বিয়ের দেড় বছর পরেই শুভর জন্ম। তারপর ছেলেকে বড় করার পথ দিয়ে নিজেও অনেকটা এগিয়েছেন বলেই ছেলের সাথে খোলামেলা তিনি। অনেক কথা, যেগুলো শুধুমাত্র একান্ত বন্ধুদের কাছেই বলা যায়, সেগুলো নিয়েও আলোচনা হতো দু'জনের। শুভও মাকে সে ভাবে নেয়ায় কোন কার্পন্য করেনি কখনও, বরং নিজেই এগিয়ে এসেছে তার নিজস্ব ভাবনা চিন্তা নিয়েই। তারপরেও কোথাও যেনো একটা অদৃশ্য দেয়াল রয়েছে দু'জনের মাঝে। ইদানীং তার আপ্রান চেষ্টা সে দেয়াল ভাঙ্গার। এইতো ক'দিন আগেই হঠাৎ প্রশ্ন তার,
মা, তুমি বাবাকে বিয়ে করার পর কাউকে কখনো ভালোবেসেছ ?
ছেলের হঠাৎ প্রশ্নে অবাক হয়েছিলেন শাহিদা। এমনিতেই ছেলেকে নিয়ে বেশ চিন্তিত তিনি। 'ভার্সিটিতে পড়ছে। বন্ধু বান্ধবও তেমন একটা বেশী নেই। কথাতো আগেই কম বলতো, এখন আরো কমিয়ে দিয়েছে। ঘরের বাইরেও যায়না তেমন একটা। ছেলের ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবনা নেই তার তেমন। ইংরেজী নিয়ে অনার্স পড়েছে, রেজাল্টও ভালো করবে। 'ভার্সিটিতেই কাজ পেয়ে যাবে। কিন্তু তার ভাবনা ছেলের সামাজিক জীবন নিয়ে। কোথায় যেন কোন একটা ফাঁক রয়েছে। না হলে প্রয়ই এ ধরণের প্রশ্ন করবে কেন।
তোর বাবা কি আমাকে সে সময় দিয়েছে কখনও ? উত্তর দিলেন শাহিদা, সেলাইয়ের যে কাজটা করছিলেন, তা না থামিয়েই।
ভালোবাসতে কি সময়ের দরকার পড়ে ? সে তো থাকবে নিজের ভেতরে, প্রতিটি দৈনন্দিন সময়ের মুহূর্তেই। সহজে কথা শেষ করতে চাইলো না শুভ।
ছেলের এই অতি রোমান্টিকতায় বেশ অবাক হলেন শাহিদা। মনে মনে হাসলেনও একটু।
কিন্তু যাকে ভালোবাসব, তার জন্যে তো সময়ের দরকার।
অসি চাচাকে তো যথেষ্ট সময় দাও তুমি।
কিন্তু তাঁকে ভালোবাসি সে কথা কে বলল ? এবার সরাসরি ছেলের মুখের দিকে তাকালেন শাহিদা, হাতের কাজটা রেখে।
আমার কিন্তু তা মনে হয় মা। সরল উত্তর শুভর।
তুই থাক তোর ভাবনা নিয়ে, আমাকে কাজ করতে দে। বলে কিছুটা বিরক্ত হয়েই আবার কাজে হাত দিলেন শাহিদা।
শুভ কোন উত্তর দিল না। ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো মা কে কিছু না বলেই।
কিন্তু বিরক্তিটা ছেলের কাছে কিছুটা ধরা পড়ে গিয়েছেন বলেই। তাছাড়া আরেকটি কারণও আছে। ছেলের ভেতর যে সারল্য, তা নিয়ে তাঁর বিরক্তি, ভয় দু'টোই হয়। এতোটা সহজ সরল হয়ে কি চলা যায় সবখানে ?
-0-0-
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


