দেবরাজ ইন্দ্র অভিশাপ দিয়েছিলেন তাঁর সভার গীতনায়ক সৌরসেনকে। তবে সেই অভিশাপ যেন বর হয়ে এসেছিল পল্লবী ড্যান্স সেন্টারের জন্য। কবিগুরুর নৃত্যনাট্য শাপমোচন-এর অনবদ্য পরিবেশনায় তারা দিল্লির বিদগ্ধ দর্শকদের মুগ্ধ করে দেশে ফিরেছে।
গত বৃহস্পতিবার ভারতের রাজধানী দিল্লির কামানি মিলনায়তনে কবিগুরুর সার্ধশততম জন্মবর্ষ উপলক্ষে ভারত-বাংলাদেশ বছরব্যাপী যৌথ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকার পল্লবী ড্যান্স সেন্টার এ নৃত্যনাট্যটি পরিবেশন করে। এক ঘণ্টা পাঁচ মিনিটের এই নৃত্যনাট্যে পল্লবীর শিল্পীরা নৃত্যছন্দে কানায় কানায় ভরা মিলনায়তনের দর্শকদের বিমোহিত করে রেখেছিলেন।
কবিগুরু শাপমোচন রচনা করেন একটি বৌদ্ধ উপাখ্যানের প্রেরণায়। দেবরাজ ইন্দ্রের রাজসভার গীতনায়ক সৌরসেন একদা বড়ই উন্মন ছিলেন তাঁর প্রণয়ী মধুশ্রীর বিরহে। মধুশ্রী গিয়েছেন সুমেরুশিখরে সূর্যপ্রদক্ষিণে। প্রিয়া-বিচ্ছেদে আনমনা সৌরসেনের মৃদঙ্গবাদনে তাল কেটে গেলে বাধাগ্রস্ত হলো অপ্সরা উবর্শীর নৃত্য।
ক্রুদ্ধ ইন্দ্র অভিশাপ দিলেন সৌরসেনকে। তিনি গান্ধার রাজগৃহে জন্ম নিলেন ‘অরুণেশ্বর’ নামে কুশ্রী রূপে। আর মধুশ্রী আত্মবিস্মৃত হয়ে জন্ম নিলেন মদ্ররাজকুলে ‘কমলিকা’ নামে। শ্রীহীন অরুণেশ্বরকে কমলিকা স্বেচ্ছায় ভালোবাসলেই শাপমুক্ত হবেন তাঁরা। এই নিয়েই নাটকের কাহিনি।
অতঃপর অরুণেশ্বর ও কমলিকা বিয়ে হলো এক অদ্ভুত নিয়মে। অরুণেশ্বরকে না দেখে তাঁর পাঠানো এক বীণাকে বরমাল্য দিলেন কমলিকা। বিয়ের পর এলেন তিনি স্বামীগৃহে। কিন্তু বাসরশয্যা অন্ধকার। দেখা হলো না দুজনে। স্বামীর মুখদর্শনে ব্যাকুল কমলিকার বারংবার অনুরোধে একপর্যায়ে অরুণেশ্বর বলেন, চৈত্রসংক্রান্তির রাতে নাগকেশরবনে সখাদের সঙ্গে তিনি নৃত্য করবেন। প্রাসাদশিখর থেকে কমলিকা তাঁকে দেখতে পাবেন। নৃত্যগীত কমলিকার মন ভরিয়ে দিলেও অরুণেশ্বরের কুশ্রী রূপ তাঁকে আহত করল। মানতে পারলেন না এই কুৎসিত ব্যক্তিটিকে স্বামী হিসেবে। চলে গেলেন তাঁকে ত্যাগ করে।
দীর্ঘ বিরহকালে অরুণেশ্বরের বীণার বাদন ও নৃত্যের ছন্দ তাঁর মনে এনে দিল নতুন ভাবাবেগ। অরুণেশ্বরের বাইরের কুৎসিত রূপকে অতিক্রম করে অন্তরের সৌন্দর্য উপলব্ধি করলেন কমলিকা। ফিরে এলেন পতিগৃহে। পরম ভালোবাসায় তাকালেন তাঁর মুখপানে। এবং এই ভালোবাসাতেই শাপমুক্ত হলেন অরুণেশ্বর।
নৃত্যনাট্যে কমলিকার ভূমিকায় কস্তুরী ব্যানার্জি, অরুণেশ্বর অনীক বসু, সৌরসেন এ বি এম শহিদুল ইসলাম, মধুশ্রী সালমা বেগম, ইন্দ্র নূরে আলম, ইন্দ্রাণী মৈত্রী সরকার, রাজা তোফায়েল আহমেদ এবং উর্বশীর ভূমিকায় ছিলেন স্মিতা দে। অন্যান্য চরিত্রে ছিলেন: সুব্রত কুমার দাশ, অনন্যা, মুনমুন বিশ্বাস, রুম্পা বিশ্বাস, ঐন্দ্রিলা চক্রবর্তী, আতাউল ফাতেমা, নাজনিন আলম ও অন্তু মজুমদার।
ধ্রুপদি নৃত্য-আঙ্গিকের সঙ্গে সৃজনশীল মুক্ত নৃত্যশৈলীর সমন্বয়ে এই নৃত্যপরিকল্পনা করা হয়েছিল। নাটকে ব্যবহূত অনেক গানই ছিল খুব জনপ্রিয়। ‘তুমি কি কেবলই ছবি’, ‘দে পড়ে দে আমায় তোরা’, ‘সেদিন দুজনে দুলেছিনু বনে’, ‘মোর বীণা ওঠে কোন্ সুরে বাজি’, ‘যাও গো এবার যাবার আগে রাঙিয়ে দিয়ে যাও’—এসব গানের সঙ্গে নৃত্যের সাবলীল গতিছন্দ ভিন্নতর ব্যঞ্জনা দিয়েছিল। শিল্পীরা কাহিনির নাটকীয়তা, প্রেম-বিরহের চিরন্তন মানবিক আবেদনের অভিব্যক্তি অনবদ্যভাবে ফুটিয়ে তুলে পরিবেশনাটিকে হূদয়গ্রাহী করে তুলেছিলেন। দৃশ্য থেকে দৃশ্যান্তরে যাওয়ার মুহূর্তগুলোতে দর্শক বিপুল করতালিতে শিল্পীদের অভিনন্দিত করেছেন এবং মঞ্চায়ন শেষে অনেকে এসে ছবিও তুলেছেন তাঁদের সঙ্গে। পরিবেশনা প্রসঙ্গে রাজা রামমোহন রায় পাঠাগারের পরিচালক কে কে ব্যানার্জি উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে বলেন, শাপমোচন-এর এই পরিবেশনাটি অনেক দিন মনে রাখার মতো।
শাপমোচন-এর নৃত্যপরিচালনা ও পোশাক-পরিকল্পনা করেছেন পল্লবীর পরিচালক মিনু হক। তিনি জানালেন, এই নৃত্যনাট্যটি বাংলাদেশ কবিগুরুর অন্যান্য নৃত্যনাট্যের মতো বহুল মঞ্চায়িত হয়নি। এর কাহিনিতে যে নাট্যগুণ রয়েছে, তাকে প্রাধান্য দিয়েই নৃত্যনাট্যটি করা হয়েছে। শাপমোচন-এর মঞ্চসজ্জায় ছিলেন আইরিন পারভিন।
নৃত্যনাট্যটি মঞ্চায়নের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মুনিরা সুলতানার নেতৃত্বে ২১ সদস্যের প্রতিনিধিদল ৩ এপ্রিল মঙ্গলবার দিল্লিতে আসে।দেবরাজ ইন্দ্র অভিশাপ দিয়েছিলেন তাঁর সভার গীতনায়ক সৌরসেনকে। তবে সেই অভিশাপ যেন বর হয়ে এসেছিল পল্লবী ড্যান্স সেন্টারের জন্য। কবিগুরুর নৃত্যনাট্য শাপমোচন-এর অনবদ্য পরিবেশনায় তারা দিল্লির বিদগ্ধ দর্শকদের মুগ্ধ করে দেশে ফিরেছে।
গত বৃহস্পতিবার ভারতের রাজধানী দিল্লির কামানি মিলনায়তনে কবিগুরুর সার্ধশততম জন্মবর্ষ উপলক্ষে ভারত-বাংলাদেশ বছরব্যাপী যৌথ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকার পল্লবী ড্যান্স সেন্টার এ নৃত্যনাট্যটি পরিবেশন করে। এক ঘণ্টা পাঁচ মিনিটের এই নৃত্যনাট্যে পল্লবীর শিল্পীরা নৃত্যছন্দে কানায় কানায় ভরা মিলনায়তনের দর্শকদের বিমোহিত করে রেখেছিলেন।
কবিগুরু শাপমোচন রচনা করেন একটি বৌদ্ধ উপাখ্যানের প্রেরণায়। দেবরাজ ইন্দ্রের রাজসভার গীতনায়ক সৌরসেন একদা বড়ই উন্মন ছিলেন তাঁর প্রণয়ী মধুশ্রীর বিরহে। মধুশ্রী গিয়েছেন সুমেরুশিখরে সূর্যপ্রদক্ষিণে। প্রিয়া-বিচ্ছেদে আনমনা সৌরসেনের মৃদঙ্গবাদনে তাল কেটে গেলে বাধাগ্রস্ত হলো অপ্সরা উবর্শীর নৃত্য।
ক্রুদ্ধ ইন্দ্র অভিশাপ দিলেন সৌরসেনকে। তিনি গান্ধার রাজগৃহে জন্ম নিলেন ‘অরুণেশ্বর’ নামে কুশ্রী রূপে। আর মধুশ্রী আত্মবিস্মৃত হয়ে জন্ম নিলেন মদ্ররাজকুলে ‘কমলিকা’ নামে। শ্রীহীন অরুণেশ্বরকে কমলিকা স্বেচ্ছায় ভালোবাসলেই শাপমুক্ত হবেন তাঁরা। এই নিয়েই নাটকের কাহিনি।
অতঃপর অরুণেশ্বর ও কমলিকা বিয়ে হলো এক অদ্ভুত নিয়মে। অরুণেশ্বরকে না দেখে তাঁর পাঠানো এক বীণাকে বরমাল্য দিলেন কমলিকা। বিয়ের পর এলেন তিনি স্বামীগৃহে। কিন্তু বাসরশয্যা অন্ধকার। দেখা হলো না দুজনে। স্বামীর মুখদর্শনে ব্যাকুল কমলিকার বারংবার অনুরোধে একপর্যায়ে অরুণেশ্বর বলেন, চৈত্রসংক্রান্তির রাতে নাগকেশরবনে সখাদের সঙ্গে তিনি নৃত্য করবেন। প্রাসাদশিখর থেকে কমলিকা তাঁকে দেখতে পাবেন। নৃত্যগীত কমলিকার মন ভরিয়ে দিলেও অরুণেশ্বরের কুশ্রী রূপ তাঁকে আহত করল। মানতে পারলেন না এই কুৎসিত ব্যক্তিটিকে স্বামী হিসেবে। চলে গেলেন তাঁকে ত্যাগ করে।
দীর্ঘ বিরহকালে অরুণেশ্বরের বীণার বাদন ও নৃত্যের ছন্দ তাঁর মনে এনে দিল নতুন ভাবাবেগ। অরুণেশ্বরের বাইরের কুৎসিত রূপকে অতিক্রম করে অন্তরের সৌন্দর্য উপলব্ধি করলেন কমলিকা। ফিরে এলেন পতিগৃহে। পরম ভালোবাসায় তাকালেন তাঁর মুখপানে। এবং এই ভালোবাসাতেই শাপমুক্ত হলেন অরুণেশ্বর।
নৃত্যনাট্যে কমলিকার ভূমিকায় কস্তুরী ব্যানার্জি, অরুণেশ্বর অনীক বসু, সৌরসেন এ বি এম শহিদুল ইসলাম, মধুশ্রী সালমা বেগম, ইন্দ্র নূরে আলম, ইন্দ্রাণী মৈত্রী সরকার, রাজা তোফায়েল আহমেদ এবং উর্বশীর ভূমিকায় ছিলেন স্মিতা দে। অন্যান্য চরিত্রে ছিলেন: সুব্রত কুমার দাশ, অনন্যা, মুনমুন বিশ্বাস, রুম্পা বিশ্বাস, ঐন্দ্রিলা চক্রবর্তী, আতাউল ফাতেমা, নাজনিন আলম ও অন্তু মজুমদার।
ধ্রুপদি নৃত্য-আঙ্গিকের সঙ্গে সৃজনশীল মুক্ত নৃত্যশৈলীর সমন্বয়ে এই নৃত্যপরিকল্পনা করা হয়েছিল। নাটকে ব্যবহূত অনেক গানই ছিল খুব জনপ্রিয়। ‘তুমি কি কেবলই ছবি’, ‘দে পড়ে দে আমায় তোরা’, ‘সেদিন দুজনে দুলেছিনু বনে’, ‘মোর বীণা ওঠে কোন্ সুরে বাজি’, ‘যাও গো এবার যাবার আগে রাঙিয়ে দিয়ে যাও’—এসব গানের সঙ্গে নৃত্যের সাবলীল গতিছন্দ ভিন্নতর ব্যঞ্জনা দিয়েছিল। শিল্পীরা কাহিনির নাটকীয়তা, প্রেম-বিরহের চিরন্তন মানবিক আবেদনের অভিব্যক্তি অনবদ্যভাবে ফুটিয়ে তুলে পরিবেশনাটিকে হূদয়গ্রাহী করে তুলেছিলেন। দৃশ্য থেকে দৃশ্যান্তরে যাওয়ার মুহূর্তগুলোতে দর্শক বিপুল করতালিতে শিল্পীদের অভিনন্দিত করেছেন এবং মঞ্চায়ন শেষে অনেকে এসে ছবিও তুলেছেন তাঁদের সঙ্গে। পরিবেশনা প্রসঙ্গে রাজা রামমোহন রায় পাঠাগারের পরিচালক কে কে ব্যানার্জি উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে বলেন, শাপমোচন-এর এই পরিবেশনাটি অনেক দিন মনে রাখার মতো।
শাপমোচন-এর নৃত্যপরিচালনা ও পোশাক-পরিকল্পনা করেছেন পল্লবীর পরিচালক মিনু হক। তিনি জানালেন, এই নৃত্যনাট্যটি বাংলাদেশ কবিগুরুর অন্যান্য নৃত্যনাট্যের মতো বহুল মঞ্চায়িত হয়নি। এর কাহিনিতে যে নাট্যগুণ রয়েছে, তাকে প্রাধান্য দিয়েই নৃত্যনাট্যটি করা হয়েছে। শাপমোচন-এর মঞ্চসজ্জায় ছিলেন আইরিন পারভিন।
নৃত্যনাট্যটি মঞ্চায়নের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মুনিরা সুলতানার নেতৃত্বে ২১ সদস্যের প্রতিনিধিদল ৩ এপ্রিল মঙ্গলবার দিল্লিতে আসে।দেবরাজ ইন্দ্র অভিশাপ দিয়েছিলেন তাঁর সভার গীতনায়ক সৌরসেনকে। তবে সেই অভিশাপ যেন বর হয়ে এসেছিল পল্লবী ড্যান্স সেন্টারের জন্য। কবিগুরুর নৃত্যনাট্য শাপমোচন-এর অনবদ্য পরিবেশনায় তারা দিল্লির বিদগ্ধ দর্শকদের মুগ্ধ করে দেশে ফিরেছে।
গত বৃহস্পতিবার ভারতের রাজধানী দিল্লির কামানি মিলনায়তনে কবিগুরুর সার্ধশততম জন্মবর্ষ উপলক্ষে ভারত-বাংলাদেশ বছরব্যাপী যৌথ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকার পল্লবী ড্যান্স সেন্টার এ নৃত্যনাট্যটি পরিবেশন করে। এক ঘণ্টা পাঁচ মিনিটের এই নৃত্যনাট্যে পল্লবীর শিল্পীরা নৃত্যছন্দে কানায় কানায় ভরা মিলনায়তনের দর্শকদের বিমোহিত করে রেখেছিলেন।
কবিগুরু শাপমোচন রচনা করেন একটি বৌদ্ধ উপাখ্যানের প্রেরণায়। দেবরাজ ইন্দ্রের রাজসভার গীতনায়ক সৌরসেন একদা বড়ই উন্মন ছিলেন তাঁর প্রণয়ী মধুশ্রীর বিরহে। মধুশ্রী গিয়েছেন সুমেরুশিখরে সূর্যপ্রদক্ষিণে। প্রিয়া-বিচ্ছেদে আনমনা সৌরসেনের মৃদঙ্গবাদনে তাল কেটে গেলে বাধাগ্রস্ত হলো অপ্সরা উবর্শীর নৃত্য।
ক্রুদ্ধ ইন্দ্র অভিশাপ দিলেন সৌরসেনকে। তিনি গান্ধার রাজগৃহে জন্ম নিলেন ‘অরুণেশ্বর’ নামে কুশ্রী রূপে। আর মধুশ্রী আত্মবিস্মৃত হয়ে জন্ম নিলেন মদ্ররাজকুলে ‘কমলিকা’ নামে। শ্রীহীন অরুণেশ্বরকে কমলিকা স্বেচ্ছায় ভালোবাসলেই শাপমুক্ত হবেন তাঁরা। এই নিয়েই নাটকের কাহিনি।
অতঃপর অরুণেশ্বর ও কমলিকা বিয়ে হলো এক অদ্ভুত নিয়মে। অরুণেশ্বরকে না দেখে তাঁর পাঠানো এক বীণাকে বরমাল্য দিলেন কমলিকা। বিয়ের পর এলেন তিনি স্বামীগৃহে। কিন্তু বাসরশয্যা অন্ধকার। দেখা হলো না দুজনে। স্বামীর মুখদর্শনে ব্যাকুল কমলিকার বারংবার অনুরোধে একপর্যায়ে অরুণেশ্বর বলেন, চৈত্রসংক্রান্তির রাতে নাগকেশরবনে সখাদের সঙ্গে তিনি নৃত্য করবেন। প্রাসাদশিখর থেকে কমলিকা তাঁকে দেখতে পাবেন। নৃত্যগীত কমলিকার মন ভরিয়ে দিলেও অরুণেশ্বরের কুশ্রী রূপ তাঁকে আহত করল। মানতে পারলেন না এই কুৎসিত ব্যক্তিটিকে স্বামী হিসেবে। চলে গেলেন তাঁকে ত্যাগ করে।
দীর্ঘ বিরহকালে অরুণেশ্বরের বীণার বাদন ও নৃত্যের ছন্দ তাঁর মনে এনে দিল নতুন ভাবাবেগ। অরুণেশ্বরের বাইরের কুৎসিত রূপকে অতিক্রম করে অন্তরের সৌন্দর্য উপলব্ধি করলেন কমলিকা। ফিরে এলেন পতিগৃহে। পরম ভালোবাসায় তাকালেন তাঁর মুখপানে। এবং এই ভালোবাসাতেই শাপমুক্ত হলেন অরুণেশ্বর।
নৃত্যনাট্যে কমলিকার ভূমিকায় কস্তুরী ব্যানার্জি, অরুণেশ্বর অনীক বসু, সৌরসেন এ বি এম শহিদুল ইসলাম, মধুশ্রী সালমা বেগম, ইন্দ্র নূরে আলম, ইন্দ্রাণী মৈত্রী সরকার, রাজা তোফায়েল আহমেদ এবং উর্বশীর ভূমিকায় ছিলেন স্মিতা দে। অন্যান্য চরিত্রে ছিলেন: সুব্রত কুমার দাশ, অনন্যা, মুনমুন বিশ্বাস, রুম্পা বিশ্বাস, ঐন্দ্রিলা চক্রবর্তী, আতাউল ফাতেমা, নাজনিন আলম ও অন্তু মজুমদার।
ধ্রুপদি নৃত্য-আঙ্গিকের সঙ্গে সৃজনশীল মুক্ত নৃত্যশৈলীর সমন্বয়ে এই নৃত্যপরিকল্পনা করা হয়েছিল। নাটকে ব্যবহূত অনেক গানই ছিল খুব জনপ্রিয়। ‘তুমি কি কেবলই ছবি’, ‘দে পড়ে দে আমায় তোরা’, ‘সেদিন দুজনে দুলেছিনু বনে’, ‘মোর বীণা ওঠে কোন্ সুরে বাজি’, ‘যাও গো এবার যাবার আগে রাঙিয়ে দিয়ে যাও’—এসব গানের সঙ্গে নৃত্যের সাবলীল গতিছন্দ ভিন্নতর ব্যঞ্জনা দিয়েছিল। শিল্পীরা কাহিনির নাটকীয়তা, প্রেম-বিরহের চিরন্তন মানবিক আবেদনের অভিব্যক্তি অনবদ্যভাবে ফুটিয়ে তুলে পরিবেশনাটিকে হূদয়গ্রাহী করে তুলেছিলেন। দৃশ্য থেকে দৃশ্যান্তরে যাওয়ার মুহূর্তগুলোতে দর্শক বিপুল করতালিতে শিল্পীদের অভিনন্দিত করেছেন এবং মঞ্চায়ন শেষে অনেকে এসে ছবিও তুলেছেন তাঁদের সঙ্গে। পরিবেশনা প্রসঙ্গে রাজা রামমোহন রায় পাঠাগারের পরিচালক কে কে ব্যানার্জি উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে বলেন, শাপমোচন-এর এই পরিবেশনাটি অনেক দিন মনে রাখার মতো।
শাপমোচন-এর নৃত্যপরিচালনা ও পোশাক-পরিকল্পনা করেছেন পল্লবীর পরিচালক মিনু হক। তিনি জানালেন, এই নৃত্যনাট্যটি বাংলাদেশ কবিগুরুর অন্যান্য নৃত্যনাট্যের মতো বহুল মঞ্চায়িত হয়নি। এর কাহিনিতে যে নাট্যগুণ রয়েছে, তাকে প্রাধান্য দিয়েই নৃত্যনাট্যটি করা হয়েছে। শাপমোচন-এর মঞ্চসজ্জায় ছিলেন আইরিন পারভিন।
নৃত্যনাট্যটি মঞ্চায়নের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মুনিরা সুলতানার নেতৃত্বে ২১ সদস্যের প্রতিনিধিদল ৩ এপ্রিল মঙ্গলবার দিল্লিতে আসে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




