আমরা যারা বাংলাদেশে থাকি - আমাদের চোখে আমেরিকায় বসবাসকারী বাঙালিরা সবসময় একটা স্বপ্নের চরিত্র। কল্পনায় দেখি সকালে স্টারবাক্সের কফি হাতে, লেটেস্ট আইফোন কানে, আর ডিনারে শিকাগোর ডিপ-ডিশ পিজা চিবোচ্ছেন। আহা, কী আরামের জীবন! আমরা তো ভাবি, ওদের দেখে আমাদের দেশের গরিবরা পর্যন্ত ঈর্ষায় জাকাত দিতে ভুলে যায়।
কিন্তু হঠাৎ একটা খবর শুনলাম, আমেরিকায় বাঙালি পরিবারের ৫৪% নাকি সরকারি সাহায্যের উপর নির্ভরশীল! অবাক হয়ে গেলাম। কস কি মমিন! বাংলাদেশের অর্থনীতি পর্যন্ত কয়েক সেকেন্ডের জন্য থমকে দাঁড়ালো, যেন বলছে, "কোথা থেকে এলো ?"
বন্ধু মহলে আলাপ - তাহলে এবার থেকে আমরা জাকাত কি আমেরিকায় পাঠাবো?" আরেকজন তৎক্ষণাৎ সমর্থন করল, "অবশ্যই! ওরাই তো এখন প্রকৃত eligible recipien। need-based aid নিচ্ছেন, কাগজপত্রে প্রমাণিত!"
প্রথমে সবাই হাসতে হাসতে গড়াগড়ি। কিন্তু তারপর একজন ধর্মভীরু বন্ধু গম্ভীর হয়ে, "দেখো, জাকাতের ফিকহে তো স্পষ্ট বলা আছে - যে সত্যিই প্রয়োজনে আছে, তাকে দান করা জায়েজ, বরং সওয়াবের কাজ। নিউ ইয়র্কের কোনো বাঙালি যদি রেন্ট, গ্রোসারি আর মেডিকেল বিলের চাপে struggling করে, তাহলে তাকে সাহায্য করলে কী সমস্যা?"
ঠিক বলেছেন! তাহলে আমেরিকার বাঙালিদের জাকাত নেওয়া হালাল, আর আমাদের পাঠানো অন্তত social responsibility তো বটেই!
সবাই একমত হলাম যে, বিশ্বায়নের এই যুগে দান-খয়রাতও গ্লোবাল হওয়া উচিত। দেশে থাকলে দেশের গরিবকে দাও, বিদেশে থাকলে যে সত্যিই প্রয়োজনে আছে - তাকে দাও। সে লস অ্যাঞ্জেলেসের কোনো অ্যাপার্টমেন্টে থাকুক বা লালমনিরহাটের কোনো টিনের ঘরে। প্রয়োজনের সীমানা তো আর পাসপোর্টের স্ট্যাম্প মানে না!
তো, রমজানে জাকাতের লিস্টে নতুন এন্ট্রি যোগ করবেন তো? "New York Bengali Relief"
কী বলেন, আপনারও কি এমন কোনো 'আরামী' আত্মীয় আছে যার জন্য জাকাত রিজার্ভ করবেন?
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


