প্রিয় মানুষদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা, ভাল লাগা-মন্দ লাগা ইত্যাদির মুল্য প্রত্যেকের কাছে একটু বেশীই থাকে। তনময় মানে আমাদের তনু’ও এর ব্যাতিক্রম ছিল না। তনুর খুব প্রিয় একজন বন্ধুর ইচ্ছা-অনিচ্ছা, শখ-আহ্লাদের প্রতি তনু একটু বেশীই সদয় ছিল। ওর ইচ্ছা বা শখগুলোকে তনু নিজের ইচ্ছা বা শখ মনে করে নিজের সবটুকু দিয়ে পুরনের চেষ্টা করতো। আর মন্দ লাগা গুলোকে, এই যেমনটা হয়, যথাসাধ্য এড়িয়ে চলা। যেমন- বন্ধুটি কোনো দিন ট্রেনে চড়েনি তো ট্রেনে চড়ার ব্যাবস্থা করা, এটা ভাল লাগে না তো আর করা যাবে না ইত্যাদি ইত্যাদি। সবসময় যে তা ঠিকঠাক মত পুরন করতে বা এড়িয়ে চলতে পারতো তা নয়।
আর তনুর এসব পাগলামো দেখে অন্যান্য বন্ধুদের ইয়ার্কি-ঠাট্টারও কোনো কমতি ছিল না। অবশ্য তাদের এসব ইয়ার্কি-ঠাট্টা তনু তেমন গায়ে মাখাতো না। তার কাছে ঐ বন্ধুটির পাগলামো’ই ছিল ধ্যান-জ্ঞান। ঐ বন্ধুটিই ছিল সব।
এতক্ষনের গল্প শোনে তনুর ঐ বন্ধুটিকে স্বার্থপর ভাবার মত বিচক্ষন হওয়ার কোনো প্রয়োজন নাই। হয়তো ঐ বন্ধুটির কাছে তনু ছিল আরও অনেক বেশী গুরুত্বপুর্ণ। তাইতো তনুর কিসে ভাল, কিসে মন্দ, সময়মত খাওয়া-দাওয়া করছে কি না, নিয়মিত শেভ করা ইত্যাদি সবসময় সে খেয়াল রাখতো। তনুকে স্মার্ট বানানোর জন্য কি প্রানপণ চেষ্টা ই না ছিল ওর। কিন্তু গাধা দিয়ে কি আর ঘোড়ার কাজ হয়? তনু যেমন গাধা তেমনি রয়ে গেল। তনু কিন্তু ঐ বন্ধটির কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছে, এই যেমন কিভাবে স্মার্টলি কথা বলতে হয়, চলাফেরা করতে হয় ইত্যাদি। এসব করতে করতে তনু কখন যে ঐ বন্ধুটিকে নিয়ে ছোট ছোট স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছে তনু তা নিজেই বুঝতে পারে নি।
গত রাতে এক ছোট ভাই তনুকে ফোন করে বলল- “ভাই গরুর গাড়ি ম্যানেজ হয়ে গেছে, কবে যাবেন?” পরক্ষনেই তনুর মনে পড়ে গেল ঐ প্রিয় বন্ধুটির কথা। ও একদিন গরুর গাড়ি চড়তে চেয়েছিল। তাই সম্ভাব্য সবাইকেই তনু বলে রাখছিল গরুর গাড়ির খোঁজ নিতে।
সময় অনেক জটিল জিনিস। অনেক কিছুই পাল্টে দেয়। অসম্ভব কে সম্ভব আর সম্ভব কে অসম্ভব করে দেওয়ারও ক্ষমতা রাখে। বন্ধুটির অনেক পাগলামো পূরনে সাথে থাকলেও এই গরুর গাড়ি চড়ার পাগলামো পূরনে তনু সাথে থাকবে না বা ইচ্ছা করলেও সাথে থাকতে পারবে না। বন্ধুটি আজ তনুর চেনা জানা বৃত্তের অনেক বাইরে। তনুর নাগালের বাইরে। সে আজ অন্য আকাশের ঘুড়ি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



