আমি আগেই বলেছি আমার কথা বার্তা গুলো সহজ । আমি যেমন সহজ কথা বুঝি তেমনি সহজ কথা বলি । ঐদিন বাসে করে বাসার দিকে আসছিলাম । সাধারনত খুব একটা বাসে উঠা হয় না । কিন্তু সেদিন আর কোন উপায় ছিল না । প্রথম দিককার একটা সিটে বাসে ছিলাম । টিকিট ম্যান ভাড়া কাটতে শুরু করলো । হঠাৎ দেখলাম একজনের সাথে তার একটু কথা কাটা কাটি শুরু হয়েছে । আমি ঐদিকে লক্ষ্য করবো বলে ঠিক করলেও কান ঠিকই চলে একটা কথা শুনে । টিকিট ম্যান যার সাথে কথা কাটাকাটি করছে সে বলছে আমি স্টুডেন্ট । আমি ভাড়া দেবো না । তারপর সে গায়ের জোর দেখাতে লাগলো ।
আমি ছেলেটার আচরন দেখে একটু অবাক হলাম । একজন গুন্ডা মাস্তানের এই রকমের আচরন মানায় কিন্তু ছাত্র এই রকম আচরন কেন করবে ? তাও আবার ভাড়া দিবে না এই নিয়ে ।
আমার কথা হল কেন রে ভাই বাসটা কি তোর বাপের যে ভাড়া দিবি না ।
কথা তো একদম পরিষ্কার তুমি বাসে উঠছো বাসে ভাড়া দিবা কথা শেষ । এখানে তুমি ছাত্র নাকি ছাত্রের বাপ এসব তো দেখার দরকার নাই ! নাকি আছে ?
ছাত্র গুলো সব একটা হারামখোরের দল !!
উপরের লাইনটা দেখে অনেকেই মনে করতে পারে যে আমি স্টুডেন্টের নিয়ে কিছু বাজে লিখছি । প্লিজ অন্যান্য ছাত্র রাগ করবেন না । এই ছাত্র বলতে আমি কেবল সেই ছাত্রদের বুঝিয়েছি যারা বাস ভাড়া দিতে চায় না অথবা অর্ধেক দেয় !
আমি এই কথা কেন বলছি ?
আমার মনে হয় যে আমি যদি কারো কাছ থেকে কোন সেবা বা সার্ভিস নেই এবং আমি যদি সেই সেবা বা সার্ভিসের পরিপূর্ণ মূল্য পরিশোধ না করি তাহলে আমার ঐ সার্ভিসটার ভোগ সম্পুর্ণ রুপে বৈধ হল না ! আমি হারাম খেলাম ।
ঠিক তেমনই কথা । সহজ কথা ! তুমি বাসের সার্ভিস নিবা কিন্তু বাস ভাড়া দিবা না অথবা হাফ দিবা তাইলে তুমিও তো সেই সার্ভিসের সম্পুর্ণ মূল্য শোধ করলা না । তুমি সেইটা হারামই খেলে । তুমি কি হারাম খোর হলে না ? অবশ্যই তুমি হারাম খোর ।
তুমি ক্যান হাফ দিবি ?
কোন হিসাবে হাফ ভাড়া দিবি ?
তোর মা ক বলে আমার ছেলেটা বাসে হাফ ভাড়া দেয় আমি ওকে হাফ আডর করি ?
তোর বাপ কি তোকে ছাত্র বলে হাফ পকেট মানি দেয় ?
যখন ভাত গিলিস তখন কি হাফ খেয়ে উঠে পরিস !
সিগারেট কি হাফ টেনে ছেড়ে দিস !
গার্লে ফ্রেন্ড কে যখন কিস করিস তখন কি হাফ কিস করার পর বলিস আমি স্টুডেন হাফ কিসই থাক ।
যখন তোর সব কাজই ফুল হয় তখন কেন কেবল বাস ভাড়া দিতে গিয়ে তোর হাফ দিতে হয় !
তুই স্টুডেন্ট বলে তোকে যখন হাফ দিতে দিতে অভ্যাস তখন সব কিছুতেই হাফ দিবি ! পারবি দিতে !
এই যে ঈদের সময় বাড়িড়ে যাবি লং রুটের বাসে হাফ ভাড়া দিয়ে দেখিস তো ।
পারবি দিতে ?
পারো তো কেবল এই হেলপার দের সাথেই জোড় দেখাতে !
ঐ খানে গিয়ে দেখা জোর ।
তোর জোর আছে দেখা যাবে ।
শিয়াল চিনিশ । শিয়াল গিলো কেবল হাস-মুরগি গুলো কে তাড়া করে যেই যা মাষের দেখা পায় ওমনি লেজ তুলে পালায় !! তোদের অসস্থা ঠিক এমনই ।
প্রেমিকা লইয়া ডেটে যেয়ে রেস্টুরেন্টে শত খানেক টাকা খরচের সময় তোদের কোন টাকায় অভাব হয় না, প্রতিদিন ১০০-১৫০ টাকার বিড়ি সিগারেট খাইতে গেলে তোদের টাকা শেষ হয় না , কেবল তোরা ছাত্র এইটা মনে পড়ে খালি বাসে উইঠা ১০ টাকার ভাড়া ৫ টাকা দেওয়ার সময়!! ছাত্র-ছাত্রী !!!
আর যেই মূর্খের দল বলবে যে এইডা আমাদের অধিকার দুই গালে দুইটা জুটার বাড়ি মারবো । কে দিসে ? নাকি নিজেরাই বানাইয়া নিসোছ !
কোথাকার অধিকার ?
যে বেকুবের দল গুলা এরশাদ সরকারের রেফারেন্স দিতে যাবি আবার জুটার বাড়ি, খাবি ।
এমন কোন আইন কোনদিন হয় নি । এরশাদ কেবল ছাত্রদের সমর্থন পাবার জন্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এমন কিছু বলেছিল । কিন্তু তা আইনে পরিনত হয় নি । ছাত্ররা কেবল গায়রে জোর খাটিয়ে এমন টা করে !
আমি জানি এই লেখা পড়ে কিছু কিছু বেজন্মা হারাম খোরের খুব গায়ে বাঁধবে ! কিন্তু আমি এও জানি যে আমাদের ব্লগারদের অধিকাংশই এদের দলে পড়ে না । তারা মানুষে হক মেরে খায় না !
(একটু খারাপ ভাষা ব্যাবহারের জন্য দুঃখিত !! কিছু আচরন দেখলে মেজাজটা ধরে রাখা মুশকিল হয়ে পড়ে ! অনেকে কম্প্লেইন দিছেন ।এই জন্য সরি !)
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০১২ দুপুর ১২:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



