somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এম্প্যাথি

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ রাত ৯:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তখন গান শুনি প্রচুর, ব্যান্ডের গান,রক গান। ব্যান্ডের গান ছাড়া অন্য কোনো গানকে গানই মনে করিনা। বন্ধুরা স্পিকারের কন্ট্রোল আমার হাতে দিতে চাইতনা। ওদের অভিযোগ আমি জোর করে ওদের ব্যান্ডের গান শুনাই। এরকম যখন সময় তখন মনে হত যে মেয়ে ব্যান্ডের গান শুনেনা তার সাথে সম্পর্কে যাওয়া যাবেনা। এরপর সময় বদলায়,আমি ব্যান্ড মিউজিকের পাশাপাশি ডুবে আছি হুমায়ূন আহমেদে।যদিও হুমায়ূন পড়া হইছে আরো অনেক আগেই তবে আসক্তি তৈরি হয়েছে পরে।আমি তখন সারাদিন হুমায়ূন গিলি যখনই সময় হয়।বই,নাটক,সিনেমা,গান যখন যা পাই। তখন মনে হত যে মেয়ে কোনোদিন হুমায়ূন পড়েনাই তারসাথে কখনোই কিছু হওয়া সম্ভব না,জীবনেও না।
সময়ের সাথে, বয়সের সাথে মানুষের পছন্দ-অপছন্দ, ভালোলাগা-খারাপলাগা সবই বদলায়।নতুন জিনিস এ্যাড হয় পুরোনো জিনিস বাদ হয়। আমার পুরোনো কিছুই বাদ হয়নি তবে নতুন নেশা এ্যাড হয়েছে।ফুটবল নেশা। কোনো লিগের খেলাই বাদ দেইনা। রাত ফুটো করে খেলা দেখি। বাংলাদেশে ক্লাব ফুটবল ফলো করে এমন মেয়ে খুব বেশি নেই তাই কখনো মনে হয়নি যে ফুটবল না দেখলে তার সাথে ঘর সংসার করা যাবেনা। তবে মনের মধ্যে বাসনা ঠিকই ছিলো আমার যে প্রেমিকা হবেন তিনি যদি ফুটবল বোঝেন তাহলে খুবই ভালো হয়।
এরপর ঝোঁক তৈরি হয় রবীন্দ্রসংগীতে।মনে মনে কল্পনা করি,আমাদের দোতলা বাড়ি। বিকেল থেকেই ঘন মেঘ,আকাশ অন্ধকার। সন্ধ্যা নেমেছে। হালকা হালকা বৃষ্টি পড়ছে। মনে হচ্ছে ধীরে ধীরে এর গতি আরো বাড়বে, কিন্তু বাড়েনা।শুধু বৃষ্টির সাথে সাথে থেমে থেমে হালকা বাতাস আসে। আমি বসে আছি দোতলার বারান্দায়।নদী দেখা যায় একটু দূরেই।মাঝে মাঝে বাতাসের সাথেই কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি এসে লাগে গায়ে। বিদ্যুৎ নেই কিংবা থাকলেও আমরা বাতি নিভিয়ে রেখেছি। তুমি চা বানিয়ে নিয়ে এসেছ।আমরা চা খাচ্ছি আর বাকিটা সেন্সরে কাটা পড়েছে। তুমি গান ধরেছো,
"এই চঞ্চল সজল পবন বেগে,
উদ্ভ্রান্ত মেঘে মন চায়, মন চায়
ওই বলাকার পথখানি নিতে চিনে
আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদল দিনে
আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদল দিনে।"
এইসব ফ্যান্টাসাইজ করার সময় মনে হয় আমার যে প্রেমিকা হবে তিনি যদি গান গাইতে পারে তাহলে খুবই ভালো হবে।

এখন যখন আমার এইসব ফ্যান্টাসি বা ইচ্ছের কথা ভাবি তখন হাসি পায়। ধরাযাক আমার প্রেম হলো একদম প্রথমেই।মেয়েটা ব্যান্ড মিউজিক শোনে এবং হুমায়ূন পড়ে।এই মোহো যতদিন থাকবে ততদিন হয়ত সম্পর্ক স্মুথ থাকবে।কিন্তু এর পর?এর পরে যখন আমি সিফ্ট করবো ফুটবলে আর রবীন্দ্রসংগীতে তখন কি হবে? মেয়েটারও যে সেইম প্রেফারেন্স হবে তার তো কোনো গ্যারেন্টি নেই।দেখাগেলো মেয়েটার ভাল্লাগে টেনিস আর থ্রাশ মেটাল। এইসব পছন্দ অপছন্দের পথ যখন দু'দিকে বেঁকে যাবে তখন সেই সম্পর্ক আর আগের মত না থাকার সম্ভাবনাই বেশি।যেহেতু আমাদের প্রেম হওয়ার কারন পছন্দের সিমিলারিটি।

জীবনের এই সময়ে এসে মনে হয় এ-ই সবকিছুই রিপ্লেসেবল কিংবা কম্প্রোমাইজ্যাবল। তাই কিছু থাকুক আর না থাকুক এম্প্যাথি থাকতে হবে।সম্ভবত এটা আর চেঞ্জ হবেনা।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ রাত ৯:১৪
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫২

ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

সমাজে যখন অপরাধ বাড়ে, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়, সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করে না, মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারায়, দুর্নীতি-প্রতারণা-সহিংসতা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে- তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×