somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সব কিছু তাহলে নষ্টদের অধিকারেই যাচ্ছে !!!

২২ শে ডিসেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

" লে বাবা ! এবার মাধ্যমিক স্কুল ভর্তিতেও কোটা ঢুকাইয়া দিলাম। কবে বড় হইয়া দেশের সেবা করবি তদ্দিন কি আর ক্ষেম্‌তায় থাকুম ? তাই তরে অহনই সব সেট কইরা দিলাম ! "

অনেকেই নিশ্চয় এতক্ষনে পত্রিকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে এবার এমপি কোটা! শিরোনামের সংবাদটি পড়ে ফেলেছেন ? আপনাদের ভাষ্য কি ? আপনার আমার ভাষ্য বাদ দিন। দেখি প্রতিবেদনে প্রকাশিত সুধীজনেরা কি বলেছেন ---

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, 'প্রত্যেক শিশুরই ভর্তির অধিকার রয়েছে। ভর্তির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একটি কোটা থাকতে পারে। অন্যদের বেলায় কোটা থাকবে কেন?' তিনি বলেন, 'কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানের জন্য কোনো অবস্থায়ই কোটা থাকতে পারে না। কারণ তাঁরা এখানে সেবা দেওয়ার জন্যই বসেছেন। এখন তাঁদের সন্তানদের কোটার ভিত্তিতে ভর্তি করলে কিভাবে হবে? এটা হতে পারে না। একজন কৃষকের সন্তানকে তো কোটার ভিত্তিতে ভর্তি করা হয় না। অথচ সেই কৃষকের ট্যাক্সের টাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন হয়। এখন আবার সংসদ সদস্যদের জন্য কোটা রাখা হচ্ছে। আমি এর ঘোর বিরোধী।'
গণসাক্ষরতা অভিযানের প্রধান নির্বাহী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, কোটা পদ্ধতির ফলে দেখা যাবে সাধারণ জনগোষ্ঠীই বঞ্চিত। তিনি বলেন, 'বিদ্যমান বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য কোটা পদ্ধতির ব্যবহার করা হয়। কিন্তু কোটা পদ্ধতি বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে কোন গোষ্ঠীর প্রয়োজনে? নীতিনির্ধারণীদের প্রয়োজনেই যদি কোটা পদ্ধতি ব্যবহার হয়, তাহলে হতাশ হওয়া ছাড়া কিছুই নেই।' এ ছাড়া এ ধরনের কোটা পদ্ধতির অপব্যবহারও হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

আরেকজন অধ্যক্ষ বলেন, সংসদ সদস্যরা তাঁদের পছন্দের প্রার্থীদের ঢাকার বিখ্যাত কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানোর জন্যই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে এই কোটা রাখার 'আবদার' করেছেন।

আবদার বলে কথা ! অবশ্য তেনাদের যুক্তিও (!!) বেশ জোরদার। বিষয়টি নিয়ে গত মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতেও আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কোটা থাকলেও তাঁদের বেলায় কেন থাকবে না_সে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন সংসদ সদস্য। কথা তো ঠিক ! সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সন্তানদের জন্য ২ শতাংশ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ২ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য ২ শতাংশ কোটা রয়েছে। এত কোটা থাকতে পারে এমপিদের সন্তান বা পছন্দের প্রার্থীদের জন্য কোটা থাকতে পারেনা ? বেশি তো চাইতেসেন না তেনারা, মোটে ২ শতাংশ। এতে কারই বা কি এমন ক্ষতি হয়ে যাবে ? আরে বেটা চাষার বাচ্চা তুই মেধাবী হইতে পারস কিন্তু তোর বাপ তো আর এমপি না ! X(

এর আগেও বিসিএস এ কোটা পদ্ধতি নিয়ে বহুত ক্যাঁচাল হয়ে গেছে। এগুলো তো বড়দের জন্য। শিশুরা বাদ যাবে কেন ? আমরা কেউই কিন্তু বলিনা, তেনাদের সন্তানরা কিংবা যাদের জন্যে এত কোটাকুটি তাদের কারোই ঘিলু নাই। বরঞ্ছ দেখা যেতে পারে অনেকের ঘিলু ম্যাংগো জনতার সন্তানদের চাইতেও ঢের বেশি। তয় বেটা ডরাস কেন্‌ ?? আমি ল্যাংটা হয়েই আসবো, তুই নাহয় স্টেইনলেস স্টিল এর জামা আর ঢাল তলোয়ার নিয়ে আসিস, কিন্তু বেটা আয় না দেখি সামনা সামনি লড়ি ! তুই জিতলে তুই বীর আমি জিতলে আমি।

যত কাহিনীই বোঝাক না কেন সবাইতো জানি কি হতে যাচ্ছে। স্বয়ং মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, 'আমরা জানি এই ২ শতাংশের অপব্যবহার হবে। তবুও কিছুই করার নেই। সংসদ সদস্যরা চেয়েছেন।' ম্যাংগো পিপলকে বস্তা পচা ম্যাংগো বহুত খাওয়ানো হয়েছে। তারাও জানে কোনটা কিসের ডোজ। কিন্তু কি করবাম ? হগ্‌গলের বাপতো আর মন্‌তিরি নয় ! হেয় আম্লিগ হউক আর বি'ম্পি হউক। যাহা আম্লিগ তাহাই বি'ম্পি !

দুদিন আগে সরকারি চাকরিতে অবসরের বয়স ২ বছর বাড়িয়ে দলীয় জ্যেষ্ঠদের আরো কিছুদিনের বন্দোবস্ত করা হল। এখন তাঁদের কনিষ্ঠদের জন্য বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। সকল রাজনীতিক খারাপ তাও আমরা কেউ বলিনা। কিন্তু ভাই একটা ভালোর উদাহরন দেয়ার তো কাউকে পাইনা। এখনতো ভালো বলতেও তিনবার ভাবতে হবে ! পাছে লোকে যারে বড় বলে তারে যদি প্রকাশ্য দিবালোকে ব্রাশ ফায়ারে মরতে হয় ??

তাই হুমায়ুন আজাদের সুরে বলতে হচ্ছে সব কিছু তাহলে নষ্টদের অধিকারেই যাচ্ছে !
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:৩৪
১২টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

লিখেছেন কাবিল, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৪


মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকীর্ণ মন

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৮


রাস্তার মোড় যেনো সংকীর্ণ মন
ঘর উঠনে রাখবে আর কত কাল
চোখের নেশায় লালসার আগুন
জ্বলছে নিভবে না আর অমরণ

কখন মন জানালায় দেখেছ পায়রা
ভাবনার সফলী মাঠে যাচ্ছে উড়ে
দেখো নাই যে শান্তির পায়রা মন-
সংকীর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×