somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসুন, সমস্বরে শান্তির কথা বলি

২৬ শে জুলাই, ২০০৬ ভোর ৪:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মধ্যপ্রাচ্য, মুসলিম, ইহুদি নিয়ে বেশ সরগরম এখন ব্লগ। নানা ধরণের আলোচনা চলছে। কেউ কেউ শান্তি চাচ্ছেন, কেউ কেউ এর ঐতিহাসিক বিশ্লেষনে পরিস্থিতির উত্তর খুঁজছেন, আবার কেউ কেউ ইজরাইলের তথা সমগ্র ইহুদীদের ধ্বংস কামনা করে পরিতৃপ্ত হচ্ছেন। আমি শান্তিবাদী, যে কোন মুল্যে শান্তি চাই। যদিও জানি ইসরাইলি বোমারু বিমান লেবাননে সাধারণ মানুষের জীবনকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করছে। প্রাণ হারাচ্ছে হাজার হাজার পুরুষ, নারী ও শিশু। কেন সে কথা ভেবে প্রতিশোধের আগুনে জলছি না এখনও, কেন আমি শান্তি চাই,? আমি সেই শিশুদের কথা ভেবে শান্তি চাই, যে যুদ্ধে বাবা-মা কে হারিয়ে শত শত লাশের ভীড়ে তাদেরকে খুঁজে খুঁজে উন্মাদ। তাদের ধর্ম বোঝার, যুদ্ধ বোঝার বয়েস হয়নি। আমি সে বাবা মায়ের কথা ভেবে শান্তি চাই, যারা তাদের একমাত্র সন্তানের নিজের সামনে গুলিবিদ্ধ মৃত্যু দেখেছেন। আমি সেই প্রেমিকার কথা ভেবে শান্তি চাই, যে তার ভালবাসার জনকে হারিয়েছে। আমি নিজেও প্যলেষ্টাইনিদের আত্বনিয়ন্ত্রণঅধিকারকে সমর্থন করি, আমি চাই লেবাননীরা তাদের বহুবছরের গৃহযুদ্ধের পর যে দেশ গড়ে তুলেছে, ইসরাইলি বোমার আঘাতে তা আবার যাতে ধ্বংসস্তুপে পরিনত না হয়। নিজে ধর্ম পালন করি বা না করি, আমি চাই আমার ধর্মগোষ্ঠির মানুষগুলো পৃথিবীর বুকে শান্তিকামী মানুষ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে। পত্রিকার পাতা, টিভি নিউজ খুললেই দেখতে পাই ধ্বংস আর মৃত্যু। কারা প্রাণ হারাচ্ছে বেশী ? প্রান হারাচ্ছে লেবাননী সাধারণ মানুষ, প্যালেষ্টাইনি শিশু। কিসের বিনিময়ে ? আরব এলাকা থেকে ইহুদী বিতাড়ন ? যারা এটা চেয়ে থাকেন, জেনে রাখবেন, এ এক দূরাশা ছাড়া কিছুই নয়। সময় পাল্টেছে, পাল্টেছে পৃথিবী, তা মেনে নিয়ে ইসরাইলের পাশাপাশি সহঅবস্থান কেন এত অসম্ভব ? হতে পারে হিজবুল্লাহ, হামাজ বছর বছর ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে। কিন্তু কতো সহস্ত্র প্রানের বিনিময়ে ?

ওয়ালী সাহেব একটা পোষ্ট লিখেছেন, "ইহুদী এক অপরাধপ্রবণ জাতি, ধিক ধিক থু"। সেখানে ওনি সায়াদ বিন মাজাদের উদাহরণ টেনেছেন। তাতে বলা হয়েছে, ইহুদীদের সকল পুরুষদের হত্যা করা হোক ও তাদের সম্পত্তি মুসলমানদের মাঝে বন্টন করে দেয়া হোক। ওয়ালী, আপনাকে ব্যাক্তিগত আক্রমণ করছি না, শধু প্রশ্ন করছি, আপনি কি সত্যি সত্যিই এমন একটি বক্তব্যকে সমর্থন করেন ? আপনার কি মনে হয়, মুসলিম বিশ্বে এতোটা ঐক্য আর শক্তি রয়েছে ? আর যদি থেকেও থাকে, আপনার কি মনে মনে হয় এটা মানবিকতার বিচারে সিদ্ধ ? হতে পারে ইহুদীদের দোষ ছিল, হতে পারে তারা বিশ্বাসঘাতক, কিন্তু প্রতিটি ইহুদীই কি তাই? তাদের শিশুরাও কি একই অপরাধে অপরাধী ? আমার ধারণা ইহুদীদের ধর্মগ্রস্থগুলো খুজেও বের করা যাবে এমন কোন কথা, যাতে মুসলমানদের ধ্বংসের কথা বলা হয়েছে। হয়তো খ্রীষ্টান বা অন্যদের বেলাতেও তেমন কিছু খুজে বের করা যেতে পারে। তাহলে কি মুসলিম, ইহুদী ও খৃষ্টানরা এই হত্যা আর ধ্বংসই চালিয়ে যাবে, যতোদিন না পৃথিবীতে অন্য কোন ধর্মের অস্তিত্ব না থাকে ? আপনারা যারা ব্লগ পড়েন, মানবতার কথা বলেন, দয়ার কথা বলেন, ভালোবাসার কথা বলেন, আপনারা কি এই মতই সমর্থন করেন ? তাহলে শান্তি আসবে কোন পথে, সে পথটি আমাকে না দেখিয়ে দেয়া অবধি আমার এই ধ্বংসচিন্তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সদাজাগ্রত।

মুসলিম বিশ্বের এ ধরণের চরমপন্থী, উস্কানীমুলক বক্তব্য, ও ইসরাইলের মদদ কারী বুশ প্রশাসনকে আরো বেশী জঙ্গী করে তুলেছে। কর্নেলিয়া রাইত্সের ঔধত্বপুর্ন বক্তব্য, হিজবুল্লাহ শেষ না হলে যুদ্ববিরতি নয় তা আরো বেশী প্রকাশ করে। কিন্তু আছে কি মুনলিম বিশ্বের সে ক্ষমতা, অস্ত্র দিয়ে অস্ত্রের জবাব দেবার? নেই । শুধুমাত্র সেজন্যেই নয়, মানবিকতার কথা ভেবেও তাদের আরো বেশী সহনশীল হওয়া দরকার। তাতে আমেরিকা না হলেও অন্ততপ েবিশ্বের অন্যান্য কিছু দেশের সমর্থন তাদের দিকে আসবে। এখনকার মুসলিম বিশ্ব মোটামুটিভাবে কোনঠাসা পৃথিবীর বুকে, যদিও ইওরোপ সহ অনেক দেশই ইসরাইলের এই আক্রমণের তীব্রতা নিয়ে সমালোচনা করছে। কিন্তু এই সমালোচনাই যখেষ্ট নয়। মুসলিম বিশ্ব শান্তিকামী হলে সমালোচনার ধার বাড়তো আরো, একঘরে হতো সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোই। হিজবুল্লাহ যতোটা জঙ্গী, তারচে' আরো বেশী জঙ্গী আমেরিকান সম্রাজ্যবাদ। কিন্তু আমরা নিজেরাই তার উল্টোটি প্রমান করছি বারবার।

রাস্ট্র হিসেবে ইসরাইলের প্রতি আমার কোন ভালবাসা নেই। তবে ইহুদীদের প্রতি সমবেদনা রয়েছে। কোন এক আদিমানুষের দোষে তারা পৃখিবীব্যাপি ঘৃনিত। এখনকার ইওরোপেও তাদেরকে মঝে মাঝে আত্মপরিচয় গোপন রাখতে হয়। এখনও তাদের ধর্মস্থান পুলিশের পাহাড়ায় নিরাপদ রাখতে হয়। এখনো সেগুলো ধংসাত্বক কর্মকান্ডের নিশানা। তারপরেও রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইল যে তীব্রতা নিয়ে হামাজ, হিজবুল্লাহ ও লেবাননীদের দেশ ও মানুয়ষকে ধ্বংস করছে, তার প্রতি আমার তীব্র প্রতিবাদ ও ঘৃণা রয়েছে। এটা আমার অনুভুতির কথা। তবে অনুভুতিকে বিবেক আর বোধের বশে না আনতে পারলে অনেক সময় কর্মে অন্যের অধিকারকেও অসন্মান করা হয়। আপনাদের প্রতিও আমার একই অনুরোধ রইলো। নিজের বোধ ও বিবেক কে ব্যবহার করতে চেষ্টা করুন, দেখবেন আপনি নিজেও শান্তির কথাই উচ্চারণ করছেন বারবার। আর এ মুহুর্তে পৃথিবীকে এটাই এখন সবচাইতে জরুরী।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের শিক্ষা - ১

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ৯:২৬



সমাজ আমাদের বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে। কখনো ধন-সম্পদ দিয়ে, আবার কখনোবা কপর্দকশূন্যতা দিয়েও! সমাজের এই পরীক্ষায় কেউ জিতেন, আবার কেউবা পুরোপুরি পর্যুদস্ত হয়ে বিদায় নেন এই ধরাধাম থেকে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিষন্ন মেঘের ভেলায় ভেসে....

লিখেছেন ইন্দ্রনীলা, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১০:২৯



তোমাকে শুধু একটাবার বড় দেখতে ইচ্ছা করে...
এই ইচ্ছায় আমি হয়ে যাই একটা ঘাসফড়িং
কিংবা আসন্ন শীতের লাল ঝরাপাতা,
উড়ে যাই ভেসে যাই দূর থেকে দূরে...
অজানায়...

শরতের কাঁশফুলের পেঁজা তুলো হয়ে
ফুঁড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রেইস

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ২:০৯


এরা সাড়ে তিনফুট থেকে চারফুট দীর্ঘ,ছোট খাটো,পাতলা গড়ন বিশিষ্ট। চোখগুলো খুব বড়, নাক দৃশ্যমান নয়,ত্বক ছাই বর্ণের,অমসৃণ এবং কুঁচকানো। উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন। পুরোই... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু মুসলমান ভুলে গিয়ে, আমরা সবাই মানুষ হই

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭

আমি জন্মগত ভাবে মুসলমান।
অবশ্য ধর্মীয় নিয়ম কানুন কিছুই মানতে পারি না। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। এখন তো আর এটা ফকির লালনের যুগ না। মানবিক এবং সচেতন মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের একটি জনপ্রিয় নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। ভাড়াটে খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×