"লোকটিকে কেন মরতে হবে ?"
"কারন সে একজনকে হত্যা করেছে।"
"সবাইকে কি মরতে হবে, যারা কাউকে হত্যা করে ?"
"সবাইকেই মৃত্যুদন্ড দেয় সরকার, যারা অন্যকে মারে।"
"সরকারকেও কি মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে তবে ?"
ছেলের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেরনি বাবা।
এই কথোপকথন অনেক কিছু ভাবার অবকাশ রাখে। রাষ্ট্রের পরস্পরবিরোধী কর্মের পরিস্কার প্রকাশ ঘটে এতে। রাস্ট্র ও সমাজের দৃষ্টিতে সবচে' কঠিন অপরাধ হচ্ছে কাউকে হত্যা করা। রাষ্ট্র নিজেই সেই অপরাধ করে সাজা দেয় অপরাধীকে।
এ বছর জানুয়ারী মাসে সারা পৃথিবীতে কমপক্ষে 199 টি মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে। এর মাঝে
চীন 99
ইরান 11
আমেরিকা 4
ইয়েমেন 2
কঙ্গো 1
বাংলাদেশ 1
প্রথম বিশ্বযুদ্বের পর থেকেই বিভিন্ন দেশের মানবতাবাদী সংগঠনগুলো মৃত্যুদন্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নিশৃংশতা এই আন্দোলনকে আরো জোরাল করে। ফলাফল হিসেবে এপর্যন্ত 86 টি দেশে মৃত্যুদন্ডকে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়। 75 টি দেশে এখনও মৃত্যুদন্ড সাজা হিসেবে বহাল । তবে কোন কোন অপরাধে এ সাজা দেয়া হয়, তা একেক দেশে একেক ভাবে বিচার করা হয়।
পুরোনো ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় যে, সাজা হিসেবে মৃত্যুদন্ডকে ব্যবহার করা হতো একধরণের সামাজিক শিাক্ষা হিসেবে। শহরের কেন্দ্রস্থলকে সাজার স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হতো, যাতে বেশী সংখ্যক লোক দর্শক হিসেবে থাকতে পারে। মৃত্যুদন্ডের নানা রকম কঠিন কঠিন প্রক্রিয়া খুঁজে বের কারা হতো, যাতে লোকজনের উপর এর ভীতিকর প্রভাব পড়ে। ধর্মীয় পাপ, সামাজিক অপরাধ, রাজনৈতিক বিরুদ্ধচারণ ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে আদেশ দেয়া হতো মৃত্যুদন্ডের।
এখনকার আধুনিক পৃথিবীতে মৃত্যুদন্ডকে যতটা সম্ভব সহজ করার চেষ্টা করা হয়। সাজাপ্রাপ্তের মৃত্যু যত তাড়াতাড়ি ও কম যন্ত্রণায় হয় তা নিয়ে নানারকম গবেষনা চলে। উন্নত দেশগুলোতে ইলেক্ট্রিক চেয়ার, গ্যাস চেম্বার, বিষাক্ত ইনজেকশান এবং অনেক অনুন্নত দেশগুলোতে ফাঁসি ও ফায়ারিং স্কোয়াড মৃত্যুদন্ডের প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাবহার করা হয়।
অপরাধ প্রমাণিত হলে ও অপরাধের মাত্রার উপর নির্ভর করে মৃত্যুদন্ড দেয়া যেতে পারে আমাদের দেশের আদালতেও। কিন্তু মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে কতটা বৈধ এ সাজা ? এ নিয়ে যথেষ্ট আলোচনার অবকাশ রয়েছে।
ব্যক্তিগত ভাবে মৃত্যুদন্ডকে সমর্থন করি না আমি। আমার মানবিক চিন্তার গঠন যে কোন অপরাধের কারনেই এই শাস্তির প েসাড়া দেয়না। হয়তো আমার এই চিন্তার কারণ, আমার এধনের ঘটনার সাথে সরাসরি সমপৃক্ততা না থাকার ফলে। এ ধরনের ঘটনা আমার নিজস্ব কোন তির কারন হলে হয়তো আমি অন্যরকমও ভাবতে পারি। কিনতু আমার তখনকার ভাবনা কি সুস্থমস্তিষ্কের ?
এ অবস্থায় আমার মতামতের গ্রহনযোগ্যতা কতখানি ?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


