবর্তিত সামাজিক প্রেক্ষাপটে জীবন বিধান হিসেবে ইসলামের জোয়ার দেখা যাচ্ছে। মানুষ আজ মানব সৃষ্ট মতবাদের করাল গ্রাস থেকে মুক্তি পেতে মরিয়া। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে মুসলমান তথা ইসলামী ভাবধারা ও ইসলামের প্্রতি ব্যাপকভাবে মানুষের আকর্ষণ তারই প্রমাণ বহণ করে।
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



