প্রশ্নঃ
'ইসলামী বিপ্লবের পথ' বইয়ের আলোকে রাষ্ট্র ব্যবস্থার স্বাভাবিক বিকাশ ও অবাস্তব কল্পনা বিলাস সম্পর্কে বিস্তারিত লিখুন ।
উত্তরঃ
রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বাভাবিক বিকাশঃ
রাষ্ট্র ব্যবস্থা কৃত্রিমভাবে তৈরী করে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় এনে স্থাপন করার মত কোন বস্তু নয়। রাস্ট্র ব্যবস্থা কোন একটি সমাজের মধ্যকার নৈতিক চরিত্র, চিন্তা চেতনা, মন মানসিকতা, সভ্যতা সংস্কৃতি এবং ইতিহাস ঐতিহ্যগত কার্য কারণের ফলশ্রুতিতে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক নিয়মে জন্ম লাভ করে।
@ এর জন্য কিছুটা প্রাথমিক উপায় উপাদান, কিছু সামাজিক ও সামষ্টিক চেষ্টা তৎপরতা, কিছু আবেগ উদ্দিপনা ও ঝোঁক প্রবণতা বর্তমান থাকা চাই, যে গুলোর সমন্বিত চাপের মুখে স্বাভাবিক পন্থায় রাষ্ট্র ব্যবস্থা অস্তিত্ত্ব লাভ করে থাকে।
@ যুক্তি বিদ্যায় সূত্র বিন্যাসের ভিত্তিতে যেমন সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয় ঠিক তেমনিভাবে সমাজবিজ্ঞানের সূত্র অনুযায়ী, একটি রাষ্ট্র কেবল সেই পরিবেশের দাবির ফলশ্রুতিতেই জন্ম লাভ করে, যে পরিবেশ সৃষ্টি হয় কোন সমাজে পারস্পরিক সমঝোতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে।
অবাস্তব কল্পনা বিলাস ঃ
কিছু লোকের ধারণা, মুসলমানরা সংগঠিত হলেই তাদের সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তারা মনে করেন, মুসলমানরা এক কেন্দ্রে, এক প্লাটফরমে এবং নেতৃত্বের অধীনে একত্রিত হয়ে গেলেই 'ইসলামী রাস্ট্র' কিংবা 'স্বাধীন ভারত স্বাধীন ইসলাম' এর উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে যাবে। কিন্তু এটা মূলত জাতি পূজা ধরনেরই প্রোগ্রাম। এভাবে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চিন্তা অবাস্তব কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। জাতীয়তাবাদী চিন্তা দ্বারা ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় না। একই ভাবে মুসলমান যদি বংশগত কিংবা ঐতিহাসিক জাতির নাম হয়ে থাকে আর উদ্দেশ্য যদি হয়ে থাকে সেই জাতিটির উন্নতি সাধন, তবে তার বাস্তব সম্মত উপায় সেটাই, যা প্রস্তাব করা হচ্ছে। এর ফলে একটি জাতীয় রাষ্ট্রও অর্জিত হতে পারে। কিংবা কমপক্ষে দেশ শাসনে ভাল একটা অংশিদারিত্ব লাভ হতে পারে। কিন্তু ইসলামী বিপ্লব এবং ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিক থেকে এটাকে প্রথম পদক্ষেপও বলা যেতে পারে না। বরঞ্চ এ এক বিপরীত পদক্ষেপ। যে জাতি নৈতিক দিক থেকে এতটা অধ:পতিত হয়েছে, তার সব ধরণের জগাখিচুড়ি চরিত্রের লোকদের একত্রিত ও সংগঠিত করে দিলেই, কিংবা রাজনৈতিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদেরকে শৃগালের মত চাতুর্য শিখিয়ে, অথবা সামরিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নেকড়ের মত হিংস্র করে গড়ে তোলার মাধ্যমে জঙ্গলের কতৃত্ব লাভ করা হয়তো সহজ হতে পারে। কিন্তু তাদের দ্বারা আল্লাহর কালেমাকে বিজয়ী করার কাজ সম্ভব নয়। কেউ কেউ এমন অসার কল্পনাও পোষণ করেন যে, অনৈসলামী ধাঁচে হলেও একবার মুসলমানদের একটি জাতীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাক। পরে ধীরে ধীরে শিক্ষা ব্যবস্থা ও নৈতিক চরিত্রের সংশোধনের মাধ্যমে সেটাকে ইসলামী রাষ্ট্রে রুপান্তরিত করা যাবে। কিন্তু তা অবাস্তব কল্পনা ছাড়া কিছুই নয়। গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ক্ষমতা তো সেই সব লোকদের হাতেই আসবে, যারা ভোটারদের সমর্থণ লাভ করতে সক্ষম হবে। ভোটারদের মধ্যে যদি ইসলামী চিন্তা ও মানসিকতাই সৃষ্টি না হয়, যথার্থ ইসলামী নৈতিক চরিত্র গঠনের আগ্রহই তাদের না থাকে এবং ইসলামের সেই সুবিচারপূর্ণ অলংঘনীয় মূলনীতিসমূহ তারা মেনে চলতে প্রস্তুত না হয়, যে গুলোর ভিত্তিতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালিত হবে, তাদের ভোটে কখনো খাঁটি মুসলমান নির্বাচিত হয়ে পার্লামেন্টে আসতে পারবে না। এ পন্থায় তো কেবল ঐসব লোকেরাই নেতৃত্ব হাসিল করবে, যারা আদমশুমারী অনুযায়ী মুসলমান বটে, কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গি, কর্মনীতি এবং কর্মপন্থার দিক থেকে তাদের গায়ে ইসলামের বাতাস ও লাগেনি।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই আগস্ট, ২০০৬ বিকাল ৪:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



