somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

(ছোটগল্প) সমুদ্র সুখ - 3

২১ শে মার্চ, ২০০৬ রাত ৩:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শাহিদার সঙ্গে তাঁর শ্বশুরবাড়ীর তেমন একটা ভালো সম্পর্ক ছিলনা। শুভর বাবা মাঝে সেখানে আসা যাওয়া করলেও, শাহিদা নিজে তা যতোটা সম্ভব এড়িয়েই চলতেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রী মধ্যে একটা অলিখিত চুক্তি অনেকটা নীরবেই কাজ করে যেতো। বাবা-মায়ের কোন সংঘাত এ নিয়ে শুভ কোনদিন দেখেনি। তার নিজেরও ঘন ঘন আসা যওয়া ছিলো মায়ের সঙ্গে নানাবাড়ীতে।

নানাভাইয়ের সাথে শুভর খুব মধুর একটা সম্পর্ক ছিলো। তিনি নিজেও শুভকে নানাভাই বলেই ডাকতেন। তিনি যে একজন বড় লেখক, তা সে ছোটবেলা থেকেই জানতে শিখেছে, এমনকি লেখক কি, সেটা বোঝার আগেই। তারপর নিজে যখন পড়তে শিখলো, তখন নানাভাইয়ের লেখা আরো বইপত্র পড়ে, নিজেরই লেখক হতে সাধ জাগলো। সে সাধ পূরণ করার জন্যে ছোটবেলা থেকেই কবিতা লিখে নানাভাইকে দেখাতো। ওনি নিজেও সেগুলো মনযোগ দিয়ে পড়তেন ও শুভকে আরো লেখার জন্যে উৎসাহ দিতেন। ওনার উৎসাহেই সে এইটে পড়ার সময় একটা কবিতা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ও দ্বিতীয় পূরষ্কার পায়। নানাভাই খুশী হয়ে একটা পাইলট কলম উপহার করেছিলেন । এখনও লেখালেখির সময় সে ওনার দেয়া কলমটিই ব্যাবহার করে। নিজের লেখা কবিতা নিয়ে এখনও তার আদানপ্রদান হয় নানাভাইয়ের সাথে। যদিও আধুনিক কবিতার বর্তমান ঢং তাঁর পছন্দ নয়, তারপরেও তাঁর যথেষ্ট আগ্রহ শুভর কবিতা নিয়ে আলোচনায়। ইংরেজী সাহিত্যে সে ভর্তি হয় সে অনেকটা তাঁর প্রভাবেই। বাবা এ নিয়ে অনেক সময় নানাভাই প্রতি তাঁর ােভও প্রকাশ করেছেন। বাবার ইচ্ছে ছিলো সে ব্যাবসা সংক্রান্ত কোন বিষয়ে পড়াশোনা করে। মা তার এসব স্বাধীনতায় কখনো হাত দেয়ার চেষ্টা করেননি।

বিয়ের কারণে ুব্ধ থাকলেও নিজের বাবার উপর প্রতি ভালোবাসার কোন কমতি ছিলোনা মায়ের, বরং খুব গর্ব ছিলো তাঁকে নিয়ে। সবার কাছেই তাঁর নানারকম গল্প করতেন। এসব গল্পের সময় মায়ের চেহারায় যে আলো সে দেখকে পেতো, তাতে তার মায়ের সত্যিকারের ভেতরের রূপ প্রকাশ হতো তার সামনে। তাঁর ভেতরের লুকোনো যন্ত্রণার একটা ছবি দেখতে পেতো সে। সে ছবি তৈরী হতো দুটো পরস্পরধর্মী জীবনের সংঘাতে। নিজের বাবার কাছ থেকে যতোটা সুশিা ও সেকারণেই সামাজিক সংস্কারের প্রশ্নে যতোটা উদার মনোভাব নিয়ে বড় হয়েছেন তিনি, শ্বশুরবাড়ীতে সে উদারতা একেবারে ছিলনা বললেই চলে। তারপর যখন শ্বশুরবাড়ী ছেড়ে স্বামীর সাথে নিজের সংসার গড়লেন, সেখানেও এতই কারণে বিরাট ফাঁক থেকে গেলো। কিছুদিনের মাঝেই টের পেলেন, তাঁর অনেক স্বাধীনতায় স্বামী হস্তপে না করলেও, তার পেছনে যতোটা না উদারতা ছিলো, তারচে' বেশী ছিলো একটা নিস্পৃহ মনোভাব। আর স্বামীর সে নিস্পৃহ মনোভাব মায়ের মতো একজন মানুষের জন্যে, যার ভেতর সবার মাঝে মধ্যমনি হওয়ার প্রবল ঝোঁক, ভয়াবহ একটা যন্ত্রনার উৎস হয়ে দাঁড়ালো। কিন্তু মা তাঁর নিজস্ব কৌশলেই যন্ত্রনার মুখগুলো বিভিন্ন দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারলেন। তাতে দু'জনের মাঝে বাহ্যিক একটা শান্তি এলেও ফলাফল হিসেবে কঠিন একটা দেয়াল গড়ে উঠলো তাঁদের মাঝে।

কিন্তু নানাভাইয়ের প্রশ্নে মায়ের একটা দিক ভালো লাগতো না শুভর। মা ওনার সম্পর্কে অনেক কিছু বাড়িয়ে বলতেন। আর মাঝে মাঝে এই বাড়িয়ে বলার ভেতরে কিছু পরস্পরবিরোধী বক্তব্য থাকার কারণে ধরা পড়ে যেতেন মা। মায়ের গানের আসরের বন্ধুরাই এ নিয়ে আড়ালে বলাবলি করতেন, মা কে, নানাভাই কে নিয়ে হাসাহাসি করতেন। এর কি কোন দরকার ছিলো ? নানাভাই মানুষ হিসেবে যেমন, সামাজিক, সাহিত্যক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাঁর যা অবদান, সেটা শুভ তাঁকে ছোটবেলা থেকে তাঁর কাছাকাছি হয়ে ও বিশেষ করে 'ভার্সিটিতে পড়ার সময়ে সাহিত্যের কয়েকটা সেমিনার করেই বুঝেছে। ওনি তো তাঁর নিজের পরিচয়েই অনেক উঁচুতে স্থান গড়ে নিয়েছেন। সেেেত্র তাঁর সম্পর্কে বাড়িয়ে বলে তাঁকে হাস্যস্পদ করা কি মায়ের এক ধরণের বিকৃতি নয় ? নানাভাইয়ের সাথে অসি চাচারও ভালো পরিচয় ছিলো এবং দু'জনেই দু'জনকে পছন্দ করতেন।
-0-0-
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্ষমতা আসলে কত দিনের?

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬

একটি ১২ ঘণ্টার প্যারোল, একটি শেষ বিদায় এবং ক্ষমতার অনিত্যতার নির্মম শিক্ষা

“পুলিশ ভাই, আমাকে তো এখনই নিয়ে যাবেন, আমি দুই মিনিট ফ্যামিলির সঙ্গে কথা বলি?”

কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোথাও একটা ভুল হচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৪২

একটা ছোট নৌকা পাল তুলে পাড়ি দিচ্ছে-
অনন্ত নক্ষত্রবীথি।
পেরিয়ে যাচ্ছে- গ্রহ নক্ষত্র, মহাজাগতিক উল্কা।
দূরে কোথাও সংঘর্ষ হচ্ছে।
ধীর, অতি ধীর তার গতি। নৌকায় কয়েকজন মানুষ!
একটি শিশু,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিদারাবাদ থেকে মাছুয়াপাড়া

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৫৫

আপনার সবচেয়ে অপছন্দের খাবার হচ্ছে শুকর। শুধু অপছন্দের না, এটা আপনি ঘৃণাও করেন। কিন্তু আপনার পাশে বসে সবাই শুকর খায়। যে পাতিলে শুকর রান্না করা হয়, সেই পাতিলেই আপনার জন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পড়ালেখার গুরুত্ব

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৫



পড়ালেখার গুরুত্ব কি, আর কেনো পড়ালেখা করতে হবে? আমার মনে হয় উত্তর সকলের কম বেশি জানা আছে। কিন্তু আমরা বাস্তবে কি করছি? আমাদের দেশে মনে হয় ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাহিনীটা কী?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৭

কাহিনীটা কী?
বিএনপিকে যারা ২৪ ঘণ্টা অভিশাপ দেয়, গালমন্দ করে, "বিএনপি দেশটা শেষ করে দিয়েছে- আর ছয়মাসও টিকবে না", তারাই আবার বিএনপি কাকে মন্ত্রী বানালো, কাকে উপদেষ্টা করলো- এই হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×