somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কৌশিক ও বাকী বিল্লাহ'র বইয়ের লেইগা। একুশে ফেব্রুয়ারী এবং কিছু অসংলগ্ন ভাবনা

১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৭:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কৌশিকদা বইয়ের জন্য লেখা গুছাইতাছে। আমারেও কইছিলো। ব্লগ ঘাইটা টোকাইনের আগে একটা লেখা পোস্টি কইরা রাখি।ব্লগের লাইগা একটু বড়ই। গেলবার একুশে ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে লেখা। এইবারে একটু ঘষামাজা করে সিংগাপুর থেকে প্রকাশিত একটা স্থানীয় বাংলা ম্যাগাজিনে ছাপতে যাচ্ছে। কৌশিকের বইয়ের লেইগা উপযুক্ত হইলেও হইতে পারে। প্রবাসের পার্সপেক্টিভে লেখা। তয় কিছু জায়গা এডিট কইরা কাটা ছাটা করা যাইতে পারে।
-----------------------------------
একুশে ফেব্রুয়ারী এবং কিছু অসংলগ্ন ভাবনা । সাদিক মোহাম্মদ আলম।


ক্রমবর্ধমান নেতিবাচক খবর, রাজনৈতিক দলগুলোর একগুয়েমী মনোভাব, দেশে সত্যিকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্ত্বের অনুপস্থিতি, দূরদশর্ীতার অভাব, দেশকে ঘিরে আনর্্তজাতিক মহলে ভাবমূর্তির সংকট ইত্যাদি সব কিছু মিলিয়ে দেশের বাইরে যারা থাকেন তাদের কাছে দেশ নিয়ে গর্ব করার বিষয় যেন দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে। আজকালকার দিনে ইন্টারনেটের কল্যানে প্রবাসী বাংলাদেশীরা প্রতিদিনই দেশের খবর জানতে দৈনিক পত্রিকাগুলোর ইন্টারনেট সংস্করণ পড়ে থাকেন। অনেকে একাধিক পত্রিকা পড়েন ব্যাপক আগ্রহ এবং সময় ব্যয় করে। অধিকাংশ প্রবাসী বাংলাদেশীদের এটা একটা খুব প্রিয় সময় কাটানোর ব্যাপার হলেও যখন কম্পিউটার মনিটর জুড়ে কেবলই নেতিবাচক সংবাদ ফুটে ওঠে, প্রিয় দেশটার জন্য গভীর মমতা ঘিরে ফেলে তাদের মন। ক্যাফেটেরিয়ায়, বিদেশের মাটিতে দেশীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অথবা প্রবাসে বাঙ্গালীর একান্ত আড্ডায় দেশকে ঘিরে তখন বিভিন্ন নৈরাশ্যমূলক মন্তব্য উঠে আসে। সেখানে দেশকে নিয়ে গর্বের লেশমাত্রও থাকে না, বরং থাকে বেদনা এবং হতাশা।

এই ধরনের নেতিবাচকতার ভিতরে যখন প্রবাসী বাংলাদেশীদের দিনযাপন তার ভিতরে যে বিশেষ দিনগুলোতে আমরা সবাই আবার দেশকে নিয়ে গর্ব করার একটা সত্যিকারের উপলক্ষ্য খুঁজে পাই, একুশে ফেব্রুয়ারী ঠিক তেমনই একটি দিন। যারা প্রবাসে থাকেন তারা খুব ভালো করেই এটা উপলব্ধি করেন যে দেশের নাগরিক হিসেবে নিজের দেশকে নিয়ে গর্ব করার মতো আনন্দের আর কিছু হতে পারে না। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে যখন বাংলাদেশ পাকিস্তানকে হারিয়ে দিয়েছিলো, নি:সন্দেহে সেই মুহুর্তে পৃথিবীর সব বাংলাদেশীর হৃদয়ই অসাধারন আবেগে উদ্বেলিত হয়েছিলো। কিন্তু যারা সেদিন প্রবাসে বসে খেলাটি উপভোগ করেছিলো তাদের হৃদয়ের স্পন্দন নি:সন্দেহে অন্য ধরনের এক গর্বে ভরে উঠেছিলো, যার কারন ঐ যে দেশকে নিয়ে গর্ব করার উপলক্ষ্য।

একুশে ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশী এবং বাঙ্গালীর দিনপঞ্জিতে এমন একটি দিন যেদিন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমরাই পৃথিবীর বুকে একমাত্র জাতি যারা মায়ের ভাষার সন্মান দিতে রক্ত দিয়েছ। আমরাই একমাত্র জাতি যারা নিজের দেশের নাম রাখতে গিয়ে মায়ের ভাষাকেই স্বরণ করেছি। আমাদের জাতীয় সত্ত্বায় তাই আমাদের গর্বিত ভাষা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যতবার বিশ্বের যেকোন প্রান্তে বাংলাদেশের নাম উচ্চারিত হয়, ততবারই যেন সেই মায়ের ভাষার নামকেই আমরা বিশ্ব দরবারে ছড়িয়ে দেই। মায়ের ভাষাকে সন্মান দিতে গিয়ে 1952 সালের আগুন ঝড়া দিনে তাজা বুকের রক্ত ঢেলে আমরা পৃথিবীকে জানিয়ে দিয়েছিলাম ভাষার জন্য আমাদের ভালোবাসার কথা। আর সেই সন্মানকে স্বীকৃতি দিয়ে ইউনেস্কো 2000 সালে একুশে ফেব্রুয়ারীকে আনর্্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে যে ঘোষণা দিয়েছে যা বাংলাদেশী সহ বিশ্বের সব বাংলাভাষীদের জন্য বিশেষ গর্বের। বাংলাদেশ এবং ভারতের বাংলা ভাষাভাষী সীমানা ছাড়িয়ে এখন বাংলাভাষার গর্ব আনর্্তজাতিক মাত্রায় পৌছেছে।

নি:সন্দেহে মায়ের ভাষাকে যথাযথ সন্মান দিতে জানে এরকম দেশ হিসেবেই বাংলাদেশ ইতিহাসের পাতায় নিজের জায়গা করে নিয়েছে। 1952 সালের একুশে ফেব্রুয়ারী বিশ্বের ইতিহাসের বুকে যে জায়গা করে নিয়েছে তার কোনো ক্ষয় নেই। কিন্ত একটি দেশ বা জাতি কি সব সময় অতীতেই বাস করবে? ভবিষ্যতে না হয় নাই বা গেলাম (দূরদশর্ী নেতৃত্ত্ব এবং দেশের ভবিষ্যত নিয়ে যারা ভাবতে পারেন সেরকম মানুষের নিতান্তই অভাব আমাদের) কিন্তু বর্তমানের দিকে তাকাতে নিশ্চই ক্ষতি নেই। ভাষাকে স্মরণ করার যে দিন, সেই একুশে ফেব্রুয়ারীকে সামনে রেখেই বর্তমানের কিছু চালচিত্র তুলে ধরার তাগিদ থেকেই এই লেখার জন্ম।

শিশুদের কাছ থেকে খেয়াল করা, তাদের সাথে নিবীড়ভাবে মিশে যাওয়া আমার খুব পছন্দের একটা কাজ। কোনো এক অজানা কারনে শিশুদের সাথে সহজে মিশতে পারার একটা দোষ বা গুণ যেটাই বলেন, আমার রয়েছে। আর সেই সুবাদে কিছু ব্যাপার খেয়াল করার সুযোগ হয়েছে যা ভাষার জন্য নিবেদিত এই দিনে হয়তো প্রাসংগিক হতে পারে, তবে অনেকের কাছে অপ্রাসংগিক এবং অসংলগ্ন বলেও মনে হতে পারে (বিশেষ করে যারা অতীতে বাস করতে পছন্দ করেন, যাদের কাছে একুশ মানে শুভ্র পাঞ্জাবী পরে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে এসে দিনটিকে অতি দ্রুত ভুলে যাওয়া)। একান্তই অপ্রাসংগিক এবং অসংলগ্ন মনে হলে অগ্রিম ক্ষমাপ্রাথর্ী।

বাংলাদেশে আকাশ সংস্কৃতির ব্যাপক আগ্রাসনের কথা কে না জানেন? আর আকাশ সংস্কৃতির সেই আগ্রাসন যে আমাদের ভাষার উপরেও কিভাবে নেতিবাচক ভূমিকা রাখছে তা নিয়ে কিছু আলোকপাত করতেই এই লেখা। আজকের দিনে বাংলাদেশে বসে মাসে মাত্র 10 সিংগাপুর ডলার (হ্যা, সাড়ে তিনশ থেকে চারশ বাংলাদেশী টাকা, কোথাও তারও কম) দিলেই বাসায় শ'খানেক বিদেশী চ্যানেল চলে আসে। আর অসম্ভব প্রভাবশালী এবং বিশাল আয়তনের এক প্রতিবেশী দেশ থাকার (অ)কল্যানে সেই শ'খানেক বিদেশী চ্যানেলের একটি সিংহ অংশই হিন্দী ভাষার চ্যানেল। আর সস্তা জনপ্রিয়তার কথ বললে বলতে হয় তারাই টিভি পদর্ার 90 শতাংশ সময় দখল করে রাখে।

বিনোদন নি:সন্দেহে খুব ভালো জিনিস। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি মৌলিক চাহিদার পরেই মানুষের মনের খোরাক জোগাতে বিনোদনের জুড়ি নেই। কিন্তু সমস্যা হলো আকাশ সংস্কৃতির বাঁধভাঙ্গা জোয়াড়ে আমাদের বিনোদনের মাত্রা যেন মাত্রা ছাড়িয়ে যেতে বসেছে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে এক সাথে দেখার অনোপযুক্ত অনেক অনুষ্ঠানই এখন গা'সওয়া হয়ে যাচ্ছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের উপরে অনুষ্ঠানগুলোর কি প্রভাব পড়ছে তা সম্পর্কে যেন কারোই কোন মাথা ব্যাথা নেই। বড়দের এবং ছোটদের আমরা এখন আর আলাদা করে না দেখে তাদেরকে উন্মুক্ত করে দিচ্ছি এমন সব দৃশ্যের সামনে যা তাদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাবে প্রভাবিত করছে। শিশুদের জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয় এরকম অনুষ্ঠান তাদের মানসিকতাকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে যা কারো কাছেই কাম্য নয়। একদিকে যেমন বয়স সীমার বাছবাছাই বিহীন এসব অনুষ্ঠান কোমলমতি শিশুদের মানসিকতাকে নেতিবাচক প্রভাবে প্রভাবিত করছে, অন্যদিকে ভাষার দিক থেকেও তা সৃষ্টি করছে অন্য আরেকমাত্রার সমস্যা। ভারতীয় হিন্দী ভাষার বিজাতীয় সংস্কৃতি, ধ্যান ধারনার অনুষ্ঠান দেখে দেখে একেবারে শিশুবয়স থেকে যে বেড়ে উঠছে তার মন:স্তত্ব নি:সন্দেহে প্রভাবিত হচ্ছে সেই ভাষার মাধ্যমে যেটি আমরা অনেক সময়েই ভেবে দেখছি না।

হিন্দী চ্যানেলগুলোর ভিতরে প্রচলিত সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান হলো এর সিরিয়ালগুলো। কোন এক অদ্ভুত কারনে এই সিরিয়ালগুলো আমাদের দেশের ঘরে ঘরে, বিশেষ করে গৃহিনীদের কাছে অসম্ভব পছন্দের। তাদের কাছে সারা পৃথিবী একদিকে আর এই সিরিয়াল আরেক দিকে। যারা বাংলাদেশে সমপ্রতি ঘুরে এসেছেন তারা জানেন দেশে এসব সিরিয়ালের আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা। প্রবাসেও বাংলাদেশীদের ভিতরে কম জনপ্রিয় নয় এগুলো। যারা কম বেশি হিন্দী চ্যানেলগুলোর সিরিয়াল-এর সাথে পরিচিত তারাই জানেন যে এই সিরিয়ালগুলোর বিষয় সহিংসতা, মানুষের আনর্্ত:সম্পর্কের জটিলতা, হিংসা, দ্বন্দ্ব ইত্যাদি নানান অস্বাভাবিকতা। তবে এসব কিছু ছাপিয়ে যে ব্যাপারটি সবচেয়ে বেশি নাড়া দেয় তা হলো ক্রমাগতভাবে শিশুদের ভিনদেশী ভাষার কাছে জিম্মি করে রাখে। ক্রমাগতভাবে কোমলমতি শিশুদের, বিশেষ করে এমন একটা বয়সে যখন তার ভাষা শিক্ষা থেকে শুরু করে মানবীয় আচার আচরণ শেখার ও জানার সময় সেরকম বয়সে তাদেরকে যদি বিজাতীয় ভাষা ও সংস্কৃতির কাছে আমরা ছেড়ে দেই তার প্রতিফলন যে খুব একটা ভালো তা কিন্তু বলা যায় না। আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখেছি আমাদের দেশে 2 থেকে 8 বছর বয়সী শিশুরা যাদের বাসায় প্রায় চবি্বশ ঘন্টা স্টার প্লাস, জি টিভি, সনি ইত্যাদি চ্যানেল চলতেই থাকে তাদের কথাবাতর্া, আচার আচরণ কেমনভাবে প্রভাবিত হয়। অনেক শিশুকে দেখেছি যারা বাংলা কথা বলার সময়ে নিজের অজান্তে হিন্দী শব্দ ব্যবহার করে, মনের অজান্তে যারা গুনগুন করে হিন্দী সিরিয়ালের থিম সংগীত গায় অথবা হিন্দী ভাষার বিজ্ঞাপন অনুকরণ করে।

অনেকে বাংলা ছড়া বা কবিতা শেখার পরিবর্তে হিন্দী সিরিয়ালের ডায়ালগ বলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। ব্যাপারগুলোকে অভিভাবকরা অনেকেই ছেলেমানুষী ব্যাপার হিসেবে উড়িয়ে দিতে চাইলেও এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সম্পর্কে একটু ভেবে দেখা দরকার। কেবল অল্প বয়সীরাই নয়, কিশোর এবং বিশেষ করে যারা বয়:সন্ধিতে থাকে তাদের উপরে এই ধরনের বিজাতীয় সংস্কৃতি এবং ভাষা (যা অনেকটাই ঐ দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি ও বাস্তবতা থেকেও বিচ্ছিন্ন) এক মায়া এবং মিথ্যা ধারনা তৈরী করে। তাদের আচরন থেকে শুরু করে পোশাক, অন্যের সাথে আচার ব্যবহার ইত্যাদি সব কিছুই প্রভাবিত হচ্ছে অস্বাভাবিক এক মাত্রায়।

আমরা এমন একটা সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি যখন আমরা আমাদের শিশুদের হাতে রূপকথা তুলে দেই না। আমাদের কিশোররা রবীন্দ্রনাথ বা নজরুলের লেখার সাথে সম্পূর্ণ অচেনা থেকে যায়। তারা চেনে না পল্লীগীতির মর্ম, লোকজ সংস্কৃতি, জারি সারি ভাটিয়ালির অপরূপ মোহময়তা। এখন উঠতি বয়সী ছেলে মেয়েরা সত্যজিৎ রায়, বিভূতিভুষণ বা নজরুলের এর পরিবর্তে হ্যারি পটার বা জন গ্রিশামের লেখা পড়ে বড় হয়। আবার অনেকে টেলিভিশন, ইন্টারনেট, ভিডিও গেমসের নেশায় এতটাই বুদ যে তাদের কাছে স্কুলের পড়ার বইয়ের বাইরে বই পড়াটা একেবারে অস্বাভাবিক কিছু মনে হয়। যদি আমরা একটু দুরদৃষ্টি সম্পন্ন হওয়ার চেষ্টা করি এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের বর্তমান হালচাল লক্ষ্য করি তা হলে একদিকে বাংলা সাহিত্য এবং ভাষার ব্যবহার থেকে নতুন প্রজন্মের দ্রুত দূরে সরে যাওয়া এবং একই সাথে তাদের সামনে মাতৃভাষার বাইরের ভাষার যে নেতিবাচক প্রভাব এই দুটোর মিলিত একটা ছবি দেখতে পাবো। আর তা যে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের অমর একুশে ফেব্রুয়ারীর চেতনাকে ছায়াচ্ছন্ন তা বুঝতে খুব অভিজ্ঞ জ্যোতিষী না হলেও চলবে।

ভাষা মানুষের মনন, চিন্তা এমনকি আচরণকে দারুনভাবে প্রভাবিত করে কেননা ভাষা এবং চিন্তা অসম্ভবভাবে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যেকোন মনোবিশেষজ্ঞই এটা বলতে পারবে যে একজন মানুষ যেভাবে কথা বলে তা তার চিন্তা ও আচরণকে কতটা প্রভাবিত করে। কোমলমতি নতুন প্রজন্মের শিশুদের বিজাতীয় সংস্কৃতি ও ভাষার প্রভাবে এভাবে প্রভাবিত হতে দেওয়ার সুদুর প্রসারী ফলাফল খুব ভালো হতে পারে না। তাই কখনো কখনো সঙ্কা হয় বিজাতীয় সংস্কৃতি ও ভাষার অপ্রতিরোধ্য শ্রোতে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে যদি আমরা এভাবে অবাধে ভেসে যেতে দেই, তাহলে যে ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে আমাদের এত ত্যাগ, এত গর্ব তা হয়তো হারিয়ে যাবে অতি দ্রুত। বর্তমানে আমাদের সময়ে অনেকে প্রবীণ আছেন যারা একুশকে এবং স্বাধীনতাকে খুব কাছে থেকে দেখেছেন। একুশে ফেব্রুয়ারী, ভাষা আন্দোলন, মুক্তযুদ্ধ - আমাদের জাতীর পরিচয়ের সাথে এই যে বিষয়গুলো শেকড়ের মতো কাজ করে বারবার আমাদের ভেতরে সেই সচেতনতাগুলো জাগ্রত করতে এইসব প্রবীণদের বিশেষ ভূমিকা আছে। কিন্তু যখন কাছ থেকে ভাষা আন্দোলন দেখা, হৃদয়ে একুশ ধারন করা এই মানুষগুলো হারিয়ে যাবে এবং আজকের ভবিষ্যত প্রজন্ম তাদের জায়গা নেবে - সেই সময়ে সত্যিকারের ভাষার অহংকার তাদের ভিতরে আমরা কিভাবে পৌছে দিতে পারি তার উত্তর আমাদের খুঁজতে হবে। আজকের বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মকে আমাদের গর্বের ভাষাকে গর্বের সাথে উপস্থাপন করার পথগুলো রূদ্ধ করে দেই তবে নিজেদের কাছে নিজেদেরই জবাবদিহিতা করতে হবে।

অনেক কিছুর মতোই হয়তো একদিন একুশে ফেব্রুয়ারীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে ভবিষ্যত প্রজন্মকে জাদুঘরে নিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না। যে মহান ভাষার জন্য আমাদের এত ত্যাগ ও তিতীক্ষা সেই ভাষাকে এভাবে ভুলে যেতে দেওয়ার পথ খুলে দেওয়া কি ঠিক হচ্ছে?



সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৮:০৫
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়ন রোডম্যাপ: একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিপত্র রূপরেখা : পর্ব -১ ও ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১১


প্রস্তাবিত রূপরেখা: কৃষিকে জীবিকানির্ভর খাত থেকে প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল
ও বৈশ্বিক বাজারমুখী বাণিজ্যিক শিল্পে রূপান্তরের জাতীয় কৌশল প্রস্তাবনা ।

বাংলার মাঠে প্রথম আলোয়
যে ছবি আসে ভেসে
কাঁধে লাঙল, ঘামে ভেজা মুখ
কৃষক দাঁড়ায় হেসে।

সবুজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুদের পর্যবেক্ষণ, শিশুদের ভালোবাসা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৩


Two for joy!

আমার চার বছরের নাতনি আলিশবা আমাকে ব্রীদিং এক্সারসাইজ করতে দেখলে সে নিজেও শুরু করে। যতটা পারে, ততটা মনোযোগের সাথে অনুকরণ করতে চেষ্টা করে। আমি ওকে দেখলে কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি ধার্মিক না মানুষ?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮



ধার্মিক হওয়া কোনো কাজের কথা নয়।
ধার্মিক হওয়া সহজ। বিজ্ঞানী হওয়া সহজ কথা নয়। পিএইচডি করা সহজ কথা নয়। সেই তুলনায় কোরআন মূখস্ত করা সহজ। জন্মগত ভাবে আমি বাপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মানুষ' হওয়া খুব সোজা, 'মুসলমান' হওয়া কঠিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩৪



একটু আগেই ভাবছিলাম, মানুষ হওয়াটা খুব সহজ। বাবা-মা জিংজিং করে আমাদের পৃথিবীতে এনেছেন, এতে আমাদের কৃতিত্ব কোথায়! কোন কৃতিত্ব নেই। আমরা অটো ভাবেই 'মানুষ' হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছি। দুইজন মানব-মানবীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমাকে ভালোবাসি I love you

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৩:০২

তোমাকে ভালোবাসি বাতাসের মতো,
যেমন শিশুর কাছে বালি একটা খেলনা,
অথবা ঝড়ের মতো, যাকে কেউ বোঝে না।

I love you like the wind,
Playing like a child in the sands,
Or a storm that no... ...বাকিটুকু পড়ুন

×