somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মায়ের কাজের মজুরি

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৯:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কেমন আছেন আপনারা।
আমার আজ জন্মদিন।
এই দিনে আমি সকল বল্গার দের জানাই আমার ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা। আশা করি ভালো আছেন।
আপনাদের আজ একটা Dcnvi দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু সময় সল্পতার কারণে নতুন কোন বল্গ লিখতে পারি নি। ভেবেছিলাম নিজের জীবনের কিছু না বলা কথা আপনাদের জানাব। কিন্তু ঐ সময়! যাক এবার আসুন না নিচের গল্পটা পড়ি[গাঢ়]:[/গাঢ়]

এক ডাক্তার তার ছেলেকে নিয়ে একদিন তার চেম্বারে গেল। ডাক্তার টি তার ছেলেকে একটি চেয়ারে বসিয়ে দিল। এবং রোগী দেখা আরম্ভ করল।
ছেলেটি লক্ষ করল প্রতি রোগীর চলে যাবার সময় ডাক্তার একটি অতিরিক্ত স্লিলপ ধরিয়ে দিচ্ছে।এবং রোগী কিছু টাকা ডাক্তার এর হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে।

ছেলেটি এক পর্যায়ে তার বাবাকে জিজ্ঞাসা করল: বাবা তুমি রোগীদের প্রেশক্রিপশন বাদে আরও কি কাগজ দিচ্ছ রোগীদের হাতে যে তারা তোমাকে টাকা দিয়ে যাচ্ছে।

ডাক্তার বলল: বাবা ওটা হলো বিল। আমি কি কি করলাম তার একটা মজুরি স্বরুপ একটা বিল করে দিয়েছি যার টাকা আমি তাদের করে দিয়েছি আর তারা আমাকে টাকা দিয়ে যাচ্ছে।

এরপর কিছুক্ষন পর ডাক্তার বাড়ি ফিরল তার ছেলে কে নিয়ে। কিন্তু ছেলেটি সারা টি রাস্তা বিলের উপকারিতা নিয়ে ভাবছিল। সে মনে মনে ভাবছিল বাহ্ বিল বানানো কত সহজ। এই ভাবে এতো টাকা পাওয়া যায়! আমিও আজ থেকে বিল বানাবো।

এর পরের দিন ছেলেটি একটি কাগজ নিল যাতে সে সারা দিনের কাজের হিসাব রাখল এবং বিল বানালো।রাতে তার মা যখন ঘুমিয়ে গেল তখন সে সেই বিলটা তার মায়ের বালিশের নিচে এমন ভাবে রাখল যেন তার মা টের না পায় সে মুহূর্তে।

পরদিন তার মা যখন ঘুম থেকে উঠে বিছানা গুছাচ্ছিল তখন সে ছেলেটির রাখা বিল টি পায়।
বিলটি কিছুটা এরকম ছিল:
[রং=নষঁব][আন্ডার]বিল[/আন্ডার][/রং]:
1) বাবুকে ঘুম থেকে উঠানো = 2.00 টাকা
2) আব্বুর জুতা খুজে দেয়া = 2.00 টাকা
3) বাবুকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া = 3.00টাকা
4) বাজারে যাওয়া = 3.00টাকা
5) বাবুকে বাড়িতে নিয়ে আসা = 3.00টাকা
6) রাতের খাবারে সাহায্য করা = 5.00টাকা
আজকের সর্বমোট বিল>>>>> = 18.00টাকা

মা ছে লেটির বিল দেখে হাসলেন। তিনিও একটি বিল বানালেন। রাতে তিনিও ছেলের মত ছেলের মাথার নিচে বিলটা রেখে দিলেন ছেলের বিলের টাকা সহ। আর এ মন ভাবে রাখলেন যেন প্রথমে ছেলের বিল আর টাকা টা যেন ছেলে পায় তার পর মায়ের বিলটা ছেলের নজরে পড়ে।
পরদিন সকাল বেলা ছেলেটা বিল পেয়ে তো মহাখুশি। তার পর ছেলেটা মায়ের বিলটা নিয়ে পড়ল। পড়ে সে এক দুঃচিন্তায় পড়ল। বিল তা এরকম ছিল:

[রং=নষঁব][আন্ডার]বিল[/আন্ডার][/রং]:
*) গর্ভে ধারণ করা = 0.00 টাকা
*) ছোট বেলায় তোমার প্রসাবে রাতে ভিজে কষ্ট করা = 0.00 টাকা
*) তোমাকে ছোট বেলায় দেখা শোনার বিল =0.00 টাকা
*) তোমাকে পড়া লেখা শেখানো =0.00 টাকা
*) তোমাকে আজ পর্যন্ত বড় করে তোলার বিল =0.00 টাকা
*) তোমার জামা কাপড় সংগ্রহ করে দেওয়া =0.00 টাকা
*) তোমার খাবার সংগ্রহ করে দেওয়া =0.00 টাকা
আজ পর্যন্ত তোমার মোট বিল>>>>>>>>>>>>>>>>>>>=0.00 টাকা

কমিশন: সব দোকানদার একটা কমিশন দে য়। তুমি না দিলেও আমি তোমাকে দিলাম। যেটা তোমার সারা জীবন উপকারে আসবে। ''আমি দোয়া করি আল্লাহ্ তোমার সারা জিবলের গোনাহ্ মাফ করে দিন - তোমাকে সৎ পথে পরিচালিত করূন - তোমার জীবনে কোন অভাব না আসে - এবং আল্লাহ্ তোমার উপর সব সময় যেন রহমতের ছায়া হয়ে তোমার সাথে থাকেন-আমিন।''

আসুন না আমরা আমাদের মা-বাবার এই বিল পরিশোধ করার আপ্রান চেষ্টা করি।

আজ এই পর্যন্তই আবার সামনে কথা হবে।
আস সালামু আলাইকুম।
আরমান
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মার্চ, ২০০৭ সকাল ১০:৩৫
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ঘাটতি : ভারসাম্যের লক্ষ্যে বাংলাদেশে উৎপাদন ও রপ্তানি কৌশল

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:০২


ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও নিকটতম বাণিজ্য অংশীদার। ভৌগোলিক নৈকট্য, দীর্ঘ সীমান্ত, পরিবহন সুবিধা এবং পরস্পর-নির্ভরশীল উৎপাদনব্যবস্থার কারণে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

//১৫ ই আগস্ট ১৯৭৫ ও জীবনের সমীকরণ//

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৯

নিশ্ছিদ্র পরিকল্পনার পর নিখুঁতভাবে তা মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগ করা হলো, অতঃপর আশানুরূপ অথবা আশাতীত ফলাফলও এলো। আপাতদৃষ্টিতে সমীকরণের রাইট হ্যান্ড সাইড আর লেফট হ্যান্ড সাইট হয়ে পরলো কেমন যেন ভারসাম্যহীন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভবত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবেই তারেক রহমান ভারতে যাচ্ছেন....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭

সম্ভবত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবেই তারেক রহমান ভারতে যাচ্ছেন, যদিও এখন পর্যন্ত সফরটি চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশের সম্মতি আদায়- এক্ষেত্রে বাংলাদেশের 'কচিকাঁচা কুটনৈতিকদের' হারিয়ে ভারতীয় 'প্রবীণ কুটনৈতিকরা' জয়ী হয়েছে।

শেখ হাসিনার আমলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর কারা মিষ্টি বিতরণ করেছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১৬


যদি কোনোদিন টাইম ট্রাভেল মেশিন আবিষ্কার হয়, পঁচাত্তরের ঘটনা নিজের চোখে দেখার চেষ্টা করতাম। সে সময় কিছু মানুষ মিষ্টি বিতরণ করেছিল বলে শোনা যায় । আমি তাদের কাছ থেকে মিষ্টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:০২



আজ জাতীয় শোক দিবসের।
জাতির পিতাকে আজকের দিনে স্বপরিবারে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছিলো। আজ শেখ মুজিবের ৩২ নম্বরের ভাঙ্গা বাড়িতে একজন গিয়েছেন শ্রদ্ধা জানাতে। তার হাতে ফুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×