somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমন্ত্রণ

১২ ই আগস্ট, ২০১৪ দুপুর ১২:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সঙ্গীত ফিলিপিনো জীবনের সাথে বাতাসের মত মিশে আছে।কথা বলতে পারে কিন্তু গান জানে না বা গান ভালো বাসে না এমন মানুষ পাওয়া কঠিন।তাই অনেকে এই ফিলিপাইনকে মিউজিক্যাল আইল্যান্ড বলেন। যেকোনো অনুষ্ঠানে সঙ্গীতের আয়োজন থাকা চাই।তেমনি এক সঙ্গীত সন্ধ্যায় টেবিল ঘিরে সহকর্মীদের সাথে বসে গান শুনছি।গানের তালে তালে সবার মাথা দুলছে।এই ইংরেজি কড়া ব্যান্ডের ভক্ত আমি কোন দিনই ছিলাম না,এখনও নেই।তবুও সঙ্গ দিচ্ছি।এর মধ্যে কিছু টোকাই ধরনের কিশোরের দল ঘুরে বেড়াচ্ছে।তাদের একজন এসে হাত বাড়াতেই মানিব্যাগ খুলে পাঁচ পেসোর একটি মুদ্রা তার হাতে তুলে দিলাম। এই উপজাতীয় টোকাই শ্রেণী ছাড়া ভিক্ষুক এদেশে খুব একটা চোখে পড়েনা।
টোকাই কিশোর কে বিদায় করে আবার গানে মন দিলাম।হঠাৎ পাশের টেবিলের এক মহিলা আমায় ডেকে আমার মানি ব্যাগ চেক করতে বললেন।আমি তো অবাক আমার মানি ব্যাগ নেই।ওর মধ্যে আমার জীবনের অর্ধেকটা বলা চলে।নগদ টাকা,এটিএম কার্ড,এলিয়েন কার্ড(কাজের অনুমতি কার্ড)এ ছি আর কার্ড(9G ভিসা ধারিদের বিশেষ এক কার্ড)ইত্যাদি।এই কার্ডগুলো ছাড়া আমি এদেশে বৈধ নয়,পুলিশ আমাকে যেকোন সময় এরেস্ট করতে পারে।আমি ভাষাহীন ভাবে মহিলার মুখের দিকে তাকাতেই তিনি বললেন,সেই টোকাই ছেলে মানিব্যাগ জাতীয় কিছু একটা নিয়ে গেছে।আমার সহকর্মীরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করলো।আমার মাথায় তখন এক রাজ্যের আতঙ্ক,থানায় গিয়ে জিডি করলে হয়ত পুলিশি হয়রানি হবে না,কিন্ত কার্ড গুলো পুনরায় পেতে অনেক হ্যাপা পোহাতে হবে।এুই সব সাতপাঁচ যখন ভাবছি তখন এক সহকর্মী সেই টোকাই ছেলেটাকে ধরে নিয়ে আসছে।মানিব্যাগটাও ফেরত পেয়েছে।ভেতরে কি আছে দেখার সুযোগ পায়নি।আমি রাগ সামাল দিতে না পেরে ছেলেটির গালে এক চড় বসালাম।সাথে সাথে দুজন লোক এগিয়ে এসে জানতে চাইলো কি হয়েছে?তাঁদেরকে ঘটনা বলতেই বললেন,আমরা অত্যন্ত দুঃখিত,কিন্ত আপনি তো গায়ে হাত তুলতে পারেন না।নিজেদের পরিচয় দিতে আই ডি কার্ড বের করে দেখালেন।তাঁরা পুলিশের লোক।আমার মানি ব্যাগ খুলে কার্ড গুলো পেলেও কোন টাকা পেলাম না।ছেলেটিও কথা বলছে না।পুলিশের লোকদুটি থানায় যেতে বললেন।একটু ভয় পেলাম।পুলিশ মানেই তো হয়রানি।কিন্তু উপায় নেই।জেতেই হবে।থানা খুব নিকটেই।ভেতরে জেতেই বসার জন্য চেয়ার এগিয়ে দিয়ে কফি অফার করলেন।কফি শেষ করে ডিউটি অফিসার ছেলেটিকে আলাদা একটি ঘরে নিলেন।সেখানে আমাকেও ডেকে চেয়ার দিলেন এবং আমার সামনেই ছেলেটিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলেন। কোন মারধর নয়। বড় একটি চাকু বের করে ভয় দেখালেন।তাতেও কাজ না হওয়ায় মুখ চোখে রাগ ফুটিয়ে বন্ধুক দেখিয়ে গুলি করার হুমকি দিতেই জাঙ্গিয়ার মধ্যে থেকে টাকা বের করলো।কিন্তু মাত্র তিন হাজার পেসো,আনুমানিক আরও দুই হাজার পেসো নেই।এবার ছেলেটি বলল তার আরও একজন সঙ্গী আছে যে দুই হাজার পেসো নিয়েছে।তার সেই সঙ্গীটি ভাগ নিয়ে তার বাড়ি চলে গেছে, প্রায় এক ঘন্টার পথ।তখন মাঝ রাত,পুলিশ আমাকে জানালো আমি কিছু মনে না করলে আগামিকাল সকালে তাঁরা অভিজান চালাতে চায় এবং এখন আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিতে চায়। আমাদের সাথে গাড়ী আছে জেনেও সাথে সাথে এসে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছেদিল।
সকালে ঘুম ভাংলো গাড়ীর হর্নে।নিচে নেমে দেখি পুলিশের গাড়ী।কিছুটা চমকে গেলাম,না জানি কি মতলব। গত রাতের সেই পুলিশ অফিসার।গাড়ী থেকে নেমে হাত বাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানালো। দুঃখ প্রকাশ করলো ঘুম ভাঙ্গানোর জন্য।গত রাতে তারা অভিজান চালিয়ে অন্য ছেলেটিকে ধরেছে এবং তার কাছ থেকে বাঁকি দুই হাজার পেসোও উদ্ধার করেছে।আমাকে থানায় গিয়ে সেই টাকা নেবার অনুরধ জানাতেই তার এই সাত সকালে আগমন ।আমাকে আরও জানালো ছেলে দুটি যেহেতু নাবালক তাই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলে ও তারা ছাড়া পেয়ে যাবে,তার চেয়ে বরং অভিযোগ না করে সংশোধনের অনুরধ জানালে,পুলিশ সরাসরি শিশু সংশধানগারে পাঠাতে পারবে।
আমি বিকেলে থানায় গিয়ে একটি কাগজে সই করে টাকাটা নিয়ে ছেলেদুটিকে সংশোধন করার অনুরধ জানালাম,সেই সাথে পুলিশ কে অনেক ধন্যবাদ জানালাম এবং আমার বাসায় কফির অনুরধ করলাম।আমার ধন্যবাদের প্রেক্ষিতে পুলিশ অনেক লজ্জিত হয়ে আমার কাছে ক্ষমা চাইলো এই দুর্ঘটনার জন্য। আমার বাসায় কফি না খেয়ে বরং থানার পাশের এক রেস্টুরেন্টে পুলিশের তরফ থেকেই আমাকে কফির আমন্ত্রণ জানানো হল।সেই রেস্টুরেন্টে কফি খেতে খেতে আড্ডার মাঝে অনেক ব্যক্তিগত গল্প হল। মনে হচ্ছিলো তাঁরা যেন পুলিশ নয়,অনেক দিনের বন্ধু আর এটা যেন বন্ধুত্তের আমন্ত্রণ।
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×