
প্রায়ই নীরব নিঝুম শান্ত রাতের সাথে আমার বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। আমি আর রাত্রি অনেক গরিষ্ঠ হয়ে যাই। একা একা কথা বলি মনে মনে, আকাশে ওই উজ্জল তারাটির দিকে তাকিয়ে। কখনো বা অন্ধকারের বুকে জেগে থাকা রুপালী চাঁদটার সাথে। আজও তাই হচ্ছে। চারিদিকে নীরব। কোথাও কোনো জন-মানুষের শব্দ নেই। স্তব্ধ চারিধার, গভীর ঘুমে অচেতন পৃথিবী। শুধু, নীরব রাত্রি আর আমি। আর কেউ নেই। রাতকে বলি হে ঘুমহীন রাত্রি, তুমি কি জানো তোমার সাথে আমার কেমন সম্পর্ক? কেন তোমার মাঝে ফিরে আসি প্রায়ই? কথায় কথায় ভারি করে তুলি তোমার শ্রবণ! রাত্রি কিছু বলে না। শুধু নীরবে আমার দিকে ছুড়ে দেয় শীতল দীর্ঘশ্বাস। আমি বুঝে নেই, হয়তো কষ্টের ভুজা বইতে বইতে বোবা হয়ে গেছে, তাই আর কথা বলতে পারেনা। রাতের দীর্ঘশ্বাসের শীতল বাতাস গায়ে লাগতেই বুঝে যাই, একা একা ভাবতে ভাবতে ভেতরবাড়ি বরফ পাথরে পরিণত হয়েছে। তাই বুঝি দীর্ঘশ্বাস খুব শীতল।
আজকের রাতে কুয়াশা একটু কম হলেও শীতের কোনো কমতি নেই। মাফলার, গরম জেকেট, টাইসের উপরে প্যান্ট, পায়ে কেডস তবু পশ্চিমা ঠাণ্ডা শীতল বাতাসে প্রায় কাঁপাকাঁপি অবস্থা। এরকম কত শীতের রাত জেগেছি তার কোনো হিসেব রাখিনি। আমার ময়না পাখিটি আমাকে ছেড়ে চলে গেছে আমার সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূর। তা প্রায় ষোলো বছর পার হতে কিছুদিন বাকি। তার পর থেকেই আমার এই রাতের সাথে সখ্যতা। মাঝেমধ্যেই ঘুমুতে পারিনা। বিছানা ছেড়ে বেরিয়ে আসি বারান্দায়। কখনো কখনো মুক্ত ছাঁদে। আজ বারান্দায় বসে আছি চেয়ার পেতে। ভাবছি হারিয়ে যাওয়া ময়না টিয়া আর বুলবুলির কথা। আমি একা একা দূরের ওই চাঁদটির সাথে কথা বলি। মনের অজান্তে বেরিয়ে আসে সব দুঃখ, বেদনা ভরা কষ্ট আর কিছু সুখ মিশানো কথাগুলো। আমি সব বলে যাই। চাঁদটি মুগ্ধ স্রোতা হয়ে শুধ শুনে যায়।
ময়না পাখিটার কথা খুব মনে পড়ছে আজ। জানিনা পাখি আমার কেমন আছে। হয়তো ঘুম ভেঙে গেছে। লেপ মোড়া দিয়ে শুয়ে শুয়ে ভাবছে আমার কথা। ফেলে যাওয়া স্মৃতিগুলো ভাবতে ভাবতে হয়তো ফোটা দুই অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে গাল বেয়ে। তাই বুঝি আজ আমার মনটা হয়েছে উদাসী। হারিয়ে গেছে ঘুম, মনের ক্রান্তি। না! কিছু ভাবতে পারছিনা। মাথাটা কেমন যেন যন্ত্রণা করছেে। চুপ হয়ে আছি ওই বাঁকা অর্ধ চাঁদটার দিকে।

সত্যিই কি সে আমাকে এখনও ভাবে! মনে হয় ভাবে। আমি দেখেছি প্রিয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে। সেই আগের মতোই গভীরতা আর মুগ্ধতা লেগে আছে। ও চোখ আমাকে দেখেই বলে দেয়, প্রিয়তম মোর আজও আমায় ভালোবাসে। মনে করে। মনে মনে সোহাগিনী হয়ে দেয় সোহাগ অতি গোপনে। এই তো কিছুদিন আগের কথা। আমার সাথে হেটে হেটে বললো, আজও আমাকে মনে হলে চোখ ভাসে শ্রাবণে। আমার সামনে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, কতক্ষণ কত কথা বললো! আমি দেখেছি ও চোখে চেয়ে। যেনো আষাঢ়ের আকাশের গন-মেঘ তার চোখের ভেতর, এখনওই বৃষ্টি হয়ে ঝরবে। হ্যা, প্রিয়া হয়তো এখনো ভালোবাসাে আমাকে...।
অবাধ্য মনটা আজ কোনো কথাই শুনছে না! মনে হয় পণ করেছে কাঁদবে বলে। আমি কাঁদবো না। আমি আর ভাববো না। আমি ফাঁসবো না আর কারো মায়া জালে। আমি আমার মতোই থাকবো, বাঁচবো। নীরব রাত্রি আর আমি একাকীত্ব ভুলে হাসবো মন খুলে....
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জানুয়ারি, ২০১৭ ভোর ৪:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



