somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অন্য শরীর-১৪ (শেষ পর্ব), মূল: ফ্রান্স কাফকা, জার্মান থেকে অনুবাদ তীরন্দাজ

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১১:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তারা সিদ্ধান্ত নিলেন কাজে না গিয়ে আজকের দিনটি কিছুটা বাড়ীতে ও কিছুটা একসাথে বাইরে হাঁটাহাঁটি করে কাটাবেন। এই ছুটি শুধু তাদের প্রাপ্যই নয়, তাদের জীবনের জন্যেও অতি জরুরী। সেজন্যে তারা টেবিলে বসলেন ও তিনটি অনুপস্থিতির চিঠি লিখলেন তাদের কাজের জায়গায়। মি: সামসা লিখলেন তার ব্যাংকের পরিচালকদের কাছে, মিসেস সামসা লিখলেন যাদের কাছে কাপড় পাঠাবেন, তাদেরকে ও গ্রেটে লিখলো তার প্রিন্সিপ্যালের কাছে। এর মাঝে তার সকালের কাজ শেষে কাজের মহিলা বিদায় নিতে এলেন এ ঘরে। তিনজনই তার দিকে না তাকিয়েই মাথা নেড়ে সম্মতি জানালেন। তারপরেও মহিলাটি দাঁড়িয়ে থাকায় তিনজনই বিরক্ত হয়ে তাকালেন। 'কি হলো'? জানতে চাইলেন মি: সামসা। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে এমনভাবে হাসলেন মহিলা, মনে হলো সবাইকে বিরাট এক সুসংবাদ জানানোর আছে তার ও কারো বিশেষ অনুরোধেই তিনি তা জানাবেন। প্রায় সোজা করে বসানো তার মাথার টুপির পালক, যার উপর মি: সামসা সবসময়েই বিরক্ত, এদিক ওদিক দুলছে। 'ঠিক আছে, বলুন, কি বলতে চান আপনি'? এবার প্রশ্ন করলেন মিসেস সামসা। তার প্রতিই এই মহিলার সবচেয়ে বেশী সন্মান। 'হ্যা', বলেই মহিলা বলেই আনন্দের আতিশয্যে বিরতি নিতে বাধ্য হলেন। 'পাশের ওঘরের ওই বস্তুটি কি ভাবে কোথায় ফেলতে হবে, তা নিয়ে আপনার ভাবনা করার আর দরকার পড়বে না। আমি সব ঠিকঠাক করে দিয়েছি'। মিসেস সামসা ও গ্রেটে তাদের চিঠির উপর এমনভাবে ঝুঁকে পড়লো, যেন আরো লিখতে চাইছে। মি: সামসা দেখলেন মহিলাটি আরো বিশদ বর্ননায় শুরু করতে চাইছেন। বাঁধা দেয়ার জন্যে তাই হাত তুলে ইশারা কললেন। বাঁধা পেয়ে বেশ অপমানিত বোধ করলেন মহিলা, কিন্তু ভাব দেখালেন এমন যে খুব তাড়াহুড়োর মাঝে আছেন। সবাইকে বিদায় বলে বিকট আওয়াজে দরজাটি বন্ধ করে বাড়ী থেকে বেরিয়ে গেলেন।

'সন্ধ্যাবেলা কাজ থেকে বিদেয় করবো তাকে'। বললেন মি: সামসা, কিন্তু স্ত্রী ও মেয়ের কাছে কোন সাড়া পেলেন না। মনে হলোনা কাজের মহিলা তাদের এইমাত্র পাওয়া শান্তিতে কোন ব্যঘাত ঘটাতে পেরেছেন। দু্থজনেই চেয়ার ছেড়ে পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে জানালার সামনে দাঁড়ালেন। মি: সামসা সোফা থেকে মাথা ঘুরিয়ে তাদের দিকে কতোক্ষন নীরবে তাকিয়ে রইলেন। তারপর ডেকে বললেন, 'এদিকে আস তোমরা। পুরোনো বিষয়কে রাখো এবার! আমার দিকেও একটু নজর দাও'! পরক্ষনেই তার দিকে এগিয়ে এলো দু'জনেই। তাকে আদর করে নিজেদের চিঠি শেষ করায় মনযোগী হলেন।

তারপর তিনজনই একসাথে বেরুলেন বাড়ীর বাইরে। গত কয়েক মাস ধরে তাদের এ সুযোগ হয়নি। একটি ট্রামে চড়ে শহরের খোলা প্রান্তে রওয়ানা হলেন একসাথে। যে কামরায় বসেছিলেন, রৌদ্রের উজ্জল আলো এসে পড়লো সে কামরায়। আরামে তাদের বসার সিটে হেলান দিয়ে তাদের ভবিষ্যত নিয়ে জল্পনা কল্পনা করলেন ও তাদের কাছে তা বেশ অলোকিত বলেই মনে হলো। এ নিয়ে তারা একদিন কোন আলাপ করেন নি, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সামনের দিনগুলো অনেক সুন্দর ও বিশেষ করে ভবিষ্যত আরো অনেক বেশী সম্ভাবনাময়। পরিস্থিতি ভালো করা সর্বপ্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে এই বাড়িটি বদলানো। এই বাড়িটি খুঁজে বের করেছিল গ্রেগর, ওরা এটা ছেড়ে আরেকটা ছোট, কিন্তু ভাল এলাকায় আরেকটি বাড়ি খুজে বের করতে চান। তারা যখন এসব নিয়ে অলোচনায় ব্যাস্ত, মি: ও মিসেস সামসা তাদের ধীরে ধীরে আরো সজীব হয়ে ওঠা মেয়ের দিকে ভাল করে তাকালেন। গত কয়েক মাঝের ঝক্কিঝামেলায় কিছুটা মলিন হয়েছে তার গালের রং, কিন্তু তারপরেও একটি সুন্দরী ও সাস্থ্যবতী তরুনীর রূপ ফুটে উঠেছে তার চেহারায়। পরস্পরের দিকে তাকিয়ে তাঁরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে, এখন একজন ভালো স্বামী মেয়েটির জন্যে খোঁজার সময় হয়েছে। এবং তার প্রমাণ হিসেবেই যেন যাত্রার লক্ষে পৌঁছানোর পর মেয়েটিই সবার আগে তার তরুনী শরীরকে টানটান করে উঠে দাঁড়ালো।

শেষ....।


(অনেক পরিশ্রমের পর শেষ করতে পারলাম। তবে এটা শেষ নয়, শুরু মাত্র। আরো অনেক ঘসে মেজে শুদ্ধ করতে হবে পুরো অনুবাদটিকে। আরো বেশী সাবলীলতা বাক্যগঠনে পরিবর্তন আনতে হবে। অনেক বানান ভুল দেখে পরে নিজেই বিভ্রান্ত বোধ করেছি।

আরো কিছু অনুবাদ করা জন্যে মনে মনে তৈরী। হাইরিখ ব্যোল, স্টেফান সোয়াইগ(আমার সবচেয়ে প্রিয়) ও হেরম্যান হেসের কয়েকটি লেখা ধরবো বলে ঠিক করেছি। সব মিলিয়ে জার্মান সাহিত্যের অতি সামান্য একটি অংশ বই আকারে প্রকাশ করার আশা করছি সামনেই।

ভাষা ব্যবহার সম্পর্কিত সমালোচনা ও যে কোন পরামর্শ ও মতামতে আনন্দিত ও উপকৃত হবো। ধন্যবাদ!)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Diplomacy is not tourism

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৫৯


আফ্রিকার পশ্চিম প্রান্তে আটলান্টিকের তীরে সেনেগালের রাজধানী ডাকার। এপ্রিলের শেষে সেখানে বসেছে 'Dakar International Forum on Peace and Security in Africa'-এর দশম আসর। নামটা দীর্ঘ হলেও এবারের হাওয়া বেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার একশততম পোস্ট!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:১৮



আমার একশততম পোস্ট!

আজ আমার লেখকজীবনের এক ছোট্ট কিন্তু হৃদয়ের গভীরে দাগ কাটা দিন- সামহোয়্যারইন ব্লগ এ আমার একশততম পোস্ট। সংখ্যার হিসেবে হয়তো ১০০ খুব বড় কিছু নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভুল শুধু ভুল, আমি কি করছি ভুল?

লিখেছেন রবিন.হুড, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪১

আমি টাকার পিছনে না ছোটার কারনে আমার হাতে যথেষ্ট সময় থাকায় সে সময়টুকু সামাজিক কাজে ব্যয় করার চেষ্টা করছি। আবার বিলাসিতা পরিহার করার কারনে অল্প কিছু টাকা সাশ্রয় করছি যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংসদের বায়না : ৩০ সেট গয়না

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:১৪

একসময় এই প্রবাদটি খুব প্রচলিত ছিল, এমনকি পণ্ডিত মহলেও এটি নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করা হতো।
সময় বদলে গেছে; যমুনা নদী দিয়ে বহু জল বয়ে গিয়ে সাগরে মিশেছে।



বাস্তবতার নিরিখে আমাদের সমাজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফুল ট্যাঙ্ক স্বপ্ন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৬



শহরের সকালগুলো এখন আর আগের মতো নয়। সূর্য ওঠার আগেই পেট্রোল পাম্পের সামনে লম্বা লাইন পড়ে যায়। সেই লাইনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে রিদম—একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, আর জীবনের বাস্তবতায় আটকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×