নতুন বছরে ঢাকার বেসরকারী স্কুলগুলিতে ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন ইস্যুটা জটিল আকার ধারন করছে যেটা স্কুল, স্টুডেন্ট বা সরকার কারও জন্যই মঙ্গলজনক হবে না। ঢাকার নামকরা ২টি স্কুলের মাসিক বেতন স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রায় ৮০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত্য বাড়িয়েছে। কাকরাইলে অবস্থিত উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজে প্রথম শ্রেনীতে গতবছর মাসিক বেতন ছিলো ১৩০০ টাকা সেটাকে বাড়িয়ে এই জানুয়ারীতে কর্তৃপক্ষ ২১০০ টাকা করেছে। ঢাকার নামকরা ভিকারুননিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজের প্রথম শ্রেনীর বেতন গতবছর ছিলো ১০০০ টাকা এবছর তাকে বাড়িয়ে কর্তৃপক্ষ ১৭০০ টাকা করেছে। দুটি স্কুলেই এই ইস্যুটি নিয়ে অভিবাবকরা যৌক্তিকভাবেই প্রচন্ডরকম প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।
একটা সমাজে আয় এবং ব্যায়ের ক্রমাগত পার্থক্যই যাবতীয় আর্থিক অনিয়ম তথা দুর্নীতিকে বাড়িয়ে দেয়। এই বর্ধিত ব্যায় মিটাতে গিয়েই মানুষ অসৎ পথে আয়ের দিকে আকৃষ্ট হয়। সন্তানের শিক্ষাজীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে অভিবাবকরা এখানে চুড়ান্তভাবেই অসহায়। তাদের এই অসহায়তাকে পুাঁজি করেই স্কুল কর্তৃপক্ষ এরকম হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে যায়। সরকারী স্কুলের স্বল্পতাজনিত কারনে অভিবাবকরা বাধ্য হয়ে বেসরকারী স্কুলের শরনাপন্ন হয়। এখানে সরকারের সীমাবদ্ধতাকে সরকার কোনভাবেই অস্বীকার করতে পারে না। তাই এই অযৌক্তিক বেতন বৃদ্ধি বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এখানে উল্লেখ্য, কয়েক বছর পর নতুন বছরে সরকার তার কর্মচারীদের বেতন প্রায় ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। স্কুলগুলি তাদের এই বেতন বৃদ্ধিকে সরকারের বেতন বৃদ্ধি দেখিয়ে হালাল করতে চাচ্ছে, যদিও প্রতিবছরই তারা ছাত্র বেতন ও ফি বাড়িয়ে নেয়। সারাদেশে সরকারী কর্মচারীর সংখ্যা ১৩ লক্ষ। এই ১৩ লক্ষ কোনভাবেই পুরো দেশের বাকী সিংহভাগ বেসরকারী চাকুরীজিবীকে প্রতিনিধিত্ব করেনা। সরকারের দেখাদেখি বেসরকারী চাকুরীজীবিদের বেতন কোনভাবেই ১০০ শতাংশ পর্যন্ত্য বাড়বে না এটা হলফ করেই বলে দেয়া যায়। এমনকি এটা ৫০ শতাংশও বাড়বে না । খুব বেশী ঝোলাঝুলি হলে হয়তোবা ১০ থেকে ২০ শতাংশ বাড়লেও বাড়তে পারে।
প্রাথমিক-মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা যেহেতু সরকারী সিদ্ধান্তেই আমাদের বাচ্চাদের অধিকার, সেহেতু এই পর্যায়ের যাবতীয় বিষয় সরকারের নজরে থাকা অতি আবশ্যক।
এখানে শুধুমাত্র দুটি নামকরা স্কুলকে উদাহরনসরূপ দেখানো হলো। বাকী স্কুলগুলিও নিশ্চই এই ধরনের অন্যায় সিদ্ধান্তের বাইরে নয়। আরও একটা বিষয় এখানে না বললেই নয়, এই বিষয়ে সরকার যখনই পজিটিভলি কোন ডিসিশন জানাবে, তখন স্কুল কর্তৃপক্ষ ছাত্র বেতনটা কমিয়ে দিয়ে অন্যান্য ফি অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেবে সেটা আগেই বলে রাখছি পুর্বঅভিজ্ঞতায়।
টপিকের বাইরে গিয়ে এখানে আরও গুরুত্বপুর্ন কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করছি। বেসরকারী স্কুলগুলি ছাত্র বেতনের বাইরেও অনেকরকম অযৌক্তিক ফি’ও ধার্য্য করে থাকে, যা তারা বিভিন্ন সময়ে অভিবাবকদের কাছথেকে আদায় করে থাকে। স্কুলের বই-খাতা-ড্রেস বাবদ ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বাধ্য করে বাজার দামের চাইতে অনেক বেশী দামে তাদের নির্ধরিত দোকান থেকে প্রোডাক্ট নিতে। দুঃখজনকভাবে কোচিং বিষয়ে সরকারের কঠোর মনোভাবের পরও ঢাকার নামিদামী স্কুলগুলি ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বাধ্য করে তাদের টিচারদের কাছে কোচিং করতে। অভিবাবকরা সন্তানের নিরাপত্তা ও শিক্ষাজীবনের নির্বিঘ্নতার স্বার্থে এধরনের অনিয়ম মেনে নিতে বাধ্য হয়। এই সামগ্রিক বিষয়ের দিকে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবশ্যই দৃষ্টি দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সচেতন নাগরিক-অভিবাবকদেরও এই বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করা এখন সময়ের দাবী।
একটা সমস্যা সমাধানের প্রথম শর্তই হলো সমস্যাটাকে এড়িয়ে না গিয়ে, অস্বীকার না করে স্বীকার করে নেয়া। তাহলেই সেই সমস্যাটিকে সমাধান করার একটি পথ পাওয়া যায়। তা নাহলে কোনদিনই সমস্যা সঠিকভাবে সমাধান করা যায় না, দিনদিন সমস্যা বাড়তে বাড়তে জটিল আকার ধারন করে।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১১:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



