আমার ধানসিড়ির রংএর ভান্ডারে শুধু সাদা আর কালো রং ই রয়েছে। কিন্তু এর মাঝামাঝি যে আর কিছু থাকতে পরে, তা তিনি ভাবেন নি।
তার কথার সত্যতা রয়েছে। পাশ্চ্যাত্য সমাজে ডিভোর্সের সংখ্যা আমাদের সমাজের তুলনায় অনেক বেশী। আমি জার্মানীর কথা বলতে পারি। এখানে প্রতি তিনটি বৈবাহিক জীবনের একটি ভাঙ্গে। তাতে স্বাভাবিক ভাবেই একই পুরুষের জীবনে বিভিন্ন নারীর আগমন ঘটে। নারীদের বেলাতেও তাই। বিয়ের আগে বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ড থাকা স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু বিয়ের পরে পরনারী বা পরপুরুষের প্রতি শারিরীক আসক্তি ধানসিড়ি যে ভাবে স্বাভাবিক হিসেবে বর্ননা দিয়েছেন, সে রবম নয়। এখানকার সমাজেও তা আমাদের সমাজের মতোই ভালো চোখে দেখা হয়না। তারপরেও যে তার পরিমান আমাদের সমাজের চেয়ে বেশী, তাতে কোন সন্দেহ নেই।
কিন্তু এর পেছনে যতটা না ধর্মীয় প্রভাব, তারচে অনেক বেশী রয়েছে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। আমাদের দেশের নারীরা বেশীরভাগই অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রশ্নে তাদের স্বামীদের প্রতি পুরোপুরিভাবে নির্ভরশীল। স্বামীর মৃত্যুর বা তালাকের সন্তানসন্ততি নিয়ে তাদের অন্নসংস্থানের কোন উপায় থাকে না। সেকারনে অনেক অমিল থাকা সত্ত্বেও একটা সংসার টিকিয়ে রাখতে বাধ্য আমাদের দেশের মেয়েরা। স্বামীর অত্যাচার অনাচার, পরনারী আসক্তি, শারিরীক অত্যাচার সহ্য করে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন অনেক অনেক মেয়ে। কারন তাদের সামনে খোলা কোন পথ নেই। এমন কোন সরকারী ফান্ড বা সংস্থা নেই, যা এসব অত্যাচারিত মেয়েদের সামনের জীবন আলোকিত করতে পারে। তাই অন্ধকারেই রয়ে যান তারা। আর একা থাকার কারনে যে সামাজিক নীরাপত্তাহীনতা, যার দায়ভার বেশকিছু পশুশ্রেনীর পুরুয়ের, তার কখা কে বলবে ? আর আমরা হাততালি দিই এই বলে যে, "দ্যাখো, আমাদের সমাজ, সংসার কত সুঠাম, কত সুন্দর, কত মায়াময়।" কিন্তু এই আলোর পেছনে যে কতটা অন্ধকারের রাজত্ব, তা ভাবতে গেলে বেরিয়ে পড়বে থলির বিড়াল!
অর্থনৈতিক মুক্তি স্বাধীনতাকে ত্বরাহ্নিত করে। সেই সুযোগটা গ্রহন করেন পাশ্চ্যাত্যের মেয়েরা। তাছাড়া সমাজ ও সরকারের সহায়তাও রয়েছে তাদের প্রতি। পশুশ্রেনীর পুরুয়ের ভাগও সেখানে অনেক কম। তাই একা থাকতেও কোন সমস্যা হয়না তাদের। নিজের দ্বায়িত্নে নিজে নেবার যখেষ্ট সুযোগ তৈরী করে দিয়েছে সমাজ ও সরকার।
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা যেদিন আমাদের সমাজে আসবে, তখন বদলে যাবে আমাদের সমাজের চিত্রও। তার ফলাফল নিয়ে তার্কিক আলোচনা চালানো যেতে পারে। কিন্তু সে জন্যে কি কাটা বিছাবো আমাদের দেশের নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বাধীনতার পথে ?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


