somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মৃত্যুদন্ড, মানবিক প্রশ্নে বৈধ না অবৈধ?

১৯ শে মার্চ, ২০০৬ সকাল ১১:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একজন জজ, যিনি সেদিনই একটা মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন, রাতে ঘুম পাড়াচ্ছেন তার ছেলেকে। বাবা মায়ের আলোচনার সময় ছেলেটি শুনেছে বাবার দেয়া আদেশের কথা। ঘুমোনোর সময় ছেলেটি জিজ্ঞেস করলো বাবাকে
"লোকটিকে কেন মরতে হবে ?"
"কারন সে একজনকে হত্যা করেছে।"
"সবাইকে কি মরতে হবে, যারা কাউকে হত্যা করে ?"
"সবাইকেই মৃত্যুদন্ড দেয় সরকার, যারা অন্যকে মারে।"
"সরকারকেও কি মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে তবে ?"
ছেলের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেরনি বাবা।

এই কথোপকথন অনেক কিছু ভাবার অবকাশ রাখে। রাষ্ট্রের পরস্পরবিরোধী কর্মের পরিস্কার প্রকাশ ঘটে এতে। রাস্ট্র ও সমাজের দৃষ্টিতে সবচে' কঠিন অপরাধ হচ্ছে কাউকে হত্যা করা। রাষ্ট্র নিজেই সেই অপরাধ করে সাজা দেয় অপরাধীকে।

এ বছর জানুয়ারী মাসে সারা পৃথিবীতে কমপক্ষে 199 টি মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে। এর মাঝে
চীন 99
ইরান 11
আমেরিকা 4
ইয়েমেন 2
কঙ্গো 1
বাংলাদেশ 1

প্রথম বিশ্বযুদ্বের পর থেকেই বিভিন্ন দেশের মানবতাবাদী সংগঠনগুলো মৃত্যুদন্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নিশৃংশতা এই আন্দোলনকে আরো জোরাল করে। ফলাফল হিসেবে এপর্যন্ত 86 টি দেশে মৃত্যুদন্ডকে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়। 75 টি দেশে এখনও মৃত্যুদন্ড সাজা হিসেবে বহাল । তবে কোন কোন অপরাধে এ সাজা দেয়া হয়, তা একেক দেশে একেক ভাবে বিচার করা হয়।

পুরোনো ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় যে, সাজা হিসেবে মৃত্যুদন্ডকে ব্যবহার করা হতো একধরণের সামাজিক শিাক্ষা হিসেবে। শহরের কেন্দ্রস্থলকে সাজার স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হতো, যাতে বেশী সংখ্যক লোক দর্শক হিসেবে থাকতে পারে। মৃত্যুদন্ডের নানা রকম কঠিন কঠিন প্রক্রিয়া খুঁজে বের কারা হতো, যাতে লোকজনের উপর এর ভীতিকর প্রভাব পড়ে। ধর্মীয় পাপ, সামাজিক অপরাধ, রাজনৈতিক বিরুদ্ধচারণ ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে আদেশ দেয়া হতো মৃত্যুদন্ডের।

এখনকার আধুনিক পৃথিবীতে মৃত্যুদন্ডকে যতটা সম্ভব সহজ করার চেষ্টা করা হয়। সাজাপ্রাপ্তের মৃত্যু যত তাড়াতাড়ি ও কম যন্ত্রণায় হয় তা নিয়ে নানারকম গবেষনা চলে। উন্নত দেশগুলোতে ইলেক্ট্রিক চেয়ার, গ্যাস চেম্বার, বিষাক্ত ইনজেকশান এবং অনেক অনুন্নত দেশগুলোতে ফাঁসি ও ফায়ারিং স্কোয়াড মৃত্যুদন্ডের প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাবহার করা হয়।

অপরাধ প্রমাণিত হলে ও অপরাধের মাত্রার উপর নির্ভর করে মৃত্যুদন্ড দেয়া যেতে পারে আমাদের দেশের আদালতেও। কিন্তু মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে কতটা বৈধ এ সাজা ? এ নিয়ে যথেষ্ট আলোচনার অবকাশ রয়েছে।

ব্যক্তিগত ভাবে মৃত্যুদন্ডকে সমর্থন করি না আমি। আমার মানবিক চিন্তার গঠন যে কোন অপরাধের কারনেই এই শাস্তির প েসাড়া দেয়না। হয়তো আমার এই চিন্তার কারণ, আমার এধনের ঘটনার সাথে সরাসরি সমপৃক্ততা না থাকার ফলে। এ ধরনের ঘটনা আমার নিজস্ব কোন তির কারন হলে হয়তো আমি অন্যরকমও ভাবতে পারি। কিনতু আমার তখনকার ভাবনা কি সুস্থমস্তিষ্কের ?
এ অবস্থায় আমার মতামতের গ্রহনযোগ্যতা কতখানি ?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে হেরে যাচ্ছি ০২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪


কাহিনীটা ৯০ এর দশকের শুরুতে। বুশ তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট- মার্কিনিদের আগ্রাসন চলছে তখন ইরাক জুড়ে। হাটে মাঠে ঘাটে আড্ডায় গল্প আলোচনা মিডিয়ায় এমনকি বাসর ঘরেও তখন নব পরিণীতার সাথে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটা ছিলো সোনার কণ‍্যা, মেঘ বরন কেশ!!!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ ভোর ৬:১৩



শাওন প্রশ্ন করেছিলে ৭৮ বছর বয়স্ক একজন মহিলার। অন্তর্বাস উচিয়ে যখন অন্তর্জালে দাঁত মুখ খিচিয়ে উল্লসিত বহু পোস্টে ভেসে যায় ।কিংবা দেয়ালে সরাসরি দি লিখে প্রচার করছিলো তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘ছুটি’র স্মৃতি

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০

(প্রায় দু’মাস আগে লেখা। তখন গ্রীষ্মকাল হলেও ঢাকায় কয়েকদিন পরপর বৃষ্টি হতো। এখনকার মত “ঘাম ঝরে দরদর” ধরণের গরম ছিল না। রাতগুলো তুলনামূলকভাবে বেশ ঠাণ্ডা থাকতো।)

আজ খুব ভোরে (শেষরাতে)... ...বাকিটুকু পড়ুন

×