নিষিদ্ধ ঘোষিত জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ বা জেএমবি'র প্রধান শায়খ আবদুর রহমান জঙ্গি তৎপরতা চালানোর জন্য প্রথম গোপন বৈঠক করেছিল 1999 সালে রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় হরক্বাতুল জিহাদ আল ইসলামীর কার্যালয়ে। একাধিক সূত্র মতে, শায়খ রহমান জেএমবি গঠনের আগে হরক্বাতুল জিহাদ আল ইসলামীর (বর্তমানে নিষিদ্ধ) মুফতী আবদুল হান্নানসহ কয়েকজন নেতার সঙ্গে দেশে ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করার অঙ্গীকার করেছিল। আর 2000 সালের 20 এপ্রিল গোপালগঞ্জের পৌর পার্কে অনুষ্ঠিত গোপন বৈঠকে 'আমরা সবাই হবো তালেবান বাংলা হবে আফগান' এই শেস্নাগান দিয়ে মিছিল করার সিদ্ধানত্দ হয়েছিল। এই সিদ্ধানত্দের প্রেৰিতে রাজধানীতে মিছিল বের করেছিল 'একটি ইসলামী সংগঠন'। শায়খ এবং শুরা কমিটির গ্রেফতারকৃতরা গোয়েন্দাদের নিকট ইসলামী সংগঠন এবং তার নেতার নাম বলেনি। তবে তারা বলেছিল, মুফতী হান্নানকে জিজ্ঞেস করা হলেই গোপালগঞ্জে পৌর পার্কে দেশে ইসলামী আইন কায়েমের আন্দোলন শুরম্ন করার গোপন বৈঠকে উপস্থিত নেতার নাম ও রাজধানীতে মিছিলকারী কারা ছিল তা জানা যাবে। এদিকে ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রেজা তারেক আহমদের আদালতে শায়খ এবং চার শুরা সদস্য গত সোমবার একটানা পৌনে দুই ঘন্টা বক্তব্য দিয়েছে। দুই বিচারক হত্যা মামলায় বিচারক তাদের আত্মপৰ সমর্থনের সুযোগ দিলে জঙ্গিরা পুরো সময়কে জেএমবি'র প্রচারণা হিসাবে ব্যবহার করেছে। শায়খ এবং তার শুরা কমিটির চার সদস্য নিজস্ব বক্তব্যে দুই বিচারককে হত্যার জন্য কোন অনুশোচনাই প্রকাশ করেনি। উল্টো তারা একে একটি ভালো কাজ (!) বলে মনত্দব্য করেছে। জঙ্গিদের এই কথায় জনাকীর্ণ আদালতে উপস্থিত সবাই বিস্ময় প্রকাশ করেন। জঙ্গিরা তাদের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা বলার সুযোগ করে দেয়ার জন্য আদালতে আবেদন-নিবেদন জানায়। দুই বিচারক হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে শায়খ, বাংলাভাই, সানি, আউয়াল, খালেদ ও মামুনের চেহারায় কোন ধরনের অনুতাপ ফুটে উঠেনি। তবে পরিণতি কি হতে পারে সে বিষয়টি বুঝতে পেরে বাংলাভাইতো বলেই ফেলেছে, 'আবার দেখা হবে হাশরের ময়দানে'। সানির কণ্ঠেও ছিল করুণ শব্দ 'আমরা কিছুই করে যেতে পারলাম না'।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মে, ২০০৬ রাত ১০:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



