somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্লু জিনসের কাহিনী

১৮ ই মে, ২০০৬ সকাল ১০:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্যন্টের মাঝে জিনস যে রাজার স্থান দখল করে আছে, তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। যদিও জিনসের উৎপত্তি আমেরিকাতেই, তারপরও তার জনক ছিলেন একজন জার্মান। হিরস স্ট্রাউস সন্তান লেভী স্ট্রাউস হিসেবে তার জন্ম হয় 1829 সালে জার্মানীর বামবার্গ শহরে। 1847 সালে তার বাবার মৃত্যুর পর তার মা তাকে ও তার একমাত্র বোনকে নিয়ে আমেরিকায় চলে যান। সেখানে প্রথম তিনি নিউইয়র্কে তার দুই সৎভাইয়ের কারখানায় কাজ করেন। এই দুই সৎভাই ছিলেন তার বাবার প্রথম পরে সন্তান।

1953 সালে ভাইদের কারখানা ছেড়ে তিনি সানফ্রান্সিসকো চলে যান। সেখানেই তিনি আমেরিকান জাতীয়তা গ্রহন করেন । তখন সানফ্রান্সিসকেতে স্বর্ণ খোজার হিড়িক পড়ে। স্বর্ণখনির মজুরদের শক্ত মাটিতে কাজ করার কারনে শক্ত পোষাকের প্রয়োজন পড়ে। লেভী তা টের পেয়ে এক দর্জির কাছে গিয়ে তার প্রথম প্যান্ট তৈরী করান। প্যান্টটি ছিল হাটু অবধি লম্বা। কাধে বেল্ট ঝুলিয়ে তা পড়তে হতো। রং নীল ছিল না। ছিল বাদামী। তার নাম দেয়া হয় "ওয়েইস্ট ওভারল"।

এই প্যান্টের কদর বেড়ে যাওয়াতে লেভী সানফ্রান্সিসকেতে নিজের বস্ত্রকারখানা স্থাপন করেন। তার তৈরী পোষাকের বিক্রিও হু হু করে বাড়তে থাকে। কিন্তু তারপরেই দেখা দেয় প্রাথমিক সমস্যা। স্বর্ণখনির মজুররা পকেটে হাতুড়ী, বাটাল জাতীয় শক্ত জিনিসপত্র পকেটে রাখতেন। তাতে সেলাই ছিড়ে যাওয়ায় নতুন করে ভাবনার দরকার পড়ে। তখন কমলা রংএর সুতো দিয়ে ডবল সেলাইএর প্রচলন করা হয়। তখন থেকেই এই পোষাক আমাদের চিরপরিচিত জিনস এর চেহারা নিতে শুরু করে। রং বদলে বাদামী থেকে নীল করা হয়। ফ্রান্স থেকে মজবুত কাপড় আমদানী করায় এই পোষাকের মান আরো বেড়ে যেতে থাকে।

1890 সালে লেভী তার কারখানা "লেভী স্ট্রাউস এন্ড কোম্পানী" নামে রেজিস্ট্রি করান। প্রতি বারই নতুন নতুন পরিবর্তনে আরো ভাল করা হয় পোষাকের মান। তার "ওয়েইস্ট ওভারল" এরই একটি ভাগ "501" নম্বর নিয়ে বিশ্বপরিচিত হয়। পকেটে চামড়ার লেভেল "টু হর্স প্যাচ" তখনই লাগানো হয়। তাতে দুটো ঘোড়া টেনে একটা জিনসকে যে ছিড়তে পারছে না, সে ছবি দেয়া হয়। জিনস বিত্রির সাফল্যে লেভী স্ট্রাউস আমেরিকায় তখন একজন অতি বিখ্যাত লোক।

1902 সালে মারা যান লেভী স্ট্রাউস। তার অনেক পর 1920 সালে এই পোষাক ব্লু- জিনস হিসেবে পরিচিতি লাভ করে ও পরার জন্যে কাধে ঝোলানো বেল্টের পরিবর্তে কোমরে বেল্ট বাঁধার প্রচলন করা হয়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৩৩


নট আউট নোমান ইউটিউব চ্যানেলের ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান ভাই একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশে এখন আমরা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছি যেখানে প্রকৃত দেশপ্রেমিক আর ভুয়া দেশপ্রেমিকের পার্থক্য করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রফিকুল ইসলামের ২য় বিয়ে করার যুক্তি প্রসঙ্গে chatgpt-কে জিজ্ঞেস করে যা পেলাম...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



ইসলামে একাধিক বিয়ে বৈধ, তবে সেটা বড় দায়িত্বের বিষয়। শুধু “বৈধ” হলেই কোনো সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তম বা সবার জন্য উপযুক্ত হয়ে যায় না। Qur'an-এ বহু বিবাহের অনুমতির সাথে ন্যায়বিচারের শর্তও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×