ওয়ালী সাহেব একটা পোষ্ট লিখেছেন, "ইহুদী এক অপরাধপ্রবণ জাতি, ধিক ধিক থু"। সেখানে ওনি সায়াদ বিন মাজাদের উদাহরণ টেনেছেন। তাতে বলা হয়েছে, ইহুদীদের সকল পুরুষদের হত্যা করা হোক ও তাদের সম্পত্তি মুসলমানদের মাঝে বন্টন করে দেয়া হোক। ওয়ালী, আপনাকে ব্যাক্তিগত আক্রমণ করছি না, শধু প্রশ্ন করছি, আপনি কি সত্যি সত্যিই এমন একটি বক্তব্যকে সমর্থন করেন ? আপনার কি মনে হয়, মুসলিম বিশ্বে এতোটা ঐক্য আর শক্তি রয়েছে ? আর যদি থেকেও থাকে, আপনার কি মনে মনে হয় এটা মানবিকতার বিচারে সিদ্ধ ? হতে পারে ইহুদীদের দোষ ছিল, হতে পারে তারা বিশ্বাসঘাতক, কিন্তু প্রতিটি ইহুদীই কি তাই? তাদের শিশুরাও কি একই অপরাধে অপরাধী ? আমার ধারণা ইহুদীদের ধর্মগ্রস্থগুলো খুজেও বের করা যাবে এমন কোন কথা, যাতে মুসলমানদের ধ্বংসের কথা বলা হয়েছে। হয়তো খ্রীষ্টান বা অন্যদের বেলাতেও তেমন কিছু খুজে বের করা যেতে পারে। তাহলে কি মুসলিম, ইহুদী ও খৃষ্টানরা এই হত্যা আর ধ্বংসই চালিয়ে যাবে, যতোদিন না পৃথিবীতে অন্য কোন ধর্মের অস্তিত্ব না থাকে ? আপনারা যারা ব্লগ পড়েন, মানবতার কথা বলেন, দয়ার কথা বলেন, ভালোবাসার কথা বলেন, আপনারা কি এই মতই সমর্থন করেন ? তাহলে শান্তি আসবে কোন পথে, সে পথটি আমাকে না দেখিয়ে দেয়া অবধি আমার এই ধ্বংসচিন্তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সদাজাগ্রত।
মুসলিম বিশ্বের এ ধরণের চরমপন্থী, উস্কানীমুলক বক্তব্য, ও ইসরাইলের মদদ কারী বুশ প্রশাসনকে আরো বেশী জঙ্গী করে তুলেছে। কর্নেলিয়া রাইত্সের ঔধত্বপুর্ন বক্তব্য, হিজবুল্লাহ শেষ না হলে যুদ্ববিরতি নয় তা আরো বেশী প্রকাশ করে। কিন্তু আছে কি মুনলিম বিশ্বের সে ক্ষমতা, অস্ত্র দিয়ে অস্ত্রের জবাব দেবার? নেই । শুধুমাত্র সেজন্যেই নয়, মানবিকতার কথা ভেবেও তাদের আরো বেশী সহনশীল হওয়া দরকার। তাতে আমেরিকা না হলেও অন্ততপ েবিশ্বের অন্যান্য কিছু দেশের সমর্থন তাদের দিকে আসবে। এখনকার মুসলিম বিশ্ব মোটামুটিভাবে কোনঠাসা পৃথিবীর বুকে, যদিও ইওরোপ সহ অনেক দেশই ইসরাইলের এই আক্রমণের তীব্রতা নিয়ে সমালোচনা করছে। কিন্তু এই সমালোচনাই যখেষ্ট নয়। মুসলিম বিশ্ব শান্তিকামী হলে সমালোচনার ধার বাড়তো আরো, একঘরে হতো সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোই। হিজবুল্লাহ যতোটা জঙ্গী, তারচে' আরো বেশী জঙ্গী আমেরিকান সম্রাজ্যবাদ। কিন্তু আমরা নিজেরাই তার উল্টোটি প্রমান করছি বারবার।
রাস্ট্র হিসেবে ইসরাইলের প্রতি আমার কোন ভালবাসা নেই। তবে ইহুদীদের প্রতি সমবেদনা রয়েছে। কোন এক আদিমানুষের দোষে তারা পৃখিবীব্যাপি ঘৃনিত। এখনকার ইওরোপেও তাদেরকে মঝে মাঝে আত্মপরিচয় গোপন রাখতে হয়। এখনও তাদের ধর্মস্থান পুলিশের পাহাড়ায় নিরাপদ রাখতে হয়। এখনো সেগুলো ধংসাত্বক কর্মকান্ডের নিশানা। তারপরেও রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইল যে তীব্রতা নিয়ে হামাজ, হিজবুল্লাহ ও লেবাননীদের দেশ ও মানুয়ষকে ধ্বংস করছে, তার প্রতি আমার তীব্র প্রতিবাদ ও ঘৃণা রয়েছে। এটা আমার অনুভুতির কথা। তবে অনুভুতিকে বিবেক আর বোধের বশে না আনতে পারলে অনেক সময় কর্মে অন্যের অধিকারকেও অসন্মান করা হয়। আপনাদের প্রতিও আমার একই অনুরোধ রইলো। নিজের বোধ ও বিবেক কে ব্যবহার করতে চেষ্টা করুন, দেখবেন আপনি নিজেও শান্তির কথাই উচ্চারণ করছেন বারবার। আর এ মুহুর্তে পৃথিবীকে এটাই এখন সবচাইতে জরুরী।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


