1953 সালে ভাইদের কারখানা ছেড়ে তিনি সানফ্রান্সিসকো চলে যান। সেখানেই তিনি আমেরিকান জাতীয়তা গ্রহন করেন । তখন সানফ্রান্সিসকেতে স্বর্ণ খোজার হিড়িক পড়ে। স্বর্ণখনির মজুরদের শক্ত মাটিতে কাজ করার কারনে শক্ত পোষাকের প্রয়োজন পড়ে। লেভী তা টের পেয়ে এক দর্জির কাছে গিয়ে তার প্রথম প্যান্ট তৈরী করান। প্যান্টটি ছিল হাটু অবধি লম্বা। কাধে বেল্ট ঝুলিয়ে তা পড়তে হতো। রং নীল ছিল না। ছিল বাদামী। তার নাম দেয়া হয় "ওয়েইস্ট ওভারল"।
এই প্যান্টের কদর বেড়ে যাওয়াতে লেভী সানফ্রান্সিসকেতে নিজের বস্ত্রকারখানা স্থাপন করেন। তার তৈরী পোষাকের বিক্রিও হু হু করে বাড়তে থাকে। কিন্তু তারপরেই দেখা দেয় প্রাথমিক সমস্যা। স্বর্ণখনির মজুররা পকেটে হাতুড়ী, বাটাল জাতীয় শক্ত জিনিসপত্র পকেটে রাখতেন। তাতে সেলাই ছিড়ে যাওয়ায় নতুন করে ভাবনার দরকার পড়ে। তখন কমলা রংএর সুতো দিয়ে ডবল সেলাইএর প্রচলন করা হয়। তখন থেকেই এই পোষাক আমাদের চিরপরিচিত জিনস এর চেহারা নিতে শুরু করে। রং বদলে বাদামী থেকে নীল করা হয়। ফ্রান্স থেকে মজবুত কাপড় আমদানী করায় এই পোষাকের মান আরো বেড়ে যেতে থাকে।
1890 সালে লেভী তার কারখানা "লেভী স্ট্রাউস এন্ড কোম্পানী" নামে রেজিস্ট্রি করান। প্রতি বারই নতুন নতুন পরিবর্তনে আরো ভাল করা হয় পোষাকের মান। তার "ওয়েইস্ট ওভারল" এরই একটি ভাগ "501" নম্বর নিয়ে বিশ্বপরিচিত হয়। পকেটে চামড়ার লেভেল "টু হর্স প্যাচ" তখনই লাগানো হয়। তাতে দুটো ঘোড়া টেনে একটা জিনসকে যে ছিড়তে পারছে না, সে ছবি দেয়া হয়। জিনস বিত্রির সাফল্যে লেভী স্ট্রাউস আমেরিকায় তখন একজন অতি বিখ্যাত লোক।
1902 সালে মারা যান লেভী স্ট্রাউস। তার অনেক পর 1920 সালে এই পোষাক ব্লু- জিনস হিসেবে পরিচিতি লাভ করে ও পরার জন্যে কাধে ঝোলানো বেল্টের পরিবর্তে কোমরে বেল্ট বাঁধার প্রচলন করা হয়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



