somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাজা দেবচন্দ্র ও তার ইন্টেলেকচুয়্যাল ব্যুরো প্রধান (রম্য গল্প)

৩০ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ১২:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




রাজপ্রাসাদের ছাদে চেয়ারে উদাস মনে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন রাজা দেবচন্দ্র।নির্জন ছাদে রাজা রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তা করছেন আর তারার মধ্যে তার সমাধান খুজছেন।"ধ্যত",বলে বিরক্ত প্রকাশ করে রাজা ভাবলেন,কোটি কোটি তারার মধ্যে কোনটা যে বৃহস্প্রতি তা বের করাই দায়।রাজা আসলে তার বৃহস্পতির কি অবস্থা আছে তা বুঝতে চাচ্ছেন।বিরক্ত রাজা প্রহরীকে ডাক দিলেন।রাজ জ্যোতিষীকে ডেকে আনার নির্দেশ দিলেন।

-জ্বি,জাঁহাপনা আসতে পারি?
-আসেন, জ্যোতিষী মশাই।
-জাঁহাপনা,আমাকে নাকি স্মরণ করেছেন?
-জ্বি,না হয় কি আপনি আসতেন?
-আজ্ঞে জাঁহাপনা,আজ্ঞে
-জ্যোতিষী মশাই,আমার কষ্টিটা একটু সরেজমিনে যাচাই করে দিন।আজকের আকাশে তারাদের মেলা বসেছে।

জ্যোতিষী মশাই তার কাজে লেগে পড়লেন।এই তারা থেকে সে তারা আঙ্গুল গুলো দৌঁড়াতে লাগলেন।কিছুটা সময় পর রাজার দিকে ফিরলেন।ভাবটা এমন, যেন তিনি এক তারা থেকে আরেক তারা দৌঁড়াচ্ছেন।বেশ হাঁফিয়ে উঠলেন,সে সাথে ভয়াল তার চেহারা।

-বসুন জ্যোতিষী মশাই,তারায় তারায় দৌঁড়েতে দৌঁড়াতে তো হাঁফিয়ে উঠলেন।
-জাঁহাপনা,আমি দৌঁড়ে হাঁফিয়ে উঠি নাই,আপনার বৃহস্প্রতির অবস্থাই আমাকে আতঙ্কগ্রস্থ করে তুলেছে।
-কেন? বৃহস্প্রতি কি নাই হয়ে গেছে?
-না জাঁহাপনা,সেটা কোন রকম ঝুলে আছে।
-কার সাথে ঝুলে আছে?
-আপনার কপালের সাথে,তবে সবচেয়ে খারাপ কথা হচ্ছে আপনার বৃহস্পতি দিকে শনির নজর পড়েছে।সে তার বলয় থেকে কয়েকটি খন্ড অলরেডি আপনার বৃহস্প্রতির দিকে ছুড়ে মেরেছে।যেকোন মুহুর্তে আপনি গদিচ্যুত হতে পারেন।
বিরক্ত রাজা বললেন,”জ্বি,আপনি আসুন।”
-জ্বি,জাঁহাপনা,প্রয়োজন পড়লেই ডাক দিবেন।বান্দা আপনার আয়ত্তেই থাকবে।
বেটা ভন্ড কোথাকার,রাজা মনে মনে বললেন।কোনটা যে কোন তারা বুঝায় বড় দায়, সে মুহুর্তেই আমার বৃহস্প্রতিকে ঝুলন্ত অবস্থায় পেয়ে গেছে।রাজ্যের যে অবস্থা তাতে যেকেউ আমার বৃহস্প্রতির অবস্থা বলতে পারবে।তারপরও চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।প্রহরীকে আবার ডাকলেন রাজা।প্রধান উজিরকে তাড়াতাড়ি ডেকে আনার জন্য বললেন।প্রহরী বললো,” জাঁহাপনা,তিনিতো বাড়ি চলে গেছেন।” ”বাড়ী যাক আর শ্মশানে যাক,এই মুহুর্তে তাকে এখানে চাই”।

-জাঁহাপনা, নাকি আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন।
-খেয়ে খেয়েতো বুড়িটা ঢোল বানিয়েছেন।এখনতো গদি যায় যায় অবস্থা।
-আমরাতো জাঁহাপনা আপনি যাই বলেন,তাই লোকজনের সামনে এমনভাবে ফুটিয়ে তুলি,যেন ঐটা ওহি তুল্য।
-আহাম্মক ! গদি গেলেতো আমাকে বড়জোর নির্বাসনে পাঠাবে আর তোমাদেরতো গর্দান যাবে।তখন কি দিয়ে বুঝাবে?
-জাঁহাপনা, এসব বিষয়তো আপনার ইন্টেলেকচুয়্যাল ব্যুরো প্রধান ভাল বলতে পারবেন।

দুপুর রাত প্রায় পার হয়ে গেল;তন্দ্রা আসলেও তা ঘুম পযর্ন্ত পৌঁছায় না।

-জাঁহাপনা,আপনার রুমে আসতে পারি।
-তন্দ্রাচ্ছন্ন রাজা কিছুটা নড়েচড়ে উঠলেন।
-কি বললেন?বুঝি নাই।
-বলেছি,আপনার রুমে কি প্রবেশ করতে পারি।
-রুম কোথায় পেলে,এটাতো ছাদ।
-কি যে বলেন,আপনি যেখানেই থাকুন সেটাই আপনার রুম।
-বাহ!খুব ভাল বলেছতো।এই জন্যেই তোমাকে ইন্টেলেকচুয়াল ব্যুরো প্রধান করলাম।
-তুমিতো জানো, আমার গদি যায় যায় অবস্থায়;তা তোমরা কি করবে?
-জাঁহাপনা,আমি দুই দিকেই ভেবে রেখেছি।
-দু’দিক মানে, বুঝলাম না ।
-মানে আপনি যদি ক্ষমতায় থাকেন, তাহলে কিভাবে আপনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখা যায় আর নতুন কেউ যদি আসে তাহলে কিভাবে তার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করা যায়।
-তুমিতো দেখি ব্যাপক দুরন্দর ও সুযোগসন্ধানী।তাতে অবশ্যই সমস্যা নেই।বিপদে এরাই সবচেয়ে কার্যকর।এখানোতো আমি ক্ষমতায়,তাহলে আমাকে কিভাবে টিকিয়ে রাখা যায় সে বিষয়ে কি ভাবছ?
-জাঁহাপনা,সব আমি চিন্তা করে রেখেছি;'প্রজেক্ট টপ সিক্রেট’।
-শুনি তোমার 'প্রজেক্ট টপ সিক্রেট’।
-জাঁহাপনা,এই প্রজেক্টের বিষয়ে আমি ছাড়া আর কেউ জানেনা।এমনকি আপনাকেও জানানো সম্ভব নয়।
-তুমিতো মহাদূরন্দর ,আমাকে তুমিই ফেল দেও কিনা ?
-ইচ্ছা করে, মাঝে মধ্যে ইচ্ছা করে জনগণের সাথে মিশে ওদের ইন্টেলেকচুয়াল ব্যুরো প্রধান হয়ে যাই।
-তাহলে যাওনা কেন?
-ওটা আবেগের চাওয়া, আমার কাছে এর কোন মূল্য নেই।
-শুনে খুশি হইলাম;তো তোমার প্রজেক্টের বিষয়ে তোমার অন্য সদস্যরা জানেনা।জাঁহাপনা যে কি বলেন,ওরা ওটাকে মহৎ উদ্দেশ্য বলে বাস্তবায়ন করবে।আবেগ আর গতি সবটুকু নিংড়ে দিবে।
-ইন্টেলেকচুয়াল ব্যুরোর লোক, ওরা ওটা বুঝবেনা?
-জাঁহাপনা,ওখানে একমাত্র আমিই ইন্টেলেকচুয়াল।বাকী যাদের ইন্টেলেকচুয়াল মনে হয়েছে তাদেরতো আগেই OSD করেছি অথবা এমন জায়গায় দিয়েছি বসে বসে মাছি তাড়া।জাঁহাপনা যেহেতু এত আগ্রহ কিছুটা খোলাসা আপনাকে করি।আপনার রাজ্য এখন দিব্যি একটা বিশৃঙ্খলার সাম্রাজ্য।মানুয়ের ক্ষোভের বীষ জমা হচ্ছে তিলে তিলে।ধরুণ এসময় আপনার রিজার্ভ ফান্ড থেকে এক কোটি স্বর্ণমূদ্রা খোয়া গেল।এমনিতে মানুষ ব্যাপক কষ্টে আছে,তার ওপর রাষ্ট্রীয় ফান্ড থেকে অর্থ এভাবে তছরুফ।চারিদিকে মানুষ বিক্ষোভ করছে,মিছিল করছে।আপনার কিছু কাছের লোকও ভাগিদার হতে না পেরে জনগণের সাথে মিশে গেল।আপাতত জনগণকে ঠান্ডা করার জন্য আপনি একটি তদন্ত কমিটি করলেন।মিডিয়া আর তথ্যানুসন্ধানী সংস্থা এটাকে নিয়ে এমন ঘাটাঘাটি শুরু করবে,তখন দেখা যাবে শুধু ফেডারেল রিজার্ভ নয় অন্যান্য রির্জাভেও ব্যাপক অর্থ খোয়া গেছে।হতে পারে ঐটাই আপনার পতন ডেকে আনবে।জানেনইতো মার্কস সাহেব কি বলেছেন,বিশ্বের তাবত সংগ্রামের মূলে ছিল অর্থ, এটাই রাজাকে ফকির আর ফকিরকে রাজা বানায়।
-তুমিতো ঠিকই বলেছে,শাক দিয়ে মাছ আর কতদিন ডাকব?
-উত্তেজনা তুঙ্গে,ফেসবুক,স্যোশাল মিডিয়া,অর্থনৈতিক ফোরাম আপিডির মতো সংস্থাগুলো ঘুম না,আপনার তন্দ্রায়ই কেড়ে নিবে।এসময় আপনার ত্রিপুরা রাজ্যে তনু নামে একটি মেয়ে গণধর্ষণের শিকার ও তারপর তাকে হত্যা করা হয়।
-ধর্ষণটা কে করবে,তুমি?
-জাঁহাপনা কি যে বলেন, আমরা ওসব করতে যাবো কেন?ওসবতো গন্ড মূর্খদের কাজ।আমরাতো চাইলেই এমনেই পাই।
-এই তনুকে পাবে কোথায়?
-ওটাতো জাঁহাপনা একটা উদাহরণ দিলাম।এরকম ঘটনাতো প্রতিদিন কয়েকটা ঘটে আর মাসে কয়েকশো।মানুষও ওগুলো পড়ে।কেউ কেউ ধর্ষণকারীদের কুলাঙ্গার বলে গালি দেয় আবার কেউ কেউ ঐ মেয়েটাকেই দোষী সাব্যস্থ করে ফেলে।কিছুক্ষণ পরে ভুলে যায় আর জানালার ফাঁক দিয়ে কোন বারান্দায় কোন মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে কিনা দেখে।
-যেভাবে আগাচ্ছো,মনে হচ্ছে চটি কাহিনীর ভূমিকা শুরু করলে,আসল কথা বল।
-আমার টিম মেম্বারদের লাগিয়ে দিলাম,তারা টিভি,পত্রিকায় এ সম্পর্কিত নিউজগুলো দিয়ে ব্যাপক ধিক্কার জানালো,মানুষকে এর ওপর সোচ্ছার হওয়ার জন্য আহবান জানালো।এই মেম্বারদের কেউ কুজন,স্বাধিকার,কাবিশা বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার সাথে জড়িত।তারা মানববন্ধন, আহার মুখে অনশন করা শুরু করল।আর ফেসবুক,স্যোশাল মিডিয়া,ব্লগে ক্রোধের আগুণ দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল।আর সে সাথে চলছে লাইক,কমেন্টের উপচে পড়া ভিড়।মনে হবে,দেশের এই প্রথম কোন মেয়ে এই লাঞ্চনা ও হত্যার শিকার হল।
ব্যস,আপনার রিজার্ভ ক্যালেঙ্কারির তদন্ত সংস্থা নির্বিগ্নে একটা রিপোর্ট দিয়ে দিল;টাকা আসলে নিজেই চলে গেছে,এখানো কারো কোন হাত ছিলনা।এই যাত্রায় আপনি মুক্ত;চেয়ার নিরাপদ।
-তুমিতো দেখি বুদ্ধির গোলা, কিন্তু ঐ যে আগুন আরেকটা ধরিয়ে দিলে?
-জাঁহাপনা,আপনি নিশ্চয়ই জানেন আমি একজন পি এইচ ডি হোল্ডার।আর আমার টপিকও ছিল 'ইন্টেলেকচুয়্যালশিপ ইজ বেটার দ্যান ডিক্টেটরশিপ।’ প্রতিদিনইতো এরকম হাজার হাজার ঘটনা ঘটছে।আরেকটাতে লাগিয়ে দিব।
রাজার চোখে সুখের হাসি ফুটে উঠল আর ব্যুরো প্রধানকে জড়িয়ে ধরে একটা চুমু খেল।আর চেয়ারে বসে আফসোস করতে করতে ভাবল,
হায় !আমার জাতি এত হুজুগে।


ছবিসূত্রঃ-নেট
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১১:৪২
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তখন

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৬

তখন
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তখন আলিফ লায়লা হতো
দেখতাম বিটিভিতে বাংলা মুভি
মিনা কাটুন, হারকিউলিস, রবিন হুড
নাটক, ইত্যাদি, বেশ আনন্দ পেতাম।
খেলাধুলা করতাম বন্ধুদের সাথে
বিবিধ রকম, সবসময় থাকতাম প্রাণবন্ত!
যে বাড়িতে ভাড়া থাকতাম তাদের
একটি সাদা-কালো টিভি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ১০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৭



এক বিদেশি জাহাজ মধুমতি নদীতে একটু একটু করে ডুবে যাচ্ছে।
সেই ডুবে যাওয়া জাহাজ দেখার জন্য শাহেদ জামাল ছুটে চলেছেন- মধুমতি নদীতে। জাহাজ এর নাম স্টিব অস্টিন। শাহেদ জাহাজটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওকে নিয়ে চীনের আবেগ, শেখ মুজিবকে নিয়ে আমাদের বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২


ফরাসি ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তাঁকে নিয়ে কোন মিমটি দেখে সবচেয়ে বেশি হাসি পেয়েছিল। ফরাসি অনুষ্ঠান The Bridge এর ব্যাকস্টেজ ভিডিওতে তিনি বলেন, একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাঁটাচামচ বিতর্ক....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৫

কাঁটাচামচ বিতর্ক....

বাঙালির একদল তথাকথিত ভদ্রলোকের এখন মহাসংকট! তারেক সাহেব কাঁটাচামচ কোন হাতে ধরেছেন, ছুরি কোন হাতে রেখেছেন- তা নিয়েই জাতীয় চরিত্রের ময়নাতদন্ত চলছে! যারা সমালোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছে- তাদের কয়েকজন দুস্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোটগল্প - চক্ষুহীন লোকটি

লিখেছেন ফাহমিদা বারী, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩




মি পারসনস যখন হোটেল থেকে বের হলেন, ভিক্ষুকটি তখন রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে।

সে ছিল একজন অন্ধ ভিক্ষুক। অন্ধদের চিরাচরিত সাদা ছড়ি ছিল তার হাতে। সেটা দিয়ে সামনের পথটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×