somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জামর্ানীর বাঙ্গালী সমাজ (1)

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সকাল ১০:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রবাসী যারা, তাদের বড় একটা অংশ জার্মনীতে। স্বাধীনতার পরপরই অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠাকে সামনে রেখে বাংলাদেশীদের জার্মনিী আসা শুরু হয়। এখানকার বিদেশ দপ্তরের রক্তচোখ, জার্মানদের বাঁকা দৃষ্টি ও বিভিন্ন প্রতিকুল পরিস্থিতি পেরিয়ে একসময় এখানকার মাটিতে স্থিত হতে শুরু করেন তারা। তাদেরকে নিয়েই আমার এই কলাম।

এখানকার প্রবাসীদের মোটামুটি কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।
1) জার্মান পাসপোর্ট ধারী বাংলাদেশী
2) রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থী
3) পাঁচ বছরের গ্রীনকার্ডধরিী
4) ছাত্র

1) জার্মান পাসপোর্ট ধারী বাংলাদেশীদের সংখ্যা এখানে বাড়ছে ধীরে ধীরে। প্রধান শর্ত কোন জার্মান রমনীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক। এই গ্রুপের প্রথম অংশ এখানে উচ্চশিক্ষার জন্যে এসেছিলেন । তাদের মাঝে অনেকেই উদ্দেশ্য সফল করে ফিরে গিয়েছেন দেশে । অনেকেরই পড়াশোনা ও তার পরবর্তী সময়ে এখানকার রমনীদের সাথে পরিচয় ও প্রণয় পরে বৈবাহিক সম্পর্কে পরিণত হয়। এই সম্পর্কের কারনেই একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর এখানকার জাতীয়তা পেয়ে যান তারা। কোন দাম্পত্য সমস্যায় এখানে ছাড়াড়ির হার বেশী। ছাড়াছড়ির পর কেউ বাংলাদেশে বিয়ে করেছেন, কেউ কেউ একাই রয়ে গিয়েছেন।
2) এখানে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীদের সংখ্যা সবচে' বেশী। নব্বুই এর দিকে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীরা এদেশে আসা শুরু করেন। বাংলাদেশের রানৈতিক পরিস্থিতি তাদের জীবনের জন্যে নিরাপদ নয়, এই অভিযোগে জার্মান কোর্টের শরণাপন্ন হন তারা। প্রায় সব ক্ষেত্রেই এই অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়নি। কিন্তু সে সিদ্ধান্তে আসতে পেরিয়ে যেতো দ'ু থেকে পাঁচ বছর। এর মাঝে কেউ কেউ হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমে অর্থোপার্জনের পর দেশে ফিরে গিয়েছেন, কেউ কেউ বিয়ে করে এখানে স্থায়ী হয়েছেন। এই বিয়েরও বিভিন্ন ভাগ রয়েছে, ক) ভালোবাসার বিয়ে খ) উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভালোবাসার বিয়ে গ) অর্থের বিনিময়ে বিয়ে। বেশ কিছু সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার পরও কিছু কিছু ভালোবাসার বিয়ে টিকে আছে আজ অবধি। বাতি দু'টো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাগ উদ্দেশ্য সফল হবার পর বেশীরভাগই এখন আলাদা। তাদের প্রায় সবাই বাংলাদেশে আবার বিয়ে করে স্থায়ী হয়েছেন এখানে। তাদের জীবন ও সমস্যা নিয়ে পরে লিথব।
3) একসময় কম্পিউটর বিশারদের কদর বেশ বেড়ে গিয়েছিল এখানে। তখন আইন প্রনয়ণ করে এদেরকে বিভিন্ন দেশ থেকে নিয়ে আসা হয়। কেউ কেউ দক্ষতা কম থাকায় চাকুরীেেত্র সুবিধা করে উঠতে পারেন নি। ভাষাও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে অনেক সময়। অনেকেই ভালো করেছেন চাকুরিজীবনে। দেশে বিয়ে করে এখানেই সংসার পেতেছেন।
4) ছাত্রদের জন্যে দরজা একসময় প্রায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল এখানে। বছর পাঁচেক আগে এখানকার ইউনিভার্সিটি গুলোতে বিদেশী ছাত্রের সংখ্যা আশংকাজনকভাবে কমে যাওয়ায় দরজা খোলা হয় আবার। তখন থেকেই দেশে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চতরো শিার জন্যে অনেকে এসেছেন এখানে। তাদের বেশীরভাগই বুয়েট থেকে পাশ করেছেন। ইংরেজীতে পড়তে পেরেছেন বলে জার্মানভাষা শিখতে হয়নি তাদের। এরা সবাই বেশ ভালো করছেন পড়াশোনায়। নিজেদের খরচ নিজদেরকেই চালাতে হচ্ছে তাদের।

আপাতত: একটা গঠন দেয়া গেলো আমার লেখার। এই গঠনকে অবলম্বন করেই সামনে আরো বিস্তারিত লেখায় প্রচেষ্ট হবো।

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মায়ের বুকের ওমে শেষ ঘুম

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৯



আমার নাম তৃশান। সবে তো স্কুলে যাওয়া শুরু করেছি। আজ আমার খুব আনন্দ! বাবা-মা, দিদি আর দাদু-দিদুন মিলে আমরা মস্ত বড় একটা নৌকায় ঘুরছি। দিদি বলছিল এই জায়গাটার নাম জবলপুর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু মুসলমান ভুলে গিয়ে, আমরা সবাই মানুষ হই

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭

আমি জন্মগত ভাবে মুসলমান।
অবশ্য ধর্মীয় নিয়ম কানুন কিছুই মানতে পারি না। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। এখন তো আর এটা ফকির লালনের যুগ না। মানবিক এবং সচেতন মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×