এলোমেলো মুহূর্ত
এলোমেলো মুহূর্ত - ২
এলোমেলো মুহূর্ত - ৩
রাত বাড়ছে।
মাথা পুরা এলোমেলো হয়ে আছে আমার, এবং আরও এলো মেলো হচ্ছে বুঝতে পারছি। কিন্তু কিছুই করার নেই।
মাথা থেকে কিছুতেই জিনিসটা সরাতে পারছি না। হচ্ছে না, যাচ্ছে না।
হবে না।
যত সময় গরাচ্ছে অস্থিরতে বাড়ছে। কিছুতেই কিছু হচ্ছে না।
আট নম্বর সিগারেট দিয়ে নয় নম্বরটা ধরাবো কিনা ভাবছি, সিগারেটের ধোঁয়াও হালকা লাগছে।
এখন দরকার সব অনুভূতি ভোঁতা করে দেয়ার মত কিছু।
কথাটা মনে আসতেই শরীরের সেই প্রয়োজনটাই যেন মুখ্য হয়ে উঠলো। কোথাও কি নাই?
আমার এত বড় একটা ঘর?
নাই। আমি নিজেই জানি নাই। শফিকের কথায় আমি নিজেই সব ফেলেছি খুঁজে খুঁজে।
আছে, একটা জিনিস। অ্যাম্বিয়ান।
পুরা প্যাক মনে হয় আমার ঘুমের জন্য যথেষ্ট হবে। খুব তাড়াতাড়ি মস্তিষ্ক ভোঁতা হওয়া খুব জরুরি দরকার আমার। খুব।
দূরে কোথাও খুব পরিচিত একটা সুর বাজছে। সুরটা খুব বেশি পরিচিত, শুনলেই আমার মনে ভালো হয়, কিন্তু কারণটা মনে পড়ছে না।
আমি বিছানায় গিয়ে বসি পানির বোতল নিয়ে। আমার হাতে যা দরকার তা আছে, এখন কি চিন্তা আমার?
সুরটা অনেক জোরে বাজছে কোথাও, কারো ফোনের রিংটোন। ধরে না কেন???
কি যেন একটা মিস করছি কোথাও বুঝছি না। আপাতত সাদা ট্যাবলেট গুলো অনেক বেশি জরুরি।
বিছানা আবার কাঁপা শুরু হলো কেন? আবার বাজা শুরু করেছে সুরটা। কি যে ছাতা হচ্ছে এখন।
ওহ, এতো শফিকের রিংটোন।
হাত কাঁপছে কেন আমার? একটা ফোন রিসিভ করা কি এত কঠিন?
- হ্যালো।
- তুমি কি বেরোবে একটু?
- মানে?
- ঘুরতে ইচ্ছে করছে, আমি নিচে। তুমি আসো।
আমি এলো মেলো হয়ে যাই অন্যভাবে। কি হলো? শফিক এখন কি করে? বাইক নিয়ে? কেন?
আমি নেমে আসি তাড়াহুড়া করে।
শফিক হাসি মুখে দাঁড়িয়ে, তার বাইকে হেলান দিয়ে।
- তুমি??
- বেরোতে ইচ্ছে হলো যে।
- এতো রাতে?
- কেন হতে পারে না? পাগলামি কি তোমার একার সম্পত্তি নাকি?
শফিক আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে বসায় বাইকে। কিছু বলে না আমার অস্বাভাবিক অস্থিরতায়।
বাইকের গতি লাফ দিয়ে শয়ের ঘরে চেলা যায়।
ফাঁকা শহরে এই রাত তিনটায় আর কোন পাগলের সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হয় না।
খোলা আকাশের নিচে বাইকের সাথে হেলান দিয়ে দু'জন বসে আছি অনেকটা সময় ধরে।
ঘুমন্ত শহরের অন্ধকার সিলুয়েট বোঝা যায় এবং যায় না।
- টের পেলে কি করে যে কিছু গড়বড় হয়েছে?
- আটবার ফোন মিস হলে না টের পায় কেমনে?
- আটবার?
- টোটাল চৌদ্দ। আটবারের পরে আমি বাইক নিয়ে বের হয়ে পড়েছিলাম।
- অ।
নিরবতা আমাদের মাঝে দেয়াল তুলে না, বরং আরও কাছে এনে দেয়। নিশাচর পোকাদের শব্দ কিংবা পাখির ডানার ঝটপটানি আমাদের বিরক্ত করে না। আকাশের তারা দেখার অভ্যাসটা আমার ছোটবেলার। মাঝে কিছুদিন বাদ দিয়ে এখন আবারও হয়েছে।
- শফিক।
- বল।
- একটা কথা বোঝাবে?
- কি?
আমার অতি পুরাতন এক কৌতুহল বের হয়ে আসে আবারও। উত্তর জেনেই তাই প্রশ্ন করি, মানুষ এমন একটা মেয়েকে কিভাবে ভালো বাসে যাকে সে প্রথম যখন দেখে তখন সে একটা রিহ্যাবের দেয়াল টপকে পালাচ্ছিলো?
শফিক আমার অতি পরিচিত একটা হাসি দেয়।
আমি তার কাঁধে মাথা রাখি। এই উত্তর আমার এখন না হলেও চলবে
পরের পর্ব
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৫:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



