চারদলীয় জোট সরকারের শেষ দিকে যখন সরকারী দলের সাথে আওয়ামী লীগের সাথে বহুল আলোচিত সংলাপ চলছিল তখন বিদেশী দুতাবাসের প থেকে একটি কথা জোরে সোরে উচ্চারিত হত। সেটি হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌছতে ব্যর্থ হলে দেশে তৃতীয় শক্তির উত্থান ঘটবে। তখন দেশের রাজনীতিক সহ প্রায় সবাই মনে করেছিলেন এখানে তৃতীয় শক্তি বলতে সেনা বাহিনীকে বুঝানো হতে পারে। অনেকে আবার বলেছিলেন ইসলামের নামে যারা চরম পন্থা াবলম্বন করছে তারাই এই তৃতীয় শক্তি। সে সময় রাজনীতিবিদরা বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব প্রদান করেন নি। তাছাড়া অনেক তোরজোরের পর বহুল আলোচিত সংলাপ ব্যর্থ হয়ে যায়। এরই মধ্য দিয়ে চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারে হাতে মতা হস্তান্তরের মুহুর্তে সংবিধান মোতাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে নিয়েআওয়ামী লীগ দেশে ভয়াবহ অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। রাজপথে প্রকাশ্যে মানুষ পিটিয়ে হত্যা করে। এর পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ সবারই জানা। তাই এর পুনরাবৃত্তি করতে চাই না। সর্বশেষ গত 11 জানুয়ারী পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বিদেশীদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন আহম্মদ দেশে জরুরী অবস্থা জারি করেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারে প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরই মাধ্যমে অবসান ঘটে সাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের।
পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর ড. ফখরুদ্দিন আহমদকে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ দেন এবং তিনদফায় শপথ দেন অন্যান্য উপদেষ্টাদের। যাত্রা শুরু হয় একটি নতুন সরকারের। শোনা যায়,আমেরিকার প্রেসক্রিপশন অনুযায়ীই ড.ফখরুদ্দিনকে নিয়োগ দেয়া হয়। যদিও উপদেষ্টারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিয়েছেন কিন্তু সংবিধানের আলোকে তারা সকল কাজ করছেন না। এমনকি তাদের সরকারের মেয়াদও তারা জানেন না। প্রধান উপদেষ্টাও জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে এ ব্যাপারে পরিস্কার করে কিছু বলেন নি। তারা শুধু এতটুকু বলছেন যে, একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে যতদিন লাগবে ততদিন তারা মতায় থাকবেন। প্রধান উপদেষ্টা শপথ গ্রহনের পর তার সরকারের ব্যাপারে সুস্পষ্ট কিছু বক্তব্য প্রদান রে সবাইকে শংকামুক্ত করবেন এমনটাই সচেতন মহল প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু ভাষণ তৈরি করতে তিনি সময় নেন 9 দিন। তিনি তার বহুল প্রত্যাশিত ভাষণে একটি মহা পরিখল্পণার কথা ঘোষণা করেন। যা 5 বছরেও বাস্তবায়ণ করা সম্ভব নয়। যাই হোক এবার অসল কথায় আসা যাক। এই সরকারটি গঠন করার মধ্য দিয়ে দেশের সংবিধান মুলতঃ স্থগিত হয়ে গেছে। কারণ সংবিধানের সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার যে দায়িত্ব দেশের প্রেসিডেন্টের উপর অর্পিত হয়েছিল, সে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে তিনি দেশকে সাংবিধানিক সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। অবশ্য পেসিডেন্টের তেমন কিছু করার ছিল না। কারণ এ সরকারটি প্রতিষ্ঠার পেছনে আমেরিকা ও বৃটেনের প্রত্য চাপ ও নির্দেশনা ছিল। তারা এ ধরণের একটি সরকার প্রতিষ্ঠার সকল আয়েজন করে রেখেছিল। আমেরিকা কোন সময়েই বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ভালো চোখে দেখেনি। যার প্রমান হচ্ছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাদের বিরোধিতা এবং স্বাধীনতার পরে স্বীকৃতি প্রদান করতে গড়িমসি করা। এজন্য বাংলাদেশে গনতন্ত্রের ধারাবাহিকতা তাদের মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় দেশের প্রধান দুটি দলের অনৈক্য বিশেষ করে আওয়ামী লীগের অপরাজনীতির সুযোগ নিয়ে আফগানিস্তানের হামিদ কারজাই সরকারের মত বাংলাদেশে ফখরুদ্দিন সরকার কায়েম করেছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিউটেনিসের 11জানুয়ারীর আগে পরের কর্মব্যস্ততা ও বৃটিশ হাই কমিশনারের বক্তব্য উল্লেখিত কথারই ইংগিত বহন করে। এছাড়া এ কাজের ত্রে প্রস্তুত করতেউ আমেরিকান ও ইইউ-এর পর্যবেক দল প্রত্যাহার এবং আমেরিকা নিয়ন্ত্রিত জাতিসংঘের মহাসচিবের মাধ্যমে বিবৃতি প্রদান করানো হয়। একাজটি প্রথমে করানোর চেষ্টা করা হয় নোবেল বিজয়ী ড. ইউনুছের মাধ্যমে। তিনি যে জাতীয় সরকারে ফর্মুলা দিয়েছেন তা মুলতঃ বিউটেনিসদেরই ফর্মুলা। কিন্তু সে ফর্মুলা বাস্তবায়ণে ব্যর্থ হয়ে মার্কিনিরা প্রত্যভাবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে হস্তপে করে। ইতোমধ্যেই আবার এখবরও বেরিয়েছে যে, রাজনীতিতে চরমভাবে ব্যর্থ ও হতাশ ড. কামাল হোসেন আমেরিকা সফর করে তার তথাকথিত 'জাতীয় সরকার' প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে উচ্চ পর্যায়ে লবিং করে আমেরিকাকে পরামর্শ দিয়েছিল।
বর্তমান সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে শপথ গ্রহন করলেও তাদের মেয়াদের ব্যাপারে বক্তব্য বড়ই অস্পষ্ট। আগামী 5/6 মাস কিংবা এক দেড় বছরের মধ্যে আদৌ নির্বাচন হবে কিনা এ ব্যাপারে অনেকেই সন্দীহান হয়ে পড়েছে।
এছাড়া সরকার যে পরিকল্পনা গ্রহন করেছে তা 5 বছর মেয়াদী কোন নির্বাচিত সরকার গ্রহন করতে পারবে কিনা বলা কঠিন। ড. ফখরুদ্দিন সরকারের পরিকল্পনা দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে, তারা বেশি দিন মতায় থাকতে চায়। তারা যে সব সিদ্ধান্ত গ্রহন করছে সংবিধান অনুযায়ী তা নির্বাচিত সরকারের কাজ। কিন্তু তারা সেসব সিদ্ধান্ত নিদ্বিধায় গ্রহন করে চলছেন। ফলে এটা প্রতীয়মান হচ্ছে যে, সংবিধানের কথা তারা মুখে বললেও বাস্তবে তা তারা মেনে চলছেন না । সুতরাং বলা যায়, সংবিধানের বাইরে দেশে একটি অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যাদেরকে তৃতীয় শক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করলে বোধ করি ভুল হবে না। এখন কবে তৃতীয় শক্তির হাত থেকে দেশকে উদ্ধার করতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ একত্রে আন্দোলনে নামবে তা দেখার জন্য আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



