somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাটক: নেতাই (দ্্বিতীয় অঙ্ক)

১৭ ই মে, ২০০৬ ভোর ৪:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শেষ দুটো লেখা পোষ্ট করেছিলাম আমাদের সমাজের অবহেলিত কিছু মানুষদের নিয়ে। এবার একই বিষয় নিয়ে লেখা আমারই এক ছোটগল্পের নাট্যরূপ। তিনটি অঙ্কে ভাগ করে পোষ্ট করছি। আশা করি পড়বেন ও আপনাদের মন্তব্য জানাবেন।
....................................................................................

দ্বিতীয় অংক:

চরিত্র: নেতাই, দিদিমনি, মালকিন, মালিক ও দিদিমনির প্রেমিক।

স্টেজের পেছনের অংশ দু'টো কার্ডবোর্ড দিয়ে তিনভাবে ভাগ করা থাকবে। সামনে একটা জায়গা থাকবে, যেখানে নেতাই তার ধোয়া মোছার ও অন্যান্ন কাজ চালাবে। দিদিমনি, মালিক ও মালকিন তিনটে ঘরে আলাদাভাবে। মালকিন বিছানায় শুয়ে, দিদিমনি রূপচর্চা ও মালিক তার ঘরে বসে খাতাকলম নিয়ে হিসেবে ব্যাস্ত। এর মাঝে দিদিমনি একবার মালকিনের ঘরে গিয়ে, মালকিনও একবার মালিকের ঘরে গিয়ে আলাপ করে আসবে, দশৃকরা শুনতে পাবে না । একপাশে টিভি চলবে। নেতাই তার কাজের ফাঁকে ফাঁকে দেখছে তা এদিক সেদিক তাকিয়ে।
হঠাৎ চিৎকার করে ডেকে উঠলো মালকিন,

মালকিন: নেতাই, নেতাই !

মালকিনের ডাক শুনে চমকে উঠলো নেতাই। বালতি ছলকে কয়েক ফোটা নোংরা পানি পড়লো মেঝেতে। নেতাই মুছতে চাইলো সে পানিটুকু। আর জোরে ধমকে উঠল মালকিন।

মালকিন: নেতাই, নেতাই !

নেতাই দৌড়ে তার কাছে গেল।

মালকিন: কিরে হারামজাদা, ডাকলে সাথে সাথে আসতে পারিস না ?
নেতাই: আইলাম ত লগে লগেই।

মালকিন কান টেনে ধরলো নেতাইএর।

মালকিন: কুত্তার বাচ্চা, আবার মুখের উপর কথা !
মালকিন: বারান্দা মুছেসিস্ ?
নেতাই: মুছছি।
মালকিন: সিড়ি পরিষ্কার করেছিস্ ?
নেতাই: করছি।
মালকিন: কাপড় ধুয়েছিস্ ?
নেতাই: ধুইছি।

ওঘর থেকে মালিকের চীৎকার শোনা গেলো।

মালিক: ওই হারামজাদা কুলির বাচ্চা। আমার জুতাগুলো কোথায় রাখলি ?
মালকিন: বাজার করেছিস্ ?
নেতাই: করছি।
মালকিন: পায়খানা পরিষ্কার করেছিস্ ?
নেতাই: না। মালিক ভিতরে আছিল।
মালকিন: যা ! হারামজাদা, এুনি পরিষ্কার করে আয়।

চলে যাচ্ছিল সে। মালকিন আবার ডেকে উঠল।

মালকিন: নেতাই!
নেতাই: অ মালকিন!
মালকিন: আমার ঘর মুছেছিস্ ?
নেতাই: আপনে গরে থাকলে মুছতাম কেমনে ?
মালকিন: চুপ কর হারামজাদা।
মালকিন: মেজ সাহেবের জুতা পরিষ্কার করেছিস্ ?
নেতাই: করছি।
মালকিন: যা, এখন পায়খানা পরিষ্কার কর গিয়ে ? দুর্গন্ধ থাকলে কান ছিড়ে ফেলব।
নেতাই: যাইতাছি।

চলে যাচ্ছিল নেতাই। ওঘর থেকে মালিকের ও দিদিমনির চীৎকার শোনা গেলো।

মালিক: নেতাই, নেতাই !
মালিক: ওই উল্লুকা পাট্েঠ। আমার মোজাটা কোথায় রাখলি ?
দিদিমনি: নেতাই, নেতাই ! আমার লেসওয়ালা চুলের ফিতাটা কোথায় গেলো ?

নেতাই দৌড়ে গেলো মালিকের ঘরে। ওদের মধ্যে কি কথা হলো, শোনা গেলোনা। একটা চড় খেয়ে দিদিমনির ঘরে দৌড়াল নেতাই। ওখানেও উত্তেজিত দিদিমনি, কিন্তু কোন চড় খেতে হলোনা ওকে।
ফিস ফিস করে এদিক ওদিন তাকিয়ে কথা বলবে দিদিমদি। কিন্তু দর্শকরা শুনতে পাবেন।

দিদিমনি: খুব সাবধান ! কেউ যেনো টের না পায়।
নেতাই: কেউই টের পাইবনা দিদিমনি।
দিদিমনি: কেউ যেনো দেখে না ফেলে !
নেতাই: কেউই দেখবনা দিদিমনি।
দিদিমনি: বাবা ঘর থেকে বের হলেই জোরে কাশি দিবি।
নেতাই: দিমু দিদিমনি।
দিদিমনি: মা ঘর থেকে বের হলেই জোরে হাঁচি দিবি।
নেতাই: দিমু দিদিমনি।

দিদিমনি ড্রয়ার খুলে কিছু পয়সা দিল নেতাইকে। নেতাই লোভী দৃষ্টিতে পয়সাগুলো নিয়ে পকেটে পুরলো।

দিদিমনি: বিস্কিট কিনে খাস্ ।

নেতাই ছুটে যাচ্ছিল স্টেজের বাইরে। কিন্তু দিদিমনি থামাল ওকে।

দিদিমনি: এুনি না গাধা, পরে কাজের শেষে।
নেতাই: ঠিক আছে দিদিমনি, কাম অইলে পরে খামু।



নেতাই দর্শকদের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা বলার জন্যে তৈরী হবে। এমনি সময়ে দিদিমনির বন্ধু এসে ঢুকবে তার ঘরে। নেতাই দৌড়ে গিয়ে ঘরের পর্দা টেনে দিয়ে আসবে। দিদিমনিও তার সাথে সে পর্দা টানবে। নেতাই দর্শকদের দিকে তাকিয়ে বলবে:

নেতাই: দিদিমনি বালা মানুষ। পিরিতের মানুষ আইলে বালা ব্যাবহার করে আমার লগে। পয়সা কড়ি দেয়। মিষ্টি মিষ্টি কইরা কতা কয়। বালা সাজন গোজন করে। দেকতেও বালা লাগে।

হঠাৎ মালকিনের ঘর থেকে ডাক শোনা যাবে।

মালকিন: নেতাই, নেতাই।

নেতাই জোরে জোরে কাশবে। দিদিমনি পর্দার ফাঁক দিয়ে মুখ বের করে এদিক ওদিক দেখে আবার টেনে দেবে।

নেতাই: সবচে খারাপ অইল এই বুড়ি আর হের পোলা। এই বুড়ি ত খালি খায়, গুমায় আর চেহারাত রং লাগায়। আর তার তার আসল অইল গিয়া আমারগো পিছনে লাইগ্যা থাহন। এই বুড়ি মইরা গেলেও নেতাই নেতাই চেচাইয়া মরব।
মালিক: নেতাই, নেতাই।

নেতাই আবারো জোরে জোরে কাশবে। দিদিমনি পর্দার ফাঁক দিয়ে মুখ বের করে আগের মতোই এদিক ওদিক দেখে আবার টেনে দেবে।

নেতাই: আর এই বুইরাও কম না। সকিনা খালায়, হালায় সুদ খায় আর মানুষ ঠকায়। সুদ তো আমি তারে নিজে খাইতে দেখছি। লাল লাল, গেলাসে বইরা বইরা খায়। খাইয়া বউরে পিডাইয়া সকিনা খালার গরে যায়। হেরে পাড়ার পোলাপান ধইরা পিডাইল, কাম অইল না।

মালিক ও মালকিন একসাথে ডাকবে

একসাথে: বিউটি, ও বিউটি মা !

নেতাই দৌড়ে দিদিমনির ঘরের পর্দা ফাক করেই জিব কেটে আরার বন্ধ করে দেবে। তারপর স্টেজের সামনে এসে দর্শকদের দিকে তাকিয়ে বলবে:

নেতাই: আমি যা দেখলাম, আপনেরাও যদি দেইখ্যা থাহেন, কইয়েন না কাউরে। আবার মাইর খাইতে অইব আমরে। যাই হউক, মাইর খাওয়ন লাগে আমার অই।

মালিক ও মালকিন
একসাথে: নেতাই, নেতাই !
নেতাই: আইতাছি।

মালিক ও মালকিন
একসাথে: নেতাই, নেতাই !
নেতাই: আইতাছি।

পর্দা পড়বে। পর্দা পড়ার পরও এরকম ডাক শোনা যাবে কয়েকবার।

পর্দা পড়বে, দ্বিতীয় অঙ্ক সমাপ্ত।



সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জামাতের নিশ্চিত ভূমিধ্বস পরাজয়ের কারন

লিখেছেন কিরকুট, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৪

*** জামাত শিবিরের পচা মস্তিষ্কের কেউ এই পোষ্টে এসে ল্যাদাবেন না***


রাজনীতির ইতিহাসে কিছু পরাজয় থাকে তা কেবল নির্বাচনী ফলাফলের ভেতর সীমাবদ্ধ নয় সেগুলো হয়ে ওঠে নৈতিক রায়।

জামাতের সাম্প্রতিক নিশ্চিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধন্যবাদ ড. ইউনূস। আপনিই দেখিয়ে দিলেন।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:২৯


মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত হাসিনা বিগত ৩টি নির্বাচন এমনভাবে করেছিল যে সেখানে কোন নাগরিককে ভোট দেওয়ার প্রয়োজন হতোনা। দিনের ভোট রাতে হয়েছে, আগের দিন হয়েছে অথবা তাহাজ্জোত পড়ে হয়েছে। এই আগের... ...বাকিটুকু পড়ুন

নরেন্দ্র মোদীকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানাবেন না, প্লিজ!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৭



জনাব তারেক রহমান,
আসসালামু আলাইকুম।

আমি প্রথমেই জানাতে চাই, ভারতের সাধারণ জনগণের সাথে বাংলাদেশের মানুষের কোন বিরোধ নেই। ঐ দেশের সাধারণ জনগণ আমাদের সাথে শত্রুতা পোষণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজাকারনামা-২ (অপরাধির জন্য আমাদের,মানবতা ! বিচিত্র এই দেশের মানুষ!!)

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৫



সনজীদা খাতুন তখন ইডেন কলেজে কর্মরত ছিলেন । ইডেনের মেয়েরা 'নটীর পূজা' নামে একটা নাটক করেছিলো। সেই নাটকে একেবারে শেষের দিকে একটা গান ছিলো। তিনি ছাত্রীদের সেই গানটা শিখিয়েছিলেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুস্থধারায় ফিরছে রাজনীতি; আম্লিগের ফেরার পথ আরো ধূসর হচ্ছে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১০


গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে একে অপরের মধ্যে কোথাও কোথাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×