কি রে, কি দেখছিস্ ?
পেছনে মায়ের প্রশ্ন শুনতে পেলো শুভ।
কিছূ না।
না তাকিয়েই উত্তর দিল সে।
তোর অসি চাচার সাথে কথা হয়েছে আজ ?
না, ছোট্ট উত্তর শুভর।
তোকে না রাতে বললাম, ওনাকে আজ ফোন করার জন্যে!
বলেছিলে করতে, কিন্তু আমার ইচ্ছে হয়নি আজ। তাছাড়া তুমি নিজে করলে না কেনো ?
কিছুটা বিরক্ত হয়েই বললো শুভ।
কোন উত্তর দিলেন না মা। পেছনে দরজা বন্ধ করার শব্দ পেলো শুভ। ইদানীং ওর বেশী কথা বলতে ভালো লাগেনা, অপচয় মনে হয়। কেউতো কাউকে শুনতে চায় না, সেখানে কথা অপচয় ছাড়া কি হতে পারে ? মা বিশ বছর যাবৎ বাবাকে ভালোবাসেন প্রমাণ করতে কতো কি বলে যাচ্ছেন। আসলে কি ভালোবাসেন ? আর বাবা কি তা শুনছেন ? শোনার কি কোন দরকার আছে তাঁর ? আর বাইরের অবস্থা তো একই। রাজনীতিবিদরা কথার পর কথা বলে যাচ্ছেন, কেউ শুনছে কি না শুনছে, তার তোয়াক্কা না করেই। লোকজনও তাদেরকে ভোট দিয়ে যাচ্ছে, কথার কি হলো বা না হলো, তা না ভেবেই। দোকানীরা কথা বলছে খাঁটির, আমলারা নামতা পড়ছে নীতির, মোল্লাদের মুখে ধর্মের কথা, কিন্তু কর্মে তাদের সবকিছুই উল্টো। সবার মুখেই যেনো মুখোশ আঁটা, নিজের ভেতরটা ঢেকে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা। মা অসি চাচার সাথে কথা বলতে চান, কিন্তু চান না, তাঁর ইচ্ছের কথা অন্য কেউ জানুক, তাই ফোন করাবেন শুভকে দিয়ে।
শুভ বেরুলো সকালের নাস্তা সেরেই। টেবিলে মায়ের সাথে দেখা না হওয়াতে অবাক না হলেও একটু মন খারাপ হলো তার। গতকালই একসাথে নাস্তা করবেন বলেছিলেন। মা অনেকদিন ধরে কথা বলে প্রায়ই রাখতে পারেন না। হয়তো বাড়ী ফিরে চৌকোশ কোন কারণ দেখাবেন। তারপরেও শুভর রাগ হয়। বাবার উপর তার রাগ নেই, তেমন কোন অনুভূতিও নেই। তাঁকে ওর কাছে চারপাশ থেকে ঘিরে থাকা একটা দেয়ালের মতো মনে হয়। গোটা সংসারটিকে যেনো তিনি এমনি ভাবে ঘিরে রেখেছেন। দেয়ালে বিশেষ কতগুলো ছিদ্র রেখেছেন শুভ ও মায়ের জন্যে। সেগুলো যেনো কোন বেঁধে দেয়া পথে যুক্ত। বাবার সামনে মা সেগুলোই ব্যবহার করেন, কিস্তু আড়ালে নিজের পছন্দমতোও কিছু পথও করে নিয়েছেন। আর এসব করতে করতে মা নিজেই তৈরী করেছেন চারপাশে সত্য মিথ্যার অদৃশ্য আরেক খোলস। সেখানে ধাক্কা খায় শুভ, ধাক্কা খান অসি চাচা। বাবার বেলায় কি হয়, সে তা বুঝতে পারেনা।
রাস্তায় বেরিয়েও ভালো লাগলো না শুভর। দুটো খালি রিঙ্া টিং টিং করে পাশ কাটিয়ে গেলেও ডাকতে ইচ্ছে করলো না তার। রাস্তার কোনে পাড়ার কিছু ছোকরা একটা পানের দোকানের সামনে আড্ডা দিচ্ছিল। ওদেরই একজন শুভকে দেখে মৃদু হাসলো। কিন্তু ও পেরিয়ে যাবার পরই মা ও অসি চাচাকে নিয়ে কি যেনো টিপ্পনী কাটলো। শুভ কোন উত্তর দিলনা। মাটির উপরের আকাশটাকে খুব নীচু মনে হলো ওর। অদম্য ইচ্ছে হলো সমুদ্রের কাছাকাছি উঁচু আকাশ দেখার।
-0-0-
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


