এক. হলো অতিপ্রাকৃতিক ক্ষমতা, দুই. হলো আমাদের ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা এবং তিন. মেনে নেওয়া বা না নেওয়া।
অতিপ্রাকৃতিক ক্ষমতা শব্দ দুটির মধ্যে ব্যাপার আছে। যা আমরা অতিপ্রাকৃতিক বলি তা কি সত্যিই অতিপ্রাকৃতিক। আমি তো মনে করি মাতৃ জঠরে যে মানব সন্তানের ক্রমান্বয়ে মাংসপিন্ড, তার ভিতরে আত্না, নিখুঁতভাবে প্রতিটি ডিএনএএর সুবিন্যাস ইত্যাদি অনেক অনেক অতিপ্রাকৃত।
বিজ্ঞান নামের টুলসের সাহায্যে আমরা এর ব্যাখ্যা করতে পারি। তাই এটিকে হয়তো আজ অতিপ্রাকৃত বলি না। কিন্তু আমার কাছে এটা এখনও অতিপ্রাকৃত। এখানে আমি অতিপ্রাকৃত বলতে বুঝাই যাদুর মতো কিছু।
এই মাত্র কিছুদিন আগে বিজ্ঞানীরা আবিস্কার করেছেন ডার্ক ম্যাটার এবং ডার্ক এনাজর্ী যা মহাবিশ্বের সবচেয়ে বেশি শক্তি এবং ভর নিয়ে বসে আছে। ব্যাপারটা খুব নতুন আবিস্কার এবং খুঁটি নাটি পড়লে শিহরন জাগবে। এটাও অনেকটা অতিপ্রাকৃত বলে মনে হবে। এটা নিশ্চিত যে আমাদের দৃশ্য যে জগৎ, ব্যাখ্যার মধ্যে যে জগৎ তার বাইরে অনেক বড় জগৎ আছে। প্রমান? প্রমান এই আমার বা আপনার জন্ম। আপনার মায়ের মাতৃ জঠরে আপনার আগমনের আগে আপনি কোথায় ছিলেন? কোথায় ছিলো আপনার অস্তিত্ব? শুধু এই চিন্তাটিই অতিপ্রাকৃত ভাবনার জন্য যথেষ্ট।
এই যে অদৃশ্য জগৎ এবং মহাবিশ্বের এরকম অসীম সংখ্যার অতিপ্রাকৃত ঘটনার অনেক কিছুই আমাদের ব্যাখ্যার অতীত থেকেই যাবে অনাদিকাল পর্যন্তই। স্রষ্টা তার অনেক রহস্য অনেকের কাছে উন্মোচন করেন এবং তার মাধ্যমে তার মহিমা বোঝার সাধ্য দান করেন। এই মানুষগুলোকে আমরা যারা অতি সাধারনেরও অধম তাদের চোখে অতিপ্রাকৃতিক ক্ষমতার বলে মনে হয়। আসলে তা নয়।
এই যে গ্রামীন ব্যাংকের মুহাম্মদ ইউনুস যেভাবে হাজার মানুষের জীবন বদলে দিচ্ছেন, তাকে কি অতিপ্রাকৃত মনে হয় না। আমার কিন্তু বেশ মনে হয়। এতগুলো জীবনকে বদলে দেওয়া কিন্তু সহজ নয়। চেষ্টা করে দেখতে পারেন। সুতরাং মোদ্দা কথা হলো, অতিপ্রাকৃতিক কথাটির মধ্যে অনেক প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে।
ইন্টারনেট প্রযুক্তি একটি অতিপ্রাকৃতিক প্রযুক্তি যা মানব সভ্যতার ইন্টেলেকচুয়াল বিবর্তনের একটা পর্যায়ে আত্নপ্রকাশ করেছে যা আবার মানুষকে 'পাওয়ার অফ ওয়ান' শেখায়।
যেখানে সাধারন অর্থে কালিমা হলো 'তিনি ছাড়া আর কোনো উপাসক নাই', সেখানে সুফিরা বলে 'তিনি ছাড়া আর কিছুই নাই'। পার্থক্য কিন্তু বিশাল। এই যে সর্ব ব্যাপী একত্ত্ববাদ, সব কিছু যে 'ঐ এক'; ইন্টারনেট তারই একটা ডেমোন্সট্রেশন প্রযুক্তি যার মাধ্যমে সব মানুষ এক সাথে টাইম এন্ড স্পেসকে অতিক্রম করে এক হতে পারছে।
দু:খিত সীমা অতিক্রম করে অনেক কিছু বলে ফেললাম। কোথাও খটকা লাগলে জানতে চাইতে পারেন।
তবে এত কথা লেখা বোধ হয় ঠিক হলো না।
প্রকৃতি তার সব রহস্য সবসময় জানাতে দিতে চান না। পরম মমতায় সে সেগুলোকে হেফাজত করে রাখেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মার্চ, ২০০৬ সকাল ১০:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


