somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাশিয়ান রূপকথাঃ মেষপালকের বাঁশি

১৫ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ১:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




এক গ্রামে এক দরিদ্র দম্পতি বসবাস করতো , যাদের শুধু একটি পুত্র সন্তান ছিলো নাম ইভানুস্কা । ইভানুস্কার তেমন কোন যোগ্যতা ছিলোনা , তবে সে চমৎকার বাশি বাজাতে পারতো , কথিত আছে তার বাশির সুর যে একবার শুনেছে সে আর ভুলতে পারে নাই , ইভানুস্কা বাশির সুরের সাহায্যে একই সাথে মানুষকে কাদাতে আর হাসাতে পারতো ।

দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় একটু বড় হওয়ার সাথে সাথে তাকে কাজের সন্ধানে ঘর ছাড়তে হলো ।

সে তার নিজ গ্রাম থেকে , অনেক দূরে চলে আসলো , কিন্তু কেউ তাকে কোন কাজ দিতে চাইছিলোনা , অবশেষে একজন তাকে মেষপালকের কাজ দিতে চাইলো , তবে শর্ত ছিলো ইভানুস্কা যদি ঠিক ভাবে কাজ করতে পারে , তবে তাকে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দ্বিগুন অর্থ দেয়া হবে , আর যদি না পারে তাকে কোন টাকা দেয়া হবেনা । ইভানুস্কা এই শর্তে রাজী হলো ।
নিয়ম অনুযায়ী সে প্রতিদিন সকালে ভেড়ার পাল নিয়ে জঙ্গলে চলে যেতো , এবং বিকেলে ফিরে আসতো । প্রতিদিন ভেড়ার মালিক ভেড়াগুলো গুনে গোয়ালে পাঠাতো , এভাবেই প্রায় মাস শেষ হয়ে আসতে লাগলো ।
তখন ইভানুস্কার মালিক খুব চিন্তায় পরে গেলো , যে কিভাবে ইভানুস্কা সব গুলো ভেড়াকে অক্ষত রাখছে , এর আগে প্রতিদিনই একটা বা দুইটা ভেরা নেকড়ের পেটে যেত , কিন্তু ইভানুস্কার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে সবগুলো ভেড়া অক্ষত রয়েছে । মালিক চিন্তায় পরে গেলো কারন ইভানুস্কা যদি তার কাজ সঠিক ভাবে সম্পাদন করে , তবে তাকে দ্বিগুন অর্থ দিতে হবে ।
কিভাবে ইভানুস্কা এই কাজটি করছে ,সেটা জানার জন্য মালিক উদগ্রীব হয়ে যেতে লাগলো ।
তাই সে একদিন বুদ্ধি করে , ভেড়ার লোমের পোশাক পড়ে , ভেড়ার মত চতুস্পদী প্রানীর রূপধারন করলো , এবং ভেড়ার পালের সাথে মিশে ইভানুস্কার পিছে পিছে যেতে শুরু করলো ।
মালিক খেয়াল করলো ,যখনই ভেড়াগুলো গভীর জঙ্গলের দিকে যেতে শুরু করে , তখনই ইভানুস্কা বাঁশি বাজাতে শুরু করে , এবং ভেড়া গুলো তার কাছে এসে পরে , একটা সময় ইভানুস্কা বাশিতে এমন এক সুর তুললো , যে ভেড়াগুলো সব নাচতে শুরু করলো , এমনকি ভেড়ার ছদ্মবেশী মালিকও !!
নাচতে নাচতে এক পর্যায়ে মালিক ক্লান্ত হয়ে পরলো , কিন্তু সে থামাতে পারছিলোনা । এই অবস্থায় সে চিৎকার করতে লাগলো , তখন ইভানুস্কা বাঁশি থামিয়ে মালিকের কাছে ছুটে গেলো , এবং বললো "জনাব , আপনি এখানে কি করছেন , আর কেনোই বা ভেড়ার লোমের পোশাক পড়েছেন?" জবাবে মালিক বললো "আসলে খুব ঠান্ডা তো তাই এই পোশাক "। অবশেষ নাচতে নাচতে ক্লান্ত মালিক যখন তার বাসায় এসে এই কথা তার স্ত্রীকে বললো , স্ত্রী কোন অবস্থাতেই সেটা বিশ্বাস করলো না, এমন অবস্থায় স্বামী স্ত্রী দু জনে মিলে ফন্দী করলো কিভাবে ইভানুস্কাকে টাকা না দেয়া যায় । তাই মালিকের স্ত্রী , মালিককে ছাদের উপর একটা বদ্ধ ঘরে রেখে দিলো , এবং ইভানুস্কাকে ডেকে বললো , তুমি যদি বাশির মাধ্যমে আমাদের দুজনকে নাচাতে পারো , তবেই কেবল তুমি টাকা পাবে ।

তখন ইভানুস্কা বাঁশি বাজাতে শুরু করলো , মালিকের স্ত্রী অন্য চেস্টা সত্ত্বেও নিজেকে থামাতে পারলোনা , এমনকি বাশির সুরের মোহে তার স্বামীও বদ্ধ দরজা ভেঙ্গে চলে আসলো , তারপর দুজনে নাচতে শুরু করলো । ইভানুস্কা বাঁশি বাজাতে বাজাতে ঘরের বাইরে চলে যেতে শুরু করলো , তখন মালিক ও তার স্ত্রী বললো দয়াকরে তোমার বাঁশি থামায় ,গ্রামের অন্য মানুষরা যদি এভাবে আমাদের নাচতে দেখে তাহলে আমাদের কোন মানসন্মান থাকবে না ,ইভানুস্কা শুনলোনা সে বাঁশি বাজাতে বাজতে গ্রাম দিয়ে ঘরে বেড়াতো লাগলো ,আর মানুষজন সেই দম্পতিকে থেকে হাসতে শুরু করলো ।
এর পরেরদিন সকালে , সেই দম্পতি ইভানুস্কাকে তার প্রাপ্য টাকা বুঝিয়ে দেয় , কিন্তু লজ্জায় তারা আর কোনদিন জনসম্মুখে আসতে পারেনা ।


(গল্পের বেশীর ভাগ স্থানে বাঁশি বানান ভুল আছে , আমি অভ্রতে চন্দ্রবিন্দু দিতে জানিনা )

রিলেটেড পোস্টঃ
রূপকথার গল্প: বৃদ্ধার বুদ্ধিমত্তা
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ বিকাল ৩:৫৮
২৯টি মন্তব্য ২৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এইচ এস সি রেজাল্ট ২০২৬ -ঢাকা বোর্ড

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৯

খুব অদ্ভুত ব্যাপার। আমাদের সময়ে চলে এলো নাকি? সেই চার দশক আগের মতন !
যা তথ্য পেলামঃ

In the 2026 HSC examinations, a total of 297,621 candidates appeared... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩


আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×