এখানকার প্রবাসীদের মোটামুটি কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।
1) জার্মান পাসপোর্ট ধারী বাংলাদেশী
2) রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থী
3) পাঁচ বছরের গ্রীনকার্ডধরিী
4) ছাত্র
1) জার্মান পাসপোর্ট ধারী বাংলাদেশীদের সংখ্যা এখানে বাড়ছে ধীরে ধীরে। প্রধান শর্ত কোন জার্মান রমনীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক। এই গ্রুপের প্রথম অংশ এখানে উচ্চশিক্ষার জন্যে এসেছিলেন । তাদের মাঝে অনেকেই উদ্দেশ্য সফল করে ফিরে গিয়েছেন দেশে । অনেকেরই পড়াশোনা ও তার পরবর্তী সময়ে এখানকার রমনীদের সাথে পরিচয় ও প্রণয় পরে বৈবাহিক সম্পর্কে পরিণত হয়। এই সম্পর্কের কারনেই একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর এখানকার জাতীয়তা পেয়ে যান তারা। কোন দাম্পত্য সমস্যায় এখানে ছাড়াড়ির হার বেশী। ছাড়াছড়ির পর কেউ বাংলাদেশে বিয়ে করেছেন, কেউ কেউ একাই রয়ে গিয়েছেন।
2) এখানে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীদের সংখ্যা সবচে' বেশী। নব্বুই এর দিকে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীরা এদেশে আসা শুরু করেন। বাংলাদেশের রানৈতিক পরিস্থিতি তাদের জীবনের জন্যে নিরাপদ নয়, এই অভিযোগে জার্মান কোর্টের শরণাপন্ন হন তারা। প্রায় সব ক্ষেত্রেই এই অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়নি। কিন্তু সে সিদ্ধান্তে আসতে পেরিয়ে যেতো দ'ু থেকে পাঁচ বছর। এর মাঝে কেউ কেউ হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমে অর্থোপার্জনের পর দেশে ফিরে গিয়েছেন, কেউ কেউ বিয়ে করে এখানে স্থায়ী হয়েছেন। এই বিয়েরও বিভিন্ন ভাগ রয়েছে, ক) ভালোবাসার বিয়ে খ) উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভালোবাসার বিয়ে গ) অর্থের বিনিময়ে বিয়ে। বেশ কিছু সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার পরও কিছু কিছু ভালোবাসার বিয়ে টিকে আছে আজ অবধি। বাতি দু'টো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাগ উদ্দেশ্য সফল হবার পর বেশীরভাগই এখন আলাদা। তাদের প্রায় সবাই বাংলাদেশে আবার বিয়ে করে স্থায়ী হয়েছেন এখানে। তাদের জীবন ও সমস্যা নিয়ে পরে লিথব।
3) একসময় কম্পিউটর বিশারদের কদর বেশ বেড়ে গিয়েছিল এখানে। তখন আইন প্রনয়ণ করে এদেরকে বিভিন্ন দেশ থেকে নিয়ে আসা হয়। কেউ কেউ দক্ষতা কম থাকায় চাকুরীেেত্র সুবিধা করে উঠতে পারেন নি। ভাষাও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে অনেক সময়। অনেকেই ভালো করেছেন চাকুরিজীবনে। দেশে বিয়ে করে এখানেই সংসার পেতেছেন।
4) ছাত্রদের জন্যে দরজা একসময় প্রায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল এখানে। বছর পাঁচেক আগে এখানকার ইউনিভার্সিটি গুলোতে বিদেশী ছাত্রের সংখ্যা আশংকাজনকভাবে কমে যাওয়ায় দরজা খোলা হয় আবার। তখন থেকেই দেশে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চতরো শিার জন্যে অনেকে এসেছেন এখানে। তাদের বেশীরভাগই বুয়েট থেকে পাশ করেছেন। ইংরেজীতে পড়তে পেরেছেন বলে জার্মানভাষা শিখতে হয়নি তাদের। এরা সবাই বেশ ভালো করছেন পড়াশোনায়। নিজেদের খরচ নিজদেরকেই চালাতে হচ্ছে তাদের।
আপাতত: একটা গঠন দেয়া গেলো আমার লেখার। এই গঠনকে অবলম্বন করেই সামনে আরো বিস্তারিত লেখায় প্রচেষ্ট হবো।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


