শামছুদ্দীন আহমেদ: জেপি চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী ও ইত্তেফাক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু নাটকীয়ভাবে রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ায় রাজনৈতিক মহলে চলছে নানান আলোচনা ও জল্পনাকল্পনা। ধারণা করা হচ্ছে, চলমান প্রেক্ষাপটে মঞ্জুর পথ অনুসরণ করে শীর্ষ রাজনীতিকদের আরো কেউ কেউ হয়তো রাজনীতিকে 'গুডবাই' জানাতে পারেন। রাজনীতিকে বিদায় জানানোর চিনত্দাভাবনা আগে না করলেও মঞ্জুর সিদ্ধানত্দ তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদ ও অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী সহসাই রাজনীতি থেকে অবসরে যাবেন বলে এরইমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে, যদিও তারা তা অস্বীকার করেছেন। সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাও রাজনীতি থেকে অবসরে যেতে পারেন বলে বহুদিন ধরে আলোচনা চলছিল। নানান বিশ্লেষণে সম্প্রতি তা আরো জোরদার হয়েছে।
জানা গেছে, সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও আমলাদের কেউ কেউ রাজনীতি থেকে বিদায় নিতে পারেন। কেউ নিজেদের বর্তমান রাজনৈতিক প্লাটফর্ম বদল করে নতুন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হবেন। অন্যদিকে আগে সরাসরি রাজনীতি করেননি, তবে রাজনীতিতে ভূমিকা রাখতেন কিংবা সুশীল সমাজের ব্যানারে নিজেদের পরিচিত করে তুলেছেন এমন অনেকের নতুন করে রাজনীতির খাতায় নাম লেখানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।
সূত্রমতে, বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও এলডিপিসহ বিভিন্ন দলের 'সৎ' নেতাদের সমন্বয়ে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের যে প্রক্রিয়া চলছে তাদের বেশিরভাগ তাতে যুক্ত হবেন।
এলডিপি সভাপতি অধ্যাপক বি চৌধুরী গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছেন, এক সপ্তার মধ্যে রাজনীতি থেকে তার অবসরে যাওয়ার খবরটি আদৌ সত্য নয়। তিনি বলেন, 'ক্ষমতার রাজনীতি'র বিপরীতে দায়িত্ব গ্রহণের রাজনীতির সুস্পষ্ট ভিন্নধারার রাজনীতি প্রবর্তনের চেষ্টা করছি। আমি রাজনীতিতে না থাকলে যাদের সুবিধা হবে তারাই আমার অবসরে যাওয়ার গুজব রটাচ্ছে। দেশে জরুরি অবস্থা চলমান থাকায় অন্য রাজনীতিকদের মতো আমিও নিষ্ক্রিয় রয়েছি। কিন' এর অর্থ এই নয় যে, আমি রাজনীতিতে নেই।
জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ বলেছেন, 'আমি রাজনীতি থেকে অবসর নেবো তা আমিই জানি না, অন্যরা জানে কিভাবে? জাপার প্রেসিডিয়ামের এক নেতা আমাদের সময়কে বলেন, আগামী নির্বাচনের পর এরশাদ রাজনীতি থেকে অবসরে যাওয়ার কথা ভাবতে পারেন। এরশাদও বলেছেন, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনই তার জীবনের শেষ নির্বাচন। এরপর বয়সের কারণে তার হয়তো রাজনীতিতে থাকা সম্ভব নাও হতে পারে।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে 57 বছর বয়সে রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে তিনি সে চেষ্টাও করেছিলেন। তবে দলীয় নেতাকর্মীদের অনুরোধে তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নেননি। তার বয়সও এরইমধ্যে 57 পেরিয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রাজনীতি থেকে অবসরে যাওয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা কখনো না দিলেও এজন্য মানসিকভাবে প্রস'তি নিচ্ছিলেন। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়াও রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার চিনত্দাভাবনা এখন আর করছেন বলে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য, সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান রাজনীতি থেকে অবসর নিতে পারেন, এমন সম্ভাবনা অনেক আগে থেকেই আলোচিত হচ্ছে। তবে বিএনপি নেতা আবদুল মান্নান ভঁূইয়া, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আব্দুল মঈন খান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন, মে. জে.(অব.) মীর শওকতসহ অনেকেই হয়তো রাজনীতি থেকে অবসর নিতে পারেন অথবা বিএনপি ছেড়ে নতুন কোনো দলে সম্পৃক্ত হতে পারেন।
আওয়ামী লীগ নেতা জিল্লুর রহমান, আমির হোসেন আমু, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমদসহ দলের অনেক নেতাকে নিয়েও নানান গুজব রয়েছে। এছাড়া এলডিপি নেতা মে. জে. (অব.) আনোয়ারুল কবীর তালুকদার, রেদোয়ান আহমদ, আলমগীর কবির এবং জাপা নেতা কাজী জাফর আহমদ, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুসহ অনেকের সম্পর্কেও একই আলাপ আলোচনা রয়েছে।
সূত্রঃ আমাদের সময়
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




