somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শব্দলীনা (পর্ব-১)

২১ শে জুলাই, ২০১৬ সকাল ১১:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লীনা তখন কিশোরী। বয়স হয়তো ১৭ এর কাছাকাছি। পাটকাঠির মত ছিল স্বাস্থ্য। আমার মাঝে মাঝে মনে হতো সামনের শীত সম্ভবত লীনা পার করতে পারবেনা। তবে গত শীতটা সে পার করে এসেছে.....

আমরা যেদিন প্রথম একসাথে বের হলাম দিনটি ছিল বুধবার দুপুর বেলা। লীনা তখন স্কুল শেষে মাত্রই কলেজে পা রেখেছে। সেদিন অনেক মেঘ ছিল আকাশে। কিন্তু কেন জানি আকাশে বৃষ্টি হয়নি সেদিন। বৃষ্টি হয়েছিল আমাদের চোখের কোণা বেয়ে....

গাঢ় নীল পাড়ে হালকা নীলের মাঝে হাতের কাজ করা একটা শাড়ী পড়ে এসেছিলো লীনা। সাথে ম্যাচ করা নীল ব্লাউজ। দুটোই ছিল ওর মায়ের। আমার নীল শাড়ী প্রিয় বলে চুরি করেছিল একদিনের জন্যে। আনাড়ী হাতে প্রথম শাড়ী পড়া লীনাকে প্রথম দেখে ঠোঁটের কোণে একটু হাসি জমেছিল আমার। অগত্যা সে সেটা দেখে ফেলেছিল....

আমরা পার্কের ফাঁকা একটা রাস্তায় হাটছিলাম। মাঝখানে আঙুল চার দূরত্ব। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্যে আমি একাই কথা বলছিলাম। লীনা শুধু "হু" "হ্যা" করছিল। হঠাৎ লুকিয়ে চকিত দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকালাম। ও নিচের দিকে তাকিয়ে। খটকা লাগল। কাঁদছে কেন লীনা?
আমি একটু ঘুরে দাঁড়ানোয় দুজনের গা অল্প করে ছুঁয়ে গেল। কেপে উঠলো লীনা....
-লীনা কাঁদছ কেন? কি হয়েছে?
লীনার ফুঁপানি বাড়ল কিছুটা। আমি হতবম্ভ।
-আমাকে বলো প্লিজ। কি হয়েছে?
আমি যত প্রশ্ন করি লীনার কান্না তত বাড়ে। একসময় রাগে আমি অন্য দিকে তাকালাম। তখন মুখ খুলল সে,
"আমি তো তোমার জন্যেই শাড়ি পড়েছি। আগে কি কখনো পড়েছিলাম? এর জন্যে হাসতে হবে এভাবে?"

এবার একটু লজ্জা পেলাম আমি। কেমন যেন অপরাধবোধ কাজ করছিল ভেতরে। এভাবে কষ্ট দিলাম মেয়েটাকে? কেন দিলাম?
লীনা তার শীতল হাতটা হাতের উপর রাখল। আমি তাকালাম ওর দিকে,
"আর কখনো করোনা এমনটা। কেমন?" বলেই একটু হাসল।
সিক্ত চোখে ওকে অপূর্ব লাগছিল। কোন প্রতিমার মূর্তি যেন তাকিয়ে আছে আমার দিকে। এই অপূর্ব মানবীটা আজীবন পাশে থাকবে তো?
তখন চোখের কোণায় নেমে এলো মেঘ। তবে সে মেঘ আনন্দের। অমুল্য কিছুএকটা পাওয়ার আনন্দের....

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুলাই, ২০১৬ সকাল ১১:৩৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জাতিসংঘে বাংলাদেশ : নির্বাচনের প্রেক্ষাপট !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০০

sb]জাতিসংঘে বাংলাদেশ : নির্বাচনের প্রেক্ষাপট !



জাতীয় নির্বাচনের পর আমারা এখন জাতিসংঘে সকলের দৃষ্টি আর্কষন করতে যাচ্ছি,
তবে আমরা জাতীয় নির্বাচনে সফলতা না পেলে এই সুযোগ সৃষ্টি হতোনা ।
আগামী জুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রোফেসর ইউনুস সম্পর্কে আমি যা বলেছিলাম তাই সঠিক ছিল।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:১০


ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন চ্যানেল ওয়ানে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।
অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রফেসর ইউনুস সম্পর্কে উনি যা বলেছেন আমিও ঠিক তাই বলেছিলাম তখন। হয়তো উনি এখনো রাখঢাক রেখে বলছেন, আমি সরাসরি বলেছিলাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন যখন শুকায়ে যায়

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:২৩


জীবন যখন শুকায়ে যায় করুণাধারায় এসো
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে জানা গেল লিম্বস কলাপসের টেস্টটার খরচ পড়বে পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা। তমাল কাকাত ভাইয়ের সাথে পরামর্শ করে গেল পান্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কালো রাজনীতি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



হাজার হাজার বছর ধরে কালো রাজনীতি বহমান। কোনো ধর্ম কোনো রাজনৈতিক প্রধান হাতিয়ার বা রাজনৈতিক প্রধান সূত্র হতে পারে না, হওয়া উচিত না। বলা হয়ে থাকে ধর্মের কাজ নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিচার চাই, আবার বিচার চাই না !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩২


গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরি পেয়ে বিএনপি-জোট ক্ষমতায় এসেছে। বাংলাদেশের মানুষ কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে যে একটা পরিচিত দল নির্বাচিত সরকার হিসাবে পুনরায় দেশের ক্ষমতায় এসেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×