somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

(ছোটগল্প) সমুদ্র সুখ - 1

২০ শে মার্চ, ২০০৬ সকাল ১০:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ সকাল থেকেই আকাশটাকে কেমন যেনো খুব বিষন্ন মনে হচ্ছে। মেঘের ফাঁক দিয়ে এক টুকরো রোদ বারবার উঁকি দেয়ার চেষ্টা করেও যেনো হতাশ হয়ে ফিরে গেলো। আর তারই ফাঁকে ঢেলে দিচ্ছে আকাশ তার সমস্ত বিষন্নতা এই শহরটির প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি বাড়ীঘর, প্রতিটি অস্তিত্বের গায়ে। দোতালার জানলা দিয়ে যতদূর দেখা যায়, ততদূর তাকানোর চেষ্টা করলো শুভ। অগোছাল, সবরকম পারিবেশিক নিয়ম কানুন উপো করে দাঁড়ানো বাড়ীগুলোকে এই ম্যড়মেড়ে আলোতে আজ যেনো আরো বেশী হতচ্ছাড়া আর এবড়ো থেবড়ো রাস্তাটাকে আরো বেশী নোংরা মনে হচ্ছে। মানুষগুলোকে মনে হচ্ছে পোষাক ছিড়ে নেয়া মমির মতো। প্রতিদিন যে ফেরিওয়ালার বিকট চীৎকারে শুভর কান ঝালাপালা হয়, আজ সে যেনো ওকে শুনতেই পেলোনা। মাঝে মাঝেই এভাবে দিন শুরু হয় শুভর। তখন নিজের ঘরটাকে এক নোঙ্গরফেলা জাহাজের মতো মনে হয়। শুভর ইচ্ছে হয় সে জাহাজকে যখন তখন কোন এক অসীম সমুদ্রে ভাসিয়ে দিতে।

কি রে, কি দেখছিস্ ?
পেছনে মায়ের প্রশ্ন শুনতে পেলো শুভ।
কিছূ না।
না তাকিয়েই উত্তর দিল সে।
তোর অসি চাচার সাথে কথা হয়েছে আজ ?
না, ছোট্ট উত্তর শুভর।
তোকে না রাতে বললাম, ওনাকে আজ ফোন করার জন্যে!
বলেছিলে করতে, কিন্তু আমার ইচ্ছে হয়নি আজ। তাছাড়া তুমি নিজে করলে না কেনো ?
কিছুটা বিরক্ত হয়েই বললো শুভ।

কোন উত্তর দিলেন না মা। পেছনে দরজা বন্ধ করার শব্দ পেলো শুভ। ইদানীং ওর বেশী কথা বলতে ভালো লাগেনা, অপচয় মনে হয়। কেউতো কাউকে শুনতে চায় না, সেখানে কথা অপচয় ছাড়া কি হতে পারে ? মা বিশ বছর যাবৎ বাবাকে ভালোবাসেন প্রমাণ করতে কতো কি বলে যাচ্ছেন। আসলে কি ভালোবাসেন ? আর বাবা কি তা শুনছেন ? শোনার কি কোন দরকার আছে তাঁর ? আর বাইরের অবস্থা তো একই। রাজনীতিবিদরা কথার পর কথা বলে যাচ্ছেন, কেউ শুনছে কি না শুনছে, তার তোয়াক্কা না করেই। লোকজনও তাদেরকে ভোট দিয়ে যাচ্ছে, কথার কি হলো বা না হলো, তা না ভেবেই। দোকানীরা কথা বলছে খাঁটির, আমলারা নামতা পড়ছে নীতির, মোল্লাদের মুখে ধর্মের কথা, কিন্তু কর্মে তাদের সবকিছুই উল্টো। সবার মুখেই যেনো মুখোশ আঁটা, নিজের ভেতরটা ঢেকে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা। মা অসি চাচার সাথে কথা বলতে চান, কিন্তু চান না, তাঁর ইচ্ছের কথা অন্য কেউ জানুক, তাই ফোন করাবেন শুভকে দিয়ে।

শুভ বেরুলো সকালের নাস্তা সেরেই। টেবিলে মায়ের সাথে দেখা না হওয়াতে অবাক না হলেও একটু মন খারাপ হলো তার। গতকালই একসাথে নাস্তা করবেন বলেছিলেন। মা অনেকদিন ধরে কথা বলে প্রায়ই রাখতে পারেন না। হয়তো বাড়ী ফিরে চৌকোশ কোন কারণ দেখাবেন। তারপরেও শুভর রাগ হয়। বাবার উপর তার রাগ নেই, তেমন কোন অনুভূতিও নেই। তাঁকে ওর কাছে চারপাশ থেকে ঘিরে থাকা একটা দেয়ালের মতো মনে হয়। গোটা সংসারটিকে যেনো তিনি এমনি ভাবে ঘিরে রেখেছেন। দেয়ালে বিশেষ কতগুলো ছিদ্র রেখেছেন শুভ ও মায়ের জন্যে। সেগুলো যেনো কোন বেঁধে দেয়া পথে যুক্ত। বাবার সামনে মা সেগুলোই ব্যবহার করেন, কিস্তু আড়ালে নিজের পছন্দমতোও কিছু পথও করে নিয়েছেন। আর এসব করতে করতে মা নিজেই তৈরী করেছেন চারপাশে সত্য মিথ্যার অদৃশ্য আরেক খোলস। সেখানে ধাক্কা খায় শুভ, ধাক্কা খান অসি চাচা। বাবার বেলায় কি হয়, সে তা বুঝতে পারেনা।

রাস্তায় বেরিয়েও ভালো লাগলো না শুভর। দুটো খালি রিঙ্া টিং টিং করে পাশ কাটিয়ে গেলেও ডাকতে ইচ্ছে করলো না তার। রাস্তার কোনে পাড়ার কিছু ছোকরা একটা পানের দোকানের সামনে আড্ডা দিচ্ছিল। ওদেরই একজন শুভকে দেখে মৃদু হাসলো। কিন্তু ও পেরিয়ে যাবার পরই মা ও অসি চাচাকে নিয়ে কি যেনো টিপ্পনী কাটলো। শুভ কোন উত্তর দিলনা। মাটির উপরের আকাশটাকে খুব নীচু মনে হলো ওর। অদম্য ইচ্ছে হলো সমুদ্রের কাছাকাছি উঁচু আকাশ দেখার।
-0-0-
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রতিদ্বন্দ্বী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪৮


গফুর মিয়া অভাবের তাড়নায় গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় এসেছিল। সংসারে মানুষ মোট ছয়জন, গফুর, তার স্ত্রী আর চার সন্তান। দুই সন্তান হওয়ার পর তার স্ত্রী আর সন্তান নিতে চায়নি। সে গফুরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জজ মিয়া চিত্রনাট্য নিয়ে নির্মিত হোচ্ছে ভয়ংকর নতুন সিক‍্যুয়াল!!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৪:৪৭



বিএনপির পুলিশ এতো করিৎকর্মা যে চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে । খুনের তদন্ত করে একেবারে আদালতের রায় সহ রিপোর্ট দিয়ে দেয় ! পৃথিবীর সবচেয়ে আপগ্রেডেড আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন শিলং সালাউদ্দিনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাসওয়ার্ড রিসেট করতে সমস্যা এবং ওয়েবসাইটে ক্যাপচা এরর (Invalid site key) সংক্রান্ত।

লিখেছেন চারাগাছ, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:১৪


পাসওয়ার্ড রিসেট করতে সমস্যা এবং ওয়েবসাইটে ক্যাপচা এরর (Invalid site key) সংক্রান্ত।


প্রিয় সামু সাপোর্ট টিম,
আশা করি ভালো আছেন। আমি সামহোয়্যার ইন ব্লগের একজন নিয়মিত পাঠক ও লেখক। দীর্ঘদিন ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কালবেলার মুগ্ধতা থেকে নবকুমারের গ্ল্যামার দুনিয়ায়

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০



সমরেশ মজুমদার আমার বরাবরই প্রিয় লেখকদের একজন। কৈশোর আর যৌবনের এক বড় অংশ জুড়ে তিনি ছিলেন আমার মনোজগতে। বই কিনে পড়া, পাড়ার লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার যদি ৩% হারে লোন দেয় দেশের প্রতিটি বাড়ীর ছাতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করলে বিদ্যুের কস্টের অনেকটাই কিছুটা সমাধান হইতে পারে।

লিখেছেন নতুন, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:০৬


দেশে বর্তমানে Net Metering Guideline–2025 অনুযায়ী অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়া যায় এবং তা বিলের সঙ্গে সমন্বয় হয়। এটা খুবই ভালো একটা ব্যবস্থা, সরকারের উচিত এটাকে আরো উতসাহিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×