somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অন্ধরাতের ঘোড়া (4) শেষ অংশ

০১ লা মার্চ, ২০০৬ দুপুর ১২:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অন্ধরাতের ঘোড়ার শেষ অংশটি পাঠালাম। যারা পড়বেন, তাদের মন্তব্যে আনন্দিত হবো।
......................................
জাফর সাহেবের রাতের সপ্নগুলো খাওয়ার চেয়েও আরো বেশী কষ্টকর, আরো বেশী বিভৎস। তাঁর জীবনীশক্তিতে চুষে চুষে ছিবড়ে বানিয়ে ক্রমশ:ই আরো বেশী ভয়ংকর হয়ে উঠে এই সপ্নগুলো। তাই রাতকে ভীষন ভয় তার। পালিয়ে বেড়ানোর চেষ্টায় সারারাত বাতি জ্বলে তার ঘরে। বারবারই চীৎকার করে জেগে ওঠেন, আর প্রতিবারই সফরুদ্দীন এসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে যায়।

আজও সপ্নে সালেহা কে দেখলেন তিনি। সাথে তার অনেক অনেক সঙ্গী। ওদের পরণে কালো কাপড়ের বিষন্নতার ঘন ছায়া। তাদেরকে চারপাশে নিয়ে শীতল একটা বাতাস ছড়িয়ে সালেহা এসে দাঁড়ালেন সামনে। সে বাতাসে কোন এক অজানা ফুলের নিবিড় গন্ধ। কিন্তু সে গন্ধের নিবিড়তায় আনন্দে ভরে ওঠে না মন, বরং ভয়ের হীমশীতল বাতাস কাঁপুনি আসে বুকের ভেতরে। মনে হয় শরীর থেকে সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ খসে পড়বে এক এক করে সে গন্ধের তীব্রতায়। এতোটা অসাঢ় হয়ে গেলেন জাফর সাহেব যে, চাদরে মুখ ঢাকবেন, সে ক্ষমতাও রইল না। ভয়ে কাঠ হয়ে সালেহার সঙ্গীদের দেখিয়ে প্রশ্ন করলেন,
-- এরা কারা ?
-- এরা কেউনা, এরা তুমি।
-- তুমি ছেলেকে রেখে আমাকে পাঠালে কেন ওখানে ?
সালেহার এই প্রশ্নের সাথে সঙ্গীরাও একসাথে বলে উঠল,
-- পাঠালে কেন ওখানে, পাঠালে কেন ওখানে , পাঠালে কেন ওখানে ......
ভীষন ভয় পেলেন জাফর সাহেব। বিছানার পাশের টেবিলের জলের গ্লাসটির দিকে হাত বাড়াতে চেয়েও সে শক্তিটি পেলেন না নিজের ভেতরে। তারপরেও ক্ষীন আওয়াজে বললেন,
-- তোমরা কেউ আমার সাথে কথা বলনি, তাই ?
সালেহার সঙ্গীরা এবার সুর না মেলালেও মুখ চাওয়াচাওয়ি করল একজন আরেকজনের। সালেহা তাদেরকে হাতের ঈশারায় স্থির হতে বললেন।
-- তুমি তো মুখ বন্ধ করে রেখেছ সবার, কথা বলতে দিয়েছ কাউকে ?
সঙ্গীরাও একসাথে বলে উঠল,
-- কথা বলতে দিয়েছ কাউকে, কথা বলতে দিয়েছ কাউকে, কথা বলতে দিয়েছ কাউকে .....
আবারো খুব কষ্টে উত্তর দিলেন জাফর সাহেব। মুখের ভেতরটা কাঠ হয়ে আছে শুকিয়ে। কথা বলতে গেলে ঠোঁটের সাথে প্রায় আঠা লেগে যায় ঠোঁটের।
-- তুমি নিজেও তো বোবা ছেলে আনলে ঘরে।
-- তবুও আমি ভালোবাসতাম ছেলেকে, কথা বলতাম, তুমি তাও পারনি ?
সঙ্গীরাও একসাথে বলে উঠল,
-- তুমি তাও পারনি, তুমি তাও পারনি, তুমি তাও পারনি .....
এবার কোন উত্তর দিতে পারলেন না জাফর সাহেব। তা বুঝতে পেরেই যেন কোন এক রহস্যময় হাসি সালেহার চেহারায়। সঙ্গীদের দিকে তাকালেন একবার।
-- তাহলে তাকে তুমি আটকে রাখলে কেন।
সঙ্গীরাও একসাথে বলে উঠল,
রাখলে কেন, রাখলে কেন, রাখলে কেন ------
-- আমি তাকে কথা বলাতে চেয়েছি।
তী্ন কাচভাঙ্গা হাসিতে চৌচির হয়ে উঠল চারপাশ। হাসতে হাসতে পেট চেপে ধরলেন সালেহা। তার সঙ্গীরাও যোগ দিল সে হাসিতে।
-- কথা বলাবে ? সে তুমি পারবেনা, সেতো এখন আমারই কাছে, ...আমারই কাছে
বলতে বলতে হাসতে হাসতেই ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন সালেহা। তার সঙ্গীরাও তাকে অনুসরন করল। জাফর সাহেব জ্ঞান হরালেন। সফরুদ্দীন কোন এক অজানা কারণে টের গেলনা কিছু।


কোত্থেকে কে খবর দিল জানা গেলনা। পরদিন পুলিশ এসে প্রতিবেশী বাড়ীর ছেলেটিকে উদ্ধার করল জাফর সাহেবের চিলেকোঠার ঘর থেকে। ছেলেটি তখন ভয়, ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় মৃতপ্রায়। খুন ও অপহরণের অভিযোগে জাফর সাহেবকে গ্রেপ্তার করা হল। কিন্তু তার মুখ খেকে কোন কথা উদ্ধার করা গেলনা । বোবা হয়ে গেলেন তিনি। শোবার ঘরের আলমারীতে পাওয়া গেল তাঁর ছেলের রক্তমাখা সার্ট ও ড্রয়ারে কোরোফর্মের শিশি। ছেলেটির ও তাদের বাড়ীর বাসিন্দাদের বাড়ীতে আসার যাওয়ার সময়গুলোও একটা পুরোনো ডায়েরীর ভেতর টোকা। চিলেকোঠা থেকে যখন ছেলেটাকে নিয়ে যাওয়া হলো, সেদিকে বোকার মত তাকিয়ে থাকলেন ফ্যালফেলিয়ে। বাগানের একটা জায়গাটায় বাগানে ঘুরেফিরে বিড়বিড় করছিল সফরুদ্দীন। ধরে এনে তাকে জেরা করা হল তাকে। ঠিক সে জায়গাতেই খুঁড়ে লাশ পাওয়া গেল জাফর সাহেবের বোবা ছেলের। সে লাশ গর্ত থেকে বের করে আনতেই উন্মাদ হয়ে গেল সফরুদ্দীন। তাকে পাঠানো হল পাগলা গারদে।

সকালে রোদ উঠল ঝিলমিলিয়ে। লাল গেট বাড়ীর লাল দেয়াল সে রোদের আলোতে অন্যান্য বাড়ীগুলো থেকে আরো বেশী আলোকিত মনে হলো।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:৫০


জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১


জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাংগুক অচলায়তন

লিখেছেন মাসুদ রানা শাহীন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯


ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।

ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।

নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×