....................
এক লোক পৃথিবীতে অনেক ভালো কাজ করেছেন। মানুষের মঙ্গল করেছেন, বিপদে সবার পাশে দাঁড়িয়েছেন, সততার সাথে চলেছেন। যে সময়ের কথা বলছি, সে সময়ে ভালো কাজের জন্যে শুধু পরলোকেই পুরস্কারের নিয়ম ছিল না, ইহলোকেও ছিল। তাই ঈশ্বর তাকে অনেক পুরস্কারের মাঝে নিজের পছন্দমতো একটা খুঁজে নিতে বললেন। পুরস্কারের মঝে বাড়ী ছিল, গাড়ী ছিল, অনেক সুন্দরী নারী ছিল, দেশে দেশে পাঁচতারা হোটেলে ভ্রমণ ছিল, - এমনি আরো অনেক পুরস্কার।
লোকটি বললো, না ঈশ্বর এসনের উপর আমার কোন আগ্রহই নেই। আমি স্বর্গ নরক একবার দেখে আসতে চাই।
স্বর্গের হুর-পরীদের উপর ইহলোকের দৃষ্টি পড়ুক, তা কখনোই চাইকেন না ঈশ্বর। কিন্তু তারপরেও লোকটির নেককাজের পরিমান দেখে রাজী হয়ে গেলেন।
প্রথমে লোকটির যাত্রা করলেন নরকে। নরকের বাসিন্দারা সাধারনত: খারাপ লোক, ভুত-প্রেত আর দৈত্য দানো দেখেই অভ্যস্ত। তাই একজন ভালো লোক দেখে খুব খুশী হলো তারা। তারা তাদের ভাঙ্গা চেয়ারের সবচে' ভালোটি এনে তাকে বসতে দিল, বাসী-পঁচা হলেও সবচে' ভালো খাবারটি এনে তার সামনে পরিবেশন করলো। নরকের বেশ্যাদের দেখে তার একটু ভয় ভয় হলেও ওখানকার বাসিন্দাদের উপর বেশ খুশী হলেন লোকটি। তাই তিনি কয়েকদিন কাটালেন নরকে।
স্বর্গে যাবার পর ওখানকার লোকজন কিন্তু তাকে তেমন খাতির করল না, যদিও ঈশ্বরের কড়া নির্দেশ ছিল। মর্ত্তের মানুষকে এতটা সন্মান দেয়া তাদের অহংকারে বাধল। তাছাড়া হুর-পরীদের নিয়ে একটু ভয় ভয় ছিল। সেজন্যে তাদেরকে বোরখা পরে বাইরে যাবার আদেশ দেয়া হলো। স্বর্গবাসীদের উন্নাসিক ব্যবহার লোকটিা পছন্দ হলো না। তাই তিনি একটু তাড়াতাড়িই ফিরে গেলেন পৃথিবীতে।
ইহলোকে বাকী জীবনটা লোকটি ভালো কাজ করেই কাটালেন। একসময় মৃত্যুও হলো তার। মৃত্যুর পর ঈশ্বর তাকে স্বর্গে পাঠাতে চাইলেন। লোকটি ঈশ্বরকে বললেনে, হে প্রভূ, স্বর্গের হুর-পরীদের উপর আমার কোন লোভ নাই। ওখানকার বাসিন্দারাও অতি উন্নাসিক। প্রভু, নরকের বাসিন্দারা কষ্টে থাকলেও ভালো, অতিথিপরায়ন, আমাকে সেখানেই পাঠাও।
ঈশ্বর তাতে রাজী হলেন। নরকে পৈঁৗছানোর পরপরই সেখানকার বাসিন্দারা তাকে লাঠি.সড়কী নিয়ে অভ্যর্থনা জানালো। নরকের আগুনকে আরো বেশী উত্তপ্ত করা হলো। এসব দেখে ভড়কে গেলেন লোকটি। বললেন, তোমরা আগে আমার সাথে এত ভালো ব্যাবহার করেছো, এবার এমন করছো কেন ?
নরকের বাসিন্দারা খুব হাসলো লোকটির কথায়। সাথে বেশ্যারাও হাসলো। তাদের লীডারও হাসতে হাসতে বললো
তহন ত আইছিলা টু্যরিস্ট হইয়া, এইবার ত থাকবার লাগি আইছ !
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


