আমার মাথায় খুব জটিল কিছু কখনই ঢোকে না। সব জিনিস আমি সহজ করে বোঝার চেষ্টা করি । সেই জন্য কিছু কিছু ব্যপার আমার মাথায় আসেই না । এমনি একটা ব্যপার হল অনেকে একজন পুরুষ আর এককজন মহিলাকে সমান করে দেখনে ! মনে করেন যে পুরুষ মানুষ আর মহিলা মানুষ সবাই ই মানুষ তাদের কে সমান চোখে দেখা উচিৎ ! এই যুক্তি আমি মানতে নারাজ । যাই হোক এই কথায় পরে আসছি ।
আগে আমি আমার কথা তুলে ধরি । ভুল আমার হতে পারে । আমাকে ধরিয়ে দিলেই হবে । আমার ভুল হলেই আমি মেনে নিবো তা নির্দিধার । কিন্তু অবশ্যই আমার যুক্তির সন্তুষ্ট উত্তর লাগবে !
একজন মানুস আর একজন মানুষের সমান বা সমকক্ষ এই জিনিসটা আমরা কিভাবে পরিমাপ করবো ! নিশ্চই মানুষের সৌন্দর্য এই পরিমাপের মাপকাঠি হতে পারে না ।
রহিম কে যদি করিমের সমান হতে হয় তাহলে করিমের যে মেধা, শারীরিক সামর্থ্য মানষিক সামর্থ্য আছে রহিমেরও ঠিক সেই একই পরিমান থাকতে হবে । তা না হলে আমরা বলতে পারি না যে রহিম আর করিম সমান । নাকি অন্য কোন উপায় আছে ?
আমার জানা নাই !
ঠিক একই ভাবে আমরা যখন বলবো একজন নারী একজন পুরুষের সমান তখন আমরা এইটা তো অবশ্যই আশা করতে পারি যে একটা পুরুষের যে মেধা আর শারীরিক শক্তি আছে একজন নারীর ও ঠিক একই পরিমান মেধা আছে । শরীরে শক্তি আছে । ঠিক কি না ?
কিন্তু আসলেই কি আছে ?
একজন পুরুষ মানুষ যে পরিমান কঠিন পরিশ্রম করতে পারে এককজন নারী কি সেই পরিমান করতে পারে ? যদি শক্তির পরীক্ষা হয় তাহলে কি একজন নারী কোন কালে পুরুষের সাথে পারবে ?
যদি পারে তাহলে তো ভালই !
কিন্তু যদি না পরে তাহলে সে কিভাবে পুরুসের সমান হল ? প্রশ্ন রইলো !
তারপর চিন্তা করুন পড়াশুনার ব্যপারে । যেহেতু আমাদের দেশে পড়াশুনা দিয়েই মেধার যাচাই করা হয় যদিও সেটা ঠিক না ।
যা হোক মূল কথায় আসি ! এই ব্যাপরে অনেকেই আমার সাথে দ্বিমত প্রকাশ করবেন কিন্তু আমি এখানেও বলবো পুরুষ মানুষ এগিয়ে । সব দিক দিয়ে !
অল্প কিছু উদাহরন দেই ।
এই তো কয়দিন আগে প্রথম আলোর নারীমঞ্চে দেখলাম যে ঢাবির কম্পিউটার সাইন্স বিভাগে গত ২০ বছর পর একজন মেয়ে প্রথম হয়েছে । তাই তাকে পুরুষ্কার দেওয়া হচ্ছে । একটা হিসাব করেন তো, ২০ বছরে মাত্র একজকন !
২০ বছর ধরে মাত্র একজন মেয়ে প্রথম হয়েছে ! মানে হল ২০ বছর চেষ্টার পর একজন মেয়ে ছেলেদের মেধা কে টক্কর দিতে পেরেছে । এবার তুলনা করে দেখেন !
কাদের তুলনায় কারা বেশি মেধাবী !
অনেকের কাছে আবার মনে হতে পারে যে কেন কেবল একটা বিষয়ের ফলাফল দেখে আমরা মেনে নিবো যে নারীরা পিছিয়ে । আমি আরো খোজ খবর নিয়েছি । আমি যেখানে পড়া শুনা করি সেখানে ২৫টার মত বিষয় পড়ানো হয় । আমি প্রত্যেকটা বিভাগে গিয়ে খোজ নিয়েছি । প্রত্যেকটা বিভাগে ৬টা করে ব্যাচ রানিং ভাবে আছে । তাহলে সব শুদ্ধ ১৫০টার মত ব্যাচ হবার কথা । আমরা ১৫০টা ডিপার্টমেন্ট ফার্ষ্ট পাব ! যদি ছেলে আর মেয়ে সমানই হয় তাহলে এই রেসিও টা হবার কথা ৭৫/৭৫ ! কিন্তু ফলাফল কি জানেন সব মিলিয়ে ৪ টা ব্যাচে মেয়েরা প্রথম । তাহলে কিভাবে আমি মেনে নিবো যে ছেলে মেয়ের মেধা সমান । এমন কি মেয়েরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ছেলেদের ধারে কাছেও নেই । আমি তো কেবল একটা প্রতিষ্ঠানের কথা বললাম আপনারা আরো যত প্রতোষ্ঠান আছে সেখানে গিয়ে খোজ খবর নিন । এমন একটাও পাবেন না যেখানে মেয়েরা এগিয়ে ।
কেউ কেউ বলবে রেজাল্ট দিয়ে আবার মেধা মাপা যায় নাকি !
তাহলে কি দিয়ে মাপবেন !
একটা পদ্ধটি বলেন ?
কোন কোন মেয়ে রেগে গিয়ে বলতে পারে যে আসুক দেখি আমার সাথে কোন ছেলে লাগতে ।
এখন আপনি যদি ভিকারুননেসায় পড়েন আর ছেলেটা যদি পাবনা অথবা টেতুলিয়ার কোন কলেজে পড়ে তাহলে তো সে আপনার সাথে পারবেই না । কিন্তু আপনি ঠিক যে পরিবেশ থেকে এছেসেন আপনার কম্পাটিটরও সেই একই পরিবেশের হওয়া চাই, তারপর হোক লড়াই !
অনেকে নাস্তিক আছে । তারা আবার এই ইসলামের কথা মানবেন না । কিন্তু ইসলামেও কিন্তু নারীকে পুরুষের সমান কোথাও বলা হয় নি ! কেউ দেখাতে পারবে না । ইসলাম ধর্মে নারীকে সম্মান দেওয়া হয়েছে কিন্তু এর মানে এই নয় যে তারা পুরুষের সমকক্ষ !!
একটা মজার কথা শোনন, অনেক নারী আছে যারা ইসলামের এই সম্পত্তি ভাগ নিয়ে যে নারী পুরুষের বিভেদ আছে সেটা মানতে নারাজ । কিন্তু তারাই আবার দেন মোহরের টাকার জন্য আদালতে ক্লেইম করে । কি হাস্যকর একটা ব্যপার ।
ভাল কথা মনে হল । নারী যদি পুরুষের সমান হয় তাহলে কেন যখন তালাক হয় নারীরা তখন কম্পনশেসন দাবী করে । তুমি যদি পুরুষে সমান হবে তাহলে তোমার পথ তুমি দেখবে । তুমি তার সাথে থাকবে না ভাল কথা, কেন তোমার স্বামী তোমাকে টাকা দিবে ?
এই যে কদিন আগে টম ক্রুজ আর কেটি হোমসের যে ডিভোর্স হল কেটিকে কেন টাকা দিটে হল ।
ভরন পোষনের টাকা !!
মেয়ারা যে ছেলেদের সমান না তার আর একটা প্রমান হল বাসে সংরক্ষিত আসন । আপনারা বলতে পারে যে সংক্ষিত আসনে কেন রাখা হয় ?
কোটা কেন রাখা হয় ?
বিভিন্ন পরীক্ষায় মুক্তিযুদ্ধ কোটা বা উপজাতি কোটা রাখা হয় কারন যাতে কম বেধবী একজন সুযোগ পেতে পারে । জাবিতে তেমনি মেয়েদের ভর্তি কোটা আছে । আজ পর্যন্ত কোথাও শুনেছেন ছেলেদের কোটা আছে । থাকবে না । কারন এটার দরকার নাই ।
বাসে সিট থাকে সবার জন্য । তুমি মেয়ে যদি ছেলেদের সমানই হবা তাহলে তোমার জন্য কেন সিট রাখা হবে ?
আমার মনে হয় একটু ভুল হল । সিট গুলো কেবল মহিলাদের জন্য নয় । সিট গুলো মহিলা আর প্রতিবন্ধী দের জন্য ! এটার মানে কি এটা নয় যে প্রতিবন্ধীদের নরমাল মানুষের মত সামর্থ্য নাই তাই তাদের কে বসতে দেওয়র জন্য সিট বরাদ্দ রাখা হয় । ঠিক সেই রকই যুক্তি কি মহিলা দের জন্যও প্রযোয্য নয় !
তারা বাসে দাড়িয়ে থাকতে পারে না !
কেন পারে না?
অন্য ছেলেরা পারছে ,তুমি কেন পারবে না ! তুমি কেন পারবে না !
না পারলে কেন বলবে যে তুমি ছেলের সমান ?
কেউ কেউ আবার আমাকে বলবেন আপনি যে এতো চিৎকার করছেন আপনি কি দেখছেন না দেশে প্রধান মন্ত্রী যেখানে মহিলা সেখানে পুরুষ মানুষ কিভাবে এগিয়ে থাকে !
যাদের মনে এই রকম কথা এসেছে তাদের কে বলতে চাই আসলেই কি আপনাদের মনে হয় যে প্রধান মন্ত্রী নিজের যোগ্যতায় এতোদুর এসেছেন ?
যদি উনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা না হতেন তাহলে কি এমনটা হত ? তারপর খালেদা জিয়া যদি জিয়াউর রহমানে স্ত্রী না হত তাহলে কি হত ? প্রধান মন্ত্রী হতে পারতো ?
প্রশ্ন রইলো !
কিন্তু শেখ মুজিবরে জীবনী পড়ে দেখেন, সে কি পরিমান সংগ্রাম করে এতোদুর এসেছে ! জিয়াউর রহমান ও কিন্তু নিজের যোগ্যতায় এসেছেন !!
কত গুলো মহিলা শিক্ষন আছে বলতে পারেন, প্রাইমারীর টিচার না, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচার, আছে কিন্তু পুরুষের তুলার তা অতি নগন্য।
কত গুলো মহিলা ইন্জিনিয়ার?
আর ডাক্তার ?
এখানে তো মেয়েদের আনা গোনা বেশি ।সেখানেও কিন্তু ছেলেদের রেশিও বেশি ।
আর কি বলব ? কোন ক্ষেত্র আছে যে মেয়েরা ছেলেদের থেকে এগিয়ে ?
প্রশাসন ?
অথবা গবেষনা !
কজন মহিলা বিজ্ঞানীর নাম বলতে পারেন ?
কজন মহিলা আছে যারা নোবেল প্রাইজ পেয়েছে ?
কয়জন মহিলা সুপার স্টার আছে !
হ্যা ! তবে একটা কথা মেনে নিতেই যে পর্ণস্টার কিন্তু মেয়েরাই বেশি !!
এবার যা কথাটা প্রথমে অর্ধেক রেখেছিলাম সেটা হল হ্যা মানুষ হিসাবে সবাই কেই সমান চোখে দেখা উচিৎ । কিন্তু আমাদের মনে রাখা উচিৎ আমাদের এই পৃথিবীটা এখন একটা প্রতিযোগিতার জায়গা । এখানে কেবল নিজের যোগ্যতা দিয়েই নিজের অধিকার আদায় করতে হয় ! সেই হিসাবে যার যোগ্যতা বেশি তার অধিকার ও বেশি অধিকারও বেশি উচিৎ !
এটাই আমার কথা । আমি জানি আমার কথা গুলো অনেকের পছন্দ হবে না । আমি যে ঠিক এই কথাও আমি বলছি না । আমি ভুল হতে পারি কিন্তু আমাকে বুঝিয়ে দিতে হবে যে আমার ভুল টা কোথায় ! আমি যুক্তি মেনে নিবো নির্দিধায় !
আর কোন নারীকে ছোট করার জন্য আমি লিখতে চাই নি যদিও এটা নারীদের বিরুদ্ধেই একটা লেখা । আমি সবার আগে তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি !! কিন্তু আমার মনে এই সহজ কথা গুলো এসেছে । কি করে দুর করি বলুন !
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১০:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



